পানি সিঞ্চন

২২/১. অধ্যায়ঃ

পানি বণ্টন এবং ফলমূল ও শাকসবজি ভাগাভাগির ভিত্তিতে বর্গাচাষের ব্যবস্থা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ৯৯৯

حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا مِنْ ثَمَرٍ أَوْ زَرْعٍ، فَكَانَ يُعْطِي أَزْوَاجَهُ مِائَةَ وَسْقٍ: ثَمَانُونَ وَسْقَ تَمْرٍ، وَعِشْرُونَ وَسْقَ شَعِيرٍ؛ فَقَسَمَ عُمَرُ خَيْبَرَ فَخَيَّرَ أَزْوَاجَ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُقْطِعَ لَهُنَّ مِنَ الْمَاءِ وَالأَرْضِ أَوْ يُمْضِيَ لَهُنَّ، فَمِنْهُنَّ مَنِ اخْتَارَ الأَرْضَ وَمِنْهُنَّ مَنِ اخْتَارَ الْوَسْقَ، وَكَانَتْ عَائِشَةُ اخْتَارَتِ الأَرْضَ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)

নবী (ﷺ) খায়বারবাসীদেরকে উৎপাদিত ফল বা ফসলের অর্ধেক ভাগের শর্তে জমি বর্গা দিয়েছিলেন। তিনি নিজের সহধর্মিণীদেরকে একশ’ ওয়াসাক দিতেন, এর মধ্যে ৮০ ওয়াসাক খুরমা ও ২০ ওয়াসাক যব। ‘উমার (রাঃ) (তাঁর খিলাফতকালে খায়বারের) জমি বণ্টন করেন। তিনি নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণীদের ইখতিয়ার দিলেন যে, তাঁরা জমি ও পানি নিবেন, না কি তাদের জন্য ওটাই চালু থাকবে, যা নবী (ﷺ)-এর যামানায় ছিল। তখন তাদের কেউ জমি নিলেন আর কেউ ওয়াসাক নিতে রাজী হলেন। ‘আয়িশা (রাঃ) জমিই নিয়েছিলেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪১; চাষাবাদ, অধ্যায় ৮, হাঃ ২৩২৮; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ১, হাঃ ১৫৫১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০০

حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، أَجْلَى الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا ظَهَرَ عَلَى خَيْبَرَ أَرَادَ إِخْرَاجَ الْيَهُودِ مِنْهَا، وَكَانَتِ الأَرْضُ حِينَ ظَهَرَ عَلَيْهَا للهِ وَلِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِلْمُسْلِمِينَ، وَأَرَادَ إِخْرَاجَ الْيَهُودِ مِنْهَا، فَسَأَلَتِ الْيَهُودُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُقِرَّهُمْ بِهَا أَنْ يَكْفُوا عَمَلَهَا وَلَهمْ نِصْفُ الثَّمَرِ، [ص: 144] فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: نُقِرُّكُمْ بِهَا عَلَى ذَلِكَ مَا شِئْنَا فَقَرُّوا بِهَا حَتَّى أَجْلاَهُمْ عُمَرُ إِلَى تَيْمَاءَ وَأَرِيحَاءَ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) যখন খায়বার জয় করেন, তখন ইয়াহূদীদের সেখান হতে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। যখন তিনি কোন স্থান জয় করেন, তখন তা আল্লাহ্‌, তাঁর রাসূল (ﷺ) ও মুসলিমদের জন্য হয়ে যায়। কাজেই ইয়াহূদীদের সেখান হতে বহিষ্কার করে দিতে চাইলেন। তখন ইয়াহূদীরা আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-এর কাছে অনুরোধ করল যেন তাদের সে স্থানে বহাল রাখা হয় এ শর্তে যে, তারা সেখানে চাষাবাদের দায়িত্ব পালন করবে আর ফসলের অর্ধেক তাদের থাকবে। আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) তাদের বললেন, আমরা এ শর্তে তোমাদের এখানে বহাল থাকতে দিব যতদিন আমাদের ইচ্ছা। কাজেই তারা সেখানে বহাল রইল। অবশেষে ‘উমার (রাঃ) তাদেরকে তাইমা ও আরীহায় নির্বাসিত করে দেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪১ : চাষাবাদ, অধ্যায় ১৭, হাঃ ২৩৩৮; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ১, হাঃ ১৫৫১

২২/২. অধ্যায়ঃ

বৃক্ষরোপণ ও চাষাবাদের ফাযায়েল।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০১

حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا فَيَأْكُلُ مِنْهُ طَيْرٌ أَوْ إِنْسَانٌ أَوْ بَهِيمَةٌ إِلاَّ كَانَ لَهُ بِهِ صَدَقَةٌ

বর্ণনাকারী আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেন, যে কোন মুসলিম ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোন ফসল ফলায় আর তা হতে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায় তবে তা তার পক্ষ হতে সদাকাহ্ বলে গণ্য হবে।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪১: চাষাবাদ, অধ্যায় ১, হাঃ ২৩২০; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ২, হাঃ ১৫৫৩

২২/৩. অধ্যায়ঃ

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০২

حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نَهى عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى تُزْهِيَ، فَقِيلَ لَهُ: وَمَا تُزْهِيَ قَالَ: حَتَّى تَحْمَرَّ؛ فَقَالَ: أَرأَيْتَ إِذَا مَنَعَ اللهُ الثَّمَرَةَ بِمَ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ مَالَ أَخِيهِ

বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হল, রং ধারণ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা। পরে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেন, দেখ, যদি আল্লাহ্‌ তা‘আলা ফল ধরা বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) নিবে?

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৪ : ক্ৰয়-বিক্ৰয়, অধ্যায় ৮৭, হাঃ ২১৯৮; মুসলিম, পর্ব ২২; পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৩, হাঃ ১৫৫৫

২২/৪. অধ্যায়ঃ

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ লাঘব করা মুস্তাহাব।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০৩

حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَمِعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْتَ خُصُومٍ بِالْبَابِ عَالِيَةٍ أَصْوَاتُهُمَا، وَإِذَا أَحَدُهُمَا يَسْتَوْضِعُ الآخَرَ وَيَسْتَرْفِقُهُ فِي شيْءٍ، وَهُوَ يَقُولُ: وَاللهِ لاَ أَفْعَلُ فَخَرَجَ عَلَيْهِمَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَيْنَ الْمُتَأَلِّي عَلَى اللهِ لاَ يَفْعَلُ الْمَعْرُوفَ فَقَالَ: أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ وَلَهُ أَيُّ ذَلِكَ أَحَبَّ

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) একবার দরজায় ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেলেন; দুইজন তাদের আওয়াজ উচ্চ করেছিল। তাদের একজন আরেকজনের নিকট ঋণের কিছু মাফ করে দেয়ার এবং সহানুভূতি দেখানোর অনুরোধ করেছিল। আর অপর ব্যক্তি বলছিল, ‘না, আল্লাহ্‌র কসম! আমি তা করব না।’ আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) তাদের দুইজনের কাছে এলেন এবং বললেন, সৎ কাজ করবে না বলে যে আল্লাহ্‌র নামে কসম করেছে, সে ব্যক্তিটি কোথায়? সে বলল, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি। সে যা পছন্দ করবে তার জন্য তা-ই হবে।’

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৩ : বিবাদ মীমাংসা, অধ্যায় ১০, হাঃ ২৭০৫; মুসলিম, পর্ব ২২: পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৫৫৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০৪

حديث كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ تَقَاضَى ابْنَ أَبِي حَدْرَدٍ دَيْنًا كَانَ لَهُ عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِدِ، فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتَّى سَمِعَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا حَتَّى كَشَفَ سِجْفَ حُجْرَتِهِ، فَنَادَى يَا كَعْبُ قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: ضَعْ مِنْ دَيْنِكَ هذَا وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ، أَيِ الشَّطْرَ، قَالَ: لَقَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: قُمْ فَاقْضِهِ

বর্ণনাকারী কা‘ব (রাঃ)

মসজিদের ভিতরে ইব্‌নু আবু হাদরাদ (রহ.)-এর নিকট তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা করলেন। দুইজনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ উচ্চঃস্বরে কথাবার্তা হলো। এমনকি আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) তাঁর ঘর হতেই তাদের কথার আওয়াজ শুনলেন এবং তিনি পর্দা সরিয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে গেলেন। আর ডাক দিয়ে বললেনঃ হে কা‘ব! কা‘ব (রাঃ) উত্তর দিলেন, লাব্বাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমার পাওনা ঋণ হতে এতটুকু ছেড়ে দাও। আর হাতে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ। তখন কা‘ব (রাঃ) বললেনঃ আমি তাই করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি ইব্‌নু আবু হাদরাদকে বললেনঃ উঠ, আর বাকীটা দিয়ে দাও।

সহীহ বুখারী, পৰ্ব ৮; সালাত, অধ্যায় ৭১, হাঃ ৪৫৭; মুসলিম, পর্ব ২২; পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৫৫৮

২২/৫. অধ্যায়ঃ

ক্রেতা যদি দেউলিয়া হয়ে যায় এমতাবস্থায় বিক্রেতা তার মাল ক্রেতার নিকট অক্ষত অবস্থায় পেলে তা ফেরত নিতে পারবে।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০৫

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (أَوْ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ) : مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ بِعَيْنِهِ عِنْدَ رَجُلٍ أَوْ إِنْسَانٍ قَدْ أَفْلَسَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ

বর্ণনাকারী আবু হুরাইরাহ (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কিংবা তিনি বলেছেন যে, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যখন কেউ তার মাল এমন লোকের কাছে পায়, যে নিঃসম্বল হয়ে গেছে, তবে অন্যের চেয়ে সে-ই তার বেশি হকদার। {আবু ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, এ সনদে উল্লেখিত রাবীগণ বিচারকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তারা হলেন ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ, আবু বকর ইবনু মুহাম্মাদ, ‘উমার ইবনু আবদুল আযীয, আবু বকর ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) ও আবু বকর (রহ.) তারা সকলেই মদিনায় বিচারক ছিলেন।}

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪৩; ঋণ গ্রহণ, ঋণ পরিশোধ, নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেউলিয়া ঘোষণা, অধ্যায় ১৪, হাঃ ২৪০২; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৫৫৯

২২/৬. অধ্যায়ঃ

অসচ্ছল ব্যক্তিকে সুযোগ দেয়ার ফাযায়েল।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০৬

حديث حُذَيْفَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَلَقَّتِ الْمَلاَئِكَةُ رُوحَ رَجُلٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، قَالُوا أَعَمِلْتَ مِنَ الْخَيْرِ شَيْئًا، قَالَ: كُنْتُ آمُرُ فِتْيَانِي أَنْ يُنْظِرُوا وَيَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُوسِرِ، قَالَ: قَالَ فَتَجَاوَزُوا عَنْهُ

বর্ণনাকারী হুযাইফাহ (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং তার উপর পীড়াপীড়ি না করে। রাবী বলেন, তিনি বলেছেন, ফেরেশতারাও তাঁকে ক্ষমা করে দেন।আবু মালিক (রহ.) রিব্ঈ ইবনু হিরাশ (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে অবকাশ দিতাম। শু‘বাহ্ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু আওয়ানাহ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছলকে অবকাশ দিতাম এবং অভাবগ্রস্তকে মাফ করে দিতাম এবং নু‘আইম ইবনু আবু হিন্দ (রহ.) রিব্ঈ (রহ.) সূত্রে বলেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তি হতে গ্রহণ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে ক্ষমা করে দিতাম।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৩৪ ; ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০৭

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: كَانَ تَاجِرٌ يُدَايِنُ النَّاسَ، فَإِذَا رَأَى مُعْسِرًا قَالَ لِفِتْيانِهِ تَجَاوَزُوا عَنْهُ، لَعَلَّ اللهَ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنَّا، فَتَجَاوَزَ اللهُ عَنْهُ

বর্ণনাকারী আবু হুরাইরাহ (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেন, এক ব্যবসায়ী লোকদের ঋণ দিত। কোন অভাবগ্রস্তকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ্‌ তা‘আলা আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। এর ফলে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৩৪ : ক্ৰয়-বিক্রয়, অধ্যায় ১৮, হাঃ ২০৭৮; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৬, হাঃ ১৫৬২

২২/৭. অধ্যায়ঃ

ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা হারাম। অন্যের নিকট ঋণ হাওয়ালা করে দেয়া জায়িজ এবং তা সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য গ্রহণ করা মুস্তাহাব।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০০৮

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ، فَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتَّبِعْ

বর্ণনাকারী আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যখন তোমাদের কাউকে (ঋণ পরিশোধের জন্যে) কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৮: হাওয়ালাত, অধ্যায় ১, হাঃ ২২৮৮; মুসলিম, পর্ব ২২ : পানি সিঞ্চন, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৫৬৪

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18