বিচার-ফায়সালা
৩০/১. অধ্যায়ঃ
শপথ করার দায়িত্ব বাদীর।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১১৩
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ امْرَأَتَيْنِ كَانَتَا تَخْرِزَانِ فِي بَيْتٍ أَوْ فِي الْحُجْرَةِ، فَخَرَجَتْ إِحْداهُمَا وَقَدْ أُنْفِذَ بإِشْفًا فِي كَفِّهَا، فَادَّعَتْ عَلَى الأُخْرَى، فَرُفِعَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بدَعْوَاهُمْ لَذَهَبَ دِمَاءُ قَوْمٍ وَأَمْوَالُهُمْ ذَكِّرُوهَا بِاللهِ، وَاقْرَءُوا عَلَيْهَا (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ) فَذَكَّرُوهَا فَاعْتَرَفَتْ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْيَمِينُ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
দুইজন মহিলা একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপরজনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেয়ার অভিযোগ করল। এই ব্যাপারটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি শুধুমাত্র দাবীর উপর ভিত্তি করে মানুষের দাবী পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। সুতরাং তোমরা বিবাদীদের আল্লাহ্র নামে শপথ করাও এবং এ আয়াত তার সম্মুখে পাঠ কর। এরপর তারা তাকে শপথ করাল এবং সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, শপথ বিবাদীকে করতে হবে।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৩, হাঃ ৪৫৫২; মুসলিম, পর্ব ৩০ : বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ১, হাঃ ১৭১১
৩০/৩. অধ্যায়ঃ
বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে ফয়সালা এবং যে ব্যক্তি তার যুক্তি প্রদর্শনে বাকপটু।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১১৪
حديث أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ سَمِعَ خُصُومَةً بِبَابِ حُجْرَتِهِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، وَإِنَّه يَأْتِينِي الْخَصْمُ، [ص: 193] فَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكونَ أَبْلَغَ مِنْ بَعْضٍ، فَأَحْسِبُ أَنَّهُ صَدَقَ فَأَقْضِيَ لَهُ بِذلِكَ؛ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِحَقِّ مُسْلِمٍ فَإِنَّمَا هِيَ قِطْعَةٌ مِنَ النَّارِ فَلْيَأْخُذْهَا أَوْ فَلْيَتْرُكْهَا
বর্ণনাকারী সালামাহ (রাঃ)
একদিন তিনি তাঁর ঘরের দরজার নিকটে ঝগড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন। [তাঁর -এর কাছে বিচার চাওয়া হল] তিনি বললেন, আমি তো একজন মানুষ। আমার কাছে (কোন কোন সময়) ঝগড়াকারীরা আসে। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক বাকপটু। তখন আমি মনে করি যে, সে সত্য বলেছে। তাই আমি তার পক্ষে রায় দেই। বিচারে যদি আমি ভুলবশত অন্য কোন মুসলিমের হক তাকে দিয়ে থাকি, তবে তা দোযখের টুকরা। এখন সে তা গ্রহণ করুক বা ত্যাগ করুক।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৬: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন, অধ্যায় ১৬, হাঃ ২৪৫৮; মুসলিম, পর্ব ৩০ : বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৭১৩
৩০/৪. অধ্যায়ঃ
হিন্দার ফয়সালা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১১৫
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ هِنْدَ بِنْتَ عُتْبَةَ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ، وَلَيْسَ يُعْطِينِي مَا يَكْفِينِي وَوَلَدِي، إِلاَّ مَا أَخَذْتُ مِنْهُ وَهُوَ لاَ يَعْلَمُ فَقَالَ: خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
হিন্দা বিন্ত উত্বা (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আবূ সুফ্ইয়ান একজন কৃপণ লোক। আমাকে এত পরিমাণ খরচ দেন না, যা আমার ও আমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে যতক্ষণ না আমি তার অজান্তে মাল থেকে কিছু নিই। তখন তিনি বললেনঃ তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে যা যথেষ্ট হয় তা তুমি নিতে পার।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৯ : ভরণ-পোষণ, অধ্যায় ৯, হাঃ ৫৩৬৪, ২২১১; মুসলিম, পর্ব ৩০ : বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৭১৪
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১১৬
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَتْ هِنْدُ بِنْتُ عُتْبَةَ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا كَانَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ مِنْ أَهْلِ خِبَاءٍ، أَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ يَذِلُّوا مِنْ أَهْلِ خِبَائِكَ، ثُمَّ مَا أَصْبَحَ الْيَوْمَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَهْلُ خِبَاءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ يَعِزُّوا مِنْ أَهْلِ خِبائِكَ، [ص: 194] قَالَ: وَأَيْضًا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ مِسِّيكٌ، فَهَلْ عَلَيَّ حَرَجٌ أَنْ أُطْعِمَ مِنَ الَّذِي لَهُ عِيَالَنَا قَالَ: لاَ أُرَاهُ إِلاَّ بِالْمَعْرُوفِ
বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)
উতবাহ্র মেয়ে হিন্দ (রাঃ) এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! এক সময় আমার মনের অবস্থা পৃথিবীর বুকে কোন পরিবারকে লাঞ্ছিত হতে দেখা আমার নিকট আপনার পরিবারকে অপমানিত দেখার চেয়ে অধিক কাঙিক্ষত ছিল না। কিন্তু এখন আমার অবস্থা এমন হয়েছে যে দুনিয়ার বুকে কোন পরিবারকে সম্মানিত হতে দেখা আমার নিকট আপনার পরিবারকে সম্মানিত দেখার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তারপর সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আবূ সুফ্ইয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। যদি তার মাল আমি ছেলে-মেয়েদের জন্য ব্যয় করি তবে তাতে কি আমার কিছু হবে? তিনি বললেন, না, যদি যথাযথ ব্যয় করা হয়।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৩ ; আনসারগণের মর্যাদা, অধ্যায় ২৩, হাঃ ৩৮২৬; মুসলিম, পর্ব ৩০: বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ৪, হাঃ নং ১৭১৪
৩০/৫. অধ্যায়ঃ
বিনা প্রয়োজনে অধিক প্রশ্ন করা, গরিব ও অন্যান্যদের অধিকার আদায় না করা এবং হকদার না হয়ে কোন কিছু চাওয়া নিষিদ্ধ।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১১৭
حديث الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ عُقُوقَ الأُمَّهَاتِ، وَوَأْدَ الْبَنَاتِ، وَمَنعَ وَهَاتِ، وَكَرِهَ لَكُمْ قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةَ الْمَالِ
বর্ণনাকারী মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন মায়ের নাফরমানী, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া, কারো প্রাপ্য না দেয়া এবং অন্যায়ভাবে কিছু নেয়া আর অপছন্দ করেছেন অনর্থক বাক্য ব্যয়, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা, আর মাল বিনষ্ট করা।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪৩ : ঋণ গ্রহণ, ঋণ পরিশোধ, নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেউলিয়া ঘোষণা, অধ্যায় ১৯, হাঃ ২৪০৮; মুসলিম, পর্ব ৩০ : বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ৫, হাঃ ৫৯৩
৩০/৬. অধ্যায়ঃ
বিচারকের সওয়াব যখন সে সঠিক ফয়সালায় পৌঁছতে আপ্রাণ চেষ্টা করে- তার ফয়সালা ঠিক হোক বা ভুল হোক।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১১৮
حديث عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ
বর্ণনাকারী ‘আম্র ইব্নু ‘আস
তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন, কোন বিচারক ইজ্তিহাদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তার জন্য রয়েছে দুইটি পুরস্কার। আর যদি কোন বিচারক ইজ্তিহাদে ভুল করেন তার জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৬: কুরআন ও হাদীসকে শক্তভাবে ধরে থাকা, অধ্যায় ২১, হাঃ ৭৩৫২; মুসলিম, পর্ব ৩০ : বিচার ফায়সালা, অধ্যায় ৬, হাঃ ১৭১৬
৩০/৭. অধ্যায়ঃ
রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকের বিচার করা অপছন্দনীয়।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১১৯
حديث أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى ابْنِهِ، وَكَانَ بِسِجِسْتَانَ، بِأَنْ لاَ تَقْضِيَ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَأَنْتَ غَضْبَانُ، فَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لاَ يَقْضِيَنَّ حَكَمٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ
বর্ণনাকারী আবূ বাক্রাহ (রাঃ)
আবূ বাক্রাহ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে লিখে পাঠালেন- সে সময় তিনি সিজিস্তানে অবস্থানরত ছিলেন যে, তুমি রাগের অবস্থায় বিবদমান দুইব্যক্তির মাঝে ফায়সালা করো না। কেননা, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক রাগের অবস্থায় দুইজনের মধ্যে বিচার করবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৩ : আহকাম, অধ্যায় ১৩, হাঃ ৭১৫৮; মুসলিম, পর্ব ৩০: বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৭১৭
৩০/৮. অধ্যায়ঃ
বাতিল রায় ও নব-আবিষ্কৃত বিষয়াবলী প্রত্যাখ্যান করা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১২০
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ
বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এ শরীয়াতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা বাতিল।’
সহীহ বুখারী, পৰ্ব ৫৩ বিবাদ মীমাংসা, অধ্যায় ৫, হাঃ ২৬৯৭; মুসলিম, পর্ব ৩০ : বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ৮, হাঃ ১৭১৮
৩০/১০. অধ্যায়ঃ
মুজতাহিদদের মতভেদ প্রসঙ্গে।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১২১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْب فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ صَاحِبَتُهَا إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، وَقَالَتِ الأُخْرَى إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ؛ فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ، فَقَضى بِهِ لِلْكُبْرَى؛ فَخَرَجَتَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ، فَأَخْبَرَتَاهُ فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّهُ بَيْنَهُمَا، فَقَالَتِ الصُغْرَى: لاَ تَفْعَلْ، يَرْحَمُكَ اللهُ، هُوَ ابْنُهَا فَقَضى بِهِ لِلصُّغْرَى
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
দুইজন মহিলা ছিল। তাদের সাথে দুইটি সন্তানও ছিল। হঠাৎ একটি বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলে নিয়ে গেল। সঙ্গের একজন মহিলা বললো, “তোমার ছেলেটিই বাঘে নিয়ে গেছে।” অন্য মহিলাটি বললো, “না, বাঘে তোমার ছেলেটি নিয়ে গেছে।” অতঃপর উভয় মহিলাই দাঊদ (‘আ.)-এর নিকট এ বিরোধ মীমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হলো। তখন তিনি ছেলেটির বিষয়ে বয়স্কা মহিলাটির পক্ষে রায় দিলেন। অতঃপর তারা উভয়ে বেরিয়ে দাউদ (‘আ.)-এর পুত্র সুলায়মান (‘আ.)-এর নিকট দিয়ে যেতে লাগল এবং তারা দুইজনে তাঁকে ব্যাপারটি জানালেন। তখন তিনি লোকদেরকে বললেন, তোমরা আমার নিকট একখানা ছোরা নিয়ে আস। আমি ছেলেটিকে দুই টুক্রা করে তাদের দুইজনের মধ্যে ভাগ করে দেই। এ কথা শুনে অল্প বয়স্কা মহিলাটি বলে উঠলো, তা করবেন না, আল্লাহ্ আপনার উপর রহম করুন। ছেলেটি তারই। তখন তিনি ছেলেটি সম্পর্কে অল্প বয়স্কা মহিলাটির অনুকূলে রায় দিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬০: নাবীগণের (আঃ) হাদীসসমূহ, অধ্যায় ৪০, হাঃ ৩৪২৭; মুসলিম, পর্ব ৩০: বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ১০, হাঃ ১৭২০
৩০/১১. অধ্যায়ঃ
দুই দলের ঝগড়া বিচারক কর্তৃক মীমাংসা করে দেয়া মুস্তাহাব।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১১২২
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اشْتَرَى رَجُلٌ مِنْ رَجُلٍ عَقَارًا لَهُ، فَوَجَدَ الرَّجُلُ الَّذِي اشْتَرَى الْعَقَارَ فِي عَقَارِهِ جَرَّةً فِيهَا ذَهَبٌ، فَقَالَ لَهُ الَّذِي اشْتَرَى الْعَقَارَ: خذْ ذَهَبَكَ مِنِّي، إِنَّمَا اشْتَرَيْتُ مِنْكَ الأَرْضَ وَلَمْ أَبْتَعْ مِنْكَ الذَّهَبَ وَقَالَ الَّذِي لَهُ الأَرْضُ: إِنَّمَا بِعْتُكَ الأَرْضَ وَمَا فِيهَا؛ فَتَحَاكَمَا إِلَى رَجُلٍ فَقَالَ الَّذِي تَحَاكَمَا إِلَيْهِ: أَلَكُمَا وَلَدٌ قَالَ أَحَدُهُمَا: لِي غُلاَمٌ، وَقَالَ الآخَرُ: لِي جَارِيَةٌ؛ قَالَ: أَنْكِحُوا الْغُلاَمَ الْجَارِيَةَ، وَأَنْفِقُوا عَلَى أَنْفُسِهِمَا مِنْهُ وَتَصَدَّقَا
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
এক লোক অপর লোক হতে একখণ্ড জমি ক্রয় করেছিল। ক্রেতা খরিদকৃত জমিতে একটা স্বর্ণ ভর্তি ঘড়া পেল। ক্রেতা বিক্রেতাকে তা ফেরত নিতে অনুরোধ করে বলল, কারণ আমি জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। বিক্রেতা বলল, আমি জমি এবং এতে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করে দিয়েছি। অতঃপর তারা উভয়ই অপর এক লোকের কাছে এর মীমাংসা চাইল। তিনি বললেন, তোমাদের কি ছেলে-মেয়ে আছে? একজন বলল, আমার একটি ছেলে আছে। অন্য লোকটি বলল, আমার একটি মেয়ে আছে। মীমাংসাকারী বললেন, তোমার মেয়েকে তার ছেলের সঙ্গে বিবাহ দাও আর প্রাপ্ত স্বর্ণের মধ্যে কিছু তাদের বিবাহে ব্যয় কর এবং বাকী অংশ তাদেরকে দিয়ে দাও।
সহীহুল বুখারী, পূর্ব ৬০: নাবীগণের (আঃ) হাদীসসমূহ, অধ্যায় ৫৪ হাঃ ৩৪৭২; মুসলিম, পর্ব ৩০ : বিচার-ফায়সালা, অধ্যায় ১১, হাঃ ১৭২১