যুদ্ধাভিযান

১৯/১. অধ্যায়ঃ

যুদ্ধ শুরুর পূর্বে (শত্রুদেরকে) ইসলামের দাওয়াত দেয়া

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৪৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، أَنَّ جَيْشًا، مِنْ جُيُوشِ الْمُسْلِمِينَ كَانَ أَمِيرَهُمْ سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ حَاصَرُوا قَصْرًا مِنْ قُصُورِ فَارِسَ فَقَالُوا يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَلاَ نَنْهَدُ إِلَيْهِمْ قَالَ دَعُونِي أَدْعُهُمْ كَمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُوهُمْ ‏.‏ فَأَتَاهُمْ سَلْمَانُ فَقَالَ لَهُمْ إِنَّمَا أَنَا رَجُلٌ مِنْكُمْ فَارِسِيٌّ تَرَوْنَ الْعَرَبَ يُطِيعُونَنِي فَإِنْ أَسْلَمْتُمْ فَلَكُمْ مِثْلُ الَّذِي لَنَا وَعَلَيْكُمْ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْنَا وَإِنْ أَبَيْتُمْ إِلاَّ دِينَكُمْ تَرَكْنَاكُمْ عَلَيْهِ وَأَعْطُونَا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَأَنْتُمْ صَاغِرُونَ ‏.‏ قَالَ وَرَطَنَ إِلَيْهِمْ بِالْفَارِسِيَّةِ وَأَنْتُمْ غَيْرُ مَحْمُودِينَ ‏.‏ وَإِنْ أَبَيْتُمْ نَابَذْنَاكُمْ عَلَى سَوَاءٍ ‏.‏ قَالُوا مَا نَحْنُ بِالَّذِي نُعْطِي الْجِزْيَةَ وَلَكِنَّا نُقَاتِلُكُمْ ‏.‏ فَقَالُوا يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَلاَ نَنْهَدُ إِلَيْهِمْ قَالَ لاَ ‏.‏ فَدَعَاهُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ إِلَى مِثْلِ هَذَا ثُمَّ قَالَ انْهَدُوا إِلَيْهِمْ ‏.‏ قَالَ فَنَهَدْنَا إِلَيْهِمْ فَفَتَحْنَا ذَلِكَ الْقَصْرَ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَالنُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَحَدِيثُ سَلْمَانَ حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ ‏.‏ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ لَمْ يُدْرِكْ سَلْمَانَ لأَنَّهُ لَمْ يُدْرِكْ عَلِيًّا وَسَلْمَانُ مَاتَ قَبْلَ عَلِيٍّ ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى هَذَا وَرَأَوْا أَنْ يُدْعَوْا قَبْلَ الْقِتَالِ وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِنْ تُقُدِّمَ إِلَيْهِمْ فِي الدَّعْوَةِ فَحَسَنٌ يَكُونُ ذَلِكَ أَهْيَبَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ دِعْوَةَ الْيَوْمَ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ لاَ أَعْرِفُ الْيَوْمَ أَحَدًا يُدْعَى ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ يُقَاتَلُ الْعَدُوُّ حَتَّى يُدْعَوْا إِلاَّ أَنْ يَعْجَلُوا عَنْ ذَلِكَ فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ فَقَدْ بَلَغَتْهُمُ الدَّعْوَةُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূল বাখতারী (রহঃ)

মুসলিমদের কোন এক সেনাবাহিনী পারস্যের একটি দুর্গ অবরোধ করে। সালমান ফারসি (রাঃ) এই বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। সেনাবাহিনীর মুজাহিদগণ বললেন, হে আব্দুল্লাহর পিতা! আমরা কি তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব না? তিনি বললেন, আমি যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাদের (ইসলাম গ্রহণের) দাওয়াত দিতে শুনেছি, তোমরা আমাকেও সেভাবে দাওয়াত দিতে দাও।সালমান (রাঃ) তাদের নিকট এসে বললেন, আমি তোমাদের মাঝে একজন ফারসি। তোমরা দেখতে পাচ্ছ, আরবরা আমার আনুগত্য করছে। তোমরা যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে তোমরাও আমাদের মতই অধিকার পাবে এবং আমাদের উপর যে দায় আসে তোমাদের উপরও সেরকম দায় আসবে। তোমরা যদি এ দাওয়াত গ্রহণ করতে অসম্মত হও এবং তোমাদের ধর্মের উপর অবিচল থাকতে চাও, তবে আমরা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্মের উপর ছেড়ে দেব। কিন্তু এক্ষেত্রে তোমরা আমাদের অনুগত্য স্বীকার করে আমাদেরকে জিযিয়া দিবে। রাবি বলেন, তিনি তাদেরকে এ কথাগুলো ফারসি ভাষায় বলেন। (তিনি আরো বলেন) এই অবস্থায় তোমরা প্রশংসিত হবে না। তোমরা যদি এটাও (জিযিয়া প্রদান) অস্বীকার কর তবে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে লড়ব।তারা বলল, আমরা জিযিয়া প্রদানে সম্মত নই, বরং আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। মুসলিম সেনানীগণ বললেন, হে আব্দুল্লাহর পিতা! আমরা কি তাদেরকে আক্রমণ করব না? তিনি বললেন, না। রাবি বলেন, তিনি এভাবে তাদেরকে তিন দিন যাবত আহ্বান করতে থাকেন। তারপর তিনি মুসলিম বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন, প্রস্তুত হও এবং তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়।রাবি বলেন, আমরা তাদেরকে আক্রমণ করে সেই দুর্গ দখল করলাম।

যঈফ, ইরওয়া (৫/৮৭)।এ অনুচ্ছেদে বুরাইদা, নুমান ইবনু মুকাররিন, ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সালমান (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান। আমরা শুধু আতা ইবনুস সায়িবের সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, আবূল বাখতারী সালমান (রাঃ)-এর দেখা পাননি। কেননা তিনি আলী (রাঃ)-এর দেখা পাননি। আর সালমান (রাঃ) আলী (রাঃ)-এর পূর্বে মারা যান।নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তার পরবর্তীগণ এ হাদীসের মতই মত দিয়েছেন। তাদের মতে, যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমেরও এই মত। তিনি বলেন, যদি আক্রমণ করার পূর্বে শত্রুবাহিনীকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া হয় তবে তা উত্তম এবং তা তাদের মনে প্রভাব ও ভীতির সঞ্চার করবে। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, আজকাল আর এরূপ দাওয়াত দেয়ার প্রয়োজন নেই। ইমাম আহমাদ বলেন, বর্তমানে এ ধরনের আহ্বান করার কোন প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। ইমাম শাফিঈ বলেন, শত্রুকে ইসলামের দাওয়াত না দেয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করা যাবে না। কিন্তু তাদেরকে তাড়াতাড়ি দাওয়াত গ্রহণ করার জন্য বলতে হবে। অবশ্য দাওয়াত না দিলে কোন সমস্যা নেই। কেননা তাদের কাছে ইতিপূর্বেই ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে।

১৯/২. অধ্যায়ঃ

(আযান শুনলে বা মসজিদ দেখলে আক্রমণ না করা)

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْعَدَنِيُّ الْمَكِّيُّ، - وَيُكْنَى بِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الرَّجُلُ الصَّالِحُ هُوَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ مُسَاحِقٍ عَنِ ابْنِ عِصَامٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ أَبِيهِ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَعَثَ جَيْشًا أَوْ سَرِيَّةً يَقُولُ لَهُمْ ‏ "‏ إِذَا رَأَيْتُمْ مَسْجِدًا أَوْ سَمِعْتُمْ مُؤَذِّنًا فَلاَ تَقْتُلُوا أَحَدًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَهُوَ حَدِيثُ ابْنِ عُيَيْنَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু ইসাম আল-মুযানী (রহঃ) হতে তার পিতার

তিনি (ইসাম) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ছোট বা বড় কোন যুদ্ধাভিযানে প্রেরণকালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকে বলতেনঃ তোমরা কোন মসজিদ দেখলে অথবা মুয়ায্জিনের আজান শুনলে সেখানকার কাউকে হত্যা করবে না।

যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৪৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটি ইবনু উআইনার রিওয়ায়াত।

১৯/৩. অধ্যায়ঃ

রাতের বেলা অথবা অতর্কিতে হামলা

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫০

حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ خَرَجَ إِلَى خَيْبَرَ أَتَاهَا لَيْلاً وَكَانَ إِذَا جَاءَ قَوْمًا بِلَيْلٍ لَمْ يُغِرْ عَلَيْهِمْ حَتَّى يُصْبِحَ فَلَمَّا أَصْبَحَ خَرَجَتْ يَهُودُ بِمَسَاحِيهِمْ وَمَكَاتِلِهِمْ فَلَمَّا رَأَوْهُ قَالُوا مُحَمَّدٌ وَافَقَ وَاللَّهِ مُحَمَّدٌ الْخَمِيسَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবার অভিযানের যাত্রা করে সেখানে রাতের বেলা গিয়ে পৌঁছান। তিনি রাতের বেলা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় পৌঁছলে ভোর না হলে হামলা করতেন না। ইহুদীরা ভোর হলে তাদের চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে (কৃষিকাজে) বের হল। তাঁকে দেখে তারা বলল, মুহাম্মাদ এসে গেছেন। আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ তাঁর সমস্ত বাহিনীসহ এসে গেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহু আকবার! খাইবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় যাই তখন সতর্ককৃত লোকদের ভোর বেলাটা খুবই শোচনীয় হয়ে থাকে।

সহীহ্‌, নাসা-ঈ

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا ظَهَرَ عَلَى قَوْمٍ أَقَامَ بِعَرْصَتِهِمْ ثَلاَثًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَحَدِيثُ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْغَارَةِ بِاللَّيْلِ وَأَنْ يَبِيتُوا وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُبَيَّتَ الْعَدُوُّ لَيْلاً ‏.‏ وَمَعْنَى قَوْلِهِ وَافَقَ مُحَمَّدٌ الْخَمِيسَ يَعْنِي بِهِ الْجَيْشَ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) হতে আবু তালহা (রাঃ)

কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) বিজয়ী হলে তিনি তাদের এলাকায় তিন দিন অবস্থান করতেন।

সহীহ্‌, সহীহ আবূ দাঊদ (২৪১৪), নাসা-ঈআবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আনাসের সূত্রে হুমাইদের হাদীসটিও হাসান সহীহ। রাতে শক্রর এলাকায় গিয়ে অতর্কিত হামলার পক্ষে একদল অভিজ্ঞ আলিম সম্মতি প্রদান করেছেন। এটাকে অন্য একদল অভিজ্ঞ আলিম মাকরূহ বলেছেন। ইমাম আহ্‌মাদ ও ইসহাক বলেন, রাতের বেলা শক্রর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোন সমস্যা নেই। ‘ওয়াফাকা মুহাম্মাদ আল-খামীস’’ -এর অর্থ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী।

১৯/৪. অধ্যায়ঃ

অগ্নিসংযোগ ও (বাড়িঘর) ধ্বংস সাধন

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ‏:‏ ‏(‏ مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ ‏)‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَلَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِقَطْعِ الأَشْجَارِ وَتَخْرِيبِ الْحُصُونِ ‏.‏ وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ ذَلِكَ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ ‏.‏ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَنَهَى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ يَزِيدَ أَنْ يَقْطَعَ شَجَرًا مُثْمِرًا أَوْ يُخَرِّبَ عَامِرًا وَعَمِلَ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ بَأْسَ بِالتَّحْرِيقِ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ وَقَطْعِ الأَشْجَارِ وَالثِّمَارِ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ وَقَدْ تَكُونُ فِي مَوَاضِعَ لاَ يَجِدُونَ مِنْهُ بُدًّا فَأَمَّا بِالْعَبَثِ فَلاَ تُحَرَّقُ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ التَّحْرِيقُ سُنَّةٌ إِذَا كَانَ أَنْكَى فِيهِمْ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

বানূ নাযীরের বুওয়ায়রাস্থ খেজুর বাগানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অগ্নিসংযোগ করেন এবং গাছগুলো কেটে ফেলেন। আল্লাহ তা'আলা এই বিষয়ে আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তোমরা যেসব খেজুরের গাছ কেটেছ বা এদের কাণ্ডের উপর যেগুলোকে স্বঅবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা সবই আল্লাহ তা'আলার অনুমতিক্রমেই করেছ, যাতে তিনি ফাসেকদের লাঞ্ছিত করতে পারেন”(সূরা হাশর- ৫)।

সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (২৮৪৪), নাসা-ঈইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম মত দিয়েছেন। যুদ্ধাবস্থায় গাছপালা কর্তন এবং দুর্গসমূহের ধ্বংস করায় কোন সমস্যা নেই বলে তারা মনে করেন। কিছু আলিম তা মাকরূহ বলেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম আওযাঈও। তিনি বলেন, ফলবান বৃক্ষ কাটতে এবং জনপদ ধ্বংস করতে আবূ বাক্‌র (রাঃ) বারণ করেছেন। মুসলমানগণও তাঁর পরবর্তী সময়ে এই নীতির অনুসরণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, শক্র বাহিনীর কৃষিক্ষেত্রে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং ফলবান বা যে কোন ধরনের গাছ কাটাতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আহ্‌মাদ বলেন, প্রয়োজনবোধে তা করা যাবে, কিন্তু বিনা প্রয়োজনে আগুন লাগানো যাবে না। ইমাম ইসহাক বলেন, শক্রর প্রতি প্রবল আক্রমণের উদ্দেশ্যে এরূপ করাই সুন্নাত।

১৯/৫. অধ্যায়ঃ

গনিমত (যুদ্ধলব্ধ মাল) বিষয়ে

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ فَضَّلَنِي عَلَى الأَنْبِيَاءِ أَوْ قَالَ أُمَّتِي عَلَى الأُمَمِ وَأَحَلَّ لَنَا الْغَنَائِمَ ‏"‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي ذَرٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي مُوسَى وَابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَسَيَّارٌ هَذَا يُقَالُ لَهُ سَيَّارٌ مَوْلَى بَنِي مُعَاوِيَةَ ‏.‏ وَرَوَى عَنْهُ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَحِيرٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ ‏.‏حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ ‏"‏ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ উমামা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে আল্লাহ তা'আলা সকল নবীদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন; অথবা তিনি বলেছেনঃ সকল উম্মাতের উপর আমার উম্মতকে মর্যাদা দিয়েছেন এবং গনীমতের সম্পদকে আমার জন্য বৈধ করেছেন। সহীহ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪০০১), ইরওয়া (১৫২, ২৮৫) আলী (রাঃ), আবু যার (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ), আবু মুসা (রাঃ) ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।সাইয়ারের ব্যাপারে কথিত আছে যে, তিনি বানূ মুআবিয়ার মুক্তদাস ছিলেন। তার নিকট হতে সুলাইমান আত-তাইমী, আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইর এবং আরো কয়েকজন বর্ণনাকারী হাদীস বর্ণনা করেছেন।আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে সকল নবীর উপর ছয়টি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে।(১) ব্যাপকার্থক ভাবকে সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশের যোগ্যতা আমাকে দেওয়া হয়েছে,(২) প্রভাব-প্রতিপত্তি দান করে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে,(৩) গনীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) আমার জন্য বৈধ করা হয়েছে,(৪) আমার জন্য সকল জমিন মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে,(৫) সকল সৃষ্টির জন্য আমাকে নবী করে পাঠানো হয়েছে এবং(৬) নবীদের আগমনধারা আমাকে দিয়ে শেষ করা হয়েছে।সহীহ, ইরওয়া (২৮৫), মুসলিম, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

১৯/৬. অধ্যায়ঃ

গনিমতের মধ্যে ঘোড়ার প্রাপ্য পরিমাণ

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسَمَ فِي النَّفَلِ لِلْفَرَسِ بِسَهْمَيْنِ وَلِلرَّجُلِ بِسَهْمٍ ‏.‏حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ أَخْضَرَ، نَحْوَهُ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ وَابْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالأَوْزَاعِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا لِلْفَارِسِ ثَلاَثَةُ أَسْهُمٍ سَهْمٌ لَهُ وَسَهْمَانِ لِفَرَسِهِ وَلِلرَّاجِلِ سَهْمٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমর (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমতের মধ্যে দুই অংশ ঘোড়ার জন্য এবং এক অংশ সৈনিকের জন্য নির্ধারণ করেছেন।

সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (২৮৫৪), নাসা-ঈমুহাম্মাদ ইবনু বাশ্‌শার আব্দুর রাহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুলাইম ইবনু আখযার হতে এই সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুজাম্মি ইবনু জারিয়া, ইবনু আব্বাস ও ইবনু আবূ আম্‌রাহ্‌ হতে তার বাবার সূত্রে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বেশির ভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। একই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাকও। তারা বলেন, গনিমতের মধ্যে অশ্বারোহী যোদ্ধা তিন অংশ পাবে। তার নিজের জন্য এক অংশ এবং তার ঘোড়ার জন্য দুই অংশ। আর পদাতিক যোদ্ধা এক অংশ পাবে।

১৯/৭. অধ্যায়ঃ

সারিয়্যা ( ক্ষুদ্র অভিযান ) প্রসঙ্গে

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الأَزْدِيُّ الْبَصْرِيُّ، وَأَبُو عَمَّارٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خَيْرُ الصَّحَابَةِ أَرْبَعَةٌ وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُمِائَةٍ وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ آلاَفٍ وَلاَ يُغْلَبُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا مِنْ قِلَّةٍ ‏"‏ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ يُسْنِدُهُ كَبِيرُ أَحَدٍ غَيْرُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ حِبَّانُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَنَزِيُّ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَرَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সফরসঙ্গী চার জন হওয়া উত্তম, চার শত সৈনিক নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্র বাহিনী উত্তম, চার হাজার সৈনিক নিয়ে গঠিত পূর্ণ বাহিনী উত্তম এবং বার হাজার সৈন্য নিয়ে গঠিত বাহিনী সংখ্যাস্বল্পতার কারণে পরাজিত হবে না (পরাজিত হলে তা ঈমানের দুর্বলতার কারনেই)।

যঈফ, সহিহাহ নতুন সংস্করণ( ৯৮৬)।এ হাদিসটি হাসান গারীব। জারীর ইবনু হাযিম ব্যতীত আর কোন প্রবীন রাবী এটাকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি। যুহরী হতে এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবেই বর্ণিত হয়েছে। হাব্বান ইবনু ‘আলী আল–‘আনাযী–‘উকাইল হতে , তিনি যুহরী হতে , তিনি ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ হতে তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে লাইস ইবনু সাদ–‘উকাইল সূত্রে, তিনি যুহরীর সূত্রে , তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বরাতে এটাকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১৯/৮. অধ্যায়ঃ

ফাই-এর প্রাপক কে?

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ نَجْدَةَ الْحَرُورِيَّ، كَتَبَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَهَلْ كَانَ يَضْرِبُ لَهُنَّ بِسَهْمٍ فَكَتَبَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبْتَ إِلَىَّ تَسْأَلُنِي هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَكَانَ يَغْزُو بِهِنَّ فَيُدَاوِينَ الْمَرْضَى وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ وَأَمَّا يُسْهِمُ فَلَمْ يَضْرِبْ لَهُنَّ بِسَهْمٍ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأُمِّ عَطِيَّةَ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُسْهَمُ لِلْمَرْأَةِ وَالصَّبِيِّ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَسْهَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلصِّبْيَانِ بِخَيْبَرَ وَأَسْهَمَتْ أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ لِكُلِّ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي أَرْضِ الْحَرْبِ ‏.‏قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَسْهَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلنِّسَاءِ بِخَيْبَرَ وَأَخَذَ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ بِهَذَا ‏.‏ وَمَعْنَى قَوْلِهِ وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ يَقُولُ يُرْضَخُ لَهُنَّ بِشَيْءٍ مِنَ الْغَنِيمَةِ يُعْطَيْنَ شَيْئًا ‏.

বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ)

ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে হারূরা এলাকার (খারিজি নেতা) নাজদা চিঠির মাধ্যমে প্রশ্ন করে যে, মহিলাদেরকে কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধের মাঠে নিয়ে যেতেন এবং তাদের জন্য কি গনীমতে অংশ নির্ধারণ করতেন? উত্তরে ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে লিখলেন, “তুমি আমাকে চিঠির মাধ্যমে প্রশ্ন করেছ যে, মহিলাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধের মাঠে অংশগ্রহণ করাতেন কি-না এবং গনীমতের অংশ তাদের জন্য নির্ধারণ করতেন কি-না। তিনি তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। তারা অসুস্থ যোদ্ধাদের সেবাযত্ন করত। গনীমতের সম্পদ হতে তাদেরকে প্রদান করা হত, কিন্তু তিনি তাদের জন্য অংশ নির্ধারণ করেননি।”

সহীহ্‌, সহীহ আবূ দাঊদ (২৪৩৮), মুসলিমআনাস ও উন্মু আতিয়্যা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক বেশির ভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী এবং শাফিঈও (গনিমতের কোন অংশ মহিলারা পাবে না)। কয়েকজন আলিম বলেছেন, গনিমতের ভাগ মহিলা এবং শিশুদেরকেও প্রদান করতে হবে। আওযাঈর এই মত। তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুদেরকে গনিমতের ভাগ প্রদান করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ শিশুদেরকে মুসলিম নেতৃবৃন্দ গনিমতের ভাগ প্রদান করেছেন। আওযাঈ আরো বলেন, খাইবারের যুদ্ধে মহিলাদের জন্যও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনিমতে অংশ নির্ধারন করেছেন। মুসলমানগণ পরবর্তীতে এ নীতিই অনুসরণ করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, আমাদের নিকট একথাগুলো আলী ইবনু খাশরামের সূত্রে, তিনি ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্রে, তিনি আওযাঈর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। “ইউহ্যাইনা মিনাল গানীমাহ”-এর অর্থ “তাদেরকে (মহিলাদেরকে) গনিমত হতে অল্প কিছু দেয়া হল, তাদেরকে কিছু দেয়া হল”।

১৯/৯. অধ্যায়ঃ

গোলামকে (গনিমতের) অংশ দেওয়া হবে কি?

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৫৫৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ شَهِدْتُ خَيْبَرَ مَعَ سَادَتِي فَكَلَّمُوا فِيَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَعْلَمُوهُ أَنِّي مَمْلُوكٌ ‏.‏ قَالَ فَأَمَرَ بِي فَقُلِّدْتُ السَّيْفَ فَإِذَا أَنَا أَجُرُّهُ فَأَمَرَ لِي بِشَيْءٍ مِنْ خُرْثِيِّ الْمَتَاعِ وَعَرَضْتُ عَلَيْهِ رُقْيَةً كُنْتُ أَرْقِي بِهَا الْمَجَانِينَ فَأَمَرَنِي بِطَرْحِ بَعْضِهَا وَحَبْسِ بَعْضِهَا ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يُسْهَمَ لِلْمَمْلُوكِ وَلَكِنْ يُرْضَخُ لَهُ بِشَيْءٍ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবুল লাহমের মুক্তদাস উমাইর (রাঃ)

আমি খায়বারের যুদ্ধে আমার মনিবদের সাথে অংশগ্রহণ করি। তারা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কথা বললেন। তারা তাঁকে আরও জানান যে, আমি ক্রীতদাস। বর্ণনাকারী উমাইর (রাঃ) বলেন, আমার ব্যাপারে তাঁর হুকুম মোতাবেক আমার গলায় তরবারি ঝুলিয়ে দেয়া হল। তরবারিটিকে আমি মাটিতে হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে হাঁটছিলাম। তিনি গনীমতের মধ্য থেকে কিছু তৈজসপত্র আমাকে দিতে বললেন। আমি তাঁকে কয়েকটি মন্ত্র শুনালাম, যেগুলো দিয়ে আমি পাগলদের ঝাড়ফুঁক করতাম। তিনি এর কিছু বাদ দেয়ার এবং কিছু রাখার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন।

সহীহ্‌, সহীহ আবূ দাঊদ (২৪৪০)ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা মনে করেন গোলামের জন্য গনিমতের সম্পদে কোন নির্ধারিত অংশ নেই, তবে অল্পপরিমাণ দেওয়া যায়। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহ্মাদ এবং ইসহাকও।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18