পবিত্রতা

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - সাগর বা সমুদ্রের পানি পবিত্র

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي الْبَحْرِ: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَالتِّرْمِذِيُّ، وَرَوَاهُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল। চারজন এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। শব্দ বিন্যাস আবূ শাইবার, ইবনু খুযাইমাহ ও তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ্‌ বলেছেন। ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ ও আহমাদ বিন্‌ হাম্বালও এটি বর্ণনা করেছেন। [১]

[১] আবূ দাঊদ ৮৩, নাসায়ী ১/৫০, ১৭৬, ৭০৭ তিরমিযী ৬৯, ইবনু মাযাহ ৩৮৬, ইবনু আবী শায়বাহ ১৩১, ইবনু খুযাইমাহ ১১১ । সফওয়ান বিন সুলাইম সূত্রে; তিনি আলে বানী আযরাক এর সাঈদ বিন সালামাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে, তিনি বানী আব্দুল দ্বার এর মুগীরাহ বিন আবূ বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি আবূ হুরায়রাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা সমুদ্রে বিচরণ করি, আর আমাদের সাথে অল্প পরিমান পানি নিয়ে যাই, ফলে আমরা যদি এই পানি দিয়ে অযু করি তাহলে আমাদের খাবার পানির পিপাসায় ভোগার আশংকা রয়েছে। সুতরাং আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ উক্তি করেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, এই সনদ সহীহ। কেউ আবার এতে ত্রুটি আছে বলে মন্তব্য করলেও তাতে কোন ক্ষতি নেই, কেননা হাদীসটির কয়েকটি শাহেদ (সমর্থক) হাদীস রয়েছে।

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - পানির মূল পবিত্র অবস্থায় বহাল থাকা

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ২

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لاَ يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ. أَخْرَجَهُ الثَّلَاثَةُ وَصَحَّحَهُ أَحْمَدُ

বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘নিশ্চয়ই পানি পবিত্র জিনিস, কোন কিছুই তাকে অপবিত্র করতে পারে না।’-৩ জনে; [২] আহমাদ একে সহীহ্‌ বলেছেন। [৩]

[২] আবূ দাঊদ ৬৬, নাসায়ী ১৭৪, তিরমযী ৬৬। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলা হলো, আমরা কি বুযা’আহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? আর ঐ কূপটি এমন ছিল যে, তাতে হায়েযের নেকড়া, কুকুরের গোশ্‌ত এবং অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো। অতঃপর রাসূল এ হাদীস বর্ণনা করেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ, যদিও একজন রাবী অস্পষ্টতার কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে। কিন্তু এর অন্য একটি সনদ ও কয়েকটি শাহেদ রয়েছে যা হাদীসটি বিশুদ্ধ হাদীসের পরিণত করছে। বিঃ দ্রঃ হাদীসের কথা – “ (আরবী)” বিষয়ে ইমাম খাত্তাবী তাঁর মা’আলিমুস সুনান (১/৩৭) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীস শ্রবণ করে অনেকের মনে এ ধারণা জন্মাতে পারে যে, তারা এ কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করতো। তাদের সম্পর্কে এমন মন্দ ধারণা জায়েজ নয়; বিশেষ করে মুসলিমদের ক্ষেত্রে আরো নয়। তাছাড়া এমন (নোংরা) স্বভাব পূর্বেকার বা বর্তমানকালের কোন মানুষের সে মুসলিম হক বা কাফির হোক এমন (নোংরা) স্বভাব হতে পারে না। বরং তারা পানিকে সব সময় পবিত্র, পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতেন। অতএব এমন যুগের লোকদের সম্বন্ধে এমন ধারণা কিভাবে করা যায় অথচ তারা দ্বীনের অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে ব্যক্তিত্ব এবং মুসলমানদের সবচেয়ে সন্মানিত দল! তাছাড়া সেদেশে পানি দুষ্প্রাপ্য অথচ তার প্রয়োজন নিতান্তই বেশি। তা সত্ত্বেও পানির সাথে এমন আচরণ কি অত্যন্ত কঠিন কথা নয়!? এদিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানির ঘাট এবং নালায় মলমূত্র ত্যাগকারীর উপর লানত করেছেন। তাহলে কি করে তারা পানির কূপ ও নালাসমূহকে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট করতে পারে; আর তাতে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করা হতে পারে? এমন আচরণ তাদের জন্য মোটেই মানানসই নয়। হ্যাঁ বিষয়টি এমন হতে পারে যে, ঐ কূপটি কোন মধ্যবর্তী স্থানে ছিল এবং পানির প্রবাহ রাস্তা ও ময়লা ফেলার স্থানের বর্জ্যকে ভাসিয়ে নিয়ে উক্ত কূপে নিক্ষেপ করতো। আর তাতে পানির পরিমাণ খুব বেশি হওয়ায় তাতে কোন প্রভাব পড়তো না এবং পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্টের কোন পরিবর্তন করতো না।[৩] এ বিষয়টি ইমাম মুনজিরী তার ‘মুখতাসার’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - নাপাক বা ময়লা মিশ্রিত পানির বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৩

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ - صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ, إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ وَطَعْمِهِ, وَلَوْنِهِ. أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ وَضَعَّفَهُ أَبُو حَاتِمٍ

বর্ণনাকারী আবূ উমামাহ বাহিলী (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “নিশ্চয় পানিকে কোন কিছু অপবিত্র করতে পারে না তবে যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙকে পরিবর্তন করে দেয়।” – ইবনু মাজাহ, [৪] আবূ হাতিম এটিকে য’ঈফ বলেছেন। তবে হাদিসের প্রথম অংশ সহিহ [৫]

[৪] যঈফ, ইবনু মাযাহ ৫২১-রুশদাইন বিন সা’দ সূত্রে। মুয়াবিয়াহ বিন সালিহ রাশিদ বিন সা‘দ থেকে, তিনি আবূ উমামাহ হতে। তিনি দুর্বল, আবূ রুশদাইদ এর দুর্বলতার কারণে। তাছাড়া হাদীসের সনদে ইজতিরাব-এর সমস্যা রয়েছে।[৫] তাঁর ছেলে ‘ইলাল’ গ্রন্থে (১/৪৪) বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ আমার পিতা বলেছেন যে, রুশদাইদ বিন সা‘দ হাদীসটিকে আবূ উমামাহ সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুত্তাছিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু রুশদাইন শক্তিশালী রাবী নয়। সঠিক কথা এই যে, হাদীসটি মুরসাল।

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৪

وَلِلْبَيْهَقِيِّ: الْمَاءُ طَاهِرٌ إِلَّا إِنْ تَغَيَّرَ رِيحُهُ, أَوْ طَعْمُهُ, أَوْ لَوْنُهُ; بِنَجَاسَةٍ تَحْدُثُ فِيهِ

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

বাইহাকীতে রয়েছে “পানি পবিত্র তবে কোন নাজাসাত (অপবিত্র বস্তু) পড়ার কারণে পানির ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙকে নষ্ট ও পরিবর্তন হলে সেই পানি অপবিত্র হয়ে যাবে।” [৬]

[৬] যঈফ। বায়হাক্বী তাঁর ‘আস্‌-সুনানুল কুবরা’য় (১৫৯-২৬০) আবূ উমামাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বাকিয়াহ বিন ওয়ালীদ নামক একজন রাবী আছেন যিনি মুদাল্লিস। আর তিনি ‘আনআন’ শব্দেও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের অন্য একটি সনদ রয়েছে, সেটিও দুর্বল।

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - কী পরিমাণ পানি অপবিত্র হবে; আর কী পরিমাণ পানি অপবিত্র হবে না

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৫

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا كَانَ الْمَاءَ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ الْخَبَثَ. وَفِي لَفْظٍ: لَمْ يَنْجُسْ. أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ. وَابْنُ حِبَّانَ وَالحَاكِمُ

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘পানির পরিমাণ যদি দু’কুল্লা (কুল্লা হচ্ছে বড় আকারের মাটির পাত্র বিশেষ যাতে প্রায় একশত তের কেজি পানি আটে।) (মটকা) হয় তবে তার মধ্যে কোন অপবিত্র বস্তু পড়লে তা না-পাক হবে না।’(চারজনে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু হিব্বান এক সহীহ বলেছেন।) [৭]

[৭] আবূ দাঊদ (৬৩,৬৪,৬৫); নাসায়ী (১/৬৪,১৭৫); তিরমিযী (৬৭); ইবনু মাযাহ (৫১৭)। হাদিসটি সহীহ। কিছু দোষ বর্ণনা করা হলেও তা ক্ষতিকর নয়। ইবনু খুযিমাহ (৯২); হাকিম (১৩২); ইবনু হিব্বান (১২৪৯) প্রমুখ হাদিসটি সহীহ বলেছেন।

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - আবদ্ধ বা স্থির পানিতে পেশাব করা এবং তাতে ফরয গোসল করার বিধান

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৬

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ وَلِلْبُخَارِيِّ: لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي, ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهوَلِمُسْلِمٍ: مِنْهُ وَلِأَبِي دَاوُدَ: وَلَا يَغْتَسِلُ فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থায় কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে (নেমে) গোসল না করে। [৮] বুখারীর বর্ণনায় আছে, “কোন ব্যক্তি যেন স্রোত নেই এমন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করার পর তাতে নেমে আবার গোসল না করে।” [৯] মুসলিমেفِيه "ফীহি" শব্দের পরিবর্তেمِنْهُ "মিনহু" (উক্ত বর্ণনাকারী থেকে) শব্দ রয়েছে। [১০] আর আবূ দাঊদে রয়েছেঃ “অপবিত্র অবস্থায় তাতে যেন (নেমে) গোসল না করে।” [১১]

[৮] মুসলিম (২৮৩)[৯] বুখারী (২৩৯)[১০] মুসলিম (২৮২)[১১] সুনান আবূ দাঊদ (৭০)

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - পুরুষ এবং নারীর একে অপরের গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করা নিষেধ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৭

وَعَنْ رَجُلٍ صَحِبَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ تَغْتَسِلَ الْمَرْأَةُ بِفَضْلِ الرَّجُلِ, أَوْ الرَّجُلُ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ, وَلْيَغْتَرِفَا جَمِيعًا. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ. وَالنَّسَائِيُّ, وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ

বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর জনৈক সহাবী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুনুবী পুরুষের গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে নারীকে আর নারীর অবশিষ্ট পানি দ্বারা পুরুষের গোসল করতে নিষেধ করেছেন, বরং তারা যেন পাত্র হতে একই সঙ্গে আজলা-আজলা করে পানি উঠিয়ে নিয়ে গোসল করে।‘ -আবূ দাঊদ, নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদটি সহীহ্‌। [১২]

[১২] আবূ দাঊদ (৮১); নাসায়ী (১/১৩০)- দাঊদ বিন আবদুল্লাহ আল-আওদী সূত্রে, তিনি হামীদ আল-হুমাইরী থেকে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একজন সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন। (টিকাকার বলেছেন), মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেনঃ এই সনদটি সহীহ, হাফিজ ইবনু হাজার রহঃ ও অনুরূপ বলেছেন।

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - স্ত্রীর গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা পুরুষের গোসল বৈধ

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৮

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ يَغْتَسِلُ بِفَضْلِ مَيْمُونَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাইমূনা (রাঃ) এ’র গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করতেন।’ (মুসলিম) [১৩]

[১৩] মুসলিম (৩২৩)

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ৯

وَلِأَصْحَابِ السُّنَنِ: اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فِي جَفْنَةٍ, فَجَاءَ لِيَغْتَسِلَ مِنْهَا, فَقَالَتْ لَهُ: إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا؟ فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُجْنِبُ». وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ خُزَيْمَةَ

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

সুনান চতুষ্টয় (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ) -র বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছেঃ “গামলার পানিতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জনৈক স্ত্রী গোসল করেছিলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর (অবশিষ্ট) পানি দিয়ে গোসল করতে এলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, আমি তো (জুনুবী) অপবিত্র ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, পানি তো আর অপবিত্র হয় না।‘ তিরমিযী ও ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ্‌ বলেছেন। [১৪]

[১৪] আবূ দাঊদ (৬৮); তিরমিযী (৬৫); ইবনু মাযাহ (৩৭০); সাম্মাক বিন হারর সূত্রে । তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ “এ হাদিসটি হাসান সহীহ”। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইর বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেনঃ সনদটি সেরকমই। যদি তা সাম্মাক হতে ইকরিমা সূত্রে বর্ণিত হয়ে থাকে। এটা ত্রুটিযুক্ত।

১/১. অধ্যায়ঃ

পানি - যে পাত্ৰ কুকুর চাটবে সে পাত্র পবিত্রকরণের পদ্ধতি

বুলুগুল মারাম

হাদিস নং ১০

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ, أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌوَفِي لَفْظٍ لَهُ: فَلْيُرِقْهُوَلِلتِّرْمِذِيِّ: أُخْرَاهُنَّ, أَوْ أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেনঃ ‘কুকুর কোন পাত্র চাটলে সেই পাত্রকে পবিত্র করতে সাতবার সেটিকে পরিষ্কার করে ধুতে হবে-তার প্রথম বার মাঠি দিয়ে (মাজতে হবে)।’ [১৫] মুসলিমের আরেক বর্ণনায় “সেটির (চেটে রাখা ) উচ্ছৃষ্ট বস্তু ফেলে দিবে” কথাটি রয়েছে। [১৬] আর তিরমিযীতে আছে, ‘শেষের বার অথবা প্রথমবার মাটি দিয়ে (মেজে নিয়ে ধুবে)। [১৭]

[১৫] মুসলিম (৯১, ২৯৭)[১৬] মুসলিম (৮৯, ২৭৯)[১৭] সুনান তিরমিযী (৯১), তাঁর মতে আরো কিছু অতিরিক্ত শব্দ রয়েছে। তা হচ্ছে ‘পাত্রে বিড়াল মুখ দেয়া তবে একবার ধুয়ে নিবে। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেনঃ এ অতিরিক্ত শব্দসমূহ সহীহ। ইবনু শাহিনের ‘নাসিখুল হাদীস ওয়াল মানসূখাহ’ গ্রন্থে (১৪০) এরূপ বর্ণনা রয়েছে।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18