কসম ও মানত

১৫/০. অধ্যায়ঃ

কসম ও মানত - প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪০৬-[১]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَكْثَرُ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يحلف: «لَا ومقلب الْقُلُوب» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

বর্ণনাকারী ইবনু উমর (রাঃ)

নবী (ﷺ) অধিকাংশ সময় ‘মুক্বল্লিবিল কুলূব' (অন্তর পরিবর্তনকারী) বলে কম করতেন।

[১] সহীহ : বুখারী ৭৩৯১, আবূ দাঊদ ৩২৬৩, নাসায়ী ৩৭৬১, তিরমিযী ১৫৪০, আহমাদ ৫৩৪৭, দারিমী ২৩৯৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৯৩০।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪০৭-[২]

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ ليصمت»

বর্ণনাকারী ইবনু উমর (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বাপ-দাদার নামে ক্বম করতে নিষেধ করেছেন। অতএব যদি কারো ক্বম করতেই হয়, সে যেন আল্লাহ তা'আলার নামেই কম করে অথবা নিশ্চুপ থাকে।

[১] সহীহ : বুখারী ৬৬৪৬, মুসলিম ১৬৪৬, আবূ দাঊদ ৩২৪৯, তিরমিযী ১৫৩৪, আহমাদ ৬২৮৮, দারিমী ২৩৮৬, ইরওয়া ২৫৬০, সহীহ আত্ তারগীব ২৬।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪০৮-[৩]

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَحْلِفُوا بِالطَّوَاغِي وَلَا بِآبَائِكُمْ» . رَوَاهُ مُسلم

বর্ণনাকারী ‘আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা আল্লাহদ্রোহীর (প্রতীমার) নামে ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে কম করো না।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৬৪৮, ইবনু মাজাহ ২০৯৫।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪০৯-[৪]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ: بِاللَّاتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ: تَعَالَ أقامرك فليتصدق

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তির মধ্যে 'লাত' ও ‘উয্‌যা' (প্রতীমা)-এর নাম বলে ফেলে, সে যেন তাৎক্ষণিকভাবে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো ইলাহ নেই) বলে। আর কেউ যদি তার সঙ্গী-সাথীকে এ বলে আহ্বান করে যে, ‘আসো, আমরা জুয়া খেলি', সে যেন অবশ্যই সদাক্বাহ্ করে।

[১] সহীহ : বুখারী ৬৬৫০, মুসলিম ১৬৪৭, ইবনু মাজাহ ২০৯৬, আবূ দাঊদ ৩২৪৭, নাসায়ী ৩৭৭৫, তিরমিযী ১৫৪৫, আহমাদ ৮০৮৭, ইরওয়া ২৫৬৩।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪১০-[৫]

وَعَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى مِلَّةٍ غَيْرِ الْإِسْلَامِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَلَيْسَ عَلَى ابْنِ آدَمَ فِيمَا لَا يَمْلِكُ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ فِي الدُّنْيَا عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَعَنَ مُؤْمِنًا فَهُوَ كَقَتْلِهِ وَمَنْ قَذَفَ مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَقَتْلِهِ وَمَنِ ادَّعَى دَعْوَى كَاذِبَةً لِيَتَكَثَّرَ بِهَا لَمْ يَزِدْهُ اللَّهُ إِلَّا قِلَّةً»

বর্ণনাকারী সাবিত ইবনুয্ যহ্হাক (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের নামে শপথ করে, তাহলে সে যেন তদ্রূপ হয়ে যায় যা সে বলেছে। কোনো আদাম সন্তানের পক্ষে ঐরূপ মানৎ পূর্ণ করা ওয়াজিব নয়, যার সে সত্তা নয়। যে ব্যক্তি কোনো জিনিস দ্বারা দুনিয়াতে আত্মহত্যা করল, কেয়ামত দিবসে তাকে ঐ জিনিসের মাধ্যমেই শাস্তি দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে লা'নাত (অভিসম্পাত) করল, সে যেন তাকে হত্যাই করল। আর যে কোনো মুমিনকে কাফির বলে অপবাদ দিল, সে যেন তার হত্যাযজ্ঞের শামিল। যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে, আল্লাহ তা'আলা তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধির পরিবর্তে বরং কমিয়ে দেন।

[১] সহীহ : বুখারী ৬০৪৭, মুসলিম ১১০।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪১১-[৬]

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَا أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلَّا كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ»

বর্ণনাকারী আবূ মূসা আল আশ্'আরী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহর কসম! আমি যদি কোনো বস্তুর উপর ক্বম করি, তখন ঐ ক্বমের বিপরীত করা উত্তম বলে মনে করি। অতঃপর ইন্‌শা-আল্লাহ আমি আমার কসমের কাফ্ফারাহ্ আদায় করে দেই এবং যে কাজটি উত্তম, তাই করি।

[১] সহীহ : বুখারী ৬৭১৮, মুসলিম ১৬৪৯, আবূ দাঊদ ৩২৭৬, নাসায়ী ৩৭৮০, ইবনু মাজাহ ২১০৭, সহীহ আল জামি‘ ২৫০৭।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪১২-[৭]

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ لَا تَسْأَلِ الْإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أُوتِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِنْ أُوتِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «فَأْتِ الَّذِي هُوَ خير وَكفر عَن يَمِينك»

বর্ণনাকারী ‘আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : হে ‘আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ্! নেতৃত্ব প্রত্যাশা করো না। কেননা, আকাঙ্ক্ষার কারণে যদি তুমি নেতৃত্ব পাও, তাহলে তোমাকে তার ওপর ন্যস্ত করা হবে। আর যদি বিনা আকাঙ্ক্ষায় তোমাকে নেতৃত্ব দেয়া হয়, তাহলে সেই নেতৃত্ব পালনকালে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর যখন কোনো ক্বম কর, অতঃপর তার ব্যতিক্রম করা ভালো বলে মনে কর; তখন তোমার ক্বমের কাফ্ফারাহ্ আদায় করতে হবে এবং সেই উত্তম কাজটি করবে।অন্য এক বর্ণনায় আছে, প্রথমে সেই উত্তম কাজটি কর, অতঃপর তোমার ক্বমের কাফ্ফারাহ্ আদায় কর।

[১] সহীহ : বুখারী ৭১৪৬-৪৭, মুসলিম ১৬৫২, আবূ দাঊদ ২৯২৯, নাসায়ী ৫৩৪৮, তিরমিযী ১৫১৯, আহমাদ ২০৬১৮, দারিমী ২৩৯১, নাসায়ী ৫৩৪৮, সহীহ আল জামি‘ ৭৯৪১, সহীহ আত্ তারগীব ২১৮১।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪১৩-[৮]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وليفعل» . رَوَاهُ مُسلم

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কসম করে এবং পরে তার ব্যতিক্রম করা উত্তম বলে মনে করে, তখন তার ক্বমের কাফ্ফারাহ্ আদায় করা উচিত এবং সেই (উত্তম) কাজটি করা।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৬৫০, তিরমিযী ১৫৩০, আহমাদ ৮৭৩৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৩৪৯।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪১৪-[৯]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَأَنْ يَلَجَّ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ آثَمُ لَهُ عِنْدَ الله نم أَنْ يُعْطِيَ كَفَّارَتَهُ الَّتِي افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْهِ»

বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহর কসম! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে কসম করে এবং সে ক্বমের কাফ্ফারাত আদায় করার পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলা তার ওপর যা ফরজ করেছেন- তার (কসমের) উপর দৃঢ় থাকে। তখন সে আল্লাহ তা'আলার নিকট অধিক গুনাহগার হবে।

[১] সহীহ : বুখারী ৬৬২৫, মুসলিম ১৬৫৫, সহীহ আল জামি‘ ৭০৯৩।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩৪১৫-[১০]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ عَلَيْهِ صَاحبك» . رَوَاهُ مُسلم

বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমার ক্বম তখন অর্থবহ হবে, যখন তোমার সঙ্গী-সাথী তোমাকে (কসমের) সত্যায়িত করবে।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৬৫৩, সহীহ আল জামি‘ ৮১৬৩।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18