পবিত্রতা
২/২. অধ্যায়ঃ
সালাতের জন্য পবিত্রতা আবশ্যক।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৪
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ يَقْبَلُ اللهُ صَلاةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, বায়ু নির্গত হবার পর ওজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ্ তোমাদের কারো সালাত কবুল করবেন না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯০: কুটচাল অবলম্বন, অধ্যায় ২, হাঃ ৬৯৫৪; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্রতা, অধ্যায় ১, হাঃ ২২৫
২/৩. অধ্যায়ঃ
ওজুর গুণাগুণ এবং তার পরিপূর্ণতা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৫
حديث عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ دَعَا بِإِنَاءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الإِنَاءِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاَثَ مِرَارٍ، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ إِلَى الْكَعْبَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
বর্ণনাকারী উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাঃ)
‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাঃ)-এর ওজুর পানি আনানেল। অতঃপর তিনি সে পাত্র হতে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, অতঃপর মাথা মাসহ করলেন। অতঃপর উভয় পা তিনবার ধোয়ার পর বললেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে আমার এ ওজুর ন্যায় ওজু করতে দেখেছি এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি আমার এ ওজুর ন্যায় ওজু করে দুইরাক‘আত সালাত আদায় করবে এবং তার মধ্যে অন্য কোন চিন্তা মনে আনবে না, আল্লাহ্ তা‘আলা তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪; উযু, অধ্যায় ২৪, হাঃ ১৬৪; মুসলিম, পূর্ব ২: পবিত্রতা, অধ্যায় ৩, হাঃ ২২৬
২/৭. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ)-এর ওজু প্রসঙ্গে।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৬
حديث عَبْدِ الله بْنِ زَيْدٍ سُئِلَ عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَتَوَضَّأَ لَهُمْ وُضُوءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَكْفَأَ عَلَى يَدِهِ مِنَ التَّوْرِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، وَاسْتَنْثَرَ بِثَلاَثِ غَرَفَاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَمَسَحَ رَأْسَهُ، [ص: 58] فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَينِ
বর্ণনাকারী আমর ইবনু আবূ হাসান (রহ.)
তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে নবী (ﷺ)-এর ওজু সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি এক পাত্র পানি আনালেন এবং তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী (ﷺ)-এর মত ওজু করলেন। তিনি পাত্র থেকে দুইহাতে পানি ঢাললেন। তা দিয়ে হাত দুইটি তিনবার ধুলেন। অতঃপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিন খাবল পানি নিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর আবার হাত ঢুকালেন। তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে (পানি নিয়ে) দুই হাত কনুই পর্যন্ত দুইবার ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে একবার মাত্র মাথা মাসহ করলেন। তারপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধুলেন।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪ : উযু, অধ্যায় ৩৯, হাঃ ১৮৬; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্রতা, অধ্যায় ৭, হাঃ ২৩৫
২/৮. অধ্যায়ঃ
নাকে পানি দেয়া ও ঝাড়া এবং ইস্তিন্জায় বেজোড় ঢিলা-পাথর ব্যবহার করা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৭
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ওজু করে সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে। আর যে শৌচকার্য করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪: উযু, অধ্যায় ২৫, হাঃ ১৬১; মুসলিম, পৰ্ব ২; পবিত্রতা পবিত্রতা, অধ্যায় ৮, হাঃ ২৩৭
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৮
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَتَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرَ ثَلاَثًا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلَى خَيْشُومِهِ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুম হতে উঠল এবং ওজু করল তখন তার উচিত নাক তিনবার ঝেড়ে ফেলা। কারণ, শয়তান তার নাকের ছিদ্রে রাত কাটিয়েছে।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৯: সৃষ্টির সূচনা, অধ্যায় ১১, হাঃ ৩২৯৫; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্রতা, অধ্যায় ৮, হাঃ ২৩৮
২/৯. অধ্যায়ঃ
পদদ্বয় পরিপূর্ণভাবে ধৌত করার আবশ্যকতা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৯
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ تَخَلَّفَ عَنَّا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفْرَةٍ سَافَرْنَاهَا فَأَدْرَكَنَا، وَقَدْ أَرْهَقَتْنَا الصَّلاَةُ، وَنَحْنُ نَتَوَضًّأُ، فَجَعَلْنَا نَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا، فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
কোন এক সফরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের পিছনে পড়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের নিকট পৌঁছলেন, এদিকে আমরা (‘আসরের) সালাত আদায় করতে বিলম্ব করে ফেলেছিলাম এবং আমরা ওজু করছিলাম। আমরা আমাদের পা কোনমতে পানি দ্বারা ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তিনি উচ্চৈস্বঃরে বললেনঃ পায়ের গোড়ালিগুলোর (শুকনো থাকার) জন্য জাহান্নামের ‘আযাব রয়েছে। তিনি দুইবার বা তিনবার এ কথা বললেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩; আল-‘ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান), অধ্যায় ৩, হাঃ ৯৬; মুসলিম, পর্ব ২; পবিত্রতা, অধ্যায় ৯, হাঃ ২৪১
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪০
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ كَانَ يَمُرُّ وَالنَّاسُ يَتَوَضَّؤُونَ مِنَ الْمِطْهَرَةِ؛ فَقَالَ: أَسْبِغُوا الْوُضوءَ، فَإِنَّ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ
বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু যিয়াদ (রহ.)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে ওজু করছিল। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তমরূপে ওজু কর। কারণ আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ পায়ের গোড়ালীগুলোর জন্য দোযখের ‘আযাব রয়েছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪; উযু, অধ্যায় ২৯, হাঃ ১৬৫; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্রতা, অধ্যায় ৯, হাঃ ২৪২
২/১২. অধ্যায়ঃ
ওজুর ভেতর চমকানোর স্থানগুলো বৃদ্ধি করা মুস্তাহাব এবং ওজুর অঙ্গগুলো ঠিকভাবে ধৌত করা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارٍ الْوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে যে, ওজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।’
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪ : উযু, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৩৬; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্ৰতা, অধ্যায় ১২, হাঃ ২৪৬
২/১৫. অধ্যায়ঃ
মিসওয়াক
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪২
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلاَةٍ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকেদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিস্ওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ১১: জুমুআহ, অধ্যায় ৮, হাঃ ৮৮৭; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্ৰতা, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২৫২
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪৩
حديث أَبِي مُوسى قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدْتُهُ يَسْتَنُّ بِسِوَاكٍ بِيَدِهِ، يَقُولُ: أُعْ أُعْ وَالسِّوَاكُ فِي فِيهِ كَأَنَّهُ يَتَهَوَّعُ
বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)
একবার আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তখন তাঁকে দেখলাম তিনি মিসওয়াক করছেন এবং মিসওয়াক মুখে দিয়ে তিনি উ‘ উ‘ শব্দ করছেন যেন তিনি বমি করছেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪: উযূ, অধ্যায় ৭৩, হাঃ ২৪৪; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্রতা, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২৫৪