ত্বলাক্ব
১৯/১. অধ্যায়ঃ
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বলাক্ব দেয় তবে ত্বলাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বলাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৪৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيَتْرُكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ" .
বর্ণনাকারী নাফি’ (রহঃ)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর সময়কালে তিনি (ইবন উমর) তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তাকে [‘‘আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে] আদেশ কর, যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রাজ‘আত করে (পুনঃ স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে) নেয়।অতঃপর তার (হায়েজ হতে) পবিত্র হবার পরে পুনঃ হায়েয এবং তার পরে পুনঃ পবিত্র (তুহর) হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দেয়। এরপর পরবর্তী সময় তার ইচ্ছা হলে তাকে (স্ত্রী রূপে) রেখে দিবে। আর ইচ্ছে হলে সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দিবে। এটা হল সে ‘ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ আদেশ করেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫১৫[ক][৫৬] “হে নাবী তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদেরকে ত্বলাক্ব দিতে ইচ্ছে কর, তখন তাদের ত্বলাক্ব দিও ‘ইদ্দাতের প্রতি লক্ষ্য রেখে......” –(সূরাহ্ আত্ ত্বলাক্ব ৬৫ ঃ ১)। এ আয়াতের প্রতি ইশারা করে।
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৪৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، رُمْحٍ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، - عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ وَهْىَ حَائِضٌ تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرَاجِعَهَا ثُمَّ يُمْسِكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ عِنْدَهُ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ مِنْ حَيْضَتِهَا فَإِنْ أَرَادَ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا حِينَ تَطْهُرُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُجَامِعَهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ . وَزَادَ ابْنُ رُمْحٍ فِي رِوَايَتِهِ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ قَالَ لأَحَدِهِمْ أَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَ امْرَأَتَكَ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَنِي بِهَذَا وَإِنْ كُنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلاَثًا فَقَدْ حَرُمَتْ عَلَيْكَ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَ وَعَصَيْتَ اللَّهَ فِيمَا أَمَرَكَ مِنْ طَلاَقِ امْرَأَتِكَ . قَالَ مُسْلِمٌ جَوَّدَ اللَّيْثُ فِي قَوْلِهِ تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً .
বর্ণনাকারী নাফি’ (রহঃ) সূত্রে ‘‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি তাঁর এক স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় এক তালাক দিয়ে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে হুকুম দিলেন যেন সে স্ত্রীকে রাজআত করে নেয়। অতঃপর পবিত্র হওয়ার পরে পুনঃ আর একটি হায়েয হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিবে। এরপর তার (এ পরবর্তী) হায়েয হতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। তখন যদি তাকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা হয় তবে পবিত্র হবার সময় তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে তাকে তালাক দিবে। এটাই হল সে ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক প্রদানের আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন।ইবন রুমহ (রহঃ) তাঁর রিওয়ায়াতে অধিক বলেছেন- এবং এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁদের (প্রশ্নকর্তাদের) যে কাউকে বলতেন: দেখ, তুমি তোমার স্ত্রীকে (যতক্ষণ) একবার কিংবা দুবার তালাক দিলে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এরূপ (রাজআত) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তুমি তাকে তিন তালাক দিয়ে দিলে তবে সে (স্ত্রী) তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে- যতক্ষণ না তুমি ব্যতীত অন্য কাউকে সে বিয়ে করে। আর তোমার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে বিধান দিয়েছিলেন তাতে তুমি তাঁর প্রতি অবাধ্যতা দেখালে। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেছেনঃ রাবী লায়স (রহঃ) (কুতায়বাহ প্রমুখের শায়খ) তাঁর ‘একটি তালাক’ কথাটি স্পষ্ট করে দিয়ে উত্তম কাজ করেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫১৬
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৪৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْىَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيَدَعْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى فَإِذَا طَهُرَتْ فَلْيُطَلِّقْهَا قَبْلَ أَنْ يُجَامِعَهَا أَوْ يُمْسِكْهَا فَإِنَّهَا الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ " . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ قُلْتُ لِنَافِعٍ مَا صَنَعَتِ التَّطْلِيقَةُ قَالَ وَاحِدَةٌ اعْتَدَّ بِهَا .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম, তখন সে ঋতুমতী ছিল। উমর (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আলোচনা করলে তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রজ'আত (পুনঃগ্রহণ) করে।অতঃপর পবিত্র হয়ে পুনরায় আর একটি মাসিকে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দিবে। পরে যখন পবিত্র হবে তখন তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে (যৌন সঙ্গম মুক্ত তুহর কালে) তাকে তালাক দিবে কিংবা তাকে (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে। কেননা, এটাই হল সে ইদ্দাত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলা আদেশ করেছেন। রাবী উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি শায়খ নাফি' (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, সে তালাকটির কী হল? তিনি বললেন, একটি; তা ধার্য করা হল।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫১৭
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৪৭
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ عُبَيْدِ اللَّهِ لِنَافِعٍ . قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى فِي رِوَايَتِهِ فَلْيَرْجِعْهَا . وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فَلْيُرَاجِعْهَا .
বর্ণনাকারী ‘উবায়দুল্লাহ (রহঃ) সূত্রে এ সানাদ
অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে নাফি (রহঃ)-এর উদ্দেশ্যে, উবাইদুল্লাহ (রহঃ)-এর বক্তব্যটি এতে উল্লেখিত হয়নি। এছাড়া ইবনুল মুসান্না (রাঃ) তার রিওয়ায়াতে বলেছেন فَلْيَرْجِعْهَا ‘সে যেন প্রত্যাহার করে’ এবং আবু বকর (রহঃ) বলেছেন فَلْيُرَاجِعْهَا ‘সে যেন ফিরিয়ে নেয়’।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫১৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৫১৮
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৪৮
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يَرْجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ . قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ يَقُولُ أَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَهَا وَاحِدَةً أَوِ اثْنَتَيْنِ . إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يَرْجِعَهَا ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ يُمْهِلَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا وَأَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلاَثًا فَقَدْ عَصَيْتَ رَبَّكَ فِيمَا أَمَرَكَ بِهِ مِنْ طَلاَقِ امْرَأَتِكَ . وَبَانَتْ مِنْكَ .
বর্ণনাকারী নাফি’ (রহঃ)-এর সূত্র
ইবন উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে তার ঋতুকালীন অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) নবী (ﷺ)-কে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁকে (ইবন উমরকে) হুকুম দিলেন যে, স্ত্রীকে সে রজ‘আত (পুনঃগ্রহণ) করে নিবে। এরপর তাকে অপর একটি ঋতুতে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দিবে। অতঃপর (ঋতু হতে) পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। পরে তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগেই তাকে তালাক দিবে। এটাই হল সে ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার জন্য মহামহীয়ান আল্লাহ হুকুম করেছেন। রাবী (নাফে) বলেন, পরবর্তীতে স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তালাক প্রদানকারী পুরুষ (এর মাসআলা) সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, যদি তুমি একটি কিংবা দুইটি তালাক দিয়ে থাক, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হুকুম দিয়েছেন যে, সে তাকে রজ‘আত করে নিবে। অতঃপর আর একটি হায়েযে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে, এরপর পবিত্রতা (তুহর) পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। অতঃপর স্পর্শ (যৌন সঙ্গম) করার আগেই তালাক দিবে (যদি ইচ্ছা কর)। আর যদি তুমি তাকে তিন তালাক দিয়ে থাক তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের অবাধ্য হয়েছো- তোমার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে তিনি তোমাকে যে আদেশ করেছেন সে ব্যাপারে এবং সে স্ত্রী তোমার সঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২০,ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫১৯
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৪৯
حَدَّثَنِي عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ - عَنْ عَمِّهِ، أَخْبَرَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ طَلَّقْتُ امْرَأَتِي وَهْىَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَتَغَيَّظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى مُسْتَقْبَلَةً سِوَى حَيْضَتِهَا الَّتِي طَلَّقَهَا فِيهَا فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا مِنْ حَيْضَتِهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَذَلِكَ الطَّلاَقُ لِلْعِدَّةِ كَمَا أَمَرَ اللَّهُ " . وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ طَلَّقَهَا تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً فَحُسِبَتْ مِنْ طَلاَقِهَا وَرَاجَعَهَا عَبْدُ اللَّهِ كَمَا أَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী সালিম ইবনু ‘‘আবদুল্লাহ (রহঃ) সুত্র
ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম- তখন সে ঋতুমতি ছিল। উমর (রাঃ) তা নবী (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখ করলেন। ফলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হলেন। পরে বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রজআত করে নেয়- যতক্ষণ না যে হায়েজ কালে তাকে তালাক দিয়েছে সেটি ব্যতীত আর একটি হায়েজে সে ঋতুমতি হয়।তখন যদি তাকে তালাক দেয়া তার মনপুত হয় তবে যেন তার হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়া অবস্থায় তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে তাকে তালাক দেয়। তিনি আরো বললেন, এটিই হল ইদ্দতের (সময় নির্ধারণের) জন্য তালাক প্রদান যেমন আল্লাহ হুকুম করেছেন।(সালিম বলেন) “আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে এক তালাক দিয়েছিলেন। সেটি তার তালাক গণনা করা হল (অর্থাৎ এক তালাক ধরা হল) এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ অনুসারে আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে (স্ত্রীকে) রজআত করে নিয়েছিলেন।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫২০
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৫০
وَحَدَّثَنِيهِ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَرَاجَعْتُهَا وَحَسَبْتُ لَهَا التَّطْلِيقَةَ الَّتِي طَلَّقْتُهَا .
বর্ণনাকারী (পূর্বোক্ত সানাদের ন্যায়) যুহরী (রহঃ) সূত্রে ঐ সানাদ
তবে এতে রাবী (সরাসরি ইবনু উমর (রাঃ)-এর উক্তি উদ্ধৃত করে) বলেছেন যে, ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন, পরে আমি তাকে রজ‘আত করে নিলাম এবং তাকে যে তালাকটি দিয়েছিলাম তা তার জন্য একটি তালাকরূপে হিসাব করা হল।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫২১
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৫১
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا أَوْ حَامِلاً " .
বর্ণনাকারী সালিম (রহ) সূত্রে ‘উমার (রাঃ)
তিনি নিজের স্ত্রীকে তার ঋতুমতী অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর কাছে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, “তাকে আদেশ কর যেন সে তাকে রাজ‘আত করে নেয়। পরে যেন তাকে তুহর (পবিত্র) অবস্থায় কিংবা গর্ভাবস্থায় (অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে) তালাক দেয়।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫২২[৫৭] এ বর্ণনার প্রেক্ষিতে উম্মাতের ইজমা হল, হায়য অবস্থায় ত্বলাক্ব দেয়া হারাম। আর ত্বলাক্ব দিলে গুনাহগার হবে। হাদীসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুজু তথা ত্বলাক্ব প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয়াতে স্পষ্টভাবে জানা গেল যে, ত্বলাক্ব পতিত হয়েছে এবং রাজ’আত করা ‘মুসতাহাব’। এটাও স্পষ্ট হল যে, ত্বলাক্ব প্রদানের স্থান তুহুর তথা পবিত্র অবস্থা। আর হাদীসের শেষে যে, ত্বলাক্ব দিবে তুহুর বা গর্ভাবস্থায় এ দ্বারা জানা গেল যে, গর্ভাবস্থায় ত্বলাক্ব প্রদান জায়িয। ইমাম শফি’ঈ এবং অধিকাংশ ‘আলিম যেমন ত্বাউস, হাসান, ইবনু সীরীন ও অন্যান্যদের মতও এটাই।
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৫২
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ الأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ بِلاَلٍ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ يُطَلِّقَ بَعْدُ أَوْ يُمْسِكَ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ)
ইবন উমর (রাঃ) সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি নিজের স্ত্রীকে—যখন সে হায়েজ অবস্থায় ছিল—তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “তাকে হুকুম কর যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রুজ‘আত করে নেয়। অবশেষে সে আর একটি হায়েজে ঋতুমতী হবার পরে আবার পবিত্র হলে, তখন তাকে তালাক দিবে কিংবা (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫২৩
সহিহ মুসলিম
হাদিস নং ৩৫৫৩
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ، سِيرِينَ قَالَ مَكَثْتُ عِشْرِينَ سَنَةً يُحَدِّثُنِي مَنْ لاَ أَتَّهِمُ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا وَهْىَ حَائِضٌ فَأُمِرَ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَجَعَلْتُ لاَ أَتَّهِمُهُمْ وَلاَ أَعْرِفُ الْحَدِيثَ حَتَّى لَقِيتُ أَبَا غَلاَّبٍ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ الْبَاهِلِيَّ . وَكَانَ ذَا ثَبَتٍ فَحَدَّثَنِي أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ فَحَدَّثَهُ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَةً وَهْىَ حَائِضٌ فَأُمِرَ أَنْ يَرْجِعَهَا - قَالَ - قُلْتُ أَفَحُسِبَتْ عَلَيْهِ قَالَ فَمَهْ . أَوَإِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ.
বর্ণনাকারী ইবনু সীরীন (রহঃ)
বিশ বছর আমি এ অবস্থায় অবস্থান করলাম যে, আমি অবিশ্বস্ত মনে করি না এমন লোক আমাকে এ মর্মে হাদীস শোনাচ্ছিল যে, ইবন উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রী ঋতুমতী অবস্থায় তাঁকে তিন তালাক দেয়ার পরে তাঁকে রাজ’আত করে নেয়ার জন্য তিনি আদিষ্ট হয়েছিলেন। আমি এ বর্ণনাকারীদের প্রতি অনাস্থা ও সন্দেহ পোষণ করছিলাম না, অথচ আমি ছিলাম প্রকৃত হাদীসের পরিচয় লাভে বঞ্চিত।অবশেষে আমি আবু গাল্লাব ইউনুস ইবন জুবাইর আল বাহিলী (রহঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি ছিলেন স্থিরমতি-আস্থাভাজন। তিনি আমাকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি (নিজে) ইবন উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি (ইবন উমর) তাঁকে হাদীস বর্ণনা করলেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে তাঁর হায়য চলাকালে এক তালাক দিয়েছিলেন। তখন তাঁকে রাজ’আত করে নেয়ার জন্য তিনি আদিষ্ট হলেন। তিনি (আবু গাল্লাব) বলেছেন, তবে আর কী! যদি নাকি তিনি (ইবন উমর) অপারগ হয়ে থাকেন ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। (তাতে কার কী আসে যায়)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫২৪