যিকর আজকার, দোয়া, তাওবাহ এবং ক্ষমা প্রার্থনা

৪৮/১. অধ্যায়ঃ

আল্লাহ তা'আলার যিকিরের প্রতি উৎসাহ প্রদান।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭১৩

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلإٍ، ذَكَرْتُهُ فِي مَلإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ [ص: 220] وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ بِشِبْرٍ، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي، أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেন, আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক বাহু অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দুইবাহু অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৯৭ : তাওহীদ, অধ্যায় ১৫, হাঃ ৭৪০৫; মুসলিম, গর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ১, হাঃ ১৬৭৫

৪৮/২. অধ্যায়ঃ

আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ এবং যে তা আয়ত্ব করলো তার মর্যাদা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭১৪

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ للهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا، مائَةً إِلاَّ وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَزَادَ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى [ص: 221] وَهُوَ وِترٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

আল্লাহ তা‘আলার নিরানব্বই নাম আছে (এক কম একশ’ নাম)। যে ব্যক্তি এগুলোর হিফাযত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ্ তা‘আলা বেজোড়। তাই তিনি বেজোড়ই পছন্দ করেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৪ : শর্তাবলী ও ৮০, অধ্যায় ৮১ ও ৬৮, হাঃ ৬৪১০; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ২, হাঃ ২৬৭৭

৪৮/৩. অধ্যায়ঃ

দোয়া কবুলে দৃঢ় আশা রাখা এবং এ কথা না বলা “তুমি যদি চাও”।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭১৫

حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُول اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ، فَلْيَعْزِمِ الْمَسْئَلَةَ وَلاَ يَقُولَنَّ: اللهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي فَإِنَّهُ لاَ مُسْتَكْرِهَ لَهُ

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দু‘আ করলে দু‘আর সময় ইয়াকীনের সঙ্গে দু‘আ করবে এবং এ কথা বলবে না হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে কিছু দান করুন। কারণ আল্লাহ্-কে বাধ্য করার মত কেউ নেই।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ২১, হাঃ ৬৩৩৮; মুসলিম, পর্ব ৪৫: সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৩৭, হাঃ ২৬১৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭১৬

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمُ اللهُمَّ اغْفِرْ لِي اللهُمَّ ارْحَمْنِي، إِنْ شِئْتَ لِيَعْزِمَ الْمَسْئَلَةَ، فَإِنَّهُ لاَ مُكْرِهَ لَهُ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কখনো এ কথা বলবে না যে, হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে দয়া করুন। বরং দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দু‘আ করবে। কারণ আল্লাহ্-কে বাধ্য করার মত কেউ নেই।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ২১, হাঃ ৬৩৩৯; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা’আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৩, হাঃ ২৬৭৯

৪৮/৪. অধ্যায়ঃ

কোন বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা না করা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭১৭

حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدٌ [ص: 222] مِنْكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ مُتَمَنِّيًا لِلْمَوْتِ، فَلْيَقُلِ اللهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা করবে না। আর যদি কেউ এমন অবস্থাতে পতিত হয় যে, তাকে মৃত্যু কামনা করতেই হয়, তবে সে (মৃত্যু কামনা না করে) দু‘আ করবেঃ হে আল্লাহ! যতদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকা আমার জন্য মঙ্গলজনক হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখো, আর যখন আমার জন্য মৃত্যুই মঙ্গলজনক হয় তখন আমার মৃত্যু দাও।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮০ : দু'আসমূহ, অধ্যায় ৩০, হাঃ ৬৩৫১; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৪, হাঃ ২৬৮০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭১৮

حديث خَبَّابٍ عَنْ قَيْسٍ، قَالَ: أَتَيْتُ خَبَّابًا، وَقَدِ اكْتَوَى سَبْعًا فِي بَطْنِهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: لَوْلاَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ، لَدَعَوْتُ بِهِ

বর্ণনাকারী কায়স (রহ.)

আমি খাব্বাব (রাঃ)-এর নিকট গেলাম তিনি তাঁর পেটে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ যদি নবী (ﷺ) আমাদের মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি এর জন্য দু‘আ করতাম।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ৩০, হাঃ ৬৩৫০; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৪, হাঃ ২৬৮০

৪৮/৫. অধ্যায়ঃ

যে আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎকে পছন্দ করবে আল্লাহ তা'আলা তার সাক্ষাৎকে পছন্দ করবেন আর যে আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করবে আল্লাহ তা'আলা তার সাক্ষাৎকে অপছন্দ করবেন।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭১৯

حديث عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللهِ، أَحَبَّ اللهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللهِ، كَرِهَ اللهُ لِقَاءَهُ

বর্ণনাকারী ‘উবাদাহ ইব্‌নু সামিত (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎ লাভ করা ভালবাসে, আল্লাহ্ তা‘আলাও তার সাক্ষাৎ লাভ করা ভালবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎ লাভ করা পছন্দ করে না, আল্লাহ্ তা‘আলাও তার সাক্ষাৎ লাভ করা পছন্দ করেন না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮১: সদয় হওয়া, অধ্যায় ৪১, হাঃ ৬৫০৭; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৫, হাঃ ২৬৮৩, ২৬৮৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭২০

حديث أَبِي مُوسى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللهِ، أَحَبَّ اللهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللهِ، كَرِهَ اللهُ لِقَاءَهُ

বর্ণনাকারী আবূ মূসা আশ্‘আরী (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎকে ভালবাসে, আল্লাহ্ তা‘আলাও তার সাক্ষাৎ কে ভালবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাৎ ভালবাসে না, আল্লাহ্ তা‘আলাও তার সাক্ষাৎ ভালবাসেন না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮১: সদয় হওয়া, অধ্যায় ৪১, হাঃ ৬৫০৮; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিক্‌রের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৬, হাঃ ২৬৮৬

৪৮/৬. অধ্যায়ঃ

যিকির আজকার, দোয়া ও আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের ফাযায়েল।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭২১

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلإٍ، ذَكَرْتُهُ فِي مَلإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ بِشِبْرٍ، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي، أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেন, আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক বাহু অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দুই বাহু অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৭ : তাওহীদ, অধ্যায় ১৫, হাঃ ৭৪০৫; মুসলিম, পর্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিকরের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ১, হাঃ ১৬৭৫

৪৮/৮. অধ্যায়ঃ

যিকিরের মজলিসের ফাযায়েল।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৭২২

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ للهِ مَلاَئِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ، يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ فَإِنْ وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللهَ، تَنَادَوْا: هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ قَالَ: فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا قَالَ: فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ، وَهُوَ أَعْلَمُ مِنْهُمْ مَا يَقُولُ عِبَادِي قَالُوا: يَقُولُونَ، يُسَبِّحُونَكَ، وَيُكَبِّرُونَكَ، وَيَحْمَدُونَكَ، وَيُمَجِّدُونَكَ قَالَ: فَيَقُولُ هَلْ رَأَوْنِي قَالَ: فَيَقُولُونَ، لاَ وَاللهِ مَا رَأَوْكَ قَالَ: فَيَقُولُ وَكَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي قَالَ: يَقُولُونَ، لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا [ص: 224] أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً، وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيدًا، وَأَكْثَرَ لَكَ تَسْبِيحًا قَالَ: يَقُولُ فَمَا يَسْأَلُونِي قَالَ: يَسْئَلُونَكَ الْجَنَّةَ قَالَ: يَقُولُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ: يَقُولُونَ، لاَ وَاللهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ: يَقُولُ فَكَيْفَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا قَالَ: يَقُولُونَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا، كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصًا، وَأَشَدَّ لَهَا طَلَبًا، وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً قَالَ: فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ قَالَ: يَقُولُونَ مِنَ النَّارِ قَالَ: يَقُولُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ: يَقُولُونَ لاَ وَاللهِ مَا رَأَوْهَا قَالَ: يَقُولُ فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا قَالَ: يَقُولُونَ لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَارًا، وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةً قَالَ: فَيَقُولُ فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ قَالَ: يَقُولُ مَلَكٌ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ: فِيهِمْ فُلاَنٌ، لَيْسَ مِنْهُمْ إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ قَالَ: هُمُ الْجُلَسَاءُ، لاَ يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন, যাঁরা আল্লাহ্‌র যিকরে রত লোকদের তালাশে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন। যখন তাঁরা কোথাও আল্লাহ্‌র যিকরে রত লোকদের দেখতে পান, তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তাঁরা সবাই এসে তাঁদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত। তখন তাঁদের রব তাঁদের জিজ্ঞেস করেন (অথচ এ সম্পর্কে ফেরেশতাদের চেয়ে তিনিই অধিক জানেন) আমার বান্দারা কী বলছে? তখন তাঁরা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে।তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তাঁরা বলবেনঃ হে আমাদের রব, আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখেনি।তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও অধিক আপনার ‘ইবাদাত করত, আরো অধিক আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আর অধিক অধিক আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বলবেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তাঁরা বলবেন, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কসম! হে রব। তারা তা দেখেনি।তিনি জিজ্ঞেস করবেন—যদি তারা দেখত তবে তারা কী করত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো অধিক লোভ করত, আরো অধিক চাইত এবং এর জন্য আরো অতিশয় উৎসাহী হয়ে উঠত। আল্লাহ্ তা‘আলা জিজ্ঞেস করবেন—তারা কিসের থেকে আল্লাহ্‌র আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দেবেন, আল্লাহ্‌র কসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি।তিনি জিজ্ঞেস করবেন—যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।তখন ফেরেশতাদের একজন বলবেন, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, তারা এমন উপবেশনকারীরা যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিমুখ হয় না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ৬৬, হাঃ ৬৪০৮; মুসলিম, পৰ্ব ৪৮ : আল্লাহ তা'আলার যিক্‌রের প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায় ৮, হাঃ ২৬৮৯

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18