ঈমান

১/১. অধ্যায়ঃ

ঈমান কী এবং তার বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ৫

حديث أبي هُرَيْرَةَ قال كان النبيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بارزًا يومًا للناسِ فأَتاه رجلٌ فقال: ما الإيمان قال: الإيمان أن تؤمنَ بالله وملائكتِهِ وبلقائِهِ وبرسلِهِ وتؤمَن بالبعثِ قال: ما الإسلامُ قال: الإسلامُ أن تعبدَ اللهَ ولا تشركَ به وتقيمَ الصلاةَ وتؤدِّيَ الزكاةَ المفروضةَ وتصومَ رمضانَ قال: ما الإحسان قال: أن تعبدَ الله كأنك تراهُ، فإِن لم تكن تراه فإِنه يراك قال: متى الساعةُ قال: ما المسئولُ عنها بأَعْلَم مِنَ السائل، وسأُخبرُكَ عن أشراطِها؛ إِذا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَإِذا تطاولَ رُعاةُ الإبِلِ البَهْمُ في البنيان، في خمسٍ لا يعلمهنَّ إِلاَّ الله ثم تلا النبيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (إِنَّ الله عنده علم الساعة) الآية: ثم أدبر فقال: رُدُّوه فلم يَرَوْا شيئاً فقال: هذا جبريل جاءَ يُعَلِّمُ الناسَ دينَهم

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন ‘ঈমান কী?’ তিনি বললেনঃ ‘ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহ্‌র প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, (কিয়ামাতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইসলাম কী?’ তিনি বললেনঃ ‘ইসলাম হল, আপনি আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত করবেন এবং তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করবেন না, সলাত প্রতিষ্ঠা করবেন, ফারয যাকাত আদায় করবেন এবং রমাযান-এর সিয়ামব্রত পালন করবেন।’ ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইহসান কী?’ তিনি বললেনঃ ‘আপনি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ‘‘ইবাদাত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন) তিনি আপনাকে দেখছেন।’ ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিয়ামাত কবে?’ তিনি বললেনঃ ‘এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে কিয়ামাতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছিঃ বাঁদী যখন তার প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (কিয়ামাতের বিষয়) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এ আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘কিয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্‌রই নিকট......।’ (সূরা লুক্বমানঃ ৩৪)এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেনঃ ‘তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন।’ তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ‘ইনি জিবরীল (আঃ)। লোকেদেরকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।’

সহীহুল বুখারী, পর্ব ২: ঈমান, অধ্যায় ৩৭, হাঃ ৫০, ৪৭৭৭; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ১, হাঃ ৯

১/৩. অধ্যায়ঃ

সালাতের বর্ণনা যা ইসলামের অন্যতম রুকন।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ৬

حديث طَلْحَةَ بن عُبَيْد الله قال: جاءَ رجلٌ إِلى رسولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ من أهل نجْدٍ ثائرُ الرأسِ يُسْمَعُ دوِيُّ صوتِهِ ولا يُفْقَهُ ما يقول، حتى دنا فإِذا هو يسأَل عن الإسلام؛ فقال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خمسُ صلواتٍ في اليومِ والليلةِ فقال: هل عليّ غيرُها قال: لا إِلاَّ أَنْ تَطَوَّعَ قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وصيامُ رمضانَ قال: هل عليّ غيره قال: لا إِلاَّ أَن تَطَوَّعَ قال، وذكر له رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزكاةَ قال هل عليَّ غيرُها قال [ص: 3] لا إِلاَّ أَنْ تَطَوَّعَ قال فأَدبر الرجل وهو يقول: والله لا أزيد على هذا ولا أَنْقصُ قال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ

বর্ণনাকারী তালহাহ ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ)

এক নাজদবাসী আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলো। তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার কথার মৃদু আওয়ায শুনতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু সে কী বলছিল, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে সে নিকটে এসে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ ‘দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত’। সে বলল, ‘আমার উপর এ ছাড়া আরো সালাত আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে নফল আদায় করতে পার।’ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ ‘আর রমাযানের সওম।’ সে বলল, ‘আমার উপর এ ছাড়া আরো সাওম আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে নফল আদায় করতে পার।’ বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার নিকট যাকাতের কথা বললেন। সে বলল, ‘আমার ওপর এছাড়া আরো আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না; তবে নফল হিসেবে দিতে পার।’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘সে ব্যক্তি এই ব’লে চলে গেলেন, ‘আল্লাহ্‌র শপথ! আমি এর চেয়ে অধিকও করব না এবং কমও করব না।’ তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ ‘সে কৃতকার্য হবে যদি সত্য ব’লে থাকে।’

সহীহুল বুখারী, পর্ব ২: ঈমান, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ৪৬; মুসলিম, পৰ্ব ১; ঈমান, অধ্যায় ২, হাঃ ১১

১/৫. অধ্যায়ঃ

ঈমানের বর্ণনা যার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ৭

حديث أبي أيوبَ الأَنصاريّ رضي الله عنه أَنَّ رجلاً قال: يا رسول الله أخبرني بعمل يُدْخِلُني الجنة، فقال القوم: مَا لَهُ مَالَه فقال رسولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَبٌ مَّا لَهُ فقال النبيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تعبُدُ اللهَ لا تُشْرِكُ بهِ شيئًا وتُقيمُ الصَّلاةَ وَتُؤْتِي الزكاةَ وَتَصِلُ الرَّحِمَ ذرْها قَال كأنّه كانَ عَلى رَاحِلَتِهِ

বর্ণনাকারী আবূ আইউব আনসারী

এক ব্যক্তি বললোঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে এমন একটি ‘আমাল শিক্ষা দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। উপস্থিত লোকজন বললঃ তার কী হয়েছে? তার কী হয়েছে? আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। এরপর নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত করবে, তার সঙ্গে কাউকে শারীক করবে না, সলাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে। একে ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি ঐ সময় তার সওয়ারীর উপর ছিলেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৮ ; আদব-আচার, অধ্যায় ১০, হাঃ ৫৯৮৩; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ৮

حديث أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ أَعْرابِيًّا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقالَ: دُلَّني عَلى عَمَلٍ إِذا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الجنة قَالَ: تَعْبُدُ اللهَ لا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقيمُ الصَّلاةَ المَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمفْروضَة وَتَصُومُ رَمَضانَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ أَزِيدُ عَلى هذا فَلَمّا وَلّى، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلى هَذا

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুইন নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন যদি আমি তা সম্পাদন করি তবে জান্নাতে প্রবেশ করবো। রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে আর তার সাথে অপর কোন কিছু শরীক করবে না। ফারয সালাত আদায় করবে, ফারয যাকাত প্রদান করবে, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করবে। সে বলল, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার শপথ করে বলছি, আমি এর চেয়ে বেশী করবো না। যখন সে ফিরে গেল, নবী (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন জান্নাতী ব্যক্তিকে দেখতে পছন্দ করে সে যেন এই ব্যক্তিকে দেখে নেয়।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ১, হাঃ ১৩৯৭; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৪

১/৬. অধ্যায়ঃ

নবী (ﷺ)-এর উক্তি: ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ৯

حديث ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بُنِيَ الإِسْلامُ عَلى خَمْسٍ: [ص: 4] شَهادَةِ أَنْ لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَإِقامِ الصَّلاةِ وَإِيتاءَ الزَّكاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি।১. আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান।২. সালাত কায়িম করা।৩. যাকাত আদায় করা।৪. হজ্জ সম্পাদন করা এবং৫. রমাযানের সাওমব্রত পালন করা।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ২: ঈমান, অধ্যায় ২, হাঃ ৮; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৬

১/৭. অধ্যায়ঃ

আল্লাহ ও তদীয় রসূলের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ, দ্বীনের শরীয়ত এবং তার প্রতি আহ্বান।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০

حديث ابْنِ عَبّاس قَالَ إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمّا أَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنِ الْقَوْمُ أَوْ مَنِ الْوَفْدُ قَالُوا: رَبِيعَةَ قَالَ: مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزايا وَلاَ نَدَامَى فَقالُوا: يا رَسُولَ اللهِ إِنَّا لاَ نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلاَّ في الشَّهْرِ الْحَرامِ، وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذا الْحَيُّ مِنْ كُفّارِ مُضَرَ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فَصْلٍ نُخْبِرْ بِهِ مَنْ وَرَاءَنا وَنَدْخُلْ بِهِ الْجَنَّةَ وَسَأَلُوهُ عَنِ الأَشْرِبَةِ فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: أَمَرَهُمْ بِالإِيمانِ بِاللهِ وَحْدَهُ، قَالَ: أَتَدْرُونَ مَا الإِيمانُ بِاللهِ وَحْدَهُ قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: شَهادَةُ أَنْ لاَ إِلهَ إِلاّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقامُ الصَّلاةِ وَإِيتاءُ الزَّكاةِ وَصِيامُ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ الْمغنَمِ الْخُمُسَ وَنَهاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنِ الْحَنْتَمِ وَالدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالمُزَفَّتِ وَرُبَّما قَالَ المُقَيَّرِ وَقالَ: احْفَظُوهُنَّ وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَراءَكُمْ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, যখন আবদুল কায়েস-এর একটি প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আগমন করলেন তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? কিংবা বললেন, কোন্ প্রতিনিধি দলের? তারা বলল, ‘রাবী‘আহ গোত্রের।’ তিনি বললেনঃ স্বাগতম সে গোত্র বা সে প্রতিনিধি দলের প্রতি, যারা অপদস্থ ও লজ্জিত না হয়েই আগমন করেছে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! শাহরুল হারাম ব্যতীত অন্য কোন সময় আমরা আপনার নিকট আগমন করতে পারি না। আমাদের এবং আপনার মধ্যে মুযার গোত্রীয় কাফিরদের বসবাস। তাই আমাদের কিছু স্পষ্ট নির্দেশ দিন, যাতে করে আমরা যাদের পিছনে ছেড়ে এসেছি তাদের অবগত করতে পারি এবং যাতে করে আমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারি। তারা পানীয় সম্বন্ধেও জিজ্ঞেস করল।তখন তিনি তাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ এবং চারটি বিষয় হতে নিষেধ করলেন। তাদেরকে এক আল্লাহ্ তে বিশ্বাস স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে বললেনঃ ‘এক আল্লাহ্‌র প্রতি কিভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা হয় তা কি তোমরা অবগত আছ?’ তাঁরা বলল, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হচ্ছে এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্‌র রাসূল এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা, রমাযানের সাওমব্রত পালন করা; আর তোমরা গানীমাতের সম্পদ হতে এক-পঞ্চমাংশ আদায় করবে। তিনি তাদেরকে চারটি বিষয় হতে বিরত থাকতে বললেন।আর তা হচ্ছেঃ সবুজ কলস, শুকনো কদুর খোল, খেজুর বৃক্ষের গুড়ি হতে তৈরী বাসন এবং আলকাতরা দ্বারা রাঙানো পাত্র। রাবী বলেন, বর্ণনাকারী (মুযাফ্ফাত-এর স্থলে) কখনও আন্নাক্বীর উল্লেখ করেছেন (দু‘টি শব্দের অর্থ একইরূপ)। তিনি আরো বলেন, তোমরা এ বিষয়গুলো ভালো করে জেনে নাও এবং অন্যদেরও এগুলো অবগত কর।

সহীহুল বুখারী, পূর্ব ২: ঈমান, অধ্যায় ৪০, হাঃ ৫৩; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৬, হাঃ ১৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১১

حَدْيث ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَ مُعَاذاً رضي الله عنه عَلى الْيَمنِ قَالَ: إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلى قَوْمِ أَهْلِ كِتَابٍ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ عِبادَةُ اللهِ، فَإِذَا عَرَفُوا اللهَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَواتٍ في يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ، فَإِذا فَعَلُوا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكاةً مِنْ أَمْوالِهِمْ وَتَردُّ عَلى فُقَرائِهِمْ فَإِذا أَطَاعُوا بِها فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرائِم أَمْوالِ النَّاسِ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন মু‘আয (ইবনু জাবাল) (রাঃ)-কে শাসনকর্তা হিসেবে ইয়ামান দেশে পাঠান, তখন বলেছিলেনঃ তুমি আহলে কিতাব লোকদের নিকট যাচ্ছো। সেহেতু প্রথমে তাদের আল্লাহর ‘ইবাদাতের দাওয়াত দিবে। যখন তারা আল্লাহর পরিচয় লাভ করবে, তখন তাদের তুমি বলবে যে, আল্লাহ দিন-রাতে তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দিয়েছেন। যখন তারা তা আদায় করতে থাকবে, তখন তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধন-সম্পদ হতে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া হবে। যখন তারা এর অনুসরণ করবে তখন তাদের হতে তা গ্রহণ করবে এবং লোকের উত্তম মাল গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪ : যাকাত, অধ্যায় ৪১, হাঃ ১৪৫৮; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২

حديث ابْنُ عَبّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ مُعاذًا إِلى الْيَمَنِ فَقالَ: اتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ فَإِنَّها لَيْسَ بَيْنَها وَبَيْنَ اللهِ حِجابٌ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

নবী (ﷺ) যখন মু‘আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাযলূমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৬ ; অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন, অধ্যায় ৯, হাঃ ২৪৪৮; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৯ ৩

১/৮. অধ্যায়ঃ

যে পর্যন্ত লোকেরা “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল” না বলবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়ার নির্দেশ।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৩

حديث أَبي بَكْر وَعُمَر قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: لَمّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَب، فَقالَ عُمَرُ رضي الله عنه: كَيْفَ تُقاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمِرْتُ أَنْ أُقاتِلَ النَّاسَ حَتّى يَقُولوا لا إِلهَ إِلاَّ اللهُ، فَمَنْ قالَها فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ، وَحِسابُهُ عَلى اللهِ فَقالَ أَبُو بَكْرٍ: وَاللهِ لأُقاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاةِ وَالزَّكاةِ، فَإِنَّ الزَّكاةَ حَقُّ الْمالِ، وَاللهِ لَوْ مَنَعُوني عَناقًا كَانوا يُؤَدُّونَها إِلى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقاتَلْتُهُمْ عَلى مَنْعِهاقالَ عُمَر رضي الله عنه: فَواللهِ ما هُوَ إِلاَّ أَنْ قَدْ شَرَحَ اللهُ صَدْرَ أَبي بَكْرٍ رضي الله عنه فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ

বর্ণনাকারী আবূ বকর ও ‘উমার (রাঃ)

আবূ বকর ও ‘উমার (রাঃ)-এর হাদীস। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইনতিকাল করলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) খিলাফত লাভ করলেন। আরবদের মধ্য হতে যারা কাফির হওয়ার হলো তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, কেমন করে তুমি মানুষদের সাথে যুদ্ধ করবে? অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মানুষ ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলার আগ পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশিত হয়েছি। যে ব্যক্তি এ কথা বলবে সে তার নিজের জান এবং মালকে রক্ষা করল। কিন্তু ইসলামের অধিকারে (অর্থাৎ ইসলাম যদি তার জান ও মাল কুরবান করতে চায় তাহলে এ হুকুম প্রযোজ্য নয়) তাকে হত্যা বা তার মাল কুরবান করতে পারেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই আমি যুদ্ধ করবো যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, কেননা যাকাত হল সম্পদের উপর আরোপিত হাক্ব। আল্লাহর কসম, যদি তারা একটি মেষ শাবক যাকাত দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে তারা দিত, তাহলে যাকাত না দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করবো। ‘উমার (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম, আল্লাহ আবূ বকর (রাঃ)-এর হৃদয় বিশেষ জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করেছেন বিধায় তাঁর এ দৃঢ়তা, এতে আমি বুঝতে পারলাম তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪ : যাকাত ও কিতাবুয যাকাত, অধ্যায় ১, হাঃ ১৪০০; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৮, হাঃ ২০

হাদিস নং
১৩
অধ্যায়
ঈমান
অধ্যায়
যে পর্যন্ত লোকেরা “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল” না বলবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়ার নির্দেশ।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪

حديث أَبي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمِرْتُ أَنْ أُقاتِلَ النَّاسَ حَتّى يَقُولُوا لا إِلهَ إِلاّ اللهُ، فَمَنْ قَالَ لا إِلهَ إِلاّ اللهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنّي نَفْسَهُ وَمالَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ، وَحِسابُهُ عَلى اللهِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত লোকেদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে আর যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলবে সে তার জান ও মাল আমার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিল। অবশ্য ইসলামের কর্তব্যাদি আলাদা, আর তার হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১০২, হাঃ ২৯৪৬; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৮, হাঃ ২১

হাদিস নং
১৪
অধ্যায়
ঈমান
অধ্যায়
যে পর্যন্ত লোকেরা “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল” না বলবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়ার নির্দেশ।
সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18