ঈমান এবং এর বিধানাবলী
৪৮/১. অধ্যায়ঃ
সর্বোত্তম আ'মালের বর্ণনা
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৮৫
أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ»
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হলো : সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন : আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করা।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৮৬
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَلِيٍّ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ الْخَثْعَمِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ: «إِيمَانٌ لَا شَكَّ فِيهِ، وَجِهَادٌ لَا غُلُولَ فِيهِ، وَحَجَّةٌ مَبْرُورَةٌ»
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইব্ন হাবাশী খাসআমী (রাঃ)
নবী (ﷺ) কে প্রশ্ন করা হলো : সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন : এমন ঈমান, যাতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই এবং এমন জিহাদ যাতে কোন খিয়ানত নেই, আর মাবরূর হজ্জ।
৪৮/২. অধ্যায়ঃ
ঈমানের (প্রকৃত) স্বাদ
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৮৭
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ وَطَعْمَهُ: أَنْ يَكُونَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ فِي اللَّهِ، وَأَنْ يَبْغُضَ فِي اللَّهِ، وَأَنْ تُوقَدَ نَارٌ عَظِيمَةٌ فَيَقَعَ فِيهَا أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يُشْرِكَ بِاللَّهِ شَيْئًا "
বর্ণনাকারী আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, সে ইমানের স্বাদ ও মিষ্টতা পায়;যার কাছে অন্য সব কিছু থেকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল বেশি প্রিয়;যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্যই শত্রুতা পোষণ করে;আর আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করার চেয়ে ভয়াবহ আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া যার কাছে বেশি প্রিয়।
৪৮/৩. অধ্যায়ঃ
ঈমানের (প্রকৃত) মিষ্টতা
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৮৮
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُحَدِّثُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ: مَنْ أَحَبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَمَنْ كَانَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَمَنْ كَانَ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الْكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ مِنْهُ "
বর্ণনাকারী আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেন: যার মধ্যে তিনটি গুণ বিদ্যমান; সে ঈমানের মিষ্টতা পায়;১. যে ব্যক্তি কাউকে যদি ভালোবাসে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসে;২. আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার কাছে অন্য সবকিছুর চাইতে বেশি প্রিয় হবে এবং৩. আল্লাহ তাকে কুফর হতে পরিত্রাণ করার পর পুনরায় কুফরীতে ফিরে যাওয়ার চাইতে আগুনে পতিত হওয়া তার নিকট পছন্দনীয় হবে।
৪৮/৪. অধ্যায়ঃ
ইসলামের (প্রকৃত) মিষ্টতা
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৮৯
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِسْلَامِ: مَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَمَنْ أَحَبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ، وَمَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ "
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তির মধ্যে তিনটি গুণ বিদ্যমান, সে ইসলামের মিষ্টতা বুঝতে পারবে;১. অন্য সবকিছু হতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তাঁর নিকট প্রিয় হবে;২. সে কাউকে ভালোবাসলে তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসবে;৩. আর সে কুফরীতে ফিরে যাওয়া তেমনই অপছন্দ করে যেমনি অপছন্দ করে আগুনে পতিত হওয়া।
৪৮/৫. অধ্যায়ঃ
ইসলামের পরিচয়
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৯০
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ؟ قَالَ: «أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا» قَالَ: صَدَقْتَ. فَعَجِبْنَا إِلَيْهِ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ؟ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ». قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ؟ قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ بِهَا مِنَ السَّائِلِ». قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا؟ قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ». قَالَ عُمَرُ: فَلَبِثْتُ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عُمَرُ هَلْ تَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَاكُمْ لِيُعَلِّمَكُمْ أَمْرَ دِينِكُمْ»
বর্ণনাকারী উমর ইব্ন খাত্তাব (রাঃ)
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এলেন, যার কাপড় ছিল অত্যধিক সাদা এবং চুল ছিল ভীষণ কালো। আর আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনতেও পারছিল না। তিনি স্বীয় হাত দুটি তাঁর হাঁটুদ্বয়ের সাথে লাগিয়ে বসলেন, তাঁর হস্তদ্বয় রসূলের উভয় উরুর উপর রেখে বললেন : হে মুহাম্মাদ! আমাকে বলুন : ইসলাম কি?তিনি (ﷺ) বললেন : তুমি এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত আদায় করা, যাকাত দেয়া, রমজানের সাওম রাখা ও পথ খরচের সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করা। সে লোকটি বলল : আপনি সত্যই বলছেন। আমরা অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করলেন; আবার বললেন : আপনি সত্য বলছেন।এরপর তিনি বললেন : ঈমান সম্পর্কে আমাকে বলুন? তিনি (ﷺ) বললেন : তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ), তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসূলগণ, কেয়ামত দিবস এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর। তিনি বললেন : আপনি সত্য বলছেন।তারপর বললেন : ইহসান সম্পর্কে বলুন? তিনি (ﷺ) বললেন : তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো, তুমি যদি তাঁকে নাও দেখতে পাও, তবে অবশ্যই তিনি তো তোমাকে দেখছেন।তারপর বললেন: কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তিনি (ﷺ) বললেন: যার নিকট প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারী হতে বেশি জানেন না। সে ব্যক্তি বলল: আমাকে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে খবর দিন। তিনি (ﷺ) বললেন: দাসী তার মুনিবকে প্রসব করবে, নগ্ন পদ, বিবস্ত্র, হতদরিদ্র, বকরির রাখালরা বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে।উমর (রাঃ) বলেন, আমি তিনদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম, পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন: হে উমর! তুমি কী জানো, এই প্রশ্নকারী ব্যক্তি কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি (ﷺ) বললেন : তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দীন সম্পর্কে শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।
৪৮/৬. অধ্যায়ঃ
ঈমান ও ইসলামের বৈশিষ্ট্যাবলী
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৯১
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي ذَرٍّ، قَالَا: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ أَصْحَابِهِ، فَيَجِيءُ الْغَرِيبُ فَلَا يَدْرِي أَيُّهُمْ هُوَ حَتَّى يَسْأَلَ، فَطَلَبْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَجْعَلَ لَهُ مَجْلِسًا يَعْرِفُهُ الْغَرِيبُ إِذَا أَتَاهُ، فَبَنَيْنَا لَهُ دُكَّانًا مِنْ طِينٍ، كَانَ يَجْلِسُ عَلَيْهِ، وَإِنَّا لَجُلُوسٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَجْلِسِهِ، إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ أَحْسَنُ النَّاسِ وَجْهًا، وَأَطْيَبُ النَّاسِ رِيحًا، كَأَنَّ ثِيَابَهُ لَمْ يَمَسَّهَا دَنَسٌ، حَتَّى سَلَّمَ فِي طَرَفِ الْبِسَاطِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا مُحَمَّدُ، فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامُ، قَالَ: أَدْنُو يَا مُحَمَّدُ، قَالَ: «ادْنُهْ» فَمَا زَالَ يَقُولُ: أَدْنُو مِرَارًا، وَيَقُولُ لَهُ: «ادْنُ» حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رُكْبَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ، وَلَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ» قَالَ: إِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَسْلَمْتُ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ. فَلَمَّا سَمِعْنَا قَوْلَ الرَّجُلِ صَدَقْتَ أَنْكَرْنَاهُ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَالْكِتَابِ، وَالنَّبِيِّينَ، وَتُؤْمِنُ بِالْقَدَرِ» قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: فَنَكَسَ فَلَمْ يُجِبْهُ شَيْئًا، ثُمَّ أَعَادَ، فَلَمْ يُجِبْهُ شَيْئًا، ثُمَّ أَعَادَ فَلَمْ يُجِبْهُ شَيْئًا، وَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَلَكِنْ لَهَا عَلَامَاتٌ تُعْرَفُ بِهَا، إِذَا رَأَيْتَ الرِّعَاءَ الْبُهُمَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ، وَرَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ مُلُوكَ الْأَرْضِ، وَرَأَيْتَ الْمَرْأَةَ تَلِدُ رَبَّهَا، خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللَّهُ، {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} [لقمان: 34] إِلَى قَوْلِهِ: {إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [لقمان: 34] ثُمَّ قَالَ: «لَا وَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ هُدًى وَبَشِيرًا، مَا كُنْتُ بِأَعْلَمَ بِهِ مِنْ رَجُلٍ مِنْكُمْ، وَإِنَّهُ لَجِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ نَزَلَ فِي صُورَةِ دِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ»
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা এবং আবু যর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবি কিরামের মধ্যে বসতেন; ফলে নবাগত কোনো লোক এসে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত তাঁকে চিনতে পারত না যে, তিনি (ﷺ) কোন ব্যক্তি। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তাঁর জন্য একটি বসার স্থান বানানোর জন্য অনুমতি চাইলাম যাতে নবাগত লোক তাঁকে সহজে চিনে নিতে পারে। আমরা তাঁর বসার জন্য মাটির একটি উঁচু স্থান নির্মাণ করলাম। তিনি (ﷺ) তার উপর বসতেন। একদিন আমরা বসা ছিলাম, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্থানে বসা ছিলেন। এমন সময় এক নবাগত লোক আসল, যে ছিল সর্বোত্তম সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং যার শরীরের সুগন্ধি ছিল মোহনীয়। তাঁর কাপড়ে ছিল পরিচ্ছন্ন-পরিপাটি। সে ব্যক্তি বিছানার কাছে এসে সালাম দিয়ে বলল: হে মুহাম্মাদ! আপনাকে সালাম। তিনি (ﷺ) তাঁর সালামের উত্তর দিলে তিনি বললেন: আমি কি কাছে আসব? তিনি (ﷺ) বললেন: আসো। এভাবে কয়েকবার বললেন, আমি কি কাছে আসব। তিনি (ﷺ)-ও কয়েকবার উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, কাছে আসো। এমনকি তিনি নিকটে এসে নিজ হাত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাঁটুর উপর রেখে বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি (ﷺ) বললেন: ইসলাম হলো তুমি আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত আদায় করবে, কাবা ঘরের হজ্জ করবে এবং রমজানের সাওম পালন করবে। তিনি বললেন: আমি যদি এটা করি, তবে কি আমি মুসলিম হিসেবে গণ্য হব? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। সে ব্যক্তি বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। ঐ ব্যক্তি ‘আপনি সত্য বলেছেন’ বাক্য শুনে আমাদের বিস্ময় লাগল। এরপর বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ঈমান সম্বন্ধে বলুন? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, নবীগণ ও কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাকদিরে বিশ্বাস করা। তিনি বললেন: আমি যদি এরূপ করি, তবে কি আমি মুমিন হিসেবে গণ্য হব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনি সত্য বলেছেন। তখন সে ব্যক্তি বলল : হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছো। যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, (তবে জেনে রাখ) তিনি তো তোমাকে দেখছেন। তখন সে বলল : আপনি সত্যই বলেছেন। তিনি আবার বললেন: হে মুহাম্মাদ! কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তিনি (ﷺ) কিছু না বলে বরং মাথা নিচু করে রাখলেন। লোকটি আবারও সেই প্রশ্ন করল কিন্তু তিনি (ﷺ) তাকে কোনো জবাব দিলেন না। আবারও প্রশ্ন করল কিন্তু এবারও তিনি (ﷺ) তাকে কোনো জবাব দিলেন না। আবারও প্রশ্ন করল কিন্তু এবারও তিনি (ﷺ) তাকে কোনো জবাব দিলেন না। অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন: যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারী হতে বেশি জানেন নন। কিন্তু এর অনেক নিদর্শন রয়েছে তা তুমি জানতে পার। যখন তুমি দেখবে পশুপালের রাখালরা সুউচ্চ অট্টালিকা তৈরি করবে, আর তখন তুমি দেখবে নগ্ন পদ ও নগ্ন দেহ লোকেরা দেশে কর্তৃত্ব করবে। আরো তুমি দেখবে যে, দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে, তখন মনে করবে যে, কেয়ামত সন্নিকটবর্তী হয়ে গেছে। আর পাঁচটি বস্তু আল্লাহ ছাড়া কেউ অবগত নয়। এরপর তিনি (ﷺ) ( إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ... إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ) “কেয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, জরায়ুতে কী আছে তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, কেউ জানে না কোন জায়গায় সে মরবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বাধিক অবহিত"- (সূরা লুকমান ৩১ : ৩৪); পাঠ করলেন। এরপর তিনি বললেন: এ সত্তার শপথ! যিনি মুহাম্মাদ-কে সত্য সহকারে পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতারূপে প্রেরণ করেছেন, আমি তাঁকে তোমাদের চাইতে অধিক জানি না। তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ) যিনি দিহইয়া আল কালবীরূপে আগমন করেছিলেন।
[১] অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ্, তাঁর কাছে রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান, তিনি নাযিল করেন বৃষ্টি এবং তিনি জানেন যা রয়েছে মাতৃগর্ভে, কেউ জানে না সে আগামীকাল কি কামাই করবে আর কেউ জানে না কোন্ মাটিতে সে মারা যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী ও সর্ব বিষয়ে অবহিত” (লুকমান : ৩৪)।
৪৮/৭. অধ্যায়ঃ
মহান ও মহীয়ান আল্লাহ বলেন: “বেদুঈনরা বলে, 'আমরা ঈমান এনেছি'। বল- 'তোমরা ঈমান আননি, বরং তোমরা বল, 'আমরা আনুগত্য স্বীকার করেছি'...।" (সূরাহ্ আল হুজুরাত ৪৯:৪)
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৯২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ وَهُوَ ابْنُ ثَوْرٍ، قَالَ مَعْمَرٌ: وَأَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَعْطَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِجَالًا، وَلَمْ يُعْطِ رَجُلًا مِنْهُمْ شَيْئًا، قَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطَيْتَ فُلَانًا وَفُلَانًا، وَلَمْ تُعْطِ فُلَانًا شَيْئًا، وَهُوَ مُؤْمِنٌ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوْ مُسْلِمٌ» حَتَّى أَعَادَهَا سَعْدٌ ثَلَاثًا، وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَوْ مُسْلِمٌ»، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأُعْطِي رِجَالًا، وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُمْ، لَا أُعْطِيهِ شَيْئًا مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ»
বর্ণনাকারী সা’দ ইব্ন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ)
সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) কিছু লোককে দান করলেন; আর তন্মধ্যে এক লোককে কিছুই দিলেন না। সাদ (রাঃ) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক, অমুক ব্যক্তিকে দান করলেন কিন্তু অমুক ব্যক্তিকে দান করলেন না, অথচ সে মুমিন। নবী (ﷺ) বললেন: বরং সে মুসলিম। সাদ (রাঃ) কথাটি তিনবার বললেন। আর নবী (ﷺ) তিনবারই বললেন, বরং সে মুসলিম। পরে নবী (ﷺ) বললেন: আমি কোনো লোককে দান করি, আবার কাউকে দান করি না, অথচ সে আমার নিকট তাদের চেয়ে বেশি প্রিয় এই ভয়ে (দান করা থেকে বিরত থাকি) যে, তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৯৩
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَّامُ بْنُ أَبِي مُطِيعٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مَعْمَرًا، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسَمَ قَسْمًا، فَأَعْطَى نَاسًا، وَمَنَعَ آخَرِينَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطَيْتَ فُلَانًا، وَمَنَعْتَ فُلَانًا، وَهُوَ مُؤْمِنٌ؟ قَالَ: «لَا تَقُلْ مُؤْمِنٌ، وَقُلْ مُسْلِمٌ» قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا} [الحجرات: 14]
বর্ণনাকারী সা’দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু মাল বণ্টন করলেন। তিনি কিছু লোককে দিলেন, আর কিছু লোককে দিলেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক অমুক ব্যক্তিকে দান করলেন, অমুক ব্যক্তিকে দান করলেন না, অথচ সেও মুমিন। তখন তিনি (ﷺ) বললেন: মুমিন বলো না, বরং বলো মুসলিম।এরপর বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ) এ আয়াত {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا} "বেদুইনরা বলে, 'আমরা ঈমান এনেছি'..."- (সূরা আল হুজরাত ৪৯ : ৪) তিলাওয়াত করলেন।
[১] অর্থ: “বেদুঈনগণ বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বল, তোমরা ঈমান আননি; বরং তোমরা বল, আমরা ইসলাম গ্রহণ (বাহ্যিক আনুগত্য প্রকাশ) করেছি” (হুজরাত : ১৪)
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪৯৯৪
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ بِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَنْ يُنَادِيَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ: «أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ»
বর্ণনাকারী বিশ্র ইব্ন সুহায়ম (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে আইয়্যামে তাশরীকে এই কথা ঘোষণা করতে নির্দেশ দিলেন যে, জান্নাতে কেবলমাত্র মুমিনই প্রবেশ করবে। (আর আইয়্যামে তাশরীক হলো খাওয়া ও পান করার দিন)