বিবিধ বিষয়

৮/১. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি নিজ ঘরের কাজকর্ম করে।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: مَا كَانَ يَصْنَعُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَهْلِهِ؟ فَقَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ خَرَجَ

বর্ণনাকারী আসওয়াদ (র)

আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার পরিবারবর্গের সাথে অবস্থানকালে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, পরিবারের কাজকর্ম করতেন এবং নামাযের ওয়াক্ত হলে বের হয়ে যেতেন। (বুখারী, তিরমিযী)

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪১

حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: يَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَعْمَلُ مَا يَعْمَلُ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ

বর্ণনাকারী হিশাম ইবনে উরওয়া (র)

তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) তার ঘরে অবস্থানকালে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তিনি তার জুতা মেরামত করতেন এবং লোকজন নিজ ঘরে সাধারণত যা করে থাক, তিনিও তাই করতেন (আবু দাউদ)।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪২

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ: مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: مَا يَصْنَعُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ، يَخْصِفُ النَّعْلَ، وَيَرْقَعُ الثَّوْبَ، وَيَخِيطُ

বর্ণনাকারী হিশাম (র)

তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) তাঁর ঘরে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি নিজ ঘরে যা করে থাকে, তিনি জুতা মেরামত করতেন, কাপড়ে তালি দিতেন এবং সেলাই করতেন (আবু দাউদ)।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، قِيلَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: مَاذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ، يَفْلِي ثَوْبَهُ، وَيَحْلِبُ شَاتَهُ

বর্ণনাকারী আমর (র)

আয়েশা (রাঃ)-কে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার ঘরে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তিনি তো লোকজনের মতো একজন মানুষই ছিলেন। তিনি তাঁর কাপড় পরিষ্কার করতেন এবং তাঁর বকরীর দুধ দোহন করতেন (শামাইলে তিরমিযী, বাযযার)।

৮/২. অধ্যায়ঃ

কেউ তার কোন ভাইকে মহব্বত করলে তাকে যেন তা অবগত করে।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ ثَوْرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ أَنَّهُ أَحَبَّهُ»

বর্ণনাকারী মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রাঃ)

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার অপর (মুসলমান) ভাইকে মহব্বত করলে সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে মহব্বত করে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: لَقِيَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِي مِنْ وَرَائِي، قَالَ: أَمَا إِنِّي أُحِبُّكَ، قَالَ: أَحَبَّكَ الَّذِي أَحْبَبْتَنِي لَهُ، فَقَالَ: لَوْلَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فَلْيُخْبِرْهُ أَنَّهُ أَحَبَّهُ» مَا أَخْبَرْتُكَ، قَالَ: ثُمَّ أَخَذَ يَعْرِضُ عَلَيَّ الْخِطْبَةَ قَالَ: أَمَا إِنَّ عِنْدَنَا جَارِيَةً، أَمَا إِنَّهَا عَوْرَاءُ

বর্ণনাকারী মুজাহিদ (র)

নবী (সাঃ)-এর কোন এক সাহাবী আমার সাথে সাক্ষাত করলেন। তিনি আমার পেছন দিক থেকে আমার কাঁধ ধরে বলেন, শোন! আমি তোমাকে ভালোবাসি। রাবী বলেন, আমি বললাম, যে সত্তার (সন্তুষ্টির) জন্য আপনি আমাকে ভালোবাসেন, তিনি যেন আপনাকে ভালোবাসেন। সাহাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যদি একথা না বলতেনঃ “কেউ কাউকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে অবহিত করে যে, সে তাকে ভালোবাসে”, তবে আমি তোমাকে তা অবহিত করতাম না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, শোন! আমার কাছে একটি বালিকা আছে। তবে তার এক চোখ অন্ধ।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪৬

حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا تَحَابَّا الرَّجُلَانِ إِلَّا كَانَ أَفْضَلُهُمَا أَشَدَّهُمَا حُبًّا لِصَاحِبِهِ»

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি পরস্পরকে মহব্বত করলে, তাদের মধ্যে যে অপরজনকে অধিক মহব্বত করে সে অধিক উত্তম। (হাকিম, ইবনে হিব্বান)

৮/৩. অধ্যায়ঃ

কেউ কাউকে মহব্বত করলে সে যেন তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয় এবং তার নিকট কিছু না চায়।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، أَنَّ أَبَا الزَّاهِرِيَّةِ حَدَّثَهُ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّهُ قَالَ: إِذَا أَحْبَبْتَ أَخًا فَلَا تُمَارِهِ، وَلَا تُشَارِّهِ، وَلَا تَسْأَلْ عَنْهُ، فَعَسَى أَنْ تُوَافِيَ لَهُ عَدُوًّا فَيُخْبِرَكَ بِمَا لَيْسَ فِيهِ، فَيُفَرِّقَ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ---[قال الشيخ الألباني] : صحيح الإسناد موقوفا وروي عنه مرفوعا

বর্ণনাকারী মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ)

তুমি তোমার কোন (মুসলমান) ভাইকে মহব্বত করলে তার সাথে ঝগড়া করবে না, তার ক্ষতি সাধনের চিন্তাও করবে না এবং তার কাছে কিছু চাইবেও না। এমন যেন না হয় যে, তুমি শক্রর খপ্পরে পড়ে যাও এবং সে তোমাকে তার সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার মধ্যে নেই। এভাবে সে তোমার ও তার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে (জামে সগীর, হিলইয়া)।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪৮

حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ أَحَبَّ أَخًا لِلَّهِ، فِي اللَّهِ، قَالَ: إِنِّي أُحِبُّكَ لِلَّهِ، فَدَخَلَا جَمِيعًا الْجَنَّةَ، كَانَ الَّذِي أَحَبَّ فِي اللَّهِ أَرْفَعَ دَرَجَةً لِحُبِّهِ، عَلَى الَّذِي أَحَبَّهُ لَهُ "

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবন আমর (র)

নবী (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাঁর অপর ভাইকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে মহব্বত করে এবং বলে, আমি তোমাকে আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে মহব্বত করি, তারা উভয়ে জান্নাতে দাখিল হবে। যার মহব্বত অধিক প্রবল হবে সে তার ভাইকে মহব্বত করার কারণে অধিক মর্যাদাবান হবে।

৮/৪. অধ্যায়ঃ

অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ৫৪৯

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَهُ بِصِفِّينَ يَقُولُ: إِنَّ الْعَقْلَ فِي الْقَلْبِ، وَالرَّحْمَةَ فِي الْكَبِدِ، وَالرَّأْفَةَ فِي الطِّحَالِ، وَالنَّفَسَ فِي الرِّئَةِ "

বর্ণনাকারী ইয়াদ ইবনে খলীফা (র)

তিনি তাকে সিফফীন নামক স্থানে বলতে শুনেছেন, অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল, করুণার স্থান হৃদপিণ্ড, মায়া-মমতার স্থান যকৃত এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্থান ফুসফুস।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18