কিতাব সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
২/১. অধ্যায়ঃ
কিতাব সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২১
বর্ণনাকারী রবী’আ জুরাশী (রাঃ)
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কতক ফেরেশতা আসল এবং তাকে বললেন, আপনার চোখ ঘুমাতে থাক, আপনার কান শুনতে থাক, আপনার হৃদয় উপলব্ধি করতে থাক। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অতঃপর আমার চোখ দু’টি ঘুমাল, আমার কান দু’টি শুনল, আমার হৃদয় উপলব্ধি করল। তিনি বলেন, তখন আমাকে বলা হল একজন মহৎ ব্যক্তি ঘর তৈরী করলেন এবং তাতে খানার আয়োজন করলেন। অতঃপর একজন আহবানকারী পাঠালেন। তখন যে ব্যক্তি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করতে পারল, খেতে পারল। আর মালিকও তার প্রতি সন্তুষ্ট হল। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার আহবানে সাড়া দিল না সে ঘরে প্রবেশ করতে পারল না, খেতেও পারল না এবং মালিকও তার প্রতি সন্তুষ্ট হল না। অতঃপর ফেরেশতা বললেন, মালিক হল আল্লাহ্, আহবানকারী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ঘর হল ইসলাম এবং খানা হল জান্নাত।তাহক্বীক্ব : যঈফ।
দারেমী হা/১১; মিশকাত হা/১৬১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৫৪, ১/১১৯ পৃঃ।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২২
বর্ণনাকারী ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাঃ)
একদিন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার গদিতে ঠেস দিয়ে এ কথা মনে করবে যে, আল্লাহ যা এই কুরআনে হারাম করেছেন তা ব্যতীত আর কিছুই হারাম করেননি। তোমরা জেনে রাখ, আমি কসম করে বলছি, নিশ্চয় আমি তোমাদের অনেক বিষয়ে নির্দেশ করেছি, উপদেশ দিয়েছি এবং অনেক বিষয় নিষেধও করেছি। আমার এরূপ বিষয়ও নিশ্চয় কুরআনের বিষয়ের সমান; বরং তা হতেও অধিক হবে। তোমরা মনে রাখবে যে, অনুমতি ব্যতীত আহলে কিতাব যিম্মিদের বসত ঘরে প্রবেশ করা, তাদের নারীদের প্রহার করা এবং তাদের ফল শস্য খাওয়াকেও তোমাদের জন্য হালাল করিনি। যদি তারা তাদের উপর নির্ধারিত কর আদায় করে দেয়। (অথচ এসব বিষয় কুরআনে নেই)।তাহক্বীক্ব : যঈফ।
আবুদাউদ হা/৩০৫২; মিশকাত হা/১৬৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৫৭, ১/১২২ পৃঃ। সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৮২
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২৩
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোন ব্যক্তি মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ তার প্রবৃত্তি আমি যা এনেছি তার অধীনে না হবে।তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে নাঈম ইবনু হাম্মাদ নামে দুর্বল রাবী আছে। ইমাম নববী তাকে ছহীহ বললেও তা ভুলবশত হয়েছে।
শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/১৬৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৬০, ১/১২৪ পৃঃ। আলবানী, যিলালুল জান্নাত হা/১৫
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২৪
বর্ণনাকারী বেলাল ইবনু হারেছ মুযানী (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহ হতে এমন সুন্নাত যিন্দা করবে, যা আমার পর পরিত্যক্ত ছিল, সে ঐ সকল লোকের ছওয়াবের মত ছওয়াব পাবে, যারা তার উপর আমল করবে। অথচ আমলকারীদের ছওয়াবের কোন অংশ কমানো হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গোমরাহীর নতুন পথ সৃষ্টি করবে, যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল রাযী নন, সে ঐ সকল লোকের গোনাহের পরিমাণ পাবে, যারা তার প্রতি আমল করবে, অথচ তাদের গোনাহের কোন অংশ কমানো হবে না।তাহক্বীক্ব : যঈফ। এর সনদে কাছীর ইবনু আব্দুল্লাহ নামের রাবী ত্রুটিপূর্ণ। ইমাম শাফেঈ ও ইবনু হিব্বান জাল বলেছেন।
তিরমিযী হা/২৬৭৭; মিশকাত হা/১৬৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৬১, ১/১২৫ পৃঃ। আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ হা/২০৬
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২৫
বর্ণনাকারী আমর ইবনু আওফ (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দ্বীন হেজাজের দিকে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে এবং দ্বীন হেজাযে আশ্রয় নেবে যেভাবে পার্বত্য মেষ পর্বত শিখরে আশ্রয় নেয়। দ্বীন নিঃসঙ্গ প্রবাসীর ন্যায় যাত্রা শুরু করেছে, আবার প্রত্যাবর্তন করবে যেভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। অতএব সে সকল প্রবাসীর জন্য সুখবর; যারা আমার পর মানুষকে ঐ সমস্ত বিষয়ে সংশোধন করে দিবে যা সুন্নাতকে নষ্ট করে দিয়েছে।তাহক্বীক্ব : উক্ত হাদীছের প্রথমাংশ যঈফ। তবে শেষাংশ ছহীহ।
তিরমিযী হা/২৬৩০; মিশকাত হা/১৭০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৬২, ১/১২৫ পৃঃ। যঈফ তিরমিযী হা/২৬৩০; যঈফুল জামে’ হা/১৪৪১; দ্রঃ সিলসিলা ছহিহাহ হা/১২৭৩। মুসনাদে আহমাদ হা/১৬৭৩৬; সিলসিলা ছহিহাহ হা/১২৭৩; তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/১৭০ এর টীকা দ্রঃ।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২৬
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
একদিন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, হে বৎস! তুমি যদি এভাবে সকাল-সন্ধ্যা কাটাতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো উপর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না, তবে তাই কর। অতঃপর তিনি বললেন, বৎস! এটা আমার সুন্নাত। সুতরাং যে আমার সুন্নাতকে ভালবাসে সে আমাকে ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসবে সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে।তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত বর্ণনায় অনেক ত্রুটি রয়েছে। খালেদ ইবনু আনাস ও আছেম ইবনু সাঈদ দুইজন অপরিচিত রাবী আছে।
যঈফ তিরমিযী হা/২৬৭৮; সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৫৩৮, ১০/৩৯ পৃঃ; তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/১৭৫-এর টীকা দ্রঃ ১/৬২ পৃঃ।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২৭
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিভ্রাপ্তির সময় আমার সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে তার জন্য একশ' শহীদের ছওয়াব রয়েছে। তাহক্বীক্ব : নিতান্ত যঈফ। এর সনদে হাসান ইবনু কুতায়বা নামে দুর্বল রাবী আছে। ইমাম যাহাবী, দারাকুৎনী, আবু হাতেম, উকাইলী প্রমুখ মুহাদ্দিছ তাকে যঈফ বলেছেন। উল্লেখ্য যে, মানুষের মাঝ থেকে যখন সুন্নাত উঠে যাবে এবং সুন্নাতের উপর টিকতে পারবে না। তখন যে ব্যক্তি সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে থাকবে সে ৫০ জন শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। এই হাদীছ ছহীহ।
(তাবারানী কাবীর হা/১০৩৯৪; সনদ সহীহ, সিলসিলা সহীহাহ হা/৪৯৪; সহীহুল জামে; হা/২২৩৪।) (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩২৬, ১/৪৯৭ পৃঃ; তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/১৭৬-এর টীকা দ্রঃ ১/৬২ পৃঃ; যঈফ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/৩০)
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২৮
বর্ণনাকারী আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল খাবে এবং সুন্নাতের প্রতি আমল করবে, তার অনিষ্ট হতে মানুষ নিরাপদ থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! এরূপ লোকতো আজকাল অনেক। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার পরবর্তী যুগসমূহেও এরূপ লোক থাকবে।তাহক্কীক্ব : যঈফ।
সিলসিলা যঈফাহ হা/৬৮৫৫; তিরমিযী হা/২৫২০; যঈফ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/২৯ ও ১০৬৮; তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/১৭৮-এর টীকা দ্রঃ ১/৬৩ পৃঃ।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ২৯
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা এমন যুগে আছ, যে যুগে তোমাদের কেউ যদি তার প্রতি নির্দেশিত বিষয়ের এক দশমাংশও ছেড়ে দেয়, তবুও সে ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর একটি যুগ আসবে সে যুগে তোমাদের কেউ যদি এক দশমাংশ আমল করে, তবুও সে মুক্তি পাবে।তাহক্কীক্ব : যঈফ।
যঈফ তিরমিযী হা/২২৬৭; সিলসিলা যঈফাহ হা/৬৮৪, ২/১২৯ পৃঃ; তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/১৭৯-এর টীকা দ্রঃ ১/৬৩ পৃঃ দ্রঃ সহীহাহ হা/২৫১০।
মিশকাতে জয়িফ হাদিস
হাদিস নং ৩০
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, তোমরা নিজেদের উপর কঠোরতা আরোপ কর না, আল্লাহ তোমাদের উপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দিবেন। পূর্বে এরূপ কোন সম্প্রদায় নিজেদের উপর কঠোরতা আরোপ করেছিল; ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দিয়েছিলেন; গির্জা ও পাদ্রীদের ধর্মশালায় যে সমস্ত লোক আছে, এরা তাদের উত্তরসূরী। তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য ‘রাহবানিয়াত’ কে আবিষ্কার করেছিল, যা আমি তাদের উপর বিধান করিনি।তাহক্বীক্ব : যঈফ।
আবুদাঊদ হা/৪৯০৪; মিশকাত হা/১৮১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৭২।