গান-বাজনা ও অলসতা
১১/১. অধ্যায়ঃ
কারো বক্তব্য, আল্লাহর মর্জি ও আপনার মর্জি।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَجْلَحِ، عَنْ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، قَالَ: «جَعَلْتَ لِلَّهِ نِدًّا، مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ»
বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-কে বললো, আল্লাহর মর্জি এবং আপনার মর্জি। তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর সাথে শরীক করলে। বলো, একমাত্র আল্লাহর মর্জি। -(আহমাদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, দারিমী, তাহাবী)
১১/২. অধ্যায়ঃ
গান-বাজনা ও তামাশা।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৮৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ إِلَى السُّوقِ، فَمَرَّ عَلَى جَارِيَةٍ صَغِيرَةٍ تُغَنِّي، فَقَالَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ لَوْ تَرَكَ أَحَدًا لَتَرَكَ هَذِهِ
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনে দীনার (র)
আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার সাথে বাজারে গেলাম। তিনি সঙ্গীতরত একটি বালিকাকে অতিক্রম করতে করতে বলেন, শয়তান যদি কাউকেও ত্যাগ করতো তবে একেও ত্যাগ করতো (বাযযার, দারাওয়ারদী)।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرًا مَوْلَى الْمُطَّلِبِ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَسْتُ مِنْ دَدٍ، وَلَا الدَّدُ مِنِّي بِشَيْءٍ» ، يَعْنِي: لَيْسَ الْبَاطِلُ مِنِّي بِشَيْءٍ
বর্ণনাকারী আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমি খেল-তামাশা পছন্দ করি না এবং খেল-তামাশারও আমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। অর্থাৎ আমার সাথে বাতিলের কোন সম্পর্ক নাই।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯১
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} [لقمان: 6] ، قَالَ: الْغِنَاءُ وَأَشْبَاهُهُ
বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)
“এমন কতক লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ভ্ৰষ্ট করার লক্ষ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে” (সূরা লোকমান : ৬)। তা হচ্ছে গান-বাজনা ও অনুরূপ বস্তুসমূহ। (তাবারী)
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْفَزَارِيُّ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَا: أَخْبَرَنَا قِنَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النَّهْمِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْشُوا السَّلَامَ تَسْلَمُوا، وَالْأَشَرَةُ شَرٌّ» قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ: وَالْأَشَرُ: الْعَبَثُ.
বর্ণনাকারী বারাআ ইবনে আযেব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা সালামের বহুল প্রচলন করো, শান্তিতে থাকতে পারবে। অনর্থক কথাবার্তা ক্ষতিকর। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, ইবনে হিব্বান, মুখতারাত)
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯৩
حَدَّثَنَا عِصَامٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ سُمَيْرٍ الْأَلَهَانِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، وَكَانَ بِجَمْعٍ مِنَ الْمَجَامِعِ، فَبَلَغَهُ أَنَّ أَقْوَامًا يَلْعَبُونَ بِالْكُوبَةِ، فَقَامَ غَضْبَانَ يَنْهَى عَنْهَا أَشَدَّ النَّهْيِ، ثُمَّ قَالَ: أَلَا إِنَّ اللَّاعِبَ بِهَا لَيَأْكُلُ ثَمَرَهَا، كَآكِلِ لَحْمِ الْخِنْزِيرِ، وَمُتَوَضِّئٍ بِالدَّمِ. يَعْنِي بِالْكُوبَةِ: النَّرْدَ
বর্ণনাকারী ফাদালা ইবনে উবাইদ (র)
তিনি কোন এক মজলিসে বসা ছিলেন। তখন তিনি জানতে পারলেন যে, কতক লোক দাবা খেলায় মত্ত আছে। তিনি ক্রোধান্বিত অবস্থায় তৎক্ষণাৎ উঠে গিয়ে তাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন, অতঃপর বললেন, সাবধান! যারা পাশা খেলে এবং তার ফল (উপার্জন) খায় তারা শূকরের গোশত ভক্ষণকারী এবং রক্ত দিয়ে উযুকারীর সমতুল্য।
১১/৩. অধ্যায়ঃ
উত্তম চালচলন ও জীবনপ্রণালী।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ حَصِيرَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ: إِنَّكُمْ فِي زَمَانٍ: كَثِيرٌ فُقَهَاؤُهُ، قَلِيلٌ خُطَبَاؤُهُ، قَلِيلٌ سُؤَّالُهُ، كَثِيرٌ مُعْطُوهُ، الْعَمَلُ فِيهِ قَائِدٌ لِلْهَوَى. وَسَيَأْتِي مِنْ بَعْدِكُمْ زَمَانٌ: قَلِيلٌ فُقَهَاؤُهُ، كَثِيرٌ خُطَبَاؤُهُ، كَثِيرٌ سُؤَّالُهُ، قَلِيلٌ مُعْطُوهُ، الْهَوَى فِيهِ قَائِدٌ لِلْعَمَلِ، اعْلَمُوا أَنَّ حُسْنَ الْهَدْيِ، فِي آخِرِ الزَّمَانِ، خَيْرٌ مِنْ بَعْضِ الْعَمَلِ
বর্ণনাকারী ইবনে মাসউদ (রাঃ)
তোমরা এমন একটি যুগে আছো যে সময় ফকীহগণের সংখ্যা অধিক, বক্তাগণের সংখ্যা কম, যাঞ্চাকারীর সংখ্যা কম, দাতার সংখ্যা অধিক এবং আমল হচ্ছে প্রবৃত্তির পরিচালক। কিন্তু তোমাদের পর অচিরেই এমন এক যুগ আসবে যখন ফকীহগণের সংখ্যা হবে কম, বক্তার সংখ্যা হবে প্রচুর, যাঞ্চাকারীর সংখ্যা হবে অধিক, দাতার সংখ্যা হবে অল্প এবংপ্রবৃত্তিই হবে আমলের পরিচালক। জেনে রাখো! আখেরী যমানায় উত্তম স্বভাব হবে কোন কোন আমলের চেয়েও উত্তম। -(মুয়াত্তা মালিক)
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: رَأَيْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ، وَلَا أَعْلَمُ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ رَجُلًا حَيًّا رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرِي، قَالَ: وَكَانَ أَبْيَضَ، مَلِيحَ الْوَجْهِ
বর্ণনাকারী আল-জুরাইরী (র)
আমি আবুত তুফাইল (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি নবী (সাঃ)-কে দেখেছেন? তিনি বলেন, হাঁ। আমার জানামতে যারা তাঁকে দেখেছেন আমি ছাড়া তাদের কেউ ভূপৃষ্ঠে বেঁচে নাই। তিনি ছিলেন ফর্সা ও লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী (মুসলিম, হা/৫৮৬২)।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯৬
وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ قَالَ: كُنْتُ أَنَا وَأَبُو الطُّفَيْلِ نَطُوفُ بِالْبَيْتِ، قَالَ أَبُو الطُّفَيْلِ: مَا بَقِيَ أَحَدٌ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرِي، قُلْتُ: وَرَأَيْتَهُ؟ قَالَ: نَعَمْ، قُلْتُ: كَيْفَ كَانَ؟ قَالَ: كَانَ أَبْيَضَ مَلِيحًا مُقَصَّدًا
বর্ণনাকারী আল-জুরাইরী (র)
আমি ও আবুত তুফাইল আমের ইবনে ওয়াসেলা আল-কানানী (রাঃ) আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করছিলাম। তখন আবুত তুফাইল (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ)-কে দেখেছেন, আমি ছাড়া এমন কেউ আর বেঁচে নাই। আমি বললাম, আপনি কি তাঁকে দেখেছেন? তিনি বলেন, হাঁ। আমি বললাম, তিনি কেমন ছিলেন? তিনি বলেন, তিনি ছিলেন ফর্সা, লাবণ্যময়, মধ্যম আকৃতির। (মুসলিম, আবু দাউদ)
আবুত তুফাইল (রাঃ) ১০০ হিজরীতে ইনতিকাল করেন। মহানবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণের মধ্যে তিনিই সবশেষে মৃত্যুবরণ করেন (মুসলিম, কিতাবুল ফাদাইল, হাদীস নং ৬০৭১ (৯৮)-(অনুবাদক)।
আদাবুল মুফরাদ
হাদিস নং ৭৯৭
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ قَابُوسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْهَدْيُ الصَّالِحُ، وَالسَّمْتُ الصَّالِحُ، وَالِاقْتِصَادُ، جُزْءٌ مِنْ خَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ»
বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)
নবী (সাঃ) বলেনঃ উত্তম চালচলন, উত্তম স্বভাব, উত্তম আচরণ এবং মিতাচার নবুয়াতের পঁচিশ ভাগের এক ভাগ। -(মুয়াত্তা মালিক, আবু দাউদ, আহমাদ)