তাফসীরুল কুরআন

৪৪/১. অধ্যায়ঃ

কুরআন মাজীদের ব্যক্তিগত রায় ভিত্তিক তাফসীর (তাফসীর বির-রায়) প্রসঙ্গে

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫০

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضى الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِغَيْرِ عِلْمٍ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি সঠিক ইলম ব্যতীত কুরআন প্রসঙ্গে কোন কথা বলে, সে যেন জাহান্নামকে নিজের জন্য বাসস্থান বানিয়ে নিল।

যঈফ, মিশকাত (২৩৪) নাকদুত তাজআবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫১

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ عَمْرٍو الْكَلْبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ اتَّقُوا الْحَدِيثَ عَنِّي إِلاَّ مَا عَلِمْتُمْ فَمَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَأْيِهِ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ নিশ্চিতভাবে যা তোমাদের জানা আছে তা ব্যতীত আমার নিকট হতে হাদিস বর্ণনা করা থেকে তোমরা নিবৃত্ত থাকবে। কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামকে নিজের আবাস বানিয়ে নিল। আর যে ব্যক্তি নিজের খেয়ালমতো কুরআন প্রসঙ্গে কথা বলে সেও যেন জাহান্নামকে নিজের গৃহ বানিয়ে নিল।

যঈফ, মিশকাত (২৩৫), নাকদুত তাজ, যঈফা (১৭৮৩), সিফাতুস সালাতআবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫২

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَزْمٍ أَخُو حَزْمٍ الْقُطَعِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَأْيِهِ فَأَصَابَ فَقَدْ أَخْطَأَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي سُهَيْلِ بْنِ أَبِي حَزْمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّهُمْ شَدَّدُوا فِي هَذَا فِي أَنْ يُفَسَّرَ الْقُرْآنُ بِغَيْرِ عِلْمٍ ‏.‏ وَأَمَّا الَّذِي رُوِيَ عَنْ مُجَاهِدٍ وَقَتَادَةَ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ فَسَّرُوا الْقُرْآنَ فَلَيْسَ الظَّنُّ بِهِمْ أَنَّهُمْ قَالُوا فِي الْقُرْآنِ أَوْ فَسَّرُوهُ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَوْ مِنْ قِبَلِ أَنْفُسِهِمْ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُمْ مَا يَدُلُّ عَلَى مَا قُلْنَا أَنَّهُمْ لَمْ يَقُولُوا مِنْ قِبَلِ أَنْفُسِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের মত অনুযায়ী কুরআন প্রসঙ্গে কথা বলে, সে সঠিক বললেও অপরাধ করলো (এবং সঠিক ব্যাখ্যা করলেও সে ভুল করলো)।

যঈফ : মিশকাত (২৩৫), নাক্বদুত্ তাজ।আবু ‘‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কোন কোন হাদীস বিশারদ এ হাদীসের রাবী সুহাইল ইবনু আবু হাযমের সমালোচনা করেছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্যদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তারা (উক্ত বিষয়ের) জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের তাফসীর করার ব্যাপারে খুবই কঠোর মত ব্যক্ত করেছেন। মুজাহিদ, ক্বাতাদাহ (রহঃ) প্রমুখ বিশেষজ্ঞ আলিম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তারাও কুরআনের তাফসীর করেছেন। তাদের প্রসঙ্গে অবশ্য এ ধারণা করার সুযোগ নেই যে, তারা কুরআন প্রসঙ্গে মনগড়া কিছু বলেছেন বা জ্ঞান ছাড়া কুরআনের তাফসীর করেছেন অথবা নিজেদের থেকে কুরআন ব্যাখ্যায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের প্রসঙ্গে আমরা যে মন্তব্য করেছি যে, তারা জ্ঞান ছাড়া কুরআন প্রসঙ্গে কিছু বলেননি, তাদের বক্তব্য হতেও তার সমর্থন পাওয়া যায়। হুসাইন ইবনু মাহদী আল-বাসরী, ‘আবদুর রাযযাক্ব হতে, তিনি মা’মার হতে, তিনি ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, কুরআনের এমন কোন আয়াত নেই যার (ব্যাখ্যা) প্রসঙ্গে আমি কিছু শুনিনি। সানাদ সহীহ : মাক্বতূ’। ইবনু আবী ‘উমার-সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ হতে, তিনি আ’মাশ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেন, আমি যদি ইবনু মাস’উদ (রাঃ)-এর ক্বিরাআতের অনুসরণ করতাম, তাহলে কুরআনের এমন অনেক বিষয় যে প্রসঙ্গে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছি সেগুলো প্রসঙ্গে আমি তাকে প্রশ্ন করার প্রয়োজনবোধ করতাম না। সানাদ সহীহ : মাক্বতূ’।

৪৪/২. অধ্যায়ঃ

সূরা আল-ফাতিহা

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ :« مَنْ صَلَّى صَلَاةً، لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ؛ فَهِيَ خِدَاجٌ، هِيَ خِدَاجٌ؛ غَيْرُتَمَامٍ».قَالَ : قُلْتُ : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ! إِنِّي أَحْيَانًا أَكُونُ وَرَاءَ الْإِمَامِ؟ قَالَ : يَاابْنَ الْفَارِسِيِّ! فَاقْرَأْهَا فِي نَفْسِكَ؛ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ :«قَالَ اللَّهُ – تَعَالَى - : قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ؛فَنِصْفُهَا لِي، وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي، وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ؛ يَقْرَأُ الْعَبْدُ، فَيَقُولُ :﴿ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾، فَيَقُولُ اللَّهُ – تَبَارَكَ وَتَعَالَى - : حَمِدَنِيعَبْدِي، فَيَقُولُ : ﴿ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴾، فَيَقُولُ اللَّهُ : أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي،فَيَقُولُ : ﴿ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴾، فَيَقُولُ : مَجَّدَنِي عَبْدِي، وَهَذَا لِي، وَبَيْنِيوَبَيْنَ عَبْدِي، ﴿ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ﴾، وَآخِرُ السُّورَةِ لِعَبْدِي،وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ، يَقُولُ : ﴿ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ. صِرَاطَ الَّذِينَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴾.– صحيح : «ابن ماجه» (٨٣٨) م.– حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَيَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الْفَارِسِيُّ، قَالَا :– حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: حَدَّثَنِي أَبِي، وَأَبُو السَّائِبِ –مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ؛ وَكَانَا جَلِيسَيْنِ لِأَبِيهُرَيْرَةَ-، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ ، قَالَ : « مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْفِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ؛ فَهِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ».– صحيح : انظر ما قبله.

বর্ণনাকারী আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : যে লোক নামায আদায় করলো, অথচ তাতে উম্মুল কুরআন (সূরা আল-ফাতিহা) পাঠ করলো না, তা (নামায) ত্রুটিযুক্ত, তা ত্রুটিযুক্ত, তা অসম্পূর্ণ। বর্ণনাকারী (‘আবদুর রাহমান) বলেন, আমি বললাম, হে আবূ হুরাইরাহ্! আমি তো অনেক সময় ইমামের পিছনে নামায আদায় করি। তিনি বললেন, হে পারস্য সন্তান! তুমি তা নীরবে পাঠ করবে। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি : আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আমার ও আমার বান্দাদের মধ্যে নামাযকে আধাআধি ভাগ করে নিয়েছি। নামাযের অর্ধেক আমার এবং অর্ধেক আমার বান্দার। আর বান্দা আমার নিকট যা চায় তা-ই তাকে দেয়া হয়। বান্দা যখন (নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে) বলে, আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন (সমস্ত প্রশংসা সারা পৃথিবীর প্রভু আল্লাহ তা‘আলার জন্য), তখন কল্যাণের আধার আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। যখন বান্দা বলে, আর-রাহমানির রাহীম (তিনি দয়াময় পরম দয়ালু), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। যখন বান্দা বলে, মালিকি ইয়াওমিদ্দীন (প্রতিফল দিবসের মালিক), তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছে। এটা হচ্ছে আমার জন্য। আর আমার ও আমার বান্দার জন্য যোগসূত্র হচ্ছে :ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা’ঈন (আমরা শুধু তোমারই ‘ইবাদাত করি এবং তোমারই নিকট সাহায্য চাই), সূরার শেষ পর্যন্ত আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দার জন্য তাই যা সে প্রার্থনা করে। বান্দা বলে, “ইহ্দিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম। সিরাতাল্লাযীনা আন’আমতা ‘আলাইহিম। গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওয়ালায য-ল্লীন” আমাদেরকে সরল ও মযবুত পথ দেখাও। ঐ মানুষদের পথ যাদের তুমি নিয়ামাত দান করেছ। যারা অভিশপ্ত হয়নি, যারা পথহারা হয়নি।

সহীহ : ইবনু মা-জাহ (৮৩৮), মুসলিম।আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। শু'বাহ, ইসমাঈল ইবনু জা’ফার প্রমুখ ‘আলা ইবনু ‘আবদুর রাহমান হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইজ ও মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) 'আলা ইবনু ‘আবদুর রাহমান হতে, তিনি হিশাম ইবনু আবূ যাহরার মুক্তদাস আবুস সায়িব হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রেও একই রকম বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবূ উয়াইস-তার বাবা হতে, তিনি 'আলা ইবনু ‘আবদুর রাহমান হতে, তিনি তার পিতা ও আবুস সাইব হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক নামায আদায় করেছে অথচ তাতে ‘উন্মুল কুরআন’ (সূরা আল-ফাতিহা) তিলাওয়াত করেনি, তার নামায ত্রুটিযুক্ত অপূর্ণাঙ্গ।সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস। ইসমাঈল ইবনু আবূ উয়াইসের হাদীসে এর বেশি কিছু নেই। আমি এ হাদীস বিষয়ে আবূ যুর'আকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, দু'টি হাদীসই সহীহ। তিনি ইবনু আবী উয়াইস কর্তৃক তার বাবা হতে, তিনি ‘আলা (রহঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন।‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আসলাম। তখন তিনি মাসজিদে বসা ছিলেন। লোকেরা বলল, এই তো ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) । আর আমি কোনরূপ নিরাপত্তা লাভ বা লিখিত চুক্তিপত্র করা ছাড়াই এসেছিলাম। আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সমীপে হাযির করা হলে তিনি আমার হাত ধরলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইতিপূর্বে বলেছিলেন, আমি অবশ্যই আশা করি আল্লাহ তা'আলা আমার হাতে তার হাত স্থাপন করবেন। ‘আদী (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে সাথে নিয়ে উঠে চললেন। রাস্তায় এক মহিলা একটি বালকসহ তাঁর সাথে দেখা করে। তারা উভয়ে বলে, আপনার নিকট আমাদের একটি প্রয়োজন ছিল। তাদের প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সাথে দঁাড়িয়ে থাকলেন। তারপর তিনি আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে তাঁর ঘরে এলেন। একটি বালিকা তাকে একটি গদি পেতে দিল । তিনি তাতে বসলেন। আমি তার সামনাসামনি বসলাম। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও তার গুনগান করলেন, তারপর বললেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই)-এর স্বীকৃতি দান হতে তোমাকে কিসে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য করেছে? এক আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আরো কোন প্রভু আছে বলে কি তোমার জানা আছে? আমি বললাম, না। ‘আদী (রাঃ) বলেন, আরো কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলা হতে পালাচ্ছ। আল্লাহ তা'আলার চাইতে শ্রেষ্ঠতর কিছু আছে বলে তোমার জানা আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ ইয়াহুদীরা অভিশপ্ত এবং নাসারাগণ পথভ্রষ্ট। আমি বললাম, আমি যে একজন একনিষ্ঠ মুসলিম (আত্মমর্পণকারী) হয়েই আগমন করেছি। আমি দেখলাম, তার চেহারা আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। তারপর তার নির্দেশক্রমে এক আনসার সাহাবীর বাড়িতে আমাকে মেহমান হিসেবে রাখা হয়। আমি দিনের দুই প্রান্তে তার নিকট হাযিরা দিতাম, একদা বিকেলে আমি তার নিকট হাযির ছিলাম। তখন তার নিকট মেহমান হিসেবে রাখা হয়। আমি দিনের দুই প্রান্তে তার নিকট হাযিরা দিতাম, একদা বিকেলে আমি তার নিকট হাযির ছিলাম। তখন তার নিকট একদল লোক আসলো। তারা সাদা-কালো ডোরাযুক্ত পশমী কাপড় পরিহিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তাদের নিয়ে) নামায আদায় করলেন। তিনি নামায শেষে দাঁড়িয়ে এদেরকে সাহায্যের উদ্দেশ্যে লোকদের উদ্বুদ্ধ করে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা এক সা, অর্ধ সা, এক মুঠো, এক মুঠোর অংশবিশেষ, একটি খেজুর বা খেজুরের অংশবিশেষ দান করে হলেও জাহান্নামের তাপ (আগুন) হতে আত্মরক্ষা কর। কারণ আল্লাহ তা'আলার সাথে তোমাদের সকলেরই সাক্ষাৎ হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে তাই বলবেন যা আমি (এখন) তোমাদের বলছি। তিনি বলবেনঃ আমি কি তোমাকে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করিনি? সে বলবে, হ্যাঁ। আল্লাহ বলবেনঃ আমি কি তোমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দান করিনি? সে বলবে, হ্যাঁ। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি নিজের জন্য কি অগ্রিম পাঠিয়েছিলে? তখন সে তার সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে তাকাবে, কিন্তু সে জাহান্নামের তাপ হতে বাঁচানোর মত কিছুই পাবে না। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকে যেন নিজেকে একটি খেজুরের অংশবিশেষ দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করে। কোন ব্যক্তির যদি এই সামর্থ্যও না থাকে, তবে সে যেন অন্তত ভালো কথা বলে (তা হতে আত্মরক্ষা করে)। আমি তোমাদের ব্যাপারে দুর্ভিক্ষের আশংকা করি না। কারণ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সাহায্যকারী ও দানকারী। এমনকি উষ্ট্রারোহিণী কোন মহিলা ইয়াসরিব (মাদীনা) হতে হীরা বা ততোধিক দূরত্বের সফর করবে এবং তার জন্তুযানের কিছু চুরি যাওয়ার ভয় থাকবে না। আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, তাহলে তাঈ কবীলার চোরগুলো কোথায় যাবে? হাসান।আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারিব। আমরা সিমাক ইবনু হারব ব্যতীত আর কারো নিকট হতে এটা অবহিত নই। হাদীসটি দীর্ঘভাবে শু’বাহ-সিমাক ইবনু হারব হতে, তিনি আব্বাদ ইবনু হুবাইশ হতে, তিনি ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَبُنْدَارٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْيَهُودُ مَغْضُوبٌ عَلَيْهِمْ وَالنَّصَارَى ضُلاَّلٌ ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আদি ইবনু হাতিম (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা অভিশপ্ত এবং নাসারারা পথভ্রষ্ট....তারপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।

সহীহ : তাখরীজু শারহিল আক্বীদাতিত তাহাবীয়া (৫৩১), সহীহাহ্ (৩২৬৩)

৪৪/৩. অধ্যায়ঃ

সূরা আল-বাক্বারাহ

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَعَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَوْفُ بْنُ أَبِي جَمِيلَةَ الأَعْرَابِيِّ، عَنْ قَسَامَةَ بْنِ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ آدَمَ مِنْ قَبْضَةٍ قَبَضَهَا مِنْ جَمِيعِ الأَرْضِ فَجَاءَ بَنُو آدَمَ عَلَى قَدْرِ الأَرْضِ فَجَاءَ مِنْهُمُ الأَحْمَرُ وَالأَبْيَضُ وَالأَسْوَدُ وَبَيْنَ ذَلِكَ وَالسَّهْلُ وَالْحَزْنُ وَالْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর সর্বত্র হতে এক মুঠো মাটি নিয়ে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন। তাই আদম-সন্তানরা মাটির বৈশিষ্ট্য প্রাপ্ত হয়েছে। যেমন তাদের কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কালো বর্ণের আবার কেউ বা এসবের মাঝামাঝি, কেউ বা নরম ও কোমল প্রকৃতির। আবার কেউ কঠোর প্রকৃতির, কেউ মন্দ স্বভাবের, আবার কেউ বা ভালো চরিত্রের।

সহীহ : মিশকাত (১০০), সহীহাহ (১৬৩০)।আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا ‏)‏ قَالَ ‏"‏ دَخَلُوا مُتَزَحِّفِينَ عَلَى أَوْرَاكِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ)

আল্লাহ তা‘আলার বাণী “তোমরা সিজদাবনত শিরে প্রবেশ করো"- (সূরা বাকারা ৫৮)-এর ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তারা (বানী ইসরাঈল) তাদের নিতম্বে ভর করে দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিল। একই সনদে “কিন্তু যারা অন্যায় করেছিল, তারা তাদের যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল”- (সূরা বাকারা ৫৯) এ আয়াত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তারা (হিত্তাতুন-এর পরিবর্তে) বলেছিল, “হাব্বাতুন ফি শারাতিন” অর্থাৎ “যবের মধ্যকার শস্যদানা"।

সহীহ : বুখারী (৪৪৭৯), মুসলিম।আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ السَّمَّانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرِهِ فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ فَلَمْ نَدْرِ أَيْنَ الْقِبْلَةُ فَصَلَّى كُلُّ رَجُلٍ مِنَّا عَلَى حِيَالِهِ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا ذَكَرْنَا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلَتْ ‏:‏ ‏(‏أَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ‏)‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَشْعَثَ السَّمَّانِ أَبِي الرَّبِيعِ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ‏.‏ وَأَشْعَثُ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমির ইবনু রাবী’আহ (রহঃ) হতে তার বাবা

এক অন্ধকার রাতে আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে সফরে ছিলাম। আমরা ধারণা করতে পারছিলাম না কেবলা কোন দিকে হবে। কাজেই আমাদের সকলেই নিজ নিজ ধারণা অনুযায়ী কেবলার দিক নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করি। আমরা বিষয়টি সকাল বেলা নবী (ﷺ)-এর নিকট উত্থাপন করলাম। তখন নাজিল হয়ঃ “তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা” – (সূরা বাকারা: ১১৫)।

হাসান : ইবনু মা-জাহ (১০২০)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা আশ’আস - আসসাম্মান-আবুর রাবী’ বর্ণনাকারী কর্তৃক আসিম ইবনু ‘উবাইদুল্লাহার হাদীস ব্যতীত আর কারো নিকট হতে এটিকে অবহিত নই। আর আশ’আসকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে অভিহিত করা হয়েছে।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ تَطَوُّعًا حَيْثُمَا تَوَجَّهَتْ بِهِ وَهُوَ جَاءٍ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ ثُمَّ قَرَأَ ابْنُ عُمَرَ هَذِهِ الآيَةَ ‏:‏ ‏(‏وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ‏)‏ الآيَةَ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَفِي هَذَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

নবী (ﷺ) মক্কা হতে মদিনায় ফেরার পথে তাঁর সাওয়ারি তাঁকে নিয়ে যে অভিমুখে অগ্রসর হত তিনি সেদিকে ফিরেই নফল নামাজ আদায় করতেন। তারপর ইবন উমর (রাঃ) এই আয়াত পাঠ করেনঃ “পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও সেদিকই আল্লাহর চেহারা” – (সূরা আল-বাক্বারাহ ১১৫)। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, এ প্রসঙ্গেই উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়।

সহীহ : সিফাতুস সালাত, মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন যে, এর নির্দেশ রহিত (মানসূখ) হয়ে গেছে। রহিতকারী (নাসিখ) আয়াতটি হল : “অতএব তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে তোমার মুখ ফিরাও” – (সূরা আল – বাক্বারাহ ১৪৪) । ‘শাতরাল মাসজিদিল হারাম” অর্থাৎ “কা’বার দিকে”। তার এই মত নিম্নোক্ত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে : মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালিক ইবনু আবুশ শাওয়ারিব-ইয়াযীদ ইবনু যুরাইহ হতে, তিনি সা’ঈদ হতে, তিনি ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি “ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লাহ” অর্থ করেছেন, “ফাসাম্মা ক্বিবলাতুল্লাহ” (সেদিকেই আল্লাহ তা’আলার ক্বিবলাহ রয়েছে)। তার এই মত নিম্নোক্ত সূত্রে বর্ণিতঃ আবূ কুরাইব মুহাম্মদ ইবনুল ‘আলা-ওয়াকী হতে, তিনি নাযর ইবনু ‘আরাবী হতে, তিনি মুজাহিদ (রহঃ) হতে।সানাদ সহীহ, মাকতূ’ ।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৯৫৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ عُمَرَ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ صَلَّيْنَا خَلْفَ الْمَقَامِ فَنَزَلَتْ ‏:‏ ‏(‏وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ‏)‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা যদি মাকামে ইবরাহিমের পেছনে নামাজ আদায় করতাম (তাহলে ভালো হত)। এ প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয় : “তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে (ইবরাহিমের দাঁড়াবার স্থানকে) নামাজের জায়গা হিসেবে গ্রহণ কর”- (সূরা আল-বাকারা : ১২৫)।

সহীহ : বুখারী (৪৪৮৩), মুসলিম।আবূ ‘‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18