ইমামত
১০/১. অধ্যায়ঃ
জামা'আত ও ইমামাত। 'আলিম এবং মর্যাদাবানদের ইমামাত
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৭৭
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَلَيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتِ الْأَنْصَارُ: مِنَّا أَمِيرٌ وَمِنْكُمْ أَمِيرٌ. فَأَتَاهُمْ عُمَرُ فَقَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، فَأَيُّكُمْ تَطِيبُ نَفْسُهُ أَنْ يَتَقَدَّمَ أَبَا بَكْرٍ؟» قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ نَتَقَدَّمَ أَبَا بَكْرٍ---[حكم الألباني] حسن الإسناد
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসঊদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মৃত্যুবরণ করলেন, আনসার সম্প্রদায় বললেন, আমাদের মধ্যে হতে একজন ‘আমির হবে আর তোমাদের মধ্য থেকে একজন ‘আমির হবে। তাঁদের কাছে উমর (রাঃ) এসে বললেন, তোমরা কি জানো না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাঃ)-কে আদেশ দিয়েছিলেন, লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতে? অতএব তোমাদের মধ্যে কার মন চায় আবু বকরের আগে যেতে? তাঁরা বললেন, না‘উযুবিল্লাহ! আমরা আবু বকরের আগে যেতে চাই না।
১০/২. অধ্যায়ঃ
অত্যাচারী শাসকদের সঙ্গে সলাত আদায় করা
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৭৮
خْبَرَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الْبَرَاءِ قَالَ: أَخَّرَ زِيَادٌ الصَّلَاةَ فَأَتَانِي ابْنُ صَامِتٍ فَأَلْقَيْتُ لَهُ كُرْسِيًّا فَجَلَسَ عَلَيْهِ، فَذَكَرْتُ لَهُ صُنْعَ زِيَادٍ فَعَضَّ عَلَى شَفَتَيْهِ وَضَرَبَ عَلَى فَخِذِي وَقَالَ: إِنِّي سَأَلْتُ أَبَا ذَرٍّ كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخِذِي كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ وَقَالَ: إِنِّي سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخِذِي كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ فَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَامُ: " صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا، فَإِنْ أَدْرَكْتَ مَعَهُمْ فَصَلِّ وَلَا تَقُلْ: إِنِّي صَلَّيْتُ فَلَا أُصَلِّي "
বর্ণনাকারী আবূল আলিয়া বাররা [১] (রহঃ)
জিয়াদ দেরিতে সালাত আদায় করলেন। তারপর ইবনু সামিত (রাঃ) আমার কাছে আসলে আমি তাঁর জন্য একখানা কুরসি পেতে দিলাম। তিনি তার উপর বসলেন, আমি তাঁর কাছে জিয়াদের কাণ্ড বর্ণনা করলাম, তিনি তাঁর ওষ্ঠদ্বয় কামড়ে ধরলেন এবং আমার উরুদণ্ড চাপলেন এবং বললেন, আমি আবু যার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলাম যেমন তুমি আমাকে প্রশ্ন করলে। তারপর তিনি আমার উরুতে হাত মারলেন, যেমন আমি তোমার উরুতে হাত মেরেছি।এরপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করেছিলাম যেরূপ তুমি আমাকে প্রশ্ন করলে। এতে তিনি আমার উরুতে হাত মারলেন যেমন আমি তোমার উরুতে হাত মেরেছি। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, সালাত যথাসময়ে আদায় কর। যদি তাদের সাথে সালাত পাও তবে আদায় করে নিবে। কিন্তু এ কথা বলো না যে, আমি সালাত আদায় করে ফেলেছি। এখন আর আদায় করব না।
[১] আবূল আলিয়া বাররা (রহঃ)-এর নাম যিয়াদ ইব্ন ফায়রূয।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৭৯
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَلَّكُمْ سَتُدْرِكُونَ أَقْوَامًا يُصَلُّونَ الصَّلَاةَ لِغَيْرِ وَقْتِهَا، فَإِنْ أَدْرَكْتُمُوهُمْ فَصَلُّوا الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا، وَصَلُّوا مَعَهُمْ وَاجْعَلُوهَا سُبْحَةً»---[حكم الألباني] حسن صحيح
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “হয়তো তোমরা এমন লোকের দেখা পাবে যারা অসময়ে সালাত আদায় করবে। যদি তোমরা তাদের পাও, তাহলে সময়মত সালাত আদায় করবে এবং তাদের সাথেও সালাত আদায় করবে এবং তা নফল ধরে নিবে।”
১০/৩. অধ্যায়ঃ
ইমাম হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি কে?
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৮০
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: أَنْبَأَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ فِي الْهِجْرَةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِنًّا، وَلَا تَؤُمَّ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ وَلَا تَقْعُدْ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَكَ»
বর্ণনাকারী আবূ মাসঊদ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দলের ইমামত করবে ঐ ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে ভালো পাঠ করে। যদি তারা সবাই কিরাআতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে আগে হিজরত করেছে। যদি তারা সবাই হিজরতে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে। যদি তারা সুন্নাতেও সমান হয়, তাহলে যার বয়স বেশি সে ব্যক্তি। আর তুমি কোনো ব্যক্তির ইমামাতের স্থানে ইমামত করবে না। আর তুমি কারো জন্য নির্ধারিত সম্মানের স্থানে বসবে না, হ্যাঁ যদি তিনি তোমাকে অনুমতি দেন।
১০/৪. অধ্যায়ঃ
যে বয়সে বড় তাকে ইমাম মনোনীত করা
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৮১
أَخْبَرَنَا حَاجِبُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَنْبِجِيُّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَابْنُ عَمٍّ لِي - وَقَالَ: مَرَّةً أَنَا وَصَاحِبٌ لِي - فَقَالَ: «إِذَا سَافَرْتُمَا فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا، وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا»
বর্ণনাকারী মালিক ইব্ন হুয়াইরিস (রাঃ)
এক সময় আমি এবং আমার এক চাচাত ভাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। অন্য এক সময় বলেছেন, আমি এবং আমার এক সাথী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। তিনি বললেন, যখন তোমরা সফর করবে, তখন তোমরা আজান দেবে এবং ইকামত বলবে আর তোমাদের ইমামত করবে তোমাদের মাঝে যে বয়সে বড়।
১০/৫. অধ্যায়ঃ
একদল লোকের এমন স্থানে একত্রিত হওয়া যেখানে সকলেই সমান
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৮২
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانُوا ثَلَاثَةً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالْإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ»
বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। যখন তিন ব্যক্তি একত্রিত হবে তখন তাদের একজন ইমামত করবেন আর তাদের মধ্যে ইমামাতের বেশি উপযুক্ত ব্যক্তি হলেন তিনি, যার কিরাআত সবচেয়ে উত্তম।
১০/৬. অধ্যায়ঃ
যদি দলে সর্দার শাসক থাকেন
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৮৩
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُؤَمُّ الرَّجُلُ فِي سُلْطَانِهِ وَلَا يُجْلَسُ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ»
বর্ণনাকারী আবূ মাসঊদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন ব্যক্তির অধিকারে ইমামত করা যাবে না এবং তার বসার জায়গায় বসা যাবে না। তবে হ্যাঁ তার অনুমতি পেলে।
১০/৭. অধ্যায়ঃ
প্রজার ইমামাতের সময় শাসক আসলে
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৮৪
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَلَغَهُ أَنَّ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ كَانَ بَيْنَهُمْ شَيْءٌ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ فِي أُنَاسٍ مَعَهُ، فَحُبِسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَحَانَتِ الْأُولَى فَجَاءَ بِلَالٌ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ حُبِسَ وَقَدْ حَانَتِ الصَّلَاةُ، فَهَلْ لَكَ أَنْ تَؤُمَّ النَّاسَ؟ قَالَ: نَعَمْ إِنْ شِئْتَ. فَأَقَامَ بِلَالٌ وَتَقَدَّمَ أَبُو بَكْرٍ فَكَبَّرَ بِالنَّاسِ، وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي فِي الصُّفُوفِ حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ، وَأَخَذَ النَّاسُ فِي التَّصْفِيقِ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لَا يَلْتَفِتُ فِي صَلَاتِهِ، فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ الْتَفَتَ، فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُهُ أَنْ يُصَلِّيَ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَرَجَعَ الْقَهْقَرَى وَرَاءَهُ حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ، فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى بِالنَّاسِ، فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ، مَا لَكُمْ حِينَ نَابَكُمْ شَيْءٌ فِي الصَّلَاةِ أَخَذْتُمْ فِي التَّصْفِيقِ، إِنَّمَا التَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ، مَنْ نَابَهُ شَيْءٌ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَقُلْ: سُبْحَانَ اللَّهِ؛ فَإِنَّهُ لَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ حِينَ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللَّهِ إِلَّا الْتَفَتَ إِلَيْهِ، يَا أَبَا بَكْرٍ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ لِلنَّاسِ حِينَ أَشَرْتُ إِلَيْكَ؟ " قَالَ أَبُو بَكْرٍ: مَا كَانَ يَنْبَغِي لِابْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
বর্ণনাকারী সাহল ইব্ন সা’দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট খবর পৌঁছল যে, বানু আমর ইবন আওফ-এর মাঝে কোন বিরোধ দেখা দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু লোকসহ তাদের মাঝে মীমাংসা করার জন্যে বের হলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে কাজে আটকা পড়লেন ইত্যবসরে যুহরের সময় হলো। বিলাল (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে এসে বললেন, হে আবু বকর (রাঃ)! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো আটকা পড়েছেন, আর এদিকে সালাতের সময় হয়েছে আপনি কি লোকেদের ইমাম হবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ যদি তুমি ইচ্ছা কর! তখন বিলাল (রাঃ) ইকামত বললেন, আর আবু বকর (রাঃ) সামনে অগ্রসর হলেন।তিনি লোকেদের নিয়ে সালাতের তাকবীর বললেন, এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেঁটে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর লোক হাত তালি দিতে লাগলেন। আবু বকর (রাঃ) সালাতের মধ্যে এদিক সেদিক তাকাতেন না। যখন লোকেরা বারবার এরূপ করতে লাগলেন তখন তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপস্থিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ইশারায় সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং পেছনে সরে এসে কাতারে শামিল হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্মুখে অগ্রসর হয়ে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাত শেষে লোকেদের দিকে ফিরে বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের কি হলো যে, সালাতে কোন সমস্যা দেখা দিলে তোমরা হাত তালি দিতে শুরু কর? হাত তালি দেয়া তো নারীদের জন্যে। সালাতে কারো কোন সমস্যা দেখা দিলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কেননা সুবহানাল্লাহ বলতে শুনলে সকলেই তার দিকে তাকাবে। (তারপর তিনি বললেন) হে আবু বকর! আমি যখন তোমার প্রতি ইশারা করলাম তখন সালাত আদায় করা থেকে তোমাকে কোন বস্তু ক্ষান্ত রাখলো? আবু বকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মুখে আবু কুহাফার পুত্রের ইমামাত করা শোভা পায় না।
১০/৮. অধ্যায়ঃ
অধীনস্থের পেছনে শাসকের সলাত আদায় করা
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৮৫
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «آخِرُ صَلَاةٍ صَلَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ الْقَوْمِ صَلَّى فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَوَشِّحًا خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ»
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বশেষ যে সালাত লোকের সঙ্গে জামা'আতে আদায় করলেন তা ছিল আবু বকর (রাঃ)-এর পেছনে। তিনি এক কাপড়ে সালাত আদায় করেছিলেন এবং বিপরীত দিক হতে কাঁধের ওপর কাপড় পরে বুকের ওপর এর দু'প্রান্তে গিট দিয়ে নিয়েছিলেন।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৭৮৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عِيسَى صَاحِبُ الْبَصْرِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ شُعْبَةَ يَذْكُرُ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: «أَنَّ أَبَا بَكْرٍ صَلَّى لِلنَّاسِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّفِّ»
বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)
আবু বকর (রাঃ) লোকের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন তার পেছনের কাতারে।