হাজ্জ

৬/১. অধ্যায়ঃ

হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - হজ্ব এবং উমরার ফযীলত

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭০৮

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا, وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক ‘উমরাহ’র পর আর এক ‘উমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর জান্নাতই হলো হজ্জে মাবরূরের প্রতিদান। [৭৫৪]

[৭৫৪] বুখারী ১৭৭৩, মুসলিম ১২৪৯, তিরমিযী ৯৩৩, নাসায়ী ২৬২২, ২৬২৩, ২৬২৯, ইবনু মাজাহ ২৮৮৭, ২৮৮৮, আহমাদ ৭২০৭, ৯৬২৫, ৯৬৩২, মুওয়াত্তা মালেক ৭৭৬, দারেমী ১৭৯৫মাবরূর শব্দের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হচ্ছে, যে হজ্জ্বের মধ্যে কোন প্রকার গুনাহের সংমিশ্রণ ঘটেনি। উক্ত হাদীসে বারংবার উমরা করা মুস্তাহাব প্রমাণিত হচ্ছে, আর যারা এটাকে অপছন্দনীয় মনে করেন তাদের বিরোধিতা করছে উক্ত হাদীস। আল্লাহই ভাল জানেন।

৬/১. অধ্যায়ঃ

হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - উমরার বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭০৯

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عَلَى النِّسَاءِ جِهَادٌ? قَالَ: «نَعَمْ, عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ، لَا قِتَالَ فِيهِ: الْحَجُّ, وَالْعُمْرَةُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَابْنُ مَاجَهْ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌوَأَصْلُهُ فِي الصَّحِيحِ

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের উপর কি জিহাদ বাধ্যতামূলক? তিনি বলেনঃ হাঁ, তাদের উপরও জিহাদ ফরজ, তবে তাতে অস্ত্রবাজি নাই। তা হচ্ছে হজ্জ ও উমরা। -শব্দ বিন্যাস ইবনু মাজাহর, সহীহ্‌ সানাদে। এর মূল রয়েছে বুখারীতে। [৭৫৫]

[৭৫৫] বুখারী ১৮৬১, ২৭৮৪, ২৭৭৫, নাসায়ী ২৬২৮, ২৯০১উম্মুল মু’মিনীন ‘‘‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম ‘আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হাজ্জে মাবরূর। অপর একটি রিওয়ায়াতে আছে, সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর জিহাদ হচ্ছে হাজ্জ্ব, হাজ্জ্বে মাবরূর।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১০

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَعْرَابِيٌّ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَخْبِرْنِي عَنِ الْعُمْرَةِ, أَوَاجِبَةٌ هِيَ? فَقَالَ: «لَا، وَأَنْ تَعْتَمِرَ [ص: 206] خَيْرٌ لَكَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ, وَالرَّاجِحُ وَقْفُهُوَأَخْرَجَهُ ابْنُ عَدِيٍّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ ضَعِيفٍ

বর্ণনাকারী জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ্‌

একজন বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লা্‌হ্‌র রাসূল! আপনি আমাকে জানান যে ‘উমরাহ’ পালন আমার উপর কি ওয়াজিব (আবশ্যক)? তিনি বললেন- না, তবে যদি তুমি কর তা তোমার জন্য কল্যাণের কাজ হবে। –এর মাওকুফ হওয়াটা বেশি যুক্তিযুক্ত। ইবনু ‘আদী অন্য একটি দুর্বল সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। [৭৫৬]

[৭৫৬] তিরমিযী ৯৩১, আহমাদ ১৩৯৮৮, ১৪৪৩১ইবনু হাযম মুহাল্লা (৭/৩৬) গ্রন্থে বলেছেন এর সনদে হাজ্জাজ বিন আরত্বআ রয়েছে, তার দ্বারা দলিল সাব্যস্ত হয় না। ইমাম বায়হাক্বী তাঁর সুনান আল সুগরা ২/১৪৩ গ্রন্থে বলেন, মাওকূফ হিসেবে এটি মাহফূয, আর এটি মারফূ হিসেবে দুর্বল সনদে বর্ণিত। ইমাম যাহাবী আল মুহাযযিব ৪/১৭২৯ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইয়াহইয়া দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী যদিও তাকে সহীহ রিজালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ২/৮৭ গ্রন্থে বলেন, ইমাম আহমাদ ও ইমাম তিরমিযীর সনদেও হাজ্জাজ বিন আরত্বআ রয়েছে, আর সে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১১

عَنْ جَابِرٍ مَرْفُوعًا: «الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ فَرِيضَتَانِ

বর্ণনাকারী . জাবির (রাঃ)

মারফু’রূপে, তাতে আছে, “হজ্জ ও ‘উমরাহ উভয় ফরজ কাজ।” [৭৫৭]

[৭৫৭] যঈফ। ইবনু আদী ফিল কামিল ৪/১৪৬৮। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা (৪/৩৫০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবদুল্লাহ বিন লাহিয়া রয়েছেন যার থেকে হাদীস গ্রহণ করা যায় না। ইমাম যইলয়ী তাঁর নাসবুর রায়াহ (৩/১৪৭) গ্রন্থে যায়দ বিন সাবিতের অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করে বলেন, এর সনদে ইসমাঈল বিন মুসলিম আল মাক্কী রয়েছেন যাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন। ইবনু কাসির তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ (১/৩০১) গ্রন্থেও উক্ত রাবীকে অত্যন্ত দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।

৬/১. অধ্যায়ঃ

হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - হাজ্ব ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১২

وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, مَا السَّبِيلُ قَالَ: «الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَالرَّاجِحُ إِرْسَالُهُ

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলা হলঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সাবীল কি জিনিস? তিনি বললেন, পাথেয় ও বাহন। –হাকিম একে সহীহ্‌ বলেছেন। এর সানাদের মুরসাল হওয়াই যুক্তিযুক্ত। [৭৫৮]

[৭৫৮] ইবনু হাজার আসকালানী আত্‌-তালখীসুল হাবীব (৩/৮৩৩) বলেছেন তার সানাদ সহীহ।আলবানী ইরওয়াউল গলীল (৯৮৮) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। বিন বায তাঁর মাজমুআ ফাতাওয়া ১৬/৩৮৬ গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ তাঁর মারাসীলে ২৩৪ নম্বরে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১৩

وَأَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ أَيْضًا, وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

তিরমিযীও ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন- কিন্তু তাঁর সানাদ য’ঈফ। [৭৫৯]

[৭৫৯] তিরমিযী ২৯৯৮, ইবনু মাজাহ ২৮৯৬শাইখ আলবানী যঈফ তিরমিযী ২৯৯৮ গ্রন্থে বলেন, এটি অত্যন্ত দুর্বল, তবে (আরবি) কথাটি অন্য হাদীস দ্বারা সুসাব্যস্ত। ইমাম যায়লায়ী নাসবুর রায়াহ ৩/৯ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে হুসাইন ইবনুল মাখারিক হচ্ছে দুর্বল।

৬/১. অধ্যায়ঃ

হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - বাচ্চার হজ্জ্বের বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১৪

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - لَقِيَ رَكْبًا بِالرَّوْحَاءِ فَقَالَ: «مَنِ الْقَوْمُ?» قَالُوا: الْمُسْلِمُونَ. فَقَالُوا: مَنْ أَنْتَ? قَالَ: «رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم» فَرَفَعَتْ إِلَيْهِ امْرَأَةٌ صَبِيًّا. فَقَالَتْ: أَلِهَذَا حَجٌّ قَالَ: «نَعَمْ، وَلَكِ أَجْرٌ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রাওহা [৭৬০] নামক স্থানে একদল যাত্রীর সাক্ষাত হলে তাদেরকে বললেন, তোমরা কে? তারা বললো, (আমরা) মুসলিম। তারপর তারা জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? তিনি বললেন- (আমি) আল্লাহ্‌র রাসূল! এ সময় জনৈকা মহিলা তার বাচ্চা তুলে ধরে বললো, এর কি হজ্জ আছে? তিনি বললেন, হাঁ, তবে তার নেকী তুমি পাবে। [৭৬১]

[৭৬০] “রাওহা’’ মদীনা থেকে ৬৩ মাইল দূরে অবস্থিত একটি জায়গার নাম।[৭৬১] মুসলিম ১৩৩৬, নাসায়ী ২৬৪৫, ২৬৪৬, ২৬৪৭, আবূ দাঊদ ১৭৩৬, ১৯০১, আহমাদ ২১৭৭, ২৬০৫, মুওয়াত্তা মালেক ৯৬১

৬/১. অধ্যায়ঃ

হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - কুরবানী করতে অপারগ ব্যক্তির হজ্বের বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১৫

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم. فَجَاءَتِ امْرَأَةٌ مَنْ خَثْعَمَ، فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَجَعَلَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الْآخَرِ. فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا, لَا يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ, أَفَأَحُجُّ عَنْهُ? قَالَ: «نَعَمْ»، وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَفْظُ لِلْبُخَارِيِّ

বর্ণনাকারী ইব্‌নু ‘‘আব্বাস (রাঃ)

ফযল ইব্‌নু ‘‘আব্বাস (রাঃ) একই বাহনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে আরোহণ করেছিলেন। এরপর খাশ’আম গোত্রের জনৈকা মহিলা উপস্থিত হল। তখন ফযল (রাঃ) সেই মহিলার দিকে তাকাতে থাকে এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাতে থাকে। আর আল্লহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর বান্দার উপর ফরজকৃত হজ্জ আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হাঁ (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হাজ্জের সময়ের। শব্দ বুখারীর। [৭৬২]

[৭৬২] বুখারী ১৫১৩, ১৮৫৪, ১৮৫৫, ৪৩৯৯, মুসলিম ১২৩৪, ১২৩৫, তিরমিযী ৯৩৮, নাসায়ী ২৬৩৫, ২৬৪১, আবূ দাঊদ ১৮০৯, ইবনু মাজাহ ২৯০৭, আহমাদ ১৮১৫, ১৮২৫, মুওয়াত্তা মালেক ৮০৬, দারেমী ১৮৩১, ১৮৩২

৬/১. অধ্যায়ঃ

হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - হজ্জের মান্নত করে আদায় করার পূর্বৈই মৃত্যুবরণকারীর বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১৬

وَعَنْهُ: أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَتْ: إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ, فَلَمْ تَحُجَّ حَتَّى مَاتَتْ, أَفَأَحُجُّ عَنْهَا? قَالَ: «نَعَمْ, حُجِّي عَنْهَا, أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ, أَكُنْتِ قَاضِيَتَهُ اقْضُوا اللَّهَ, فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

বর্ণনাকারী ইব্‌নু ‘‘আব্বাস (রাঃ)

জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, আমার আম্মা হজ্জের মান্নত করেছিলেন তবে তিনি হাজ্জ আদায় না করেই ইন্তিকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ করতে পারি? আল্লাহর রাসূল(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার পক্ষ হতে তুমি হাজ্জ আদায় কর। তুমি এ ব্যাপারে কি মনে কর যদি তোমার আম্মার উপর ঋণ থাকত তা হলে কি তুমি তা আদায় করতে না? সুতরাং আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা আল্লাহ্‌র হকই সবচেয়ে বেশী আদায়যোগ্য। [৭৬৩]

[৭৬৩] বুখারী ১৮৫২, ৬৬৯৯, ৭৩১৫, নাসায়ী ২৬৩৩, আহমাদ ২১৪১, ২৫১৪, দারেমী ২২৩২।

হাদিস নং
৭১৬
অধ্যায়
হাজ্জ
অধ্যায়
হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - হজ্জের মান্নত করে আদায় করার পূর্বৈই মৃত্যুবরণকারীর বিধান

৬/১. অধ্যায়ঃ

হজ্জে এর ফযীলত ও যাদের উপর হজ্জ ফরয তার বিবরণ - নাবালেগ ছেলে এবং দাসের কৃত হজ্ব “ফরজ হজ্ব” হবে না

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭১৭

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا صَبِيٍّ حَجَّ, ثُمَّ بَلَغَ الْحِنْثَ, فَعَلَيْهِ [أَنْ يَحُجَّ] حَجَّةً أُخْرَى, وَأَيُّمَا عَبْدٍ حَجَّ, ثُمَّ أُعْتِقَ, فَعَلَيْهِ [أَنْ يَحُجَّ] حَجَّةً أُخْرَى». رَوَاهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ, وَالْبَيْهَقِيُّ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ, إِلَّا أَنَّهُ اخْتُلِفَ فِي رَفْعِهِ, وَالْمَحْفُوظُ أَنَّهُ مَوْقُوفٌ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন – কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে হজ্জ করল অতঃপর বয়োঃপ্রাপ্ত হলে (সামর্থবান থাকলে) অন্য আরো একটি হজ্জ তাকে করতে হবে। কোন দাস তার দাসত্বকালে হজ্জ করলে তাকে স্বাধীন হবার পর আবার একটি হজ্জ করতে হবে। ইবনু আবূ শাইবাহ, বায়হাকী, এর সবগুলো বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, তবে তার মারফূ হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে এবং মাওকুফ হওয়াটাই নিরাপদ। [৭৬৪]

[৭৬৪] মারফূ হিসেবে হাদীসটি সহীহ। আত-তালখীসুল হাবীর ২/২২০, বাইহাকী ৪/৩২৫।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18