مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ ٢٥
‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’
কোরআন
আস-সাফফাত ২৫ - আস-সাফফাত ৫১
আয়াত-১৮২, মক্কি
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ ٢٥
‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’
بَلْ هُمُ ٱلْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ ٢٦
বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী।
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ يَتَسَآءَلُونَ ٢٧
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
قَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ ٱلْيَمِينِ ٢٨
তারা বলবে, ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে’।* * এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।
قَالُوا۟ بَل لَّمْ تَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ ٢٩
জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, ‘বরং তোমরা তো মুমিন ছিলে না’।
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَـٰنٍۭ ۖ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًۭا طَـٰغِينَ ٣٠
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَآ ۖ إِنَّا لَذَآئِقُونَ ٣١
‘তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)’।
فَأَغْوَيْنَـٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَـٰوِينَ ٣٢
‘আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত’।
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍۢ فِى ٱلْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ ٣٣
নিশ্চয় তারা সেদিন আযাবে অংশীদার হবে।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ ٣٤
অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।
إِنَّهُمْ كَانُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ ٣٥
তাদেরকে যখন বলা হত, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই’, তখন নিশ্চয় তারা অহঙ্কার করত।
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍۢ مَّجْنُونٍۭ ٣٦
আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব?’
بَلْ جَآءَ بِٱلْحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلْمُرْسَلِينَ ٣٧
বরং সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে রাসূলদেরকে সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছিল।
إِنَّكُمْ لَذَآئِقُوا۟ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَلِيمِ ٣٨
অবশ্যই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করবে।
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٣٩
আর তোমরা যে আমল করতে শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ ٤٠
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া;
أُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ رِزْقٌۭ مَّعْلُومٌۭ ٤١
তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিয্ক,
فَوَٰكِهُ ۖ وَهُم مُّكْرَمُونَ ٤٢
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত,
فِى جَنَّـٰتِ ٱلنَّعِيمِ ٤٣
নি‘আমত-ভরা জান্নাতে,
عَلَىٰ سُرُرٍۢ مُّتَقَـٰبِلِينَ ٤٤
মুখোমুখি পালঙ্কে।
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍۢ مِّن مَّعِينٍۭ ٤٥
তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র,
بَيْضَآءَ لَذَّةٍۢ لِّلشَّـٰرِبِينَ ٤٦
সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
لَا فِيهَا غَوْلٌۭ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ ٤٧
তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু* এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। * غول অর্থ নেশা, মাতলামি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
وَعِندَهُمْ قَـٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ عِينٌۭ ٤٨
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা।
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌۭ مَّكْنُونٌۭ ٤٩
তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম।
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ يَتَسَآءَلُونَ ٥٠
অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে।
قَالَ قَآئِلٌۭ مِّنْهُمْ إِنِّى كَانَ لِى قَرِينٌۭ ٥١
তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল’,
32
18