কসম ও মান্নত প্রসঙ্গ

১৩/০. অধ্যায়ঃ

আল্লাহর নামে শপথ করার আবশ্যকীয়তা এবং তিনি ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করা নিষেধ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬০

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنَّهُ أَدْرَكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فِي رَكْبٍ, وَعُمَرَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ, فَنَادَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلَا إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ, فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ, أَوْ لِيَصْمُتْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)

একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বাহনে চলা অবস্থায় পেলেন যখন তিনি তাঁর পিতার নামে কসম করছিলেন। তিনি তাদেরকে ডেকে বললেন: সাবধান! আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ কসম করতে চাইলে সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নইলে যেন চুপ থাকে। [১৪৬৮]

[১৪৬৮] বুখারী ২৬৭৯, ৩৮৩৬, ৬১০৮, মুসলিম ১৪৪৬, তিরমি্যী ১৫৩৩, ১৫৩৮, ১৫৩৫, নাসায়ী ৩৭৬৬, ৩৭৬৭, আবূ দাউদ ৩২৪৯, আহমাদ ৪৫০৯, মালেক ১০৩৭, দারেমী ২৩৪১।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬১

وَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: «لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ, وَلَا بِأُمَّهَاتِكُمْ, وَلَا بِالْأَنْدَادِ, وَلَا تَحْلِفُوا إِلَّا بِاللَّهِ, وَلَا تَحْلِفُوا بِاللَّهِ إِلَّا وَأَنْتُمْ صَادِقُونَ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

তোমরা তোমাদের পিতার নামে কসম করবে না , মাতা বা দেব দেবির নামেও না। কেবল আল্লাহর নামেই কসম করবে। আর আল্লাহর নামে কসম করার ব্যাপারে তোমাদের সত্যবাদী থাকতে হবে।(মিথ্যা কসম খাবে না)। [১৪৬৯]

[১৪৬৯] আবূ দাউদ ৩২৪৮, নাসায়ী ৩৭৬৯ – এর হাদিস সহিহ অথবা হাসান সহিহ তাওযিহুল আহকাম ৭/১০৭

১৩/০. অধ্যায়ঃ

কসম প্রার্থনাকারীর নিয়ত অনুযায়ী কসম প্রযোজ্য হবে

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬২

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ بِهِ صَاحِبُكَ». وَفِي رِوَايَةٍ: «الْيَمِينُ عَلَى نِيَّةِ الْمُسْتَحْلِفِ». أَخْرَجَهُمَا مُسْلِمٌ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ক্বসম করার জন্য তোমাকে যে ব্যক্তি চাপ দেয় বা দাবী জানায় তার উদ্দেশ্যের অনুকূলে তোমাকে ক্বসম করতে হবে। অন্য রিওয়ায়েতে আছে প্রতিপক্ষের নিয়্যাতের বা উদ্দেশ্যের অনুকূলে (কসম সাব্যস্ত)হবে। [১৪৭০]

[১৪৭০] মুসলিম ১৬৫৩, তিরমিযী ১৩৫৪, আবূ দাউদ ৩২৫৫, ইবনু মাজাহ ২১২০, আহমাদ ৭০৭৯, দারেমী ২৩৪৯।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

কসম খাওয়া বিষয়ের চেয়ে অন্য বস্তুর মাঝে অধিক কল্যাণ দেখা গেলে তার বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬৩

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ, فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا, فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ, وَائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِوَفِي لَفْظٍ لِلْبُخَارِيِّ: فَائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ, وَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَوَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ: «فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ, ثُمَّ ائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ». وَإِسْنَادُهَا صَحِيحٌ

বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কোন ব্যাপারে যদি শপথ কর আর তা ছাড়া অন্য কিছুর ভিতর কল্যান দেখতে পাও, তবে নিজ শপথের কাফফারা আদায় করে তা থেকে উত্তমটি গ্রহণ কর।বুখারীর শব্দে আছে, “ভাল কাজটি কর আর শপথ ভঙ্গের কাফফারা দাও”।আবূ দাউদের এক বর্ণনায় আছে, “শপথ ভঙ্গের কাফফারা দাও, তারপর ভাল কাজটি কর। [১৪৭১]

[১৪৭১] বুখারী ৬৭২২, ৭১৪৬, ৭১৪৭, মুসলিম ১৬৫২, তিরমিযী ১৫২৯, নাসায়ী ৩৭৮২, ৩৭৮৩, ৩৭৮৪, আবূ দাউদ ২৯২৯, ৩২৭৭, আহমাদ ২০০৯৩, দারেমী ২৩৪৬।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

কসমে ইনশাআল্লাহ বলার বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬৪

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ حَلَفِ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ, فَلَا حِنْثَ عَلَيْهِ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ (1) وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যদি কেউ ইনশাআল্লাহ বাক্য জুড়ে দিয়ে কোন ক্বসম করে তবে সে ক্বসম ভঙ্গকারী হবে না।(যদিও সে ক্বসমের বিপরীত কাজ করে বসে।)[১৪৭২]

[১৪৭২] আবূ দাউদ ৬১৬২, তিরমিযী ১৫৩১, নাসায়ী ৩৭৯৩, ইবনু মাজাহ ২১০৫, ২১০৬, আহমাদ ৪৪৯৭, ৪৫৬৭, ৫০৭৪, মালেক ১০৩৩, দারেমী ২৩৪২।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

নাবী (ﷺ) এর শপথ প্রসঙ্গে

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬৫

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَتْ يَمِينُ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم: «لَا, وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)

নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কসম ছিল وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ বাক্য দ্বারা। অর্থাৎ অন্তরের পরিবর্তনকারীর কসম। [১৪৭৩]

[১৪৭৩] বুখারী ৬৬১৭, ৭৩৯১, তিরমিযী ১৫৪০, নাসায়ী ৩৭৬১, আবূ দাউদ ৩২৬৩, ইবনু মাজাহ ২০৯২, আহমাদ ৪৭৭৩, মালেক ১০৩৭, দারেমী ২৩৫০।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

মিথ্যা শপথ প্ৰসঙ্গ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬৬

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَا الْكَبَائِرُ? … فَذَكَرَ الْحَدِيثَ, وَفِيهِ قُلْتُ: وَمَا الْيَمِينُ الْغَمُوسُ? قَالَ: «الَّذِي يَقْتَطِعُ مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ, هُوَ فِيهَا كَاذِبٌ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)

এক বেদুঈন নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কবীরা গুনাহ সমূহ কী? এর পর উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তাতে আরো আছে ,আমি জিজ্ঞেস করলাম, মিথ্যা শপথ কী? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি (শপথের সাহায্যে) মুসলিমের ধন-সম্পদ হরণ করে নেয়। অথচ সে এ শপথের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারী । [১৪৭৪]

[১৪৭৪] বুখারী ৬৬৭৫, ৬৮৭০, তিরমিযী ৩০২১, নাসায়ী ৪০১১, আহমাদ ৬৮৪৫, দারেমী ২৩৬০।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

উদ্দেশ্যহীন শপথ প্রসঙ্গে

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬৭

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: (لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ) [البقرة: 225] قَالَتْ: هُوَ قَوْلُ الرَّجُلِ: لَا وَاللَّهِ. بَلَى وَاللَّهِ. أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَأَوْرَدَهُ أَبُو دَاوُدَ مَرْفُوعًا

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের উদ্দেশ্যবিহীন উক্তি لَا وَاللَّهِ না আল্লাহর শপথ, بَلَى وَاللَّهِ হ্যাঁ আল্লাহর শপথ ইত্যাদি উপলক্ষে। [১৪৭৫]

[১৪৭৫] বুখারী ৪৬১৩, ৬৬৬৩, আবূ দাউদ ৩২৪৫, মালেক ১০৩২।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

আল্লাহর সুন্দর নাম সমূহ প্রসঙ্গে

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬৮

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعًا وَتِسْعِينَ اسْمًا, مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَسَاقَ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ حِبَّانَ الْأَسْمَاءِ, وَالتَّحْقِيقُ أَنَّ سَرْدَهَا إِدْرَاجٌ مِنْ بَعْضِ الرُّوَاةِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর নিরানব্বই অর্থাৎ এক কম একশ’টি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি তা মনে রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

[১৪৭৬] বুখারী এবং মুসলিমে আরো রয়েছে, (আরবি) এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। বুখারী ৬৪১০, ৭৩৯২, মুসলিম ২৬৭৭, তিরমিযী ৩৫০৭, ৩৫০৮, ইবনু মাজাহ ৩৮৬০, ৩৮৬১, আহমাদ ৭৪৫০, ৭৫৬৮, ৭৮৩৬।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

কল্যানকারীর উদ্দেশ্যে দু’আ করা প্রসঙ্গে

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৬৯

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ, فَقَالَ لِفَاعِلِهِ: جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ». أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

বর্ণনাকারী উসমাহ ইবনু যাইদ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যার প্রতি কোন কল্যাণ করা হবে আর সে ঐ কল্যাণের বিনিময়ে কল্যাণকারীর ইয়দ্দেসগ্যে বলবে (দু’আ করবে) আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন,তবে সে তার চরম গুন বর্ণনা করলো। [১৪৭৭]

[১৪৭৭] তিরমিযী ২০৩৫।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18