দোয়া-দুরুদ
৯/১. অধ্যায়ঃ
যে কোন ব্যক্তি ভোরে উপনীত হয়ে যা বলবে।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬০৮
حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَصْبَحَ قَالَ: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْحَمْدُ كُلُّهُ لِلَّهِ، لَا شَرِيكَ لَهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ» ، وَإِذَا أَمْسَى قَالَ: «أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ كُلُّهُ لِلَّهِ، لَا شَرِيكَ لَهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ» ---[قال الشيخ الألباني] : ضعيف بهذا اللفظ
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)
নবী (সাঃ) ভোরে উপনীত হয়ে বলতেনঃ “আমরা ভোরে উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজত্ব (সৃষ্টিকুল) ভোরে উপনীত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তার কোন শরীক নাই। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই এবং পুনরুত্থান তার কাছে। তিনি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলতেনঃ “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি। আল্লাহর রাজত্ব ভোরে উপনীত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং তার কোন শরীক নাই। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং তার কাছেই ফিরে যেতে হবে”। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়া নাসাঈ)
৯/২. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি অপরের জন্য দোয়া করে।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬০৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْكَرِيمَ ابْنَ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ، يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى» ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ مَا لَبِثَ يُوسُفُ، ثُمَّ جَاءَنِي الدَّاعِي لَأَجَبْتُ، إِذْ جَاءَهُ الرَّسُولُ فَقَالَ: {ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ اللَّاتِي قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ} [يوسف: 50] ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى لُوطٍ، إِنْ كَانَ لَيَأْوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ، إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ: {لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ} [هود: 80] ، فَمَا بَعَثَ اللَّهُ بَعْدَهُ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا فِي ثَرْوَةٍ مِنْ قَوْمِهِ " قَالَ مُحَمَّدٌ: الثَّرْوَةُ: الْكَثْرَةُ وَالْمَنَعَةُ.
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ মর্যাদাবানের পুত্র মর্যাদাবানের পুত্র মর্যাদাবানের পুত্র ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (আঃ), যিনি বরকতময় মহান আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ ইউসুফ (আঃ) যতো কাল কারাগারে ছিলেন আমি যদি ততো কাল কারাগারে থাকতাম এবং অতঃপর রাজদূত আমার নিকট এসে আহবান জানালে আমি (তার ডাকে) সাড়া দিতাম। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পড়েন (অনুবাদ) : “রাজদূত যখন তার নিকট উপস্থিত হলো তখন সে বললো, তুমি তোমার মনিবের নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো, যে নারীরা নিজেদের হাত কেটেছিলো তাদের অবস্থা কি” (সূরা ইউসুফ : ৫০)। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ লুত (আঃ)-এর উপর আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক। তিনি মজবুত দুর্গে আশ্রয় গ্রহণের আকাঙ্খা করেছিলেন। তিনি তাঁর কাওমকে বললেন, “তোমাদের উপর যদি আমার জোর খাটতো অথবা যদি আমি কোন সুদৃঢ় দুর্গের আশ্রয় নিতে পারতাম” (সূরা হূদ : ৮০)। তার পর থেকে আল্লাহ যে কোন জাতির মর্যাদাবান ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্য থেকেই নবীগণকে পাঠিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)
৯/৩. অধ্যায়ঃ
অন্তর নিংড়ানো দোয়া।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১০
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ الرَّبِيعُ يَأْتِي عَلْقَمَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَإِذَا لَمْ أَكُنْ ثَمَّةَ أَرْسَلُوا إِلَيَّ، فَجَاءَ مَرَّةً وَلَسْتُ ثَمَّةَ، فَلَقِيَنِي عَلْقَمَةُ وَقَالَ لِي: أَلَمْ تَرَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّبِيعُ؟ قَالَ: أَلَمْ تَرَ أَكْثَرَ مَا يَدْعُو النَّاسَ، وَمَا أَقَلَّ إِجَابَتَهُمْ؟ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَقْبَلُ إِلَّا النَّاخِلَةَ مِنَ الدُّعَاءِ، قُلْتُ: أَوَ لَيْسَ قَدْ قَالَ ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ؟ قَالَ: وَمَا قَالَ؟ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَا يَسْمَعُ اللَّهُ مِنْ مُسْمِعٍ، وَلَا مُرَاءٍ، وَلَا لَاعِبٍ، إِلَّا دَاعٍ دَعَا يَثْبُتُ مِنْ قَلْبِهِ، قَالَ: فَذَكَرَ عَلْقَمَةَ؟ قَالَ: نَعَمْ[قال الشيخ الألباني] :
বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (র)
রবী (র) প্রতি জুমুআর দিন আলকামা (র)-এর নিকট আসতেন। আমি তথায় উপস্থিত না থাকলে তারা আমার জন্য লোক পাঠিয়ে দিতেন। একদা রবী (র) এলেন। কিন্তু আমি তথায় উপস্থিত ছিলাম না। তাই আলকামা (র) আমার সাথে সাক্ষাত করে আমাকে বলেন, তুমি কি দেখেছো রবী কি নিয়ে এসেছে? তিনি বলেন, আপনি কি লক্ষ্য করেন নাসাঈ, লোকে প্রচুর দোয়া করে কিন্তু তাদের দোয়া কতো কম কবুল হয়? তার কারণ এই যে, মহামহিম আল্লাহ অন্তর নিঃসৃত দোয়া ছাড়া কবুল করেন না। আমি বললাম, আবদুল্লাহ (রাঃ)-ও কি তাই বলেননি? তিনি জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহ এমন লোকের দোয়া কবুল করেন নাসাঈ, যে লোককে শুনাবার জন্য, প্রদর্শনীর জন্য এবং অভিনয়ের ভঙ্গিতে দোয়া করে। কিন্তু যে ব্যক্তি অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করে তিনি তার দোয়া কবুল করেন। রবী বলেন, আলকামা (র)-এর স্মরণ হলে তিনি বলেন, হাঁ (তিনি তাই বলেছেন)।
৯/৪. অধ্যায়ঃ
প্রত্যয় সহকারে দোয়া করবে। কারণ আল্লাহর জন্য বাধ্যতামূলক করণীয় কিছু নাই।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلَا يَقُولُ: إِنْ شِئْتَ، وَلْيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ، وَلْيُعَظِّمِ الرَّغْبَةَ، فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَعْظُمُ عَلَيْهِ شَيْءٌ أَعْطَاهُ "
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন দোয়া করে তখন সে যেন এরূপ না বলে, যদি তুমি চাও (তবে আমার দোয়া কবুল করো)। বরং সে যেন দৃঢ়তার সাথে এবং পরম আগ্রহভরে দোয়া করে। কেননা কিছু দান করা আল্লাহর কাছে বিরাট কিছু নয়। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, আওয়া নাসাঈ)
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيَعْزِمْ فِي الدُّعَاءِ، وَلَا يَقُلِ: اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي، فَإِنَّ اللَّهَ لَا مُسْتَكْرِهَ لَهُ "
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দোয়া করলে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে করবে। দোয়ায় এরূপ বলবে না যে, হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও তবে আমাকে দাও। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নাই। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, আহমাদ)
৯/৫. অধ্যায়ঃ
হাত তুলে দোয়া করা।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১৩
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ وَهُوَ وَهْبٌ قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ وَابْنَ الزُّبَيْرِ يَدْعُوَانِ، يُدِيرَانِ بِالرَّاحَتَيْنِ عَلَى الْوَجْهِ
বর্ণনাকারী আবু নাঈম ওয়াহব (র)
আমি ইবনে উমার (রাঃ) ও ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-কে দোয়া করে হাতের তালু মুখমণ্ডলে মলতে দেখেছি।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، زَعَمَ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهَا، أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو رَافِعًا يَدَيْهِ يَقُولُ: «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَلَا تُعَاقِبْنِي، أَيُّمَا رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ آذَيْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ فَلَا تُعَاقِبْنِي فِيهِ»
বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)
তিনি নবী (সাঃ)-কে তাঁর দুই হাত তুলে দোয়া করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর দোয়ায় বলেনঃ “আমি একজন মানুষই। অতএব তুমি আমাকে শাস্তি দিও না। আমি যদি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিয়ে থাকি বা গালি দিয়ে থাকি, তবে তুমি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিও না (মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১৫
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَدِمَ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ دَوْسًا قَدْ عَصَتْ وَأَبَتْ، فَادْعُ اللَّهَ عَلَيْهَا، فَاسْتَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقِبْلَةَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ، فَظَنَّ النَّاسُ أَنَّهُ يَدْعُو عَلَيْهِمْ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا، وَائْتِ بِهِمْ»
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)
তুফাইল ইবনে আমর আদ-দাওসী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দাওস গোত্র নাফরমান হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অতএব আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বদদোয়া করুন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কিবলামুখী হয়ে তাঁর উভয় হাত উপরে তুললেন। লোকজন মনে করলো, নবী(সাঃ) তাদেরকে বদদোয়া করবেন। কিন্তু তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হেদায়াত দান করো এবং তাদেরকে মুসলমানদের সাথে মিলিয়ে দাও।--(বুখারী, মুসলিম)
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَحَطَ الْمَطَرُ عَامًا، فَقَامَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَحَطَ الْمَطَرُ، وَأَجْدَبَتِ الْأَرْضُ، وَهَلَكَ الْمَالُ. فَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَمَا يُرَى فِي السَّمَاءِ مِنْ سَحَابَةٍ، فَمَدَّ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ يَسْتَسْقِي اللَّهَ، فَمَا صَلَّيْنَا الْجُمُعَةَ حَتَّى أَهَمَّ الشَّابُّ الْقَرِيبُ الدَّارِ الرُّجُوعَ إِلَى أَهْلِهِ، فَدَامَتْ جُمُعَةٌ، فَلَمَّا كَانَتِ الْجُمُعَةُ الَّتِي تَلِيهَا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ، وَاحْتَبَسَ الرُّكْبَانُ. فَتَبَسَّمَ لِسُرْعَةِ مَلَالِ ابْنِ آدَمَ وَقَالَ بِيَدِهِ: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا، وَلَا عَلَيْنَا» ، فَتَكَشَّطَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
এক বছর অনাবৃষ্টি হলো। মুসলমানদের একজন জুমুআর দিন নবী (সাঃ)-এর সামনে দাড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনাবৃষ্টি চলছে, ভূমি শুষ্ক (চৌচির) হয়ে গেছে, সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর দুই হাত উর্ধ্বে তুললেন। তখন আকাশে মেঘ ছিলো না। তিনি তাঁর দুই হাত এতো প্রসারিত করলেন যে, আমি তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করলেন। আমরা জুমুআর নামায শেষ না করতেই এমন বৃষ্টি হলো যে, নিকটস্থ বাড়ি-ঘরের যুবকরা ফিরে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো। সপ্তাহ ধরে অবিরত বৃষ্টি হতে থাকলো। পরবর্তী জুমুআ উপস্থিত হলে লোকজন বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়ছে। কাফেলার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আদম সন্তানের এতো তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে যাওয়াতে মৃদু হাসলেন এবং হাত তুলে বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের উপর আর নয়”। ফলে মদীনার আকাশ থেকে মেঘ চলে গেলো (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুয়াত্তা মালিক)
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৬১৭
حَدَّثَنَا الصَّلْتُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهَا، أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو رَافِعًا يَدَيْهِ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَلَا تُعَاقِبْنِي، أَيُّمَا رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ آذَيْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ فَلَا تُعَاقِبْنِي فِيهِ»
বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)
তিনি নবী (সাঃ)-কে তাঁর দুই হাত তুলে দোয়া করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর দোয়ায় বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমি একজন মানুষই। অতএব তুমি আমাকে শাস্তি দিও না। আমি যদি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিয়ে থাকি বা গালি দিয়ে থাকি, তবে তুমি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিও না” (মুসলিম, আবু দাউদ)।