সালাত

২/১. অধ্যায়ঃ

সালাতের সময়সমূহ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫১

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتْ الشَّمْسُ, وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ, وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبْ الشَّفَقُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعْ الشَّمْسُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

বর্ণনাকারী আব্‌দুল্লাহ্‌ বিন্‌ ‘আমর (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যুহরের সময় হচ্ছে, যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ে, আর মানুষের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত, তথা ‘আসরের সময় উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত। ‘আসরের সময় হচ্ছে, (কোন বস্তুর ছায়া তার সমান হবার পর হতে) সূর্যের রঙ হালকা বা ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত। মাগরিবের সময় সূর্যাস্ত থেকে আরম্ভ করে পশ্চিমকাশে লালিমা নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সলাতের সময় হলো, (মাগরিবের সময় শেষ হওয়া থেকে শুরু হয়ে) মধ্যরাত অবধি বিদ্যমান থাকে। ফাজ্‌রের সময়, সুবহ্‌ সাদিক থেকে আরম্ভ হয়ে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত।’ [১৭৮]

[১৭৮] মুসলিম ১৭৩, ৬১২; পূর্ণাঙ্গ হাদীস হচ্ছে- (আরবী) যখন সূর্য উদিত হয় তখন সলাত থেকে বিরত থাকো। কেননা সূর্য শয়তানের দু’ শিংয়ের মাঝ দিয়ে উদিত হয়।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫২

وَلَهُ مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ فِي الْعَصْرِ: وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

মুসলিমে বুরাইদাহ (রাঃ) -এর হাদীসে আসর সম্পর্কে রয়েছে (সূর্য আলোক উজ্জ্বল থাকা পর্যন্ত)। [১৭৯]

[১৭৯] মুসলিম ৬১৩; ইমাম মুসলিমের মতে (আরবী) এর অর্থ (আরবী) অর্থাৎ স্বচ্ছ ও পরিস্কার সাদা। তথা তাতে হলদে রঙয়ের কোন মিশ্রণ থাকবে না। আর পূর্ববর্তী হাদীসে রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য হলুদাভ না হয়।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫৩

وَمِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

আর আবূ মূসা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, ‘এবং সূর্য উঁচুতে থাকা পর্যন্ত’ (‘আসরের সময় থাকে)। [১৮০]

[১৮০] মুসলিম ৬১৩ এটা বড় একটি হাদীসের অংশ বিশেষ। তাতে আছে- তাকে সলাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আসরের সলাত আদায় করলেন।

২/১. অধ্যায়ঃ

সালাতের সময়সমূহ - কখন নবী (ﷺ) ফরয সালাত আদায করতেন তার বিবরণ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫৪

وَعَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّيَ الْعَصْرَ, ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ, وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ مِنَ الْعِشَاءِ, وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا, وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ, وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী আবূ বার্‌যাহ আল-আসলামী (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আসরের সলাত আদায় করতেন তার পর আমাদের কোন ব্যক্তি রওয়ানা হয়ে মদীনার দূর প্রান্তের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও সূর্য জীবিত তথা সূর্যের উজ্জ্বলতা বাকী থাকতো। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সালাত দেরিতে আদায় করা পছন্দ করতেন এবং ‘ইশা সলাতের পূর্বে ঘুমান ও পরে কথাবার্তা বলাকে অপছন্দ করতেন। আর তিনি ফাজ্‌রের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যখন লোক তার পাশে বসে থাকা সঙ্গীকে চিনতে পারত। আর ষাট আয়াত থেকে একশো আয়াত তিলাওয়াত করতেন। [১৮১]

[১৮১] বুখারী ৫৪৭; মুসলিম ৬৪৭। শব্দ বিন্যাস বুখারীর। এখানে (আরবী) শব্দটির র (আরবী) অক্ষরে যাবার হা (আরবী) অক্ষরে সাকিন সহ পড়তে হবে। (আরবী) অর্থাৎ স্বচ্ছ পরিস্কার সাদা যেমন পূর্ববর্তী বর্ণনায় রয়েছে। আর একজন তাবেয়ী হতে তার এ কথাটি সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে (আরবী) সূর্য জীবিত থাকার অর্থ হচ্ছে সূর্যে উত্তাপ পাওয়া।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫৫

وَعِنْدَهُمَا مِنْ حَدِيثِ جَابِرٍ: وَالْعِشَاءُ أَحْيَانًا وَأَحْيَانًا: إِذَا رَآهُمْ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ, وَإِذَا رَآهُمْ أَبْطَئُوا أَخَّرَ, وَالصُّبْحَ: كَانَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

ইশার সালাত কখনও দ্রুত কখনও দেরিতে পড়তেন। যখন দেখতেন লোক একত্রিত হয়ে গেছে তখন তাড়াতাড়ি করতেন। আর তারা বিলম্বে উপস্থিত হলে বিলম্বেই আদায় করতেন। আর তিনি ফাজ্‌রের সালাত খানিকটা অন্ধকারে আদায় করতেন। [১৮২]

[১৮২] বুখারী ৫৬০; মুসলিম ৬৪৬ শব্দবিন্যাস বুখারীর। মুসলিমের বর্ণনায় আছে- (আরবী) এশার সলাত কখনো বিলম্বে আদায় করতেন আবার কখনো তাড়াতাড়ি পড়ে নিতেন।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫৬

وَلِمُسْلِمٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ, وَالنَّاسُ لَا يَكَادُ يَعْرِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا

বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)

ঐ সময় ফাজ্‌রের সালাত আদায় করতেন যখন ফজর প্রকাশ অর্থাৎ সুবহি সাদিক হতো। কিন্তু লোকেরা পরস্পরকে তখনও ভালভাবে চিনতে সক্ষম হতো না।

২/১. অধ্যায়ঃ

সালাতের সময়সমূহ - মাগরিবের সালাত ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত আদায় করার বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫৭

وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী রাফি‘ বিন্ খাদীজ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে আমরা মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর সেখান থেকে ফিরার পরও আমাদের লোক তার ‘নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হবার দূরবর্তী স্থানটি’ দেখতে পেতেন। [১৮৩]

[১৮৩] বুখারী ৫৫৯; মুসলিম ৬৩৭; হাফিজ ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারিতে (২/৪১) বলেনঃ (আরবী) সময় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই মাগরিব সালাত আদায় করা কর্তব্য। এমনকি সালাত শেষ হওয়ার পরেও যেন উজ্জলতা অবশিষ্ট থাকে ।

২/১. অধ্যায়ঃ

সালাতের সময়সমূহ - ইশার সালাতকে প্রথম ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করার বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫৮

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - ذَاتَ لَيْلَةٍ بِالْعِشَاءِ, حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ, ثُمَّ خَرَجَ, فَصَلَّى, وَقَالَ: «إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক রাতে ‘ইশার সলাত আদায় করতে অনেক বিলম্ব করেছিলেন। এমন কি রাতের বেশ কিছু সময় গত হয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি বের হয়ে সলাত আদায় করে বললেন, এটাই হচ্ছে ‘ইশা সলাত আদায়ের উপযুক্ত সময়, যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্ট মনে না করতাম তবে এসময়টাকেই নির্ধারণ করতাম। [১৮৪]

[১৮৪] মুসলিম ২১৯, ৬৩৮, (আরবী) অর্থাৎঃ বিলম্ব করতেন এমনকি রাতের অন্ধকার খুব ঘনীভূত হয়ে আসত ।

২/১. অধ্যায়ঃ

সালাতের সময়সমূহ - যুহরের সালাতকে সূর্যের প্রখরতা ঠাণ্ডা হলে পড়ার বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৫৯

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ, فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন দিনের উত্তাপ খুব বেড়ে যাবে তখন উত্তাপ কমে (আবহাওয়া) ঠাণ্ডা হলে (যুহরের) সালাত পরবে। কেননা কঠিন উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা থেকে হয়। [১৮৫]

[১৮৫] বুখারী ৫৩৬; মু, ৬১৫০; হাদীসের (আরবী) যুহর সলাতকে ঠাণ্ডা হওয়া সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা ।

২/১. অধ্যায়ঃ

সালাতের সময়সমূহ - ফজরের সালাত স্পষ্ট সুবহে সাদিক্ ও আলোকজ্জ্বল ভোরে পড়া মুস্তাহাব

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১৬০

وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِأُجُورِكُمْ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ

বর্ণনাকারী রাফি‘ বিন্ খাদীজ (রাঃ)

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ফযরের সালাত স্পষ্ট সুবহি সাদিক হলে আদায় কর। কেননা তা তোমাদের জন্য আধিক পুণ্যের কারন। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। [১৮৬]

[১৮৬] আবূ দাঊদ ৪২৪; নাসায়ী ১৭২; তিরমিযী ১৫৪; ইবনু মাজাহ ৬৭২; আহমাদ ৩/১৪০,১৪২,১৪৩,৪৪০,৪৬৫; ইবনু হিব্বান ১৪৯০, ১৪৯১; ইমাম তিরমিযী বলেনঃ রাফে বিন খাদীজ এর হাদিসটি হাসান সহীহ। আর এখানে (আরবী) বলতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাঁদনী রাতসমূহের ক্ষেত্রে এ শব্দ প্রয়োগ করেছেন যেহেতু এমন রাতে ফযর উদয়ের উজ্জলতা স্পুস্তভাবে বোঝা যায় না। এটা এজন্য যে, লোকেরা যেন ফযর উদয় হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত ফযরের সলাত আদায় না করে। কেননা, হাদীসে আমাদেরকে যে সময় ফযর সলাত আদায়ের বলা হয়েছে সে সময় আদায় করলে অত্যন্ত বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে ঐ সময়ের চেয়ে যে সময় ফযর দৃঢ়তা না নিয়েই সলাত আদায় করা হয়।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18