পবিত্রতা
৪/১. অধ্যায়ঃ
ওযূর মাহাত্ম্য
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৭৩
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযূ থাকা অবস্থায় ওযূ করবে, তার জন্য আল্লাহ্ দশটি নেকী রয়েছে লেখবেন। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
যঈফ তিরমিযী হা/৫৯ ও ৬১;যঈফ আবুদাঊদ হা/৬২।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৭৪
বর্ণনাকারী জাবের (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জান্নাতের চাবি হল ছালাত। আর ছালাতের চাবি হল পবিত্রতা।তাহক্বীক্ব : উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ যঈফ। এর কারণ হল, উক্ত সনদে দুইজন যঈফ রাবী আছে। সুলায়মান বিন করম ও আবু ইয়াহইয়া আল–কাত্তাত। আর দ্বিতীয় অংশ সম্পর্কে পৃথক সনদে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। মূলতঃ জান্নাতের চাবী ‘লা ইলা–হা ইল্লাল্লাহু’।
আহমাদ হা/১৪৭০৩;তিরমিযী হা/৪; মিশকাত হা /২৯৪;বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা /২৪৭,২/৪৩। ছহীহ বুখারী হা /৫৮২৭,২/৮৬৭ পৃঃ; ছহীহ মুসলিম হা/২৮৩, ১/৬৬ পৃঃ; মিশকাত হা/২৬;বুখারী
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৭৫
বর্ণনাকারী শাবীব ইবনু আবু রাওহা
শাবীব ইবনু আবু রাওহা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ছাহাবীগনের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা ফজরের ছালাত আদায় করলেন এবং ‘সূরা রূম’ পড়লেন। কিন্তু তেলাওয়াতে কিছুটা গোলমাল হয়ে গেল। যখন তিনি ছালাত শেষ করলেন তখন বললেন, তাদের কি হয়েছে, যারা আমাদের সাথে ছালাত আদায় করে, অথচ উত্তমরূপে পবিত্রতা লাভ করে না? এরাই আমাদের কুরআন পাঠে গোলযোগ সৃষ্টি করে।তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত হাদীছের সনদে আব্দুল মালেক বিন উমাইর নামে একজন যঈফ রাবী আছে।
তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/২৯৫-এর টীকা দ্রঃ; যঈফ নাসাঈ হা/৯৪৭ ; যঈফুল জামে ‘ হা/৫০৩৪।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৭৬
বর্ণনাকারী বানী সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি
একবার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই পাঁচটি কথা আমার হাতে অথবা তাঁর নিজের হাতে গুনে গুনে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা হল পাল্লার অর্ধেক আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ উহাকে পূর্ণ করে এবং ‘আল্লাহু আকবর’ আসমান ও যমীনের মাঝে যা আছে তাকে পূর্ণ করে। ছিয়াম হল ধৈর্যের অর্ধেক এবং পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
যঈফ তিরমিযী হা/৩৫১৯।
৪/২. অধ্যায়ঃ
যে যে কারনে ওযু ওয়াজিব হয়
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৭৭
বর্ণনাকারী মু’আবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান (রাঃ)
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, চক্ষুদয় হল গুহ্যদ্বারের ঢাকনা। সুতরাং চোখ যখন ঘুমায়, তখন ঢাকনা খুলে যায়। তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত হাদীছের পরের হাদীছটি ছহীহ (মিশকাত হা/৩১৬)।
তাহক্বীক্ব দারেমী হা/৭২২।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৭৮
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয় ওযূ সেই ব্যক্তির উপর ওয়াজিব, যে কাত হয়ে ঘুমিয়েছে। কেননা যখন কেউ কাত হয়ে ঘুমায়, তখন তার শরীরের বন্ধনসমূহ খুলে যায়।তাহক্বীক্ব : যঈফ।
তিরমিযী হা/৭৭; যঈফুল জামে' হা/২০৫১।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৭৯
বর্ণনাকারী আবু রাফে’ (রাঃ)
একদা তাকে একটা ছাগল হাদিয়া দেওয়া হল এবং তিনি পাতিলে রাখলেন। এমন সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন, পাতিলে কি রাখা হয়েছে হে আবু রাফে’? তিনি বললেন, একটি ছাগল আমাদেরকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। তা পাতিলে পাক করেছি। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে এর একটি বাজু দাও। (আবু রাফে’ বলেন,) আমি তাঁকে একটি বাজু দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমাকে আর একটি বাজু দাও। আমি তাঁকে আরো একটি বাজু দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমাকে আর একটি বাজু দাও তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ছাগলের মাত্র দুটি বাজু হয়। এটা শুনে তিনি বললেন, তুমি যদি চুপ করে থাকতে তাহলে আমাকে বাজুর পর বাজু দিতে থাকতেন। অতঃপর তিনি পানি চাইলেন এবং কুলি করলেন। তারপর তাঁর অঙ্গুলীসমূহের মাথা ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর সালাতের জন্য দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট পুনরায় ফিরে আসলেন এবং তাদের নিকট ঠান্ডা গোশত পেলেন। তিনি তা খেলেন। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন, কিন্তু পানি স্পর্শ করলেন না।তাহক্বীক্ব : যঈফ।
মুসনাদে আহমাদ হা/২৭২৩৯; মিশকাত হা/৩২৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৩০২।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৮০
বর্ণনাকারী ইবনু ওমর (রাঃ)
ওমর (রাঃ) বলেন, চুম্বন স্পর্শের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা চুম্বন দিয়ে ওযূ কর।তাহক্বীক্ব : যঈফ।
দারেমী হা/৫২৬; মিশকাত হা/৩৩২; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৩০৬, ২/৫৭।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৮১
বর্ণনাকারী ওমর ইবনু আব্দুল আযীয তামীমুদ দারী (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, প্রত্যেক প্রবাহমান রক্তের কারণেই ওযূ করতে হবে।তাহক্বীক্ব : যঈফ। ইমাম দারাকুৎনী (রহঃ) বলেন, ওমর ইবনু আব্দুল আযীয তামীমুদ্দারীর নিকট থেকে শুনেননি। আর ইয়াযীদ ইবনু খালেদ ও ইয়াযীদ ইবনু মুহাম্মাদ দু’জনই অপরিচিত রাবী।
দারাকুৎনী ১/১৫৭ পৃঃ; মিশকাত হা/৩৩৩, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৭০।
৪/৩. অধ্যায়ঃ
পায়খানা-পেশাবের শিষ্টাচার
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৮২
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন পায়খানায় যেতেন, তখন তাঁর আংটিটি খুলে রাখতেন।তাহক্বীক্ব : হাদীছটি মুনকার হিসেবে যঈফ।
আবুদাঊদ হা/১৯; তিরমিযী হা/১৭৪৬; নাসাঈ হা/৫২১৩; মিশকাত হা/৩৪৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৩১৬, ২/৬২ পৃঃ।