মানত ও শপথ
১৮/১. অধ্যায়ঃ
গুনাহের কাজের উদ্দেশ্যে মানত করা বৈধ নয়
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫২৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَفْوَانَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ يَصِحُّ لأَنَّ الزُّهْرِيَّ لَمْ يَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ أَبِي سَلَمَةَ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْهُمْ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ وَابْنُ أَبِي عَتِيقٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَرْقَمَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ مُحَمَّدٌ وَالْحَدِيثُ هُوَ هَذَا .
বর্ণনাকারী আইশা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গুনাহের কাজ সম্পাদনের উদ্দেশ্যে মানত করা বৈধ হবে না। শপথ ভঙ্গের কাফফারা অনুরূপ এ কাফফারা।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১২৫)ইবনু উমার, জাবির ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস সহীহ্ নয়। কেননা আবূ সালামার নিকট হতে এ হাদীস ইমাম যুহ্রী শুনেননি। আমি ইমাম বুখারীকে এভাবে বলতে শুনেছিঃ মূসা ইবনু উকবা, আবূ ‘আতীক প্রমুখ যুহ্রী হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু আরকাম হতে, তিনি ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আইশা (রাঃ) হতে এবং তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, এটাই সেই হাদীস।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫২৫
حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ، - وَاسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَرْقَمَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَهُوَ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي صَفْوَانَ عَنْ يُونُسَ . وَأَبُو صَفْوَانَ هُوَ مَكِّيٌّ وَاسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ الْحُمَيْدِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ جِلَّةِ أَهْلِ الْحَدِيثِ . وَقَالَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَكَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينٍ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَاحْتَجَّا بِحَدِيثِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لاَ نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ وَلاَ كَفَّارَةَ فِي ذَلِكَ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ .
বর্ণনাকারী আইশা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর নাফরমানি করার উদ্দেশ্যে মানত করা যাবে না এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা মতোই তার কাফফারা। পূর্বের হাদিসের সহায়তায় সহীহ
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। এটা ইউনুস হতে আবূ সাফওয়ান কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহীহ্। আবূ সাফওয়ান মক্কার অধিবাসী। তার নাম আব্দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ইবনু আব্দুল মালিক ইবনু মারওয়ান। তার নিকট হতে হুমাইদী এবং আরো একাধিক হাদীস বিশারদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ বলেছেন, আল্লাহ্র অবাধ্যাচরণ সম্পর্কিত কোন কাজের উদ্দেশ্যে মানত করা যাবে না। কোন ব্যক্তি এ ধরনের মানত করলে তবে শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ তার কাফফারা দিতে হবে। এই কথা বলেছেন আহমাদ ও ইসহাক। আবূ সালামার সূত্রে আইশা (রাঃ) -এর যে হাদীস যুহ্রী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, তারা দুজনেই সেটাকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। অপর একদল সাহাবী এবং অপরাপর আলিম বলেছেন, গুনাহের কাজ সম্পাদনের জন্য মানতও নেই এবং কাফফারাও নেই। এই মত ইমাম মালিক ও শাফিঈরও।
১৮/২. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করল সে যেন তার আনুগত্য করে।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫২৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الأَيْلِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلاَ يَعْصِهِ " .حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الأَيْلِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ . وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ قَالُوا لاَ يَعْصِي اللَّهَ وَلَيْسَ فِيهِ كَفَّارَةُ يَمِينٍ إِذَا كَانَ النَّذْرُ فِي مَعْصِيَةٍ .
বর্ণনাকারী আইশা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে কোন লোক মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর কোন লোক আল্লাহর অবাধ্যচরণের উদ্দেশ্যে মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ না করে।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১২৬), বুখারীহাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার হতে, তিনি তালহা ইবনু আবদুল মালিক হতে, তিনি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আইশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের সূত্রে ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীরও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এই মত দিয়েছেন একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ। ইমাম মালিক এবং শাফিঈরও এই মত। তারা বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলার নাফরমানী করা চলবে না, নাফরমানীর জন্য মানত করলেও তা পূর্ণ করা জায়িয নয় এবং তার জন্য কাফফারাও দিতে হবে না।
১৮/৩. অধ্যায়ঃ
যে জিনিসে আদম সন্তানের মালিকানা নেই তার মানত করা যায় না
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫২৭
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ عَلَى الْعَبْدِ نَذْرٌ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী সাবিত ইবনু যাহ্হাক (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে জিনিসে বান্দার মালিকানা নেই তার মানত হয় না।
সহীহ্, ইরওয়া (২৫৭৫), নাসা-ঈআবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
১৮/৪. অধ্যায়ঃ
অনির্দিষ্ট মানতের কাফফারা
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫২৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي كَعْبُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَفَّارَةُ النَّذْرِ إِذَا لَمْ يُسَمَّ كَفَّارَةُ يَمِينٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
বর্ণনাকারী উকবা ইবনু আমির (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নাম উল্লেখ না করে মানত করা হলে তার কাফফারা শপথ ভঙ্গের কাফফারার মতই।
যঈফ, হাদীসে বর্ণিত “নাম উল্লেখ না করে” অংশ বাদে হাদীনটি সহীহ্, ইরওয়া (২৫৮৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
১৮/৫. অধ্যায়ঃ
শপথের বিপক্ষে কাজ করাকে কল্যাণকর মনে করলে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫২৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ يُونُسَ، هُوَ ابْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أَتَتْكَ عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِنْ أَتَتْكَ عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَلْتُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَأَنَسٍ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবদুর রহমান! শাসকের পদ চেয়ে নিও না। কেননা এ পদ চাওয়ার কারণে তোমার আয়ত্তে এলে তোমাকে এর যিম্মায় (সহায়হীনভাবে) ছেড়ে দেয়া হবে। এ পদটি যদি না চাইতেই তোমার আয়ত্তে আসে তবে তুমি (দায়িত্বভার বহনে) সহায়তা প্রাপ্ত হবে। তুমি কোন কাজের মানত করার পরে তার বিপরীত করার মধ্যে কল্যাণ দেখতে পেলে কল্যাণকর কাজটিই করবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারা প্রদান করবে।
সহীহ্, ইরওয়া (৭/১৬৬), (৮/২২৮,২৬০১) সহীহ্ আবূ দাউদ (২৬০১), নাসা-ঈআলী, জাবির, আদী ইবনু হাতিম, আবুদ দারদা, আনাস, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ হুরাইরা, উম্মু সালামা ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
১৮/৬. অধ্যায়ঃ
শপথ ভঙ্গের আগেই কাফফারা প্রদান করা।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫৩০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَفْعَلْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْكَفَّارَةَ قَبْلَ الْحِنْثِ تُجْزِئُ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يُكَفِّرُ إِلاَّ بَعْدَ الْحِنْثِ . قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ إِنْ كَفَّرَ بَعْدَ الْحِنْثِ أَحَبُّ إِلَىَّ وَإِنْ كَفَّرَ قَبْلَ الْحِنْثِ أَجْزَأَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন বিষয়ে কেউ শপথ করার পর তার বিপক্ষে কাজ করার মধ্যে মঙ্গল দেখতে পেলে সে যেন তার শপথ ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করে এবং কল্যাণকর কাজটি সম্পাদন করে।
সহীহ্, ইরওয়া (২০৮৪), রাওযুন নাযীর (১০২৯), মুসলিমউম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বির্ণত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বেশির ভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করা যায়। এই মত দিয়েছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। অপর কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আমি শপথ ভঙ্গের পর কাফফারা প্রদানকে উত্তম মনে করি। তবে কোন লোক শপথ ভঙ্গের আগেই আগ্রিম কাফফারা প্রদান করলে তাও যথেষ্ট হবে।
১৮/৭. অধ্যায়ঃ
শপথে ইনশাআল্লাহ বলা
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫৩১
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقَدِ اسْتَثْنَى فَلاَ حِنْثَ عَلَيْهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَغَيْرُهُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفًا . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضى الله عنهما مَوْقُوفًا . وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ غَيْرَ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَكَانَ أَيُّوبُ أَحْيَانًا يَرْفَعُهُ وَأَحْيَانًا لاَ يَرْفَعُهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الاِسْتِثْنَاءَ إِذَا كَانَ مَوْصُولاً بِالْيَمِينِ فَلاَ حِنْثَ عَلَيْهِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالأَوْزَاعِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোক শপথ করার সময় ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান) বললে শপথ ভঙ্গের অপরাধ তার উপর আসবে না।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১০৫)আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বির্ণত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। ইবনু উমারের এ হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার এবং আরো কয়েকজন বর্ণনাকারী নাফির সূত্রে ইবনু উমার হতে মাওকূ’ফভাবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে সালিমও এটি মাওকূ’ফ হাদীস হিসাবে ইবনু উমার হতে বর্ণনা করেছেন। এটিকে আইয়্যূব সাখতিয়ানী ব্যতীত আর কেউ মারফূ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম বলেন, আইয়্যূব এটাকে কখনো মারফূ ভাবে বর্ণনা করতেন, আবার কখনো মাওকূফ ভাবে বর্ণনা করতেন।এ হাদীস মোতাবিক নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বেশির ভাগ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বলেছেন, শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ শব্দটি যোগ করলে অর্থাৎ শপথ করার সাথে সাথে ইনশাআল্লাহ বললে শপথের বিপক্ষে কোন কিছু সংঘটিত হলে তাতে শপথ ভঙ্গ হবে না এবং কাফফারাও আদায় করতে হবে না। এই মত প্রদান করেছেন সুফিয়ান সাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫৩২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَمْ يَحْنَثْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى سَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا فَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ خَطَأٌ أَخْطَأَ فِيهِ عَبْدُ الرَّزَّاقِ اخْتَصَرَهُ مِنْ حَدِيثِ مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ دَاوُدَ قَالَ لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى سَبْعِينَ امْرَأَةً تَلِدُ كُلُّ امْرَأَةٍ غُلاَمًا . فَطَافَ عَلَيْهِنَّ فَلَمْ تَلِدِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ إِلاَّ امْرَأَةٌ نِصْفَ غُلاَمٍ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَكَانَ كَمَا قَالَ " . هَكَذَا رُوِيَ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ هَذَا الْحَدِيثُ بِطُولِهِ وَقَالَ " سَبْعِينَ امْرَأَةً " . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى مِائَةِ امْرَأَةٍ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রা)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেউ শপথ করে ইনশা-আল্লাহ বললে তার শপথ ভঙ্গের কারণে কোন অপরাধ হবে না।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১০৪)আমি (আবূ ঈসা) এ হাদীস বিষয়ে ইমাম বুখারীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীসটি ভুল বর্ণনা করা হয়েছে। আবদুর রাজ্জাক এটাকে সংক্ষিপ্ত আকারে অন্য একটি হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন। সেই হাদীসটি এইঃ আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সুলাইমান ইবনু দাঊদ (আঃ) বললেনঃ আমি আজকের রাত্রিতে সত্তরজন স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হব। প্রত্যেক স্ত্রীই একটি করে ছেলে সন্তান প্রসব করবে। তিনি সকল স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই সন্তান প্রসব করল না। শুধুমাত্র একজন স্ত্রী একটি অর্ধাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তিনি যদি ইনশাআল্লাহ বলতেন তাহলে তিনি যেরূপ বলেছিলেন সেরূপই হত।আবদুর রাজ্জাক লম্বা হাদীসটি উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান (আঃ) - এর স্ত্রীর পরিমাণও তিনি সত্তরজন বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “সুলাইমান ইবনু দাঊদ (আঃ) বললেন, আমি আজ রাতে একশতজন স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হব”।
১৮/৮. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা নিষেধ
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৫৩৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ وَهُوَ يَقُولُ وَأَبِي وَأَبِي فَقَالَ " أَلاَ إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ " . فَقَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهِ بَعْدَ ذَلِكَ ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَقُتَيْلَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ مَعْنَى قَوْلِهِ وَلاَ آثِرًا . أَىْ لَمْ آثُرْهُ عَنْ غَيْرِي يَقُولُ لَمْ أَذْكُرْهُ عَنْ غَيْرِي .
বর্ণনাকারী সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে
নবী (ﷺ) উমর (রাঃ)-কে ‘আমার পিতার শপথ, আমার পিতার শপথ’ বলতে শুনলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান! অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের বাবার নামে শপথ করতে আল্লাহ তা‘আলা নিষেধ করেছেন। উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এরপর হতে আর কখনো এভাবে শপথ করিনি বা অন্যের বরাতেও তা উল্লেখ করিনি।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২০৯৪), নাসা-ঈসবিত ইবনু যাহহাক, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরাইরা, কুতাইলা ও আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আবূ উবাইদ বলেন, ‘ওলা আছিরান’ -এর অর্থ অন্যের বরাতেও আমি তা উল্লেখ করিনি।