কিসাস (প্রতিশোধ)
১৬/০. অধ্যায়ঃ
কিসাস (প্রতিশোধ) - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৪৬-[১]
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ: النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالْمَارِقُ لدينِهِ التَّارِكُ للجماعةِ
বর্ণনাকারী ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে মুসলিম বান্দা সাক্ষ্য দেয় যে, “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত সত্যিকারের কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল”, তার রক্তপণ তিনটি কারণ ব্যতীত হালাল নয় : (১) প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, (২) বিবাহিত ব্যভিচারীকে [রজম করা], (৩) দীন ইসলাম পরিত্যাগকারী- মুসলিম জামা'আত হতে সম্পর্কচ্ছেদকারীকে হত্যা করা।
[১] সহীহ : বুখারী ৬৮৭৮, মুসলিম ১৬৭৬, আবূ দাঊদ ৪৩৫২, নাসায়ী ৪৭২১, তিরমিযী ১৪০২, আহমাদ ৩৬২১, ইরওয়া ২১৯৬, সহীহ আত্ তারগীব ২৩৮৮।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৪৭-[২]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَنْ يَزَالَ الْمُؤْمِنُ فِي فُسْحَةٍ مِنْ دِينِهِ مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
বর্ণনাকারী ইবনু 'উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : একজন মুমিন তার দীনে পরিপূর্ণরূপে নিরাপদে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে অনৈতিক হত্যায় লিপ্ত না হয়।
[১] সহীহ : বুখারী ৬৮৬২, আহমাদ ৫৬৮১, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৯১, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৩৭।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৪৮-[৩]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاء»
বর্ণনাকারী ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ক্বিয়ামাত দিবসে মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম রক্তপাতের (হত্যার) ফায়সালা হবে।
[১] সহীহ : বুখারী ৬৮৬৪, মুসলিম ১৬৭৮, নাসায়ী ৩৯৯৩, ইবনু মাজাহ ২৬১৫, আহমাদ ৩৬৭৪, সহীহ আল জামি‘ ২৫৭৭, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৩৫।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৪৯-[৪]
وَعَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلًا مِنَ الْكُفَّارِ فَاقْتَتَلْنَا فَضَرَبَ إِحْدَى يَدَيَّ بِالسَّيْفِ فقطعهما ثُمَّ لَاذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ فَقَالَ: أَسْلَمْتُ لِلَّهِ وَفِي رِوَايَةٍ: فَلَمَّا أَهْوَيْتُ لِأَقْتُلَهُ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَأَقْتُلُهُ بَعْدَ أَنْ قَالَهَا؟ قَالَ: «لَا تَقْتُلْهُ» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَطَعَ إِحْدَى يَدَيَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْتُلْهُ فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ وَإِنَّكَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ»
বর্ণনাকারী মিক্বদাদ ইবনুল আওয়াদ (রাঃ)
হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি পরস্পরে যুদ্ধে কোনো কাফিরের সম্মুখীন হই, আর তরবারি দ্বারা আঘাত করে সে আমার হাত কেটে ফেলে। তারপর সে আমার নিকট থেকে দূরে সরে কোনো গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে উঠে, আমি আল্লাহর ওয়াস্তে মুসলিম হয়ে গেছি (অর্থাৎ- ইসলাম ক্ববূল করেছি)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, যখন আমি তাকে হত্যা করতে উদ্যত হই, তখন সে বলে উঠে, “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো উপাস্য নেই)। অতএব এ সাক্ষ্য দেয়ার পরও কি আমি তাকে হত্যা করতে পারি? তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে হত্যা করো না। তিনি (মিক্বদাদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার হাত কেটে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে হত্যা করো না। কেননা তুমি যদি তাকে হত্যা কর, তাহলে সে ঐ অবস্থায় পৌঁছে যাবে, যেখানে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে ছিলে। আর তুমি সে অবস্থায় পৌঁছে যাবে, যেখানে সে ঐ কালিমা পড়ার পূর্বে ছিল।
[১] সহীহ : বুখারী ৪০১৯, মুসলিম ৯৫, আবূ দাঊদ ২৬৪৪, আহমাদ ২৩৮৩১, ইরওয়া ২৪৮১।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৫০-[৫]
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أُنَاسٍ مِنْ جُهَيْنَةَ فَأَتَيْتُ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَذَهَبْتُ أَطْعَنُهُ فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَطَعَنْتُهُ فَقَتَلْتُهُ فَجِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: «أقَتلتَه وقدْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا فَعَلَ ذَلِكَ تَعَوُّذًا قَالَ: «فهَلاَّ شقَقتَ عَن قلبه؟»
বর্ণনাকারী উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে 'জুহায়নাহ্' নামক গোত্রের লোকেদের বিরুদ্ধে (জিহাদে) পাঠালেন। অতঃপর আমি যখন তাদের এক ব্যক্তির সামনাসামনি তরবারি দ্বারা আঘাত হানতে উদ্যত হলোাম, তখন সে বলে উঠল “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ”। কিন্তু আমি তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করে ফেললাম। অতঃপর আমি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি কি তার ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্য দেয়ার পরও তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো স্বীয় জীবন রক্ষার্থে এরূপ বলেছে। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি তার অন্তর ভেদ করে দেখলে না কেন?
[১] সহীহ : বুখারী ৬৮৭২, মুসলিম ৯৬, আবূ দাঊদ ২৬৪৩, আহমাদ ২১৮০২, সহীহ আল জামি‘ ২৬৫৪।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৫১-[৬]
وَفِي رِوَايَةِ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَيْفَ تَصْنَعُ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟» . قَالَهُ مِرَارًا. رَوَاهُ مُسلم
বর্ণনাকারী জুনদুব ইবনু ‘আব্দুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ক্বিয়ামাত দিবসে যখন 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ তোমার বিরুদ্ধে (হত্যার) অভিযোগ করবে, তখন তুমি কি উত্তর দেবে? এ কথাটি তিনি (ﷺ) একাধিকবার উচ্চারণ করলেন। "
[১] সহীহ : মুসলিম ৯৭, সহীহ আল জামি‘ ৭৮৪৬।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৫২-[৭]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أربعينَ خَرِيفًا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
বর্ণনাকারী ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি কোনো মু'আহিদ (মুসলিমদের প্রতিশ্রুতিতে আশ্রিত)-কে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। যদিও তার সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূর হতে পাওয়া যায়।
[১] সহীহ : বুখারী ৩১৬৬, ইবনু মাজাহ ২৬৮৬, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৫২।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৫৩-[৮]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى فِيهَا خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَحَسَّى سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَتَوَجَّأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جهنَّمَ خَالِدا مخلَّداً فِيهَا أبدا»
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে ঐরূপভাবে জাহান্নামের মাঝে সর্বদা নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। আর যে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে, সেও সর্বদা ঐরূপভাবে জাহান্নামে স্বীয় হাতে বিষপানরত থাকবে। আর যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐরূপ ধারালো অস্ত্র দ্বারা স্বীয় হাতে নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৭৮, মুসলিম ১০৯, নাসায়ী ১৯৬৫, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৫৪।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৫৪-[৯]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الَّذِي يَخْنُقُ نَفْسَهُ يَخْنُقُهَا فِي النَّارِ وَالَّذِي يَطْعَنُهَا يَطْعَنُهَا فِي النَّارِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি (স্বীয় গলায়) ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে, জাহান্নামেও সে অনুরূপভাবে নিজেকে ফাঁসি দিতে থাকবে। আর যে অস্ত্রাঘাতে আত্মহত্যা করে, জাহান্নামেও সে অনুরূপভাবে নিজেকে অস্ত্রাঘাতে আত্মহত্যা করতে থাকবে।
[১] সহীহ : বুখারী ১৩৬৫, সহীহ আল জামি‘ ৫৪৯৪, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৫৫।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ৩৪৫৫-[১০]
وَعَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ بِهِ جُرْحٌ فجزِعَ فأخذَ سكيّناً فحزَّ بِهَا يَدَهُ فَمَا رَقَأَ الدَّمُ حَتَّى مَاتَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: بَادَرَنِي عَبْدِي بِنَفْسِهِ فَحَرَّمْتُ عَلَيْهِ الْجنَّة
বর্ণনাকারী জুনদুব ইবনু 'আব্দুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের পূর্বকালে জনৈক লোক (হাতে রক্তাক্ত অবস্থায়) আহত হয়েছিল। সে তার ব্যথা সহ্য করতে না পেরে একটি ছুরির আঘাতে স্বীয় হাতটি কেটে ফেলে, তারপরও রক্তক্ষরণ রোধ হলো না। পরিশেষে সে মৃত্যুবরণ করল। আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে অত্যন্ত তাড়াহুড়া করল। অতএব আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।
[১] সহীহ : বুখারী ৩৪৬৩, মুসলিম ১১৩, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৫৬, সহীহাহ্ ১৪৮৫।