তাফসীরুল কুরআন

৪৪/১০. অধ্যায়ঃ

সূরা আত-তাওবা

জামে তিরমিযী

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ حُذَيْفَةَ، قَدِمَ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَكَانَ يُغَازِي أَهْلَ الشَّامِ فِي فَتْحِ أَرْمِينِيَّةَ وَأَذْرَبِيجَانَ مَعَ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَرَأَى حُذَيْفَةُ اخْتِلاَفَهُمْ فِي الْقُرْآنِ فَقَالَ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَدْرِكْ هَذِهِ الأُمَّةَ قَبْلَ أَنْ يَخْتَلِفُوا فِي الْكِتَابِ كَمَا اخْتَلَفَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَأَرْسَلَ إِلَى حَفْصَةَ أَنْ أَرْسِلِي إِلَيْنَا بِالصُّحُفِ نَنْسَخُهَا فِي الْمَصَاحِفِ ثُمَّ نَرُدُّهَا إِلَيْكِ فَأَرْسَلَتْ حَفْصَةُ إِلَى عُثْمَانَ بِالصُّحُفِ فَأَرْسَلَ عُثْمَانُ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَسَعِيدِ بْنِ الْعَاصِي وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنِ انْسَخُوا الصُّحُفَ فِي الْمَصَاحِفِ وَقَالَ لِلرَّهْطِ الْقُرَشِيِّينَ الثَّلاَثَةِ مَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ أَنْتُمْ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فَاكْتُبُوهُ بِلِسَانِ قُرَيْشٍ فَإِنَّمَا نَزَلَ بِلِسَانِهِمْ ‏.‏ حَتَّى نَسَخُوا الصُّحُفَ فِي الْمَصَاحِفِ بَعَثَ عُثْمَانُ إِلَى كُلِّ أُفُقٍ بِمُصْحَفٍ مِنْ تِلْكَ الْمَصَاحِفِ الَّتِي نَسَخُوا ‏.‏ قَالَ الزُّهْرِيُّ وَحَدَّثَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ فَقَدْتُ آيَةً مِنْ سُورَةِ الأَحْزَابِ كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا ‏:‏ ‏(‏ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ ‏)‏ فَالْتَمَسْتُهَا فَوَجَدْتُهَا مَعَ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ أَوْ أَبِي خُزَيْمَةَ فَأَلْحَقْتُهَا فِي سُورَتِهَا ‏.‏ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَاخْتَلَفُوا يَوْمَئِذٍ فِي التَّابُوتِ وَالتَّابُوهِ فَقَالَ الْقُرَشِيُّونَ التَّابُوتُ ‏.‏ وَقَالَ زَيْدٌ التَّابُوهُ ‏.‏ فَرُفِعَ اخْتِلاَفُهُمْ إِلَى عُثْمَانَ فَقَالَ اكْتُبُوهُ التَّابُوتُ فَإِنَّهُ نَزَلَ بِلِسَانِ قُرَيْشٍ ‏.‏ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَأَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَرِهَ لِزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ نَسْخَ الْمَصَاحِفِ وَقَالَ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ أُعْزَلُ عَنْ نَسْخِ كِتَابَةِ الْمُصْحَفِ وَيَتَوَلاَّهَا رَجُلٌ وَاللَّهِ لَقَدْ أَسْلَمْتُ وَإِنَّهُ لَفِي صُلْبِ رَجُلٍ كَافِرٍ يُرِيدُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ وَلِذَلِكَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ اكْتُمُوا الْمَصَاحِفَ الَّتِي عِنْدَكُمْ وَغُلُّوهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ ‏:‏ ‏(‏ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏)‏ فَالْقُوا اللَّهَ بِالْمَصَاحِفِ ‏.‏ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَبَلَغَنِي أَنَّ ذَلِكَ كَرِهَهُ مِنْ مَقَالَةِ ابْنِ مَسْعُودٍ رِجَالٌ مِنْ أَفَاضِلِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

হুযাইফা (রাঃ) উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। হুযাইফা (রাঃ) আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান অভিযানে ইরাকীদের সঙ্গী হয়ে শামীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করছিলেন। তখন হুযাইফা (রাঃ) তাদের মধ্যে কুরআন নিয়ে মতভেদের ব্যাপার লক্ষ্য করেন। তিনি (ফিরে এসে) উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে বললেন, “হে আমীরুল মুমিনীন! যেভাবে ইয়াহুদি-নাসারা তাদের কিতাব নিয়ে মতভেদে পতিত হয়েছিল, সেভাবে এই উম্মাতের লোকদের নিজেদের কিতাব নিয়ে মতভেদের পূর্বে তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিন।”এরপর উসমান (রাঃ) এই কথা বলে হাফসা (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠান যে, “আপনার নিকট রক্ষিত কুরআনের সহিফাগুলি আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা সেগুলো থেকে কপি করার পর আপনাকে আবার ফেরত দেব।” উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাঃ) তার সহিফাগুলি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন।উসমান (রাঃ) যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ), সাঈদ ইবন আস (রাঃ), আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবন হিশাম (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) প্রমুখের নিকট উক্ত সহিফাগুলি পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, “তোমরা এ সহিফাগুলি থেকে অনেকগুলো কপি করে নাও।” তিনি উক্ত কমিটির তিন কুরাইশ সদস্যকে বললেন, “কোন বিষয়ে তোমাদের ও যায়দ ইবন সাবিতের মধ্যে মতভেদ হলে তা তোমরা কুরাইশের ভাষা অনুযায়ী লিখবে। কেননা কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।” অবশেষে তারা পূর্ণ কুরআনের কয়েকটি কপি করেন। উসমান (রাঃ) সেগুলোর এক একটি কপি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দিলেন।যুহরী (রহঃ) বলেন, খারিজা ইবন যায়দ (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলেছেন, “আমি সূরা আল-আহযাবের একটি আয়াত পেলাম না, যেটি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিলাওয়াত করতে শুনতাম। আয়াতটি এই (অনুবাদ): “মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ নিজের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন আনেনি” (সূরা আল-আহযাব ২৩)। আমি আয়াতটির খোঁজ করছিলাম। অবশেষে তা ‘খুজাইমা ইবন সাবিত (রাঃ) অথবা আবু খুজাইমা (রাঃ)-এর নিকট পেলাম। আমি সূরার যথাস্থানে আয়াতটি সংযুক্ত করলাম।যুহরী (রহঃ) বলেন, তারা ঐ দিন তাবুত ও তাবুহ শব্দ নিয়ে মতভেদ করেন। কুরাইশীরা বলেন, তাবুত, আর যায়দ (রাঃ) বলেন, তাবুহ। তাদের মতভেদের বিষয়টি উসমান (রাঃ)-এর নিকট উত্থাপন করা হলে তিনি বললেন, “তোমরা তাবুত লিখ। কেননা কুরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।”যুহরী (রহঃ) বলেন, আমাকে উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা খবর দিয়েছেন যে, যায়দ ইবন সাবিতের কুরআন লিপিবদ্ধ করাকে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন, “হে মুসলিমগণ! কুরআন লিপিবদ্ধ করা থেকে আমি অব্যাহতি পাব এবং তার দায়িত্ব নিবে এমন ব্যক্তি, যে আমার ইসলাম গ্রহণের সময়ও একজন কাফিরের পৃষ্ঠদেশে ছিল।” তিনি এর দ্বারা যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।তাই আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন: “হে ইরাকবাসী! তোমাদের নিকট রক্ষিত কুরআনের সংকলন লুকিয়ে রাখ এবং তালাবদ্ধ করে রাখো। কারণ আল্লাহ বলেন, (অনুবাদ): “এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু আত্মসাৎ করলে, যা সে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে কেয়ামতের দিন সে তা নিয়ে উপস্থিত হবে” - (সূরা আলে ইমরান ১৬১)। অতএব তোমরা তোমাদের সংকলনগুলোসহ আল্লাহর সাথে মিলিত হও।”যুহরী (রহঃ) বলেন, “আমি জেনেছি যে, ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর এ কথাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বহু শ্রেষ্ঠ সাহাবী অপছন্দ করেছেন।”

সহীহ : বুখারী (৪৯৮৭, ৪৯৮৮) সহীহ মাকতূ'।আবূ '‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এটি যুহরীর রিওয়ায়াত । আমরা এ হাদীস শুধু তার সূত্রেই জেনেছি।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18