বন্ধক

১৬/১. অধ্যায়ঃ

আবূ বকর বিন আবূ শায়বাহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৩৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي الأَسْوَدُ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اشْتَرَى مِنْ يَهُودِيٍّ طَعَامًا إِلَى أَجَلٍ وَأَرْهَنَهُ دِرْعَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

নবী (ﷺ) এক ইহুদীর নিকট থেকে (বাকিতে) কিছু খাদ্যশস্য ক্রয় করেন এবং তার কাছে নিজের লৌহবর্মটি বন্ধক রাখেন।

[২৪৩৬] সহীহুল বুখারী ২০৬৮, মুসলিম ১৬০৩, নাসায়ী ৪৬০৯, ৪৬৫০, আহমাদ ২৪৭৪৬, ২৫৪০৩, ২৫৪৬৭, ইরওয়া ১৩৯৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৩৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَقَدْ رَهَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِرْعَهُ عِنْدَ يَهُودِيٍّ بِالْمَدِينَةِ فَأَخَذَ لأَهْلِهِ مِنْهُ شَعِيرًا ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদিনার এক ইয়াহুদের নিকট তাঁর লৌহবর্মটি বন্ধক রেখে তার থেকে নিজ পরিবারের জন্য কিছু বার্লি ক্রয় করেন।

[২৪৩৭] সহীহুল বুখারী ২০৬৯, তিরমিযী ১২১৫, নাসায়ী ৪৬১০, আহমাদ ১১৯৫২, ইরওয়া ৫/২৩১, মুখতাসার শামাইল ২৮৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৩৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تُوُفِّيَ وَدِرْعُهُ مَرْهُونَةٌ عِنْدَ يَهُودِيٍّ بِطَعَامٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী আসমা’ বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ)

নবী (ﷺ) ইনতিকাল করেন এবং তখন তাঁর লৌহবর্মটি এক ইহুদীর নিকট কিছু খাদ্যশস্যের বিনিময়ে বন্ধক ছিল।

[২৪৩৮] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ৫/২৩২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তাকে বর্জন করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৩৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ خَبَّابٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَاتَ وَدِرْعُهُ رَهْنٌ عِنْدَ يَهُودِيٍّ بِثَلاَثِينَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইনতিকাল করেন, তখন তাঁর লৌহবর্মটি এক ইয়াহুদীর নিকট তিরিশ সা বার্লির বিনিময়ে বন্ধক ছিল।

[২৪৩৯] তিরমিযী ১২১৪, নাসায়ী ৪৬৫১, আহমাদ ২১১০, ২৭১৯, ২৭৩৮, ৩৩৯৯, দারেমী ২৫৮২, ইরওয়া ৫/২৩১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হিলাল বিন খাব্বাব সম্পর্কে আবু আহুমাদ আল-হাকিম বলেন, শেষ বয়সে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শেষ বয়সে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল ছিল। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬১৬, ৩০/৩৩০ নং পৃষ্ঠা)

১৬/২. অধ্যায়ঃ

বন্ধকী জন্তুতে আরোহণ এবং তার দুধ পান করা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৪০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الظَّهْرُ يُرْكَبُ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ نَفَقَتُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বন্ধককৃত পশুতে আরোহন করা যাবে এবং বন্ধকী পশুর দুধও পান করা যাবে। তবে যে ব্যক্তি পশুটিকে বাহনরূপে ব্যবহার করবে বা তার দুধ পান করবে সে-ই তার আহার ও সেবাযত্নের ব্যবস্থা করবে।

[২৪৪০] সহীহুল বুখারী ২৫১১, ২৫১২, তিরমিযী ১২৪৫, আবূ দাউদ ৩৫২৬, আহমাদ ৭০৮৫, ৯৭৬০, ইরওয়া ১৪০৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬/৩. অধ্যায়ঃ

বন্ধকী জিনিস বাজেয়াপ্ত করা যাবে না

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَغْلَقُ الرَّهْنُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, বন্ধকী জিনিস বাজেয়াপ্ত করা যাবে না।

[২৪৪১] মুয়াত্তা মালেক ১৪৩৭, ইরওয়া ৫/২৪২, ১৪০৮। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন হুমায়দ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল, তিনি মিথ্যুক। আবু যুরআহ আর-রাযী তার হাদিস বর্জন করেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ নয়, তিনি দুর্বল। আবদুর রহমান বিন ইউসুফ বলেন, আল্লাহর শপথ তিনি মিথ্যা বলতেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫১৬৭, ২৫/৯৭ নং পৃষ্ঠা) ২. ইবরাহীম ইবনুল মুখতার সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, যাদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তিনি তাদের একজন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার হিফয শক্তি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৪০, ২/১৯৪ নং পৃষ্ঠা)

১৬/৪. অধ্যায়ঃ

শ্রমিকদের মজুরী সম্পর্কে

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৪২

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ثَلاَثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ كُنْتُ خَصْمَهُ خَصَمْتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ أَعْطَى بِي ثُمَّ غَدَرَ وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهُ وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُوفِهِ أَجْرَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণীর লোকের বিরুদ্ধে বাদী হবো। আর আমি যার বিরুদ্ধে বাদী হবো, তার বিরুদ্ধে জয়ী হবো। কেয়ামতের দিন আমি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবো তারা হলোঃ যে ব্যক্তি আমার নামে অঙ্গীকার করে, পরে সে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, যে ব্যক্তি অর্থ উপার্জনের জন্য স্বাধীন মানুষ বিক্রয় করে এবং যে ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে তার থেকে পূর্ণরূপে কাজ আদায় করে নেয়, কিন্তু তার পূর্ণ মজুরি দেয় না।

[২৪৪২] সহীহুল বুখারী ২২২৭, ইরওয়া ১/১৪৮৯, রাওদুন নাদীর ১১০২। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াহইয়া বিন সুলায়ম আত-তায়ফী তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বিশর আদ-দাওলানী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৮৪১, ৩১/৩৬৫ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৪৩

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَطِيَّةَ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَعْطُوا الأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শ্রমিকের দেহের ঘাম শুকাবার পূর্বে তোমরা তার মজুরি দাও।

[২৪৪৩] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ১৪৯৮, মিশকাত ২৯৮৭, রাওদুন নাদীর ১৯৩, আত-তালীকুর রাগীব ৩/৫৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলাম সম্পর্কে আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেন, তার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে একমত। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু আবদুর রহমান বিন যায়দ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৩৬ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৭ টি খুবই দুর্বল, ১১ টি দুর্বল, ৯ টি হাসান, ৯ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ আল-ফাওয়াইদ ৪৪, ১৪১২।

১৬/৫. অধ্যায়ঃ

পেটে-ভাতে শ্রমিক নিয়োগ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُتْبَةَ بْنَ النُّدَّرِ، يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَ طسم حَتَّى إِذَا بَلَغَ قِصَّةَ مُوسَى قَالَ ‏ "‏ إِنَّ مُوسَى صلى الله عليه وسلم أَجَّرَ نَفْسَهُ ثَمَانِيَ سِنِينَ أَوْ عَشْرًا عَلَى عِفَّةِ فَرْجِهِ وَطَعَامِ بَطْنِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উতবাহ ইবনুল নুদ্দার (রাঃ)

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি সূরা তা-সীন-মীম পাঠ করলেন। শেষে মূসা (আঃ)-এর ঘটনা পর্যন্ত পৌঁছে তিনি বলেনঃ মূসা (আঃ) আট অথবা দশ বছর যাবত নিজেকে শ্রমিকরূপে নিয়োজিত রেখেছিলেন নিজের লজ্জাস্থান হেফাজতের (বিবাহ) ও পেটের আহারের বিনিময়ে।

[২৪৪৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ১৪৮৮। তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. মাসলামাহ বিন আলী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেন, তার বিরুদ্ধে জাল (বানিয়ে) হাদিস বর্ণনার অভিযোগ রয়েছে। আবু বকর আল-বুরকানী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। ইমাম যাহাবী তার হাদিস বর্জন করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯৫৮, ২৭/৫৬৭ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ২৪৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ حَفْصُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ نَشَأْتُ يَتِيمًا وَهَاجَرْتُ مِسْكِينًا وَكُنْتُ أَجِيرًا لِابْنَةِ غَزْوَانَ بِطَعَامِ بَطْنِي وَعُقْبَةِ رِجْلِي أَحْطِبُ لَهُمْ إِذَا نَزَلُوا وَأَحْدُو لَهُمْ إِذَا رَكِبُوا فَالْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي جَعَلَ الدِّينَ قِوَامًا وَجَعَلَ أَبَا هُرَيْرَةَ إِمَامًا

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

আমি ইয়াতীমরূপে লালিত-পালিত হয়েছি এবং মিসকীনরূপে হিজরত করেছি। আমার পেটের আহার ও পালাক্রমে বাহনে আরোহনের শর্তে আমি গাজওয়ান-কন্যার শ্রমিকরূপে নিয়োজিত হই। আমি লোকদের জন্য কাঠ সংগ্রহ করতাম। তারা জন্তুযান থেকে অবতরণ করলে আমি আরোহণ করতাম এবং তারা জন্তুযানে আরোহণ করলে আমি তা হাঁকিয়ে নিতাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর দ্বীনকে শক্তিশালী করেছেন এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে ইমাম (শাসক) বানিয়েছেন।

[২৪৪৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী হায়ান বিন বিসতাম সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাকবুল। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত, তার ছেলে ব্যাতিত কেউ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেনি, ইবনু হিব্বান ছাড়া কেউ তাকে সিকাহ বলে উল্লেখ করেনি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৫৭৪, ৭/৪৭১ নং পৃষ্ঠা)

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18