বিচার-ফায়সালা

১৪/০. অধ্যায়ঃ

বিচারকের প্রকার সমূহ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৮৩

عَنْ بُرَيْدَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ: اثْنَانِ فِي النَّارِ, وَوَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ. رَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ, فَقَضَى بِهِ, فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ. وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ, فَلَمْ يَقْضِ بِهِ, وَجَارَ فِي الْحُكْمِ, فَهُوَ فِي النَّارِ. وَرَجُلٌ لَمْ يَعْرِفِ الْحَقَّ, فَقَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ, فَهُوَ فِي النَّارِ». رَوَاهُ الْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

বর্ণনাকারী বুরাইদাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ক্বাযী (বিচারক) তিন প্রকারের, তার মধ্যে দু’ প্রকার ক্বাযী জাহান্নামী আর এক প্রকার জান্নাতী। যে ক্বাযী সত্য উপলব্ধি করবে এবং তদনুযায়ী ফায়সালাহ করবে সে জান্নাতবাসী হবে, আর এক ক্বাযী সে সত্য উপলব্ধি করবে কিন্তু তদনুযায়ী ফায়সালাহ করবে না, অন্যায়ের ভিত্তিতে ফায়সালাহ করবে সে জাহান্নামী হবে।আর এক ক্বাযী সত্য উপলব্ধি করতে পারবে না, অথচ অজ্ঞতার ভিত্তিতে লোকের জন্য ফায়সালাহ প্রদান করবে সে জাহান্নামী হবে।(তার নীতিভ্রষ্টতা তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে)। [১৪৯১]

[১৪৯১] আবূ দাউদ ৩৫৭৩, তিরমিযী ১৩২২, ইবনু মাজাহ ২৩১৫।

১৪/০. অধ্যায়ঃ

বিচারকের পদের মহত্ত

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৮৪

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَلِيَ الْقَضَاءَ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ (1) وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَابْنُ حِبَّانَ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যাকে ক্বাযীর পদ দেয়া হলো তাকে যেন বিনা ছুরিতেই যবাহ করা হলো। [১৪৯২]

[১৪৯২] তিরমিযী ১৩২৫, আবূ দাউদ ৩৫৭১, ৩৫৭২, ইবনু মাজাহ ২৩০৮, আহমাদ ৭১০৫, ৮৫৫৯।

১৪/০. অধ্যায়ঃ

বিচারকের পদ প্ৰত্যাশা করার প্রতি সতর্কীকরণ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৮৫

وَعَنْهُ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّكُمْ سَتَحْرِصُونَ عَلَى الْإِمَارَةِ, وَسَتَكُونُ نَدَامَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ, فَنِعْمَ الْمُرْضِعَةُ, وَبِئْسَتِ الْفَاطِمَةُ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

বর্ণনাকারী আবু হুরাইরা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা নিশ্চয়ই নেতৃত্বের লোভ কর, অথচ ক্বিয়ামাতের দিন তা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কত উত্তম দুগ্ধদায়িনী ও কত মন্দ দুগ্ধ পানে বাধা দানকারিনী (এটা)(অর্থাৎ এর প্রথম দিক দুগ্ধদানের মত তৃপ্তিকর ও পরিণাম দুধ ছাড়ানোর মত যন্ত্রনাদায়ক)। [১৪৯৩]

[১৪৯৩] বুখারী ৭১৪৮, নাসায়ী ৪২১১, ৫৩৮৫, আহমাদ ৯৪৯৯, ৯৮০৬।

১৪/০. অধ্যায়ঃ

চিন্তা-গবেষণা করে ফায়সালায় বিচারকের প্রতিদান রয়েছে তা সঠিক হোক বা ভুল হোক

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৮৬

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ - رضي الله عنه - أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ, فَاجْتَهَدَ, ثُمَّ أَصَابَ, فَلَهُ أَجْرَانِ. وَإِذَا حَكَمَ, فَاجْتَهَدَ, ثُمَّ أَخْطَأَ, فَلَهُ أَجْرٌ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী আমর ইব্‌নু ‘আস (রাঃ)

তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন, কোন বিচারক ইজ্‌তিহাদে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছলে তার জন্য রয়েছে দু’টি পুরস্কার। আর বিচারক ইজ্‌তিহাদে ভুল করলে তার জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার। [১৪৯৪]

[১৪৯৪] বুখারী ৭৩৫২, মুসলিম ১৭১৬, আবূ দাউদ ৩৫৭৪, ইবনু মাজাহ ২৩১৪, আহমাদ ৬৭১৬, ১৭৩২০।

১৪/০. অধ্যায়ঃ

রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকার্য করা নিষেধ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৮৭

وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا يَحْكُمُ أَحَدٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ, وَهُوَ غَضْبَانُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী আবূ বাক্‌রাহ(রাঃ)

আমি নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক রাগের অবস্থায় দু’জনের মধ্যে বিচার করবে না। [১৪৯৫]

[১৪৯৫] ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন যে (আরবি) আবূ বাকরাহ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে লিখে পাঠালেন- যে তুমি রাগের অবস্থায় বিবাদমান দু’লোকের মাঝে ফায়সালা করো না; সে সময় তিনি সিজিস্তানের বিচারক ছিলেন। কেননা, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু (আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে- এ বলে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। বুখারী ৭১৫৮, মুসলিম ১৭১৭, তিরমিযী ১৩৩৪, নাসায়ী ৫৪০৬, আবূ দাউদ ৩৫৮৯, ইবনু মাজাহ ২৩১৬, আহমাদ ১৯৮৬৬, ১৯৯৫৪।

১৪/০. অধ্যায়ঃ

বিচারকার্যের পদ্ধতি

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৮৮

وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَقَاضَى إِلَيْكَ رَجُلَانِ, فَلَا تَقْضِ لِلْأَوَّلِ, حَتَّى تَسْمَعَ كَلَامَ الْآخَرِ, فَسَوْفَ تَدْرِي كَيْفَ تَقْضِي». قَالَ عَلِيٌّ: فَمَا زِلْتُ قَاضِيًا بَعْدُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ, وَقَوَّاهُ ابْنُ الْمَدِينِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

বর্ণনাকারী আলী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন দু’জন লোক (দু’টো পক্ষ) কোন মোকদ্দমা তোমার কাছে আনবে তখন দ্বিতীয় ব্যক্তির (অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য) না শোনা পর্যন্ত প্রথম ব্যক্তির (অভিযোগকারীর) অনূকূলে কোন ফায়সালাহ দেবে না। এ নীতি ধরে ফায়সালাহ করলে তুমি ফায়সালা কিভাবে করতে হয় তার সঠিক ধারা জানতে পারবে।‘আলী (রাঃ)বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপদেশ দানের পর হতে আমি বরাবর ক্বাযীর দায়িত্ব সম্পাদন করেছি। [১৪৯৬]

[১৪৯৬] আবূ দাউদ ৩৫৮২, তিরমিযী ১৩৩১, আহমাদ ৬৬৮, ১১৫৯, ১৩৪৪। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ৮/২২৬ গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল আবার সহীহ তিরমিযীতে ১৩৩১ হাসান বলেছেন। আহমাদ শাকের মুসনাদ আহমাদ ২/২৮৯ গ্রন্থে এর সনদকে সহীহ বলেছেন, ইবনু উসাইমীন তাঁর শারহুল মুমতি ১৫/৩৫৩ গ্রন্থে বলেন,এ হাদীস সম্পর্কে কিছু মন্তব্য রয়েছে কেউ কেউ একে হাসান বলেছেন।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৮৯

وَلَهُ شَاهِدٌ عِنْدَ الْحَاكِمِ: مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

এই হাদীসের সহ সহযোগী একটা হাদীস হাকিমে রয়েছে সহীহ সনদে। [১৪৯৭]

[১৪৯৭] হাকিম ৪র্থ খন্ড ৮৯-৯৯ পৃষ্ঠা। হাদীসটি দুর্বল।

১৪/০. অধ্যায়ঃ

বিচারক বাহ্যিক অবস্থা দেখে বিচার করবে আভ্যন্তরীণ অবস্থা দেখে নয়

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৯০

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ, وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ, فَأَقْضِيَ لَهُ عَلَى نَحْوٍ مِمَّا أَسْمَعُ, مِنْهُ فَمَنْ قَطَعْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا, فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী উম্মু সালামাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছে ঝগড়া বিবাদ নিয়ে আসো। হয়তো তোমাদের কেউ অন্যজনের অপেক্ষা প্রমাণ পেশের ব্যাপারে অধিক বাকপটু। আর আমি তো যেমন শুনি তার ভিত্তিতেই বিচার করে থাকি। কাজেই আমি যদি কারো জন্য তার অন্য ভাইয়ের সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত দেই, ফলে আমি তার ভাইয়ের যে অংশ নির্ধারণ করলাম তা তো কেবল এক টুকরা আগুন। [১৪৯৮]

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছে ঝগড়া বিবাদ নিয়ে আসো। হয়তো তোমাদের কেউ অন্যজনের অপেক্ষা প্রমাণ পেশের ব্যাপারে অধিক বাকপটু। আর আমি তো যেমন শুনি তার ভিত্তিতেই বিচার করে থাকি। কাজেই আমি যদি কারো জন্য তার অন্য ভাইয়ের সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত দেই, ফলে আমি তার ভাইয়ের যে অংশ নির্ধারণ করলাম তা তো কেবল এক টুকরা আগুন। [১৪৯৮]

১৪/০. অধ্যায়ঃ

ন্যায্য অধিকার আদায়ে দুর্বলকে সহায়তা করা

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৯১

وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه -[قَالَ]: سَمِعْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «كَيْفَ تُقَدَّسُ أُمَّةٌ, لَا يُؤْخَذُ مِنْ شَدِيدِهِمْ لِضَعِيفِهِمْ». رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, কি করে পবিত্র করা যাবে ঐ জাতিকে, যাদের দুর্বলদের হাক্ব সবলদের কাছ থেকে (বিচার মূলে) আদায় করা না যাবে। [১৪৯৯]

[১৪৯৯] ইবনু হিব্বান ১৫৫৪, কাশফুল আসতার ১৫৯৬।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৩৯২

وَلَهُ شَاهِدٌ: مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ, عِنْدَ الْبَزَّارِ

বর্ণনাকারী বুরাইদাহ কর্তৃক বায্‌যার

হাদীসগ্রন্থে একটা হাদীস এ হাদীসের সহায়করূপে বর্ণিত হয়েছে। [১৫০০]

[১৫০০] কাশফুল আসতার ১৫৯৬।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18