যাকাত
২৩/১. অধ্যায়ঃ
যাকাত ফার্য হওয়া প্রসঙ্গ
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৩৫
خْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ الْمَوْصِلِيُّ، عَنْ الْمُعَافَى، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَقَ الْمَكِّيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِىٍّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمُعَاذٍ حِينَ بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ: «إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ، فَإِذَا جِئْتَهُمْ فَادْعُهُمْ إِلَى أَنْ يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ بِذَلِكَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ هُمْ - يَعْنِي - أَطَاعُوكَ بِذَلِكَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ بِذَلِكَ، فَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ»
বর্ণনাকারী ইব্ন আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণকালে বলেছিলেন যে, তুমি এমন এক জাতির কাছে যাচ্ছো যারা আহলে কিতাব। তুমি তাদের কাছে যখন পৌঁছবে তখন তাদের তুমি এ সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আহ্বান করবে যে, "আল্লাহ তা’আলা ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল।” তারা তোমার এই আহ্বানে সাড়া দিলে তাদের তুমি এ সংবাদ দেবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা তোমার এই আহ্বানে সাড়া দেয় তবে তুমি তাদের জানাবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর যাকাত ফরজ করেছেন যা তাদের মধ্যকার বিত্তবানদের থেকে নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এই দাওয়াতে সাড়া দেয় তবে তুমি নিজেকে মাযলুমের ফরিয়াদ থেকে বাঁচিয়ে রাখলে।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৩৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ: سَمِعْتُ بَهْزَ بْنَ حَكِيمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، مَا أَتَيْتُكَ حَتَّى حَلَفْتُ أَكْثَرَ مِنْ عَدَدِهِنَّ لِأَصَابِعِ يَدَيْهِ أَنْ لَا آتِيَكَ وَلَا آتِيَ دِينَكَ، وَإِنِّي كُنْتُ امْرَأً لَا أَعْقِلُ شَيْئًا إِلَّا مَا عَلَّمَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولُهُ، وَإِنِّي أَسْأَلُكَ بِوَحْيِ اللَّهِ، بِمَا بَعَثَكَ رَبُّكَ إِلَيْنَا؟ قَالَ: «بِالْإِسْلَامِ»، قُلْتُ: وَمَا آيَاتُ الْإِسْلَامِ؟ قَالَ: «أَنْ تَقُولَ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَى اللَّهِ، وَتَخَلَّيْتُ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ»---[حكم الألباني] حسن الإسناد
বর্ণনাকারী বাহয্ (রহঃ)
আমি বললাম: হে আল্লাহর নাবী (ﷺ)! আমি আপনার কাছে এসেছি অথচ আমি আপনার কাছে আসার পূর্বে আমার দু’হাতের যে আঙুল আছে সেই সংখ্যায় শপথ করেছি যে, আমি আপনার কাছেও আসব না আর আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। আর এখন আমার অবস্থা এমন হয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রসূল (ﷺ) আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমার আর কিছুই জানা নেই। আমি আপনাকে প্রশ্ন করছি আল্লাহ তা’আলার ওহী সম্পর্কে, কি দিয়ে আপনার রব আপনাকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, ইসলাম দিয়ে।আমি বললাম, ইসলামের নিদর্শন কী? তিনি (ﷺ) বললেন, তোমার এ কথা বলা যে, আমি আমার চেহারাকে (নিজেকে) আল্লাহ তা’আলার কাছে সমর্পণ করলাম, অন্য সব কিছু থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করলাম। আর তুমি সালাত কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৩৭
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ مُسَاوِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلَّامٍ، عَنْ أَخِيهِ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَلَّامٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غُنْمٍ، أَنَّ أَبَا مَالِكٍ الْأَشْعَرِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ شَطْرُ الْإِيمَانِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ، وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ يَمْلَأُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَالصَّلَاةُ نُورٌ، وَالزَّكَاةُ بُرْهَانٌ، وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ، وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ»
বর্ণনাকারী আবূ মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পূর্ণাঙ্গরূপে ওযু করা ঈমানের অর্ধেক। আর আলহামদুলিল্লাহ্ মীজানকে পরিপূর্ণ করে দেয়, তাসবীহ এবং তাকবীর আসমানসমূহ এবং জমিনকে পরিপূর্ণ করে দেয়। সালাত হল নূর (আলো) আর যাকাত হল দলিল, ধৈর্য (সবর) হল জ্যোতি এবং কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে যুক্তি।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৩৮
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ اللَّيْثِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا خَالِدٌ، عَنْ ابْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي صُهَيْبٌ، أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَمِنْ أَبِي سَعِيدٍ، يَقُولَانِ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَكَبَّ، فَأَكَبَّ كُلُّ رَجُلٍ مِنَّا يَبْكِي لَا نَدْرِي عَلَى مَاذَا حَلَفَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فِي وَجْهِهِ الْبُشْرَى، فَكَانَتْ أَحَبَّ إِلَيْنَا مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ، ثُمَّ قَالَ: " مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، وَيَصُومُ رَمَضَانَ، وَيُخْرِجُ الزَّكَاةَ، وَيَجْتَنِبُ الْكَبَائِرَ السَّبْعَ، إِلَّا فُتِّحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، فَقِيلَ لَهُ: ادْخُلْ بِسَلَامٍ "
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা এবং আবূ সাঈদ (রাঃ)
তারা বলেন যে, একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেন: ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! এ কথা তিনি (ﷺ) তিনবার বললেন, এরপর তিনি আপন মাথা ঝুঁকিয়ে দিলেন। আমরা প্রত্যেকে মাথা ঝুঁকিয়ে কান্না করতে লাগলাম। আমরা বুঝতেই পারলাম না যে, তিনি (ﷺ) কোনো বিষয়ের উপর কসম করলেন। এরপর তিনি (ﷺ) তাঁর মাথা উত্তোলন করলেন। তাঁর চেহারায় তখন খুশির ছটা পরিলক্ষিত হচ্ছিল, যা আমাদের কাছে লাল বর্ণের উটের চাইতেও প্রিয় ছিল।তারপর তিনি (ﷺ) বললেন: যে বান্দা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমজান মাসে সাওম পালন করে, যাকাত প্রদান করে এবং সাতটি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং তাকে বলা হবে যে, তুমি প্রশান্তচিত্তে জান্নাতে দাখিল হও।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৩৯
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ «مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ شَيْءٍ مِنَ الْأَشْيَاءِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ لَكَ، وَلِلْجَنَّةِ أَبْوَابٌ، فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ»، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: هَلْ عَلَى مَنْ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ، فَهَلْ يُدْعَى مِنْهَا كُلِّهَا أَحَدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ» يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যে কোনো জিনিসের এক জোড়াও দান করে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে ডাকা হবে : হে আল্লাহর বান্দা! এ [দরজা] তোমার জন্য উত্তম। [বস্তুত] জান্নাতের অনেক দরজা আছে।যে সালাত আদায়ককারী তাকে সালাতের দরজা হতে ডাকা হবে, যে জিহাদকারী তাকে জিহাদের দরজা হতে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি সদকা প্রদানকারী তাকে সদকার দরজা হতে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি সিয়াম পালনকারী তাকে 'রাইয়্যান' নামক দরজা হতে ডাকা হবে।আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! যাকে ঐসব দরজা দিয়ে ডাকা হবে, তার তো কোনো সমস্যা নেই। তবে কাউকে কি প্রত্যেক দরজা দিয়েই ডাকা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং আমি আশা করি যে, তুমি তাদের অন্তর্গত অর্থাৎ আবু বকর (রাঃ)।
২৩/২. অধ্যায়ঃ
যাকাত প্রদান না করার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৪০
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: جِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ، فَلَمَّا رَآنِي مُقْبِلًا، قَالَ: «هُمُ الْأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ»، فَقُلْتُ: مَا لِي لَعَلِّي أُنْزِلَ فِيَّ شَيْءٌ، قُلْتُ: مَنْ هُمْ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، قَالَ: " الْأَكْثَرُونَ أَمْوَالًا، إِلَّا مَنْ قَالَ: هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " حَتَّى بَيْنَ يَدَيْهِ، وَعَنْ يَمِينِهِ، وَعَنْ شِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا يَمُوتُ رَجُلٌ فَيَدَعُ إِبِلًا أَوْ بَقَرًا لَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا، إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، كُلَّمَا نَفِدَتْ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ أُولَاهَا حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ»
বর্ণনাকারী আবু যর (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে এলাম, তখন তিনি কা'বার ছায়ায় উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি আমাকে অগ্রসর হতে দেখে বললেন, কা'বার রবের কসম, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আমি [মনে মনে] বললাম, আমার সর্বনাশ! মনে হয় আমার সম্পর্কে কোনো বিষয় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। তারা কারা? তিনি (ﷺ) বললেন, তারা হল অধিক সম্পদশালী ব্যক্তিরা। কিন্তু যারা এভাবে, এভাবে ও এভাবে দান-খয়রাত করে এমনকি তাদের সামনে, ডানে এবং বামে দান-খয়রাত করে।এরপর তিনি (ﷺ) বললেন, ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। যে ব্যক্তি উট কিংবা গরুর যাকাত প্রদান না করে মারা যাবে কেয়ামতের দিন সেগুলোকে পূর্বাপেক্ষা বিরাট এবং বলিষ্ঠাকারে তার সামনে আনা হবে। সেগুলো পালাক্রমে তাকে ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে এবং শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। যখন একটি শেষ করবে তখন প্রথমটি আবার ফিরে আসবে। এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ লোকজনের মাঝে বিচারকার্য নিষ্পন্ন না হয়।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৪১
أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ جَامِعِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ لَهُ مَالٌ لَا يُؤَدِّي حَقَّ مَالِهِ إِلَّا جُعِلَ لَهُ طَوْقًا فِي عُنُقِهِ، شُجَاعٌ أَقْرَعُ وَهُوَ يَفِرُّ مِنْهُ وَهُوَ يَتْبَعُهُ»، ثُمَّ قَرَأَ مِصْدَاقَهُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: (وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) الْآيَةَ
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তির ধন-সম্পদ রয়েছে অথচ সে তার সম্পদের হক (যাকাত) প্রদান করছে না, সেগুলো দিয়ে তার গলায় ভয়াবহ ও অতি বিষাক্ত সাপরূপে বেড়ি দেয়া হবে। সেই ব্যক্তি সাপ থেকে পালাবে কিন্তু সাপ তাকে অনুসরণ করে ছুটতে থাকবে। এরপর তিনি (ﷺ) কুরআন থেকে তার সত্যতাস্বরূপ পাঠ করলেনঃوَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ“এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে, (তারা মনে করে) এতে তাদের কল্যাণ রয়েছে। বরং এটা তাদের জন্য অকল্যাণ। যাতে তারা কৃপণতা করে কেয়ামতের দিন তাই তাদের গলার বেড়ি বানিয়ে দেয়া হবে...” (সূরা আলে ইমরান ৩: ১৮০)।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৪২
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الْغُدَانِيِّ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «أَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ إِبِلٌ لَا يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَجْدَتُهَا وَرِسْلُهَا؟ قَالَ: «فِي عُسْرِهَا وَيُسْرِهَا، فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغَذِّ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنِهِ وَآشَرِهِ، يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، إِذَا جَاءَتْ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ، وَأَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ بَقَرٌ لَا يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا، فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَغَذَّ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ وَآشَرَهُ، يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ، فَتَنْطَحُهُ كُلُّ ذَاتِ قَرْنٍ بِقَرْنِهَا، وَتَطَؤُهُ كُلُّ ذَاتِ ظِلْفٍ بِظِلْفِهَا، إِذَا جَاوَزَتْهُ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ، وَأَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ لَا يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا، فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغَذِّ مَا كَانَتْ وَأَكْثَرِهِ وَأَسْمَنِهِ وَآشَرِهِ، ثُمَّ يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَطَؤُهُ كُلُّ ذَاتِ ظِلْفٍ بِظِلْفِهَا، وَتَنْطَحُهُ كُلُّ ذَاتِ قَرْنٍ بِقَرْنِهَا، لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلَا عَضْبَاءُ، إِذَا جَاوَزَتْهُ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ»
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তির উট রয়েছে কিন্তু সে সবল ও দুর্বল অবস্থায় সেগুলোর যাকাত প্রদান করে না। সাহাবীরা বললেন, সেগুলোর সবল ও দুর্বল অবস্থা কী? তিনি (ﷺ) বললেন: সেগুলোর (মালিকের) অভাব কিংবা সচ্ছলতা থাকা। কেননা সেগুলো কেয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অধিক ভয়ঙ্কররূপে উপস্থিত হবে। সেই ব্যক্তিকে উটগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। উটগুলো তাদের ক্ষুর দ্বারা (চক্রাকারে) তাকে পদদলিত করতে থাকবে। যখন শেষ উটটি পার হয়ে যাবে তখন প্রথম উটটি ফিরে আসবে। [এই শাস্তি] এমন একদিন হবে যে দিন হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ, এই শাস্তি মানুষের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এরপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে) তার পথ দেখে নেবে।আর যে ব্যক্তির গরু রয়েছে কিন্তু সে সবল বা দুর্বল অবস্থায় ওগুলোর যাকাত প্রদান করে না, তারা কেয়ামতের দিন আগের চেয়ে বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অধিক বেপরোয়ারূপে উপস্থিত হবে। সে ব্যক্তিকে গরুগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তাকে প্রত্যেক শিংবিশিষ্ট জন্তু তার শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে এবং প্রত্যেক ক্ষুরবিশিষ্ট জন্তু তার ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে। যখন তাদের শেষটি পার হয়ে যাবে তখন প্রথমটি আবার ফিরে আসবে, এমন একদিন হবে যে দিনটি হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ। মানুষের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়া না পর্যন্ত এই শাস্তি দেয়া হবে। এরপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে) তার পথ দেখে নেবে।আর যে ব্যক্তির ছাগল রয়েছে কিন্তু সে অনটন ও সচ্ছলতার অবস্থায় সেগুলোর যাকাত প্রদান করে না, সেগুলো কেয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। এরপর সেই ব্যক্তিকে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে ঐ ছাগলগুলোর সামনে উপুড় করে রাখা হবে। তখন প্রত্যেক ক্ষুরবিশিষ্ট জন্তু তাকে তার ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং প্রত্যেক শিংবিশিষ্ট জন্তু তাকে তার শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। (কেয়ামতের দিন) সেগুলোর কোনোটি বাঁকা বা ভাঙ্গা শিংবিশিষ্ট হবে না। যখন শেষটি পার হয়ে যাবে তখন প্রথমটি ফিরে আসবে। [এই শাস্তি] এমন একদিন দেয়া হবে, যেদিন হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ। এই শাস্তি লোকজনের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়ার পর্যন্ত। এরপর সে তার গন্তব্যস্থান দেখে নেবে।
২৩/৩. অধ্যায়ঃ
যাকাত আদায়ে অস্বীকৃতি প্রদানকারী
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৪৩
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ، قَالَ عُمَرُ، لِأَبِي بَكْرٍ: كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ، إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ "، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالًا كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ قَالَ عُمَرُ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ»
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত হলেন এবং আরবের একটি দল যাকাত দিতে অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফরি করল, তখন উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে বললেন: আপনি কিভাবে লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ না তারা বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই)। যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে তার জানমাল আমার থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে, তবে তার যথার্থ কারণ ছাড়া। আর তার (বাস্তব) হিসাব আল্লাহর কাছে সোপর্দ।”আবু বকর (রাঃ) বললেন: আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করব যে সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা যাকাত হল সম্পদের ‘হক’। আল্লাহর কসম, যদি লোকজন আমার কাছে এমন একটি রশিও প্রদান না করে যা তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রদান করত, তাহলে তা প্রদান না করার কারণেও আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, আমি আবু বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তের সাথে এ কারণে ঐকমত্য পোষণ করলাম যে, আমি দেখলাম, আল্লাহ তা’আলা আবু বকর (রাঃ)-এর অন্তর জিহাদের জন্য প্রস্তুত করে দিয়েছেন। অতএব আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি সঠিক।
২৩/৪. অধ্যায়ঃ
যাকাত প্রদান অস্বীকারকারীর শাস্তি
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ২৪৪৪
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «فِي كُلِّ إِبِلٍ سَائِمَةٍ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ، لَا يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا، مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا فَلَهُ أَجْرُهَا، وَمَنْ أَبَى فَإِنَّا آخِذُوهَا، وَشَطْرَ إِبِلِهِ عَزْمَةٌ مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا، لَا يَحِلُّ لِآلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهَا شَيْءٌ»
বর্ণনাকারী বাহ্য্ ইব্ন হাকীম (রহঃ)
বাহজ ইবন হাকীম (রহঃ)-এর দাদা বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে প্রত্যেক অবাধে বিচরণকারী উট সম্পর্কে বলতে শুনেছি: প্রত্যেক চল্লিশটিতে একটি বিনতু লাবুন (তিন বছর বয়সী মাদি উট) দিতে হবে। এ হিসাব থেকে কোনো উট বাদ যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তা প্রদান করবে তাকে প্রতিদান দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি তা প্রদানে অস্বীকার করবে আমিই তার থেকে তা আদায় করে নেব এবং তার আরো অর্ধেক উট আদায় করে নেব। এটা আল্লাহ তা'আলার ফরজসমূহের একটি ফরজ। যাকাতের কোনো বস্তু মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর বংশধরদের জন্য হালাল নয়।