শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে

২০/০. অধ্যায়ঃ

শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ

হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা’আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা’আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৬৪-[১]

عَن عدِيِّ بنِ حاتِمٍ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ فَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ فَإِنْ أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَأَدْرَكْتَهُ حَيًّا فَاذْبَحْهُ وَإِنْ أَدْرَكْتَهُ قَدْ قَتَلَ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ فَكُلْهُ وَإِنْ أَكَلَ فَلَا تَأْكُلْ فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلَى نَفْسِهِ فَإِنْ وَجَدْتَ مَعَ كَلْبِكَ كَلْبًا غَيْرَهُ وَقَدْ قَتَلَ فَلَا تَأْكُلْ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي أَيُّهُمَا قَتَلَ. وَإِذَا رَمَيْتَ بِسَهْمِكَ فَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ فَإِنْ غَابَ عَنْكَ يَوْمًا فَلَمْ تَجِدْ فِيهِ إِلَّا أَثَرَ سَهْمِكَ فَكُلْ إِنْ شِئْتَ وَإِنْ وَجَدْتَهُ غَرِيقًا فِي الْمَاءِ فَلَا تأكُلْ»

বর্ণনাকারী ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন : যখন তুমি তোমার কুকুরকে (শিকারের প্রতি) লেলিয়ে দেবে, তখন আল্লাহর নাম নেবে। যদি সে শিকার ধরে তোমার জন্য রেখে দেয়, আর তুমিও শিকারকৃত জানোয়ারটিকে জীবিত অবস্থায় পেয়ে যাও, তাহলে তুমি তাকে যবেহ করে দাও। আর যদি তুমি তাকে এমন অবস্থায় পাও যে, সে তাকে মেরে ফেলেছে, কিন্তু সে তার কোন অংশ খায়নি, তখন তুমি তা খেতে পার।আর যদি সে কিছু খেয়ে থাকে, তবে তুমি তা' খাবে না। কেননা (তখন এটাই বুঝতে হবে যে,) সে এটা নিজের জন্য শিকার করেছে।আর যদি তুমি তোমার নিজের কুকুরের সঙ্গে অন্যের কুকুর দেখতে পাও যে, তারা শিকার ধরে তাকে মেরে ফেলেছে, তখন তা খেতে পারবে না। কেননা তুমি অবগত নও যে, তাদের উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে বা মেরেছে।আর যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করবে তখন আল্লাহর নাম নেবে, অতঃপর যদি (উক্ত শিকার) ন্যূনতম একদিন তোমার নিকট অদৃশ্য থাকে (এবং তুমি তাকে মৃত অবস্থায় পাও) এবং তার গায়ে একমাত্র তোমার তীরের চিহ্ন ব্যতীত অন্য কিছুর আঘাত না পাও, তখন ইচ্ছা করলে তাকে খেতে পার। কিন্তু যদি তুমি তাকে পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় পেয়ে থাকো, তখন তাকে আর খেতে পারবে না।

[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ১৯২৯/৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩৯০, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৩৬২০, সহীহুল জামি‘ ৩১৬, নাসায়ী ৪২৬৩, বুখারী ৫৪৮৩।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৬৫-[২]

وَعَنْهُ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُرْسِلُ الْكِلَابَ الْمُعَلَّمَةَ قَالَ: «كُلْ مَا أَمْسَكْنَ عَلَيْكَ» قُلْتُ: وَإِنْ قَتَلْنَ؟ قَالَ: «وَإِنْ قَتَلْنَ» قُلْتُ: إِنَّا نَرْمِي بِالْمِعْرَاضِ. قَالَ: «كُلُّ مَا خزق وَمَا أصَاب بعرضه فَقتله فَإِنَّهُ وقيذ فَلَا تَأْكُل»

বর্ণনাকারী উক্ত রাবী ('আদী ইবনু হাতিম (রাঃ))

একদিন আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল। আমরা প্রশিক্ষিত কুকুর (শিকারের প্রতি) ছেড়ে থাকি। (এ ব্যাপারে কি বিধান?) তিনি (ﷺ) বললেন: যদি কুকুর শিকার ধরে তোমার জন্য রেখে দেয়, তবে তা খেতে পার। আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি তারা শিকারকে মেরে ফেলে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, আমরা তো (কখনো কখনো তীর-বর্শার ফলক নিক্ষেপ করেও শিকার) করি। (তার বিধান কি?) তিনি (ﷺ) বললেন: যা তীরের ধারে ক্ষত করে সেটা খাও। আর যা তীরের চোট লেগে মরে যায় তা খাবে না। কেননা তা প্রহারে মৃত।

[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ৫৪৭৭, সহীহ মুসলিম ৩৪/১৯২৯, আল লু’লু’ ওয়াল মারজান ১২৫৪, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩৪১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৭৭২।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৬৬-[৩]

وَعَن أبي ثَعْلَبَة الْخُشَنِي قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ قوم أهل كتاب أَفَنَأْكَلُ فِي آنِيَتِهِمْ وَبِأَرْضِ صَيْدٍ أَصِيدُ بِقَوْسِي وَبِكَلْبِي الَّذِي لَيْسَ بِمُعَلَّمٍ وَبِكَلْبِي الْمُعَلَّمِ فَمَا يصلح؟ قَالَ: «أما ذَكَرْتَ مِنْ آنِيَةِ أَهْلِ الْكِتَابِ فَإِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَهَا فَلَا تَأْكُلُوا فِيهَا وَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فاغسلوها وَكُلُوا فِيهَا وَمَا صِدْتَ بِقَوْسِكَ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَكُلْ وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ الْمُعَلَّمِ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَكُلْ وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ غَيْرِ معلم فأدركت ذَكَاته فَكل»

বর্ণনাকারী আবূ সা'লাবাহ্ আল খুশানী (রাঃ)

একদিন আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর নবী। আমরা আহলে কিতাবের (অর্থাৎ- ইয়াহুদী-নাসারাদের) এলাকায় বাস করি। সুতরাং আমরা কি তাদের পাত্রে খেতে পারি এবং এমন ভূমিতে বাস করি যেখানে শিকার পাওয়া যায়। আমি আমার তীর-ধনুক দ্বারা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারাও শিকার করি। অতএব আমার জন্যে কোনটি (খাওয়া) সঠিক হবে? তিনি (ﷺ) বললেন : আহলে কিতাবের পাত্র সম্পর্কে তুমি যা বললে, যদি তোমরা তাদের পাত্র ছাড়া অন্য পাত্র পাও, তখন আর তাতে খেয়ো না। আর যদি না পাও, তখন তাকে ধুয়ে নাও, তারপর তাতে খাও।আর তুমি তীর-ধনুক দ্বারা যা শিকার করবে, যদি ছাড়ার সময় “বিস্‌মিল্লা-হ” পড়ে থাকো, তবে তা খেতে পার। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা যা শিকার করবে, যদি “বিস্মিল্লা-হ” পড়ে ছেড়ে থাক তবে তা খাও।কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় এমন কুকুর দ্বারা যা শিকার করবে, যদি যবেহ করার সুযোগ পাও, তখন তাকে (যবেহ করে) খাও।

[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ৫৪৮৮, মুসলিম ৮/১৯৩০, ইরওয়া ১/৭৫, ৩৭, আল লু’লু’ ওয়াল মারজান ১২৫৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ২২৭১।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৬৭-[৪]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَمَيْتَ بِسَهْمِكَ فَغَابَ عَنْكَ فَأَدْرَكْتَهُ فَكُلْ مَا لَمْ يُنْتِنْ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (আবূ সা'লাবাহ্ আল খুশানী (রাঃ))

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যদি তুমি শিকারের প্রতি তোমার তীর নিক্ষেপ করো এবং তা তোমার দৃষ্টির অগোচর হয়ে যায়, আর পরে তাকে পাও, তখন তাতে দুর্গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত খেতে পার।

[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ৫০৯৪, সুনান আবূ দাঊদ ২৮৪৯, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৫৫, দারাকুত্বনী ৯০, আহমাদ ১৭৭৪৪।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৬৮-[৫]

وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الَّذِي يُدْرِكُ صَيْدَهُ بَعْدَ ثَلَاثٍ: «فكله مَا لم ينتن» . رَوَاهُ مُسلم

বর্ণনাকারী আবূ সা'লাবাহ্ আল খুশানী (রাঃ)

যে ব্যক্তি তিনদিন পর তার শিকার পায়, সে ব্যক্তি সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেন : তা দুর্গন্ধময় না হওয়া পর্যন্ত খেতে পারে।

[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ৫০৯৫, নাসায়ী ৪৩০৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩৮৪, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৮০২২।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৬৯-[৬]

وَعَن عَائِشَة قَالَت: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هُنَا أَقْوَامًا حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِشِرْكٍ يَأْتُونَنَا بِلُحْمَانٍ لَا نَدْرِي أَيَذْكُرُونَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا أَمْ لَا؟ قَالَ: «اذْكُرُوا أَنْتُم اسمَ اللَّهِ وكلوا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)

লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! এখানে এমন কিছুসংখ্যক লোক বাস করে যারা শিরকের নিকটবর্তী, তারা অনেক সময় আমাদের কাছে গোত নিয়ে আসে। কিন্তু আমরা জানি না, তারা তাতে ‘বিস্মিল্লা-হ পড়ে (যবেহ করে) কি-না। তিনি (ﷺ) বললেন, এমতাবস্থায় তোমরা নিজেরা আল্লাহর নাম নাও এবং খাও।

[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ৬৯৬৩, সুনান আবূ দাঊদ ২৮৩১, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩৬১, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ২৩৪৬।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৭০-[৭]

وَعَن أبي الطُّفَيْل قَالَ: سُئِلَ عَليّ: هَلْ خَصَّكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَيْءٍ؟ فَقَالَ: مَا خَصَّنَا بِشَيْءٍ لَمْ يَعُمَّ بِهِ النَّاسَ إِلَّا مَا فِي قِرَابِ سَيْفِي هَذَا فَأَخْرَجَ صَحِيفَةً فِيهَا: «لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَرَقَ مَنَارَ الْأَرْضِ وَفِي رِوَايَةٍ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ الْأَرْضِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ آوَى مُحْدِثًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

বর্ণনাকারী আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ)

একদিন ‘আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাদেরকে (অর্থাৎ- আহলে বায়তকে) স্বতন্ত্রভাবে কিছু বলেছেন কি? উত্তরে তিনি বললেন : তিনি (রাসূল (ﷺ)) এমন কোন বিষয়ে আমাদেরকে স্বতন্ত্র রাখেননি, যাতে অন্য লোক অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে আমার তলোয়ারের এ খাপের ভিতরে যা আছে। অতঃপর তিনি খাপের ভিতর হতে এক খণ্ড লিখিত কাগজ বের করলেন তাতে লিখা ছিল, সে ব্যক্তির ওপর আল্লাহর লা'নাত যে গায়রুল্লাহর নামে যবেহ করে। আর সে ব্যক্তির ওপরও আল্লাহর লা'নাত যে জমিনের সীমানা পরিবর্তন করে। আল্লাহর লা'নাত ঐ ব্যক্তির ওপর, যে নিজের পিতাকে অভিসম্পাত দেয় এবং আল্লাহর লা'নাত সে ব্যক্তির ওপর, যে কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়।

[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ৫২৩৯, নাসায়ী ৪৪২২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৮৭০, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা- ৬০২, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ০৫।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৭১-[৮]

وَعَن رَافع بن خديج قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَاقُوا الْعَدُوَّ غَدًا وَلَيْسَتْ مَعَنَا مُدًى أَفَنَذْبَحُ بِالْقَصَبِ؟ قَالَ: مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ فَكُلْ لَيْسَ السِّنَّ وَالظُّفُرَ وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْهُ: أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ وَأَمَّا الظُّفُرُ فَمُدَى الْحَبَشِ وَأَصَبْنَا نَهْبَ إِبِلٍ وَغَنَمٍ فَنَدَّ مِنْهَا بِعِيرٌ فَرَمَاهُ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَحَبَسَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِهَذِهِ الْإِبِلِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَإِذَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا شَيْءٌ فَافْعَلُوا بِهِ هَكَذَا»

বর্ণনাকারী রাফি' 'ইবনু খদীজ (রাঃ)

আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল! আগামীকাল আমরা শত্রুর মোকাবিলা করব অথচ আমাদের সাথে কোন ছুরি নেই। এমতাবস্থায় আমরা কি বাঁশের ছিলকা দ্বারা যবেহ করতে পারব? তিনি (ﷺ) বললেন : যে জিনিস রক্ত প্রবাহিত করে এবং যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে, তা খেতে পার। তবে দাঁত ও নখ দ্বারা যবেহ করবে না। এ সম্পর্কে আমি তোমাকে অবহিত করছি। বস্তুতঃ দাঁত হলো হাড়বিশেষ (তাতে ধার নেই), আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি (অর্থাৎ- তারা নখ দ্বারা যবেহ করে)।বর্ণনাকারী বলেন, এক সময় গনীমাতের মালে কিছুসংখ্যক উট ও বকরি আমাদের হাতে আসে এবং তা হতে একটি উট পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করে, তাকে আটকে ফেলল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : নিশ্চয় এ উটটির মধ্যে বন্য পশুর পালানোর স্বভাবের মতো স্বভাব রয়েছে। সুতরাং যখন এদের কোন একটি তোমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তার সাথে এরূপ আচরণই করবে।

[১] সহীহ : বুখারী ৫১৯০, মুসলিম ৫২০৪, মুসনাদে আহমাদ ১৫৮০৬, সুনানুন্ নাসায়ী ৪৪১০, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ৮৪৮১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৮৬, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৪২৬১।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৭২-[৯]

وَعَن كعبِ بنِ مَالك أَنه كانَ لَهُ غَنَمٌ تُرْعَى بِسَلْعٍ فَأَبْصَرَتْ جَارِيَةٌ لَنَا بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِنَا مَوْتًا فَكَسَرَتْ حَجَرًا فَذَبَحَتْهَا بِهِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأمره بأكلها. رَوَاهُ البُخَارِيّ

কা'ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তার এক পাল বকরী ছিল, যা সাল্‌'ই পাহাড়ী লাকায় চরত। এক সময় আমাদের এক দাসী দেখতে পেল যে, আমাদের পালের একটি বকরী মরণাপন্ন হয়ে পড়েছে। তখন সে একখণ্ড পাথর ভেঙ্গে নিলো এবং তার দ্বারা বকরীটিকে যবেহ করে দিলো। অতঃপর নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে তা খাওয়ার অনুমতি দিলেন।

[১] সহীহ : বুখারী ২৩০৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৯৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৬২২।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৪০৭৩-[১০]

وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ وَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ» . رَوَاهُ مُسلم

বর্ণনাকারী শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জিনিসের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং যখন তোমরা কোন ব্যক্তিকে (ক্বিসাস ইত্যাদিতে) হত্যা করবে, তখন তাকে উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করবে। আর যখন কোন প্রাণীকে যবেহ করবে, তখন তাকে উত্তমরূপেই যবেহ করবে। তোমরা অবশ্যই ছুরি ধার দিয়ে নেবে এবং যবেহকৃত পশুকে শান্তি দেবে।

[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ৫১৬৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৮৪, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৮৬৫৮, শু‘আবুল ঈমান ১১০৭১, আবূ দাঊদ ২৮১৫, ইবনু মাজাহ ৩১৭০, দারিমী ১৯৭০, নাসায়ী ৪৪১২, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৬৯৭৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৬৫০২, আল মু‘জামুল কাবীর ৭১১৪, মুসনাদে আহমাদ ১৭১১৬, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১০৮৯, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৫৫৯, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ৮৬০৪, মুসান্নাফ আবী শায়বাহ্ ২৭৯৩১।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18