কাসামাহ
৪৬/১. অধ্যায়ঃ
জাহিলী যুগে প্রচলিত কুসামার বর্ণনা
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭০৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَطَنٌ أَبُو الْهَيْثَمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَزِيدَ الْمَدَنِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: " أَوَّلُ قَسَامَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، كَانَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ اسْتَأْجَرَ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ، مِنْ فَخِذِ أَحَدِهِمْ قَالَ: فَانْطَلَقَ مَعَهُ فِي إِبِلِهِ، فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدِ انْقَطَعَتْ عُرْوَةُ جُوَالِقِهِ، فَقَالَ: أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِي لَا تَنْفِرُ الْإِبِلُ، فَأَعْطَاهُ عِقَالًا يَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِهِ، فَلَمَّا نَزَلُوا، وَعُقِلَتْ الْإِبِلُ إِلَّا بَعِيرًا وَاحِدًا، فَقَالَ الَّذِي اسْتَأْجَرَهُ: مَا شَأْنُ هَذَا الْبَعِيرِ، لَمْ يُعْقَلْ مِنْ بَيْنِ الْإِبِلِ؟ قَالَ: لَيْسَ لَهُ عِقَالٌ قَالَ: فَأَيْنَ عِقَالُهُ؟ قَالَ: مَرَّ بِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدِ انْقَطَعَتْ عُرْوَةُ جُوَالِقِهِ فَاسْتَغَاثَنِي، فَقَالَ: أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِي، لَا تَنْفِرُ الْإِبِلُ، فَأَعْطَيْتُهُ عِقَالًا فَحَذَفَهُ بِعَصًا كَانَ فِيهَا أَجَلُهُ، فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فَقَالَ: أَتَشْهَدُ الْمَوْسِمَ؟ قَالَ: مَا أَشْهَدُ، وَرُبَّمَا شَهِدْتُ، قَالَ: هَلْ أَنْتَ مُبَلِّغٌ عَنِّي رِسَالَةً مَرَّةً مِنَ الدَّهْرِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: إِذَا شَهِدْتَ الْمَوْسِمَ فَنَادِ: يَا آلَ قُرَيْشٍ، فَإِذَا أَجَابُوكَ، فَنَادِ: يَا آلَ هَاشِمٍ، فَإِذَا أَجَابُوكَ، فَسَلْ عَنْ أَبِي طَالِبٍ، فَأَخْبِرْهُ أَنَّ فُلَانًا قَتَلَنِي فِي عِقَالٍ، وَمَاتَ الْمُسْتَأْجَرُ، فَلَمَّا قَدِمَ الَّذِي اسْتَأْجَرَهُ، أَتَاهُ أَبُو طَالِبٍ فَقَالَ: مَا فَعَلَ صَاحِبُنَا؟ قَالَ: مَرِضَ، فَأَحْسَنْتُ الْقِيَامَ عَلَيْهِ، ثُمَّ مَاتَ، فَنَزَلْتُ، فَدَفَنْتُهُ، فَقَالَ كَانَ ذَا أَهْلَ ذَاكَ مِنْكَ، فَمَكُثَ حِينًا، ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ الْيَمَانِيَّ الَّذِي كَانَ أَوْصَى إِلَيْهِ أَنْ يُبَلِّغَ عَنْهُ، وَافَى الْمَوْسِمَ، قَالَ: يَا آلَ قُرَيْشٍ، قَالُوا: هَذِهِ قُرَيْشٌ، قَالَ: يَا آلَ بَنِي هَاشِمٍ، قَالُوا: هَذِهِ بَنُو هَاشِمٍ، قَالَ: أَيْنَ أَبُو طَالِبٍ؟ قَالَ: هَذَا أَبُو طَالِبٍ، قَالَ: أَمَرَنِي فُلَانٌ أَنْ أُبَلِّغَكَ رِسَالَةً، أَنَّ فُلَانًا قَتَلَهُ فِي عِقَالٍ، فَأَتَاهُ أَبُو طَالِبٍ، فَقَالَ: اخْتَرْ مِنَّا إِحْدَى ثَلَاثٍ إِنْ شِئْتَ أَنْ تُؤَدِّيَ مِائَةً مِنَ الْإِبِلِ، فَإِنَّكَ قَتَلْتَ صَاحِبَنَا خَطَأً، وَإِنْ شِئْتَ يَحْلِفْ خَمْسُونَ مِنْ قَوْمِكَ أَنَّكَ لَمْ تَقْتُلْهُ، فَإِنْ أَبَيْتَ قَتَلْنَاكَ بِهِ. فَأَتَى قَوْمَهُ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُمْ، فَقَالُوا: نَحْلِفُ، فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْهُمْ قَدْ وَلَدَتْ لَهُ. فَقَالَتْ: يَا أَبَا طَالِبٍ، أُحِبُّ أَنْ تُجِيزَ ابْنِي هَذَا بِرَجُلٍ مِنَ الْخَمْسِينَ، وَلَا تُصْبِرْ يَمِينَهُ، فَفَعَلَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَقَالَ: يَا أَبَا طَالِبٍ، أَرَدْتَ خَمْسِينَ رَجُلًا أَنْ يَحْلِفُوا مَكَانَ مِائَةٍ مِنَ الْإِبِلِ، يُصِيبُ كُلَّ رَجُلٍ بَعِيرَانِ فَهَذَانِ بَعِيرَانِ فَاقْبَلْهُمَا عَنِّي، وَلَا تُصْبِرْ يَمِينِي حَيْثُ تُصْبَرُ الْأَيْمَانُ، فَقَبِلَهُمَا، وَجَاءَ ثَمَانِيَةٌ وَأَرْبَعُونَ رَجُلًا حَلَفُوا، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا حَالَ الْحَوْلُ وَمِنَ الثَّمَانِيَةِ وَالْأَرْبَعِينَ عَيْنٌ تَطْرِفُ
বর্ণনাকারী ইব্ন আব্বাস (রাঃ)
সর্বপ্রথম জাহিলী যুগে যে কসামাহ (শপথ গ্রহণ)-এর ঘটনা ঘটে, তা ছিল এমন যে, কুরাইশের উপগোত্রের এক ব্যক্তি হাশিম গোত্রের এক ব্যক্তিকে শ্রমিক হিসেবে রেখেছিল। সে তার সাথে তার উটের স্থানে গেল। সেখানে বানু হাশিম-এরই অন্য এক লোকের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। সেই লোকের থলির রশি ছিঁড়ে গিয়েছিল। সেই লোক বলল, একটি রশি দ্বারা আমার সহযোগিতা করুন, যেন আমি আমার থলিটি বাঁধতে পারি। এমন না হয় যে, থলির মালামাল পড়ে যায় আর সে কারণে উট ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। হাশিম গোত্রীয় শ্রমিক তাকে একটি রশি দিয়ে দিল যাতে তার থলি বাঁধতে পারে। যখন তারা এক জায়গায় নামল একটি উট ছাড়া সকল উট বাঁধা হলো। যে ব্যক্তি তাকে কাজে রেখেছিল, সে জিজ্ঞেস করল: এই উটের কী হলো? একে বাঁধলে না কেন? শ্রমিক বলল: এর বাঁধার রশি নেই। সে জিজ্ঞেস করল: রশি কোথায় গেল? শ্রমিক বলল: বানু হাশিম-এর এক ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হলে তার থলি বাঁধার রশি ছিঁড়ে গিয়েছিল, সে আমাকে বলল: একটি রশি দিয়ে আমায় সহযোগিতা করুন, যা দ্বারা আমি আমার থলির মুখ বন্ধ করতে পারি যাতে আমার উট পালিয়ে না যায়। আমি তাকে বাঁধার জন্য রশি দিয়ে দেই। এ কথা শুনেই মালিক শ্রমিককে লাঠি দিয়ে প্রহার করে। ফলে শ্রমিকটি মারা যায়। সে যখন মুমূর্ষু, তখন ইয়ামানী এক ব্যক্তি তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। সে জিজ্ঞেস করল: আপনি হজ্জে যাবেন? সে বলল: পূর্বে গিয়েছিলাম, এবার যাব না। সে বলল: আপনি যখনই যাবেন, আমার একটি সংবাদ তখন পৌঁছাতে পারবেন কি? লোকটি বলল : হ্যাঁ। সে বলল: আপনি হজ্জ মৌসুমে গেলে সেখানে 'হে কুরাইশ গোত্রের লোক!' বলে আহ্বান করবেন। তারা জবাব দিলে আপনি আহলে হাশিম সম্পর্কে খোঁজ নেবেন এবং তাঁকে বলবেন : 'আমাকে অমুক ব্যক্তি একটি রশির কারণে হত্যা করেছে'। এই বলেই সে মৃত্যুবরণ করল।মালিক ব্যক্তি মক্কায় আসলে আবূ ত্বালিব তাকে জিজ্ঞেস করল: আমাদের লোকের সাথে তুমি কি করেছ? সে বলল: তার অসুখ হয়েছিল, আমি তার ভালোভাবে সেবা করি, কিন্তু সে মারা যায়। আমি নেমে তাকে দাফন করি। আবু ত্বালিব বললেন : তোমার কাছ থেকে সে, এমনই ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য ছিল।কিছু দিন পর ইয়ামান হতে ঐ লোক আসলো, যাকে ঐ শ্রমিক তার খবর দেয়ার ওয়াসিয়্যাত করেছিল। সে বলল: হে কুরাইশ গোত্র! তারা বলল: এই যে কুরাইশ গোত্র। সে বলল, হে বানু হাশিম! তারা বলল: এই যে বানু হাশিম-এর গোত্র। সে জিজ্ঞেস করল : আবু ত্বালিব কোথায়? তারা বলল: এই যে আবু ত্বালিব। সে বলল: আমাকে অমুক ব্যক্তি ওয়াসিয়্যাত করেছিল, আপনাকে এই খবর দেয়ার জন্য যে, অমুক ব্যক্তি একটির রশির কারণে তাকে লাঠির প্রহারে হত্যা করেছে। আবু ত্বালিব সে ব্যক্তির নিকট গিয়ে বললেন, তুমি আমার গোত্রের লোককে হত্যা করেছ। এখন তিনটি প্রস্তাবের একটা গ্রহণ কর।যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে দিয়াতের একশত উট দিয়ে দাও। কেননা তুমি আমাদের লোককে অনিচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছ। আর যদি তুমি ইচ্ছা কর, তা হলে তোমার গোত্রের পঞ্চাশজন লোক শপথ খেয়ে বলবে যে, তুমি তাকে হত্যা করনি। যদি তুমি এর কোন শর্ত গ্রহণ না কর, তবে আমরা তোমাকে ঐ ব্যক্তির পরিবর্তে হত্যা করব। সে ব্যক্তি তার গোত্রের নিকট গিয়ে এ কথা বলল। তখন তারা বলল: আমরা শপথ করব।এরপর বানু হাশিম গোত্রের এক নারী যার সেই গোত্রে বিয়ে হয়েছিল, পুত্র সন্তানও জন্ম দিয়েছিল, আবু ত্বালিব (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল: হে আবু ত্বালিব! আমার ইচ্ছা আপনি পঞ্চাশ জন লোকের একজন হিসেবে আমার এই ছেলেকে শপথ হতে অব্যাহতি দেবেন। আবু ত্বালিব তা করলেন। এরপর তাদের আর এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু ত্বালিব! আপনি একশত উটের পরিবর্তে পঞ্চাশ জন লোকের শপথ নিতে চান, তাতে একজনের জন্য দু'টি করে উট পড়ে। অতএব এই দুই উট গ্রহণ করে আমাকে শপথ হতে অব্যাহতি দিন। আবু ত্বালিব এটাও করলেন। পরে আটচল্লিশ জন লোক এসে শপথ করল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! এক বছর শেষ না হতেই ঐ আটচল্লিশ জন লোকের সবাই মৃত্যুবরণ করে।
[১] কাউকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলে, তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যে কসম করা হয়, সেই কসমকে শরীয়তে ‘কাসামাহ’ বলা হয়।[২] কোন কোন বর্ণনায় এ রকমই আছে। কিন্তু এটা ভুল ; সঠিক হচ্ছে (আরবি) যেমন নাসাঈ শরীফের হিন্দুস্থানী মুদ্রণে আছে। তা ছাড়া বুখারী শরীফের প্রসিদ্ধ বর্ণনাও তাই এবং ইব্ন হাজার (রহঃ) সেটাকেই বিশুদ্ধ বলেছেনঃ।
৪৬/২. অধ্যায়ঃ
শপথ
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭০৭
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَيُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْأَنْصَارِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَقَرَّ الْقَسَامَةَ عَلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ
বর্ণনাকারী রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক আনসারী সাহাবী থেকে বর্ণিত
রসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহিলী যুগে কসামাহ যেভাবে প্রচলিত ছিল সেভাবেই বহাল রাখেন।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭০৮
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَاشِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَنَّ الْقَسَامَةَ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَأَقَرَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَا كَانَتْ عَلَيْهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَقَضَى بِهَا بَيْنَ أُنَاسٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فِي قَتِيلٍ ادَّعَوْهُ عَلَى يَهُودِ خَيْبَرَ خَالَفَهُمَا مَعْمَرٌ
বর্ণনাকারী রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়েকজন সাহাবী হতে বর্ণিত
রসূলুল্লাহ (ﷺ) একে সেভাবেই বহাল রাখেন। তিনি (ﷺ) আনসারদের অভিযোগে কসামাহ-এর নির্দেশ প্রদান করেন, যখন তারা খায়বারের ইহুদিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যার দাবি জানিয়েছিল।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭০৯
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ: «كَانَتِ الْقَسَامَةُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، ثُمَّ أَقَرَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْأَنْصَارِيِّ الَّذِي وُجِدَ مَقْتُولًا فِي جُبِّ الْيَهُودِ» فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: الْيَهُودُ قَتَلُوا صَاحِبَنَا
বর্ণনাকারী ইব্ন মুসায়্যাব (রাঃ)
জাহিলি যুগে কসামাহ প্রচলিত ছিল। পরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) একে সেই আনসারীর ওপর কার্যকর করেন, যার মৃতদেহ ইয়াহুদীদের এক কূপে দেখা গিয়েছিল। কারণ আনসার দাবি করে যে, ইয়াহুদীরা আমাদের লোককে হত্যা করেছে।
৪৬/৩. অধ্যায়ঃ
সর্বাগ্রে মৃতের অভিভাবকদের শপথ নেয়া
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭১০
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي لَيْلَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ أَبِي حَثْمَةَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ، وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمَا، فَأُتِيَ مُحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ: أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَدْ قُتِلَ وَطُرِحَ فِي فَقِيرٍ أَوْ عَيْنٍ، فَأَتَى يَهُودَ فَقَالَ: أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ، فَقَالُوا: وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ هُوَ وَحُوَيِّصَةُ وَهُوَ أَخُوهُ أَكْبَرُ مِنْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لِيَتَكَلَّمَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَبِّرْ كَبِّرْ» وَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ، ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ، وَإِمَّا أَنْ يُؤْذَنُوا بِحَرْبٍ» فَكَتَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ، فَكَتَبُوا: إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ: «تَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ؟» قَالُوا: لَا، قَالَ: «فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ؟» قَالُوا: لَيْسُوا مُسْلِمِينَ. فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ بِمِائَةِ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيْهِمُ الدَّارَ، قَالَ سَهْلٌ: لَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ
বর্ণনাকারী সাহ্ল ইব্ন আবূ হাসমা (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু সাহল এবং মুহাইয়িসা (রাঃ) তাদের দরিদ্র্যের দরুন খায়বারের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পরে মুহাইয়িসা-এর কাছে এক লোক এসে বলে: আবদুল্লাহ ইবনু সাহল-কে হত্যা করা হয়েছে। আর তাকে অতি অন্ধকার এক কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে মুহাইয়িসা ইয়াহুদীদের কাছে অভিযোগ করলেন: আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তোমরা তাকে হত্যা করেছ। তারা বলল: আল্লাহর শপথ! আমরা তাকে হত্যা করিনি।সেখান থেকে মুহাইয়িসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে সম্পূর্ণ বিষয়াদি জানালেন। এরপর মুহাইয়িসা, তাঁর বড় ভাই হুওয়াইয়িসা এবং আবদুর রহমান ইবনু সাহল নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলেন। অতঃপর খায়বারে থাকা সেই মুহাইয়িসা সর্বাগ্রে কথা বলতে চাইলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: বড়কে প্রাধান্য দাও। অতঃপর হুওয়াইয়িসা বললেন, তারপর মুহাইয়িসা বললেন। বিস্তারিত শুনে নবী (ﷺ) বললেন: ইয়াহুদীদের কর্তব্য হবে তোমাদের ভাইয়ের দিয়াত আদায় করা, তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হবে।তারপর তিনি ইয়াহুদীদেরকে এ বিষয়ে লিখলে তারা জবাবে বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা হত্যা করিনি। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুওয়াইয়িসা, মুহাইয়িসা এবং আবদুর রহমান-কে বললেন: তোমরা শপথ করে প্রমাণ কর যে, তোমাদের ভাইয়ের হত্যা হয়েছে। এরূপ অবস্থাদৃষ্টে তারা বললেন: না, আমরা শপথ করতে পারব না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তাহলে ইয়াহুদীরা শপথ করে বলবে যে, আমরা হত্যা করিনি। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহুদীরা তো অমুসলিম [তারা তো মিথ্যা শপথ করতে পারে]। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিয়াত স্বরূপ নিজেই তাদেরকে একশত উট দিয়ে দেন। তারা উটগুলো নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করলে সাহল (রাঃ) বলেন: এর একটি লাল উটনী আমাকে আঘাত হেনেছিল।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭১১
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي لَيْلَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ وَرِجَالٌ كُبَرَاءُ مِنْ قَوْمِهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ، فَأَتَى مُحَيِّصَةُ فَأَخْبَرَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَدْ قُتِلَ وَطُرِحَ فِي فَقِيرٍ أَوْ عَيْنٍ، فَأَتَى يَهُودَ. وَقَالَ: أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ، قَالُوا: وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ. فَأَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ، فَذَكَرَ لَهُمْ، ثُمَّ أَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَهُوَ أَكْبَرُ مِنْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ، فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لِيَتَكَلَّمَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمُحَيِّصَةَ: «كَبِّرْ كَبِّرْ» يُرِيدُ السِّنَّ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ، ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ، وَإِمَّا أَنْ يُؤْذَنُوا بِحَرْبٍ»، فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ، فَكَتَبُوا إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ: «أَتَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ؟» قَالُوا: لَا. قَالَ: «فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ» قَالُوا: لَيْسُوا بِمُسْلِمِينَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ بِمِائَةِ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيْهِمُ الدَّارَ، قَالَ سَهْلٌ: لَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ
বর্ণনাকারী সাহ্ল ইব্ন আবু হাসমা (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু সাহল এবং মুহাইয়িসা (রাঃ) তাঁদের দারিদ্র্যতার কারণে খায়বারে রওয়ানা হন। এরপর মুহাইয়িসার কাছে এক লোক এসে বলল: আবদুল্লাহ ইবনু সাহল-কে হত্যা করা হয়েছে এবং একটি অতি অন্ধকার কূপে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে মুহাইয়িসা ইয়াহুদীদের উদ্দেশে অভিযোগ করে বললেন: আল্লাহর শপথ! তোমরাই তাঁকে হত্যা করেছ। তারা বলল: আল্লাহর শপথ! আমরা তাঁকে হত্যা করিনি।তখন মুহাইয়িসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হয়ে সম্পূর্ণ বিষয় তাঁকে জানালেন। এরপর মুহাইয়িসা, তাঁর বড় ভাই হুওয়াইয়িসা এবং আবদুর রহমান ইবনু সাহল মিলিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসেন। মুহাইয়িসা (রাঃ) খায়বারে প্রথম অগ্রগামিতার দরুন তিনি সর্বাগ্রে কথা বলতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বড় ভাইকে অগ্রাধিকার দাও। পরে হুওয়াইয়িসা বিস্তারিত জানালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের ভাইয়ের দিয়াত দিয়ে দেওয়া ইয়াহুদীদের কর্তব্য, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।এরপর তিনি (ﷺ) এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদেরকে লিখলে তারা জবাব দেয় যে, আল্লাহর শপথ! আমরা তাঁকে হত্যা করিনি। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুওয়াইয়িসা, মুহাইয়িসা এবং আবদুর রহমানকে বললেন: এখন তোমরা শপথ করে তোমাদের ভাইয়ের হত্যার প্রমাণ কর। তখন তাঁরা বলল: আমরা তো শপথ করতে পারি না (কারণ আমরা স্বীয় চোখে তা দেখিনি)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তাহলে ইয়াহুদীরা তোমাদের বিরুদ্ধে শপথ করবে। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তারা তো অমুসলিম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই একশত উট পাঠিয়ে তাঁদের দিয়াত আদায় করেন। তারা উটগুলো নিয়ে তাঁদের ঘরে প্রবেশ করেন। সাহল বলেন: এর মধ্যে এক লাল উটনী আমাকে আঘাত করেছিল।
৪৬/৪. অধ্যায়ঃ
এ হাদীসে সাহল হতে বর্ণনাকারীর বর্ণনাগত পার্থক্য
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭১২
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ: وَحَسِبْتُ قَالَ: وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّهُمَا قَالَا: خَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلِ بْنِ زَيْدٍ وَمُحَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودٍ حَتَّى إِذَا كَانَا بِخَيْبَرَ تَفَرَّقَا فِي بَعْضِ مَا هُنَالِكَ، ثُمَّ إِذَا بِمُحَيِّصَةَ يَجِدُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَتِيلًا فَدَفَنَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ وَحُوَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَكَانَ أَصْغَرَ الْقَوْمِ، فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ قَبْلَ صَاحِبَيْهِ. فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَبِّرِ الْكُبْرَ فِي السِّنِّ» فَصَمَتَ وَتَكَلَّمَ صَاحِبَاهُ، ثُمَّ تَكَلَّمَ مَعَهُمَا، فَذَكَرُوا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْتَلَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ، فَقَالَ لَهُمْ: «أَتَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ صَاحِبَكُمْ أَوْ قَاتِلَكُمْ؟» قَالُوا: كَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ؟ قَالَ: «فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا» قَالُوا: وَكَيْفَ نَقْبَلُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ؟ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَاهُ عَقْلَهُ
বর্ণনাকারী বুশায়র ইব্ন ইয়াসার (রহঃ)
বুশাইর ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবনু আবূ হাসমা ও রাফি ইবনু খদীজ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তারা বলেন: আবদুল্লাহ ইবনু সাহল এবং মুহাইয়িসা ইবনু মাসউদ একত্রে রওয়ানা হন। তারা খায়বারে পৌঁছলে কোন এক স্থানে আবার পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর মুহাইয়িসা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু সাহলকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি তাকে দাফন করলেন। অতঃপর তিনি নিজে, হুওয়াইয়িসা ইবনু মাসউদ এবং আবদুর রহমান ইবনু সাহল মিলিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হন। আবদুর রহমান তাদের মধ্যে বয়সে ছোট ছিলেন। তিনি সর্বাগ্রে কথা বলতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যারা বয়সে বড় তাদের সম্মান দাও। তখন তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। এরপর তার সাথীরা কথা বলতে থাকেন, আর তখন তিনিও তাদের সাথে কথা বলছিলেন।যেখানে আবদুল্লাহ ইবনু সাহলকে হত্যা করা হয় তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ঐ জায়গার কথা বললেন। তিনি (ﷺ) বললেন: তোমরা পঞ্চাশ জন ব্যক্তি কি শপথ করতে পারবে যা দ্বারা তোমাদের লোকের অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা হত্যাকারীর বিচার লাভের অধিকার পেতে পার? তারা বললেন: যখন আমরা স্বচক্ষে দেখিনি এবং উপস্থিতও ছিলাম না, তখন আমরা কী করে শপথ নিতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তাহলে কি ইয়াহুদিদের মধ্যে পঞ্চাশ জন ব্যক্তি শপথ করে তোমাদের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাক? তারা বললেন: আমরা কিরূপে কাফিরদের শপথ বিশ্বাস করব? এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে তাদের দিয়াত দিয়ে দেন।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭১৩
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا حَمَّادٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ، أَنَّ مُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ أَتَيَا خَيْبَرَ فِي حَاجَةٍ لَهُمَا، فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ، فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ، فَجَاءَ أَخُوهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا عَمِّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فِي أَمْرِ أَخِيهِ، وَهُوَ أَصْغَرُ مِنْهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْكُبْرَ» لِيَبْدَأِ الْأَكْبَرُ فَتَكَلَّمَا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَكَرَ كَلِمَةً مَعْنَاهَا: «يُقْسِمُ خَمْسُونَ مِنْكُمْ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَمْرٌ لَمْ نَشْهَدْهُ كَيْفَ نَحْلِفُ؟ قَالَ: «فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَوْمٌ كُفَّارٌ، فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قِبَلِهِ، قَالَ: سَهْلٌ فَدَخَلْتُ مِرْبَدًا لَهُمْ فَرَكَضَتْنِي نَاقَةٌ مِنْ تِلْكَ الْإِبِلِ
বর্ণনাকারী বুশায়র ইব্ন ইয়াসার (রহঃ) সাহ্ল ইব্ন আবূ হাসমা এবং রাফি’ ইব্ন খাদীজ (রাঃ)
বুশাইর ইবনে ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবনে আবু হাথমা ও রাফি ইবনে খদীজ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তারা বলেন: মুহাইয়িসা ইবনে মাসউদ ও আবদুল্লাহ ইবনে সাহল কোন প্রয়োজনে খায়বারে রওয়ানা হন। সেখানে তারা খেজুর বাগানে পরস্পর পৃথক হয়ে পড়েন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে সাহলের হত্যা সংঘটিত হয়। অতএব তার ভাই আবদুর রহমান ইবনে সাহল এবং তার দুই চাচাতো ভাই হুয়াইয়িসা ও মুহাইয়িসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হলেন। আবদুর রহমান তার ভাই সম্পর্কে কথা বলা শুরু করেন। আর তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে বয়সে ছোট।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন: বয়সে যারা বড় তাদের সম্মান কর। অতঃপর তারা দু’জন তাদের সাথীর ব্যাপারে কথা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশজন ব্যক্তি শপথ করবে। তখন তারা বললেন: আমরা যা দেখিনি কিভাবে তার শপথ নিতে পারি? তিনি (ﷺ) বলেন: তাহলে ইয়াহুদেরা পঞ্চাশ জন শপথ করে তোমাদের দাবি হতে মুক্ত হয়ে যাক। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা তো কাফির। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই তাদের দিয়াত দিয়ে দেন।সাহল (রাঃ) বলেন : আমি উট রাখার স্থানে গেলে যে উট আমাদেরকে দেয়া হয়েছিল তন্মধ্যে একটি আমাকে আঘাত হেনেছিল।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭১৪
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرٌ وَهُوَ ابْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ، وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُمَا أَتَيَا خَيْبَرَ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ صُلْحٌ، فَتَفَرَّقَا لِحَوَائِجِهِمَا، فَأَتَى مُحَيِّصَةُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ وَهُوَ يَتَشَحَّطُ فِي دَمِهِ قَتِيلًا، فَدَفَنَهُ ثُمَّ قَدِمَ الْمَدِينَةَ، فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ وَهُوَ أَحْدَثُ الْقَوْمِ سِنًّا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَبِّرْ الْكُبْرَ» فَسَكَتَ، فَتَكَلَّمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَحْلِفُونَ بِخَمْسِينَ يَمِينًا مِنْكُمْ، فَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ أَوْ قَاتِلِكُمْ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ وَلَمْ نَرَ؟ قَالَ: «تُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ نَأْخُذُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ؟ فَعَقَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِهِ
বর্ণনাকারী বুশায়র ইব্ন ইয়াসার সাহ্ল ইব্ন আবূ হাসমা (রাঃ)
বুশাইর ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবনু আবু হাথমা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। আবদুল্লাহ ইবনু সাহল এবং মুহাইয়িসা ইবনু মাসউদ ইবনু জায়দ খায়বারে পৌঁছলেন। যখন সন্ধি স্থাপিত হয়েছিল এটা তখনকার সময়। তারা তাদের নিজ নিজ কাজে সেখানে পরস্পর পৃথক হয়ে যান। এরপর মুহাইয়িসা আবদুল্লাহ ইবনু সাহলের নিকট গিয়ে দেখতে পান যে, তিনি নিহত হয়েছেন এবং তার দেহ থেকে রক্ত ঝরছিল। তিনি তাঁকে সেখানেই দাফন করে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন।তারপর আবদুর রহমান ইবনু সাহল, হুওয়াইয়িসা ও মুহাইয়িসা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হন। আবদুর রহমান ছিলেন বয়সে সকলের ছোট। তিনিই সর্বাগ্রে কথা বলতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: বয়সে যে বড় তাকে সম্মান প্রদর্শন কর। অতএব তিনি নিশ্চুপ থাকলেন। তারপর অন্য দুজন সাথী কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমাদের পঞ্চাশ জন কি শপথ করতে পারবে যে, যা দ্বারা তোমরা তোমাদের অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা লোকের হত্যাকারীকে হত্যা করার অধিকার পেতে পার?তারা বললেন: আমরা যেখানে ছিলাম না এবং যখন দেখিনি, তখন আমরা কিভাবে তার শপথ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তাহলে [অভিযুক্ত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য] ইয়াহুদীদের মধ্যকার পঞ্চাশ জন শপথ করুক।তারা বললেন: আমরা কাফিরদের শপথ কিভাবে মেনে নিতে পারি? এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই তাদের দিয়াত আদায় করে দিলেন।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৭১৫
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ قَالَ: انْطَلَقَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودِ بْنِ زَيْدٍ إِلَى خَيْبَرَ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ صُلْحٌ، فَتَفَرَّقَا فِي حَوَائِجِهِمَا، فَأَتَى مُحَيِّصَةُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ وَهُوَ يَتَشَحَّطُ فِي دَمِهِ قَتِيلًا، فَدَفَنَهُ، ثُمَّ قَدِمَ الْمَدِينَةَ، فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَبِّرْ الْكُبْرَ» وَهُوَ أَحْدَثُ الْقَوْمِ، فَسَكَتَ، فَتَكَلَّمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَحْلِفُونَ بِخَمْسِينَ يَمِينًا مِنْكُمْ، وَتَسْتَحِقُّونَ قَاتِلَكُمْ أَوْ صَاحِبَكُمْ؟» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ نَحْلِفُ، وَلَمْ نَشْهَدْ، وَلَمْ نَرَ؟ فَقَالَ: «أَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ؟» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ نَأْخُذُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ؟ فَعَقَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِهِ
বর্ণনাকারী বুশায়র ইব্ন ইয়াসার সাহ্ল ইব্ন আবু হাসমা (রাঃ)
বুশাইর ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সাহল ইবনু আবু হথমা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। আবদুল্লাহ ইবনু সাহল এবং মুহাইয়িসা ইবনু মাসউদ ইবনু যায়দ খায়বারে রওয়ানা হন। সেখানে তখন সন্ধি স্থাপিত হয়েছিল। অতঃপর তাদের নিজ নিজ কাজে সেখানে যাওয়ার পর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর মুহাইয়িসা আবদুল্লাহ-এর নিকট যান। তিনি তাঁকে মৃত অবস্থায় অনবরত রক্ত ঝরার মধ্যে দেখতে পান। তিনি তাঁকে সেখানেই দাফন করে মদিনায় ফিরে আসেন। এরপর আবদুর রহমান ইবনু সাহল, হুওয়াইয়িসা, মুহাইয়িসা এবং ইবনু মাসউদ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হন। আবদুর রহমান সর্বাগ্রে কথা বলতে চাইলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: বয়সে যে বড় তাকে সম্মান প্রদর্শন কর। কেননা তিনি ছিলেন বয়সে সবার ছোট। তিনি নিশ্চুপ হয়ে যান। এরপর তারা দু’জন রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে কথা বললেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমরা মধ্যকার পঞ্চাশ জন ব্যক্তি কি শপথ করবে যা দ্বারা তোমাদের লোকের হত্যাকারীর বিচার পেতে পার? তারা বললেন: আমরা যা দেখিনি তার শপথ কিভাবে করব? তিনি (ﷺ) বললেন: তাহলে ইয়াহুদীদের পঞ্চাশ জন ব্যক্তি শপথ করে তোমাদের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করুক। তারা বললেন: হে আল্লাহর রসূল! কাফিরদের শপথ আমরা কিভাবে বিশ্বাস করব? এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই তাদের দিয়াত প্রদান করেন।