রমজান মাস

৬/১. অধ্যায়ঃ

রমজান মাসের কিয়াম

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، - قَالَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ ثُمَّ يَقُولُ ‏"‏ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ رضى الله عنه ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ عُقَيْلٌ وَيُونُسُ وَأَبُو أُوَيْسٍ ‏"‏ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ ‏"‏ ‏.‏ وَرَوَى عُقَيْلٌ ‏"‏ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমজান মাসের কিয়ামে খুবই উৎসাহী ছিলেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে লোকদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে সালাতে দাঁড়ায়, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল পর্যন্ত এর বিধান এরূপই থাকলো। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) এর পূর্ণ খিলাফত ও উমর (রাঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকেও এ নিয়ম চালু থাকে। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন উকাইল, ইউনুস ও আবু উওয়াইস। তবে তাতে রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের সাওম পালন ও কিয়াম করে’।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। কিন্তু বুখারীতে “রসূলুল্লাহর ইন্তিকাল পর্যন্ত...” অংশটুকু যুহরীর বক্তব্য হিসেবে এসেছে।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭২

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

তিনি এ হাদীস নবী (ﷺ) এর সূত্রে বর্ণনা করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানে সাওম পালন করে তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে কিয়াম করে তারও পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ ‏ "‏ قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّي خَشِيتُ أَنْ يُفْرَضَ عَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

নবী (ﷺ) মসজিদে (তারাবীহ) সালাত আদায় করলে লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলো। পরবর্তী রাতেও তিনি সালাত আদায় করেন এবং তাতে অনেক লোকের সমাগম হয়। অতঃপর পরবর্তী (তৃতীয়) রাতেও লোকজন সমবেত হলো, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেরিয়ে তাদের কাছে এলেন না। অতঃপর ভোর হলে তিনি বললেন: তোমরা কি করেছো আমি তা দেখেছি। তবে তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হতে পারে, এ আশঙ্কায় আমি তোমাদের কাছে আসিনি। এটি রমজান মাসের ঘটনা।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي الْمَسْجِدِ فِي رَمَضَانَ أَوْزَاعًا فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَرَبْتُ لَهُ حَصِيرًا فَصَلَّى عَلَيْهِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَتْ فِيهِ قَالَ - تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - ‏ "‏ أَيُّهَا النَّاسُ أَمَا وَاللَّهِ مَا بِتُّ لَيْلَتِي هَذِهِ بِحَمْدِ اللَّهِ غَافِلاً وَلاَ خَفِيَ عَلَىَّ مَكَانُكُمْ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)

লোকেরা রমজান মাসে মসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করত। আমার প্রতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ মোতাবেক আমি তাঁর জন্য একটা মাদুর বিছিয়ে দিলে তিনি তার উপর সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহর শপথ! আল্লাহর প্রশংসা, আমার রাতটি আমি গাফিলভাবে অতিবাহিত করি নাই এবং তোমাদের অবস্থাও আমার নিকট গোপন থাকেনি।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ فَلَمَّا كَانَتِ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا قِيَامَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَلَمَّا كَانَتِ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ فَلَمَّا كَانَتِ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلاَحُ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ مَا الْفَلاَحُ قَالَ السُّحُورُ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ ‏.

বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)

আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রমজান মাসের সাওম পালন করতাম। তিনি এ মাসে (প্রথম দিকের অধিকাংশ দিনই) আমাদেরকে নিয়ে (তারাবিহ) সালাত আদায় করেননি।অতঃপর রমজানের সাত দিন বাকী থাকতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। তিনি পরবর্তী রাতে আমাদেরকে নিয়ে (মসজিদে) সালাত আদায় করলেন না।অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে অর্ধেক রাত অতিবাহিত করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি এ পুরো রাতটি আমাদেরকে নিয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তি ইমামের সাথে (‘ঈশার) সালাত আদায় করে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে পুরো রাতের সালাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য করা হয়।অতঃপর পরবর্তী চতুর্থ রাতে তিনি (মসজিদে) সালাত আদায় করেননি।যখন তৃতীয় রাত এলো তিনি তার পরিবার-পরিজন, স্ত্রী ও অন্য লোকদের একত্র করলেন এবং আমাদেরকে নিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করলেন যে, আমরা ‘ফালাহ’ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করলাম। জুবাইর ইবনু নুফাইর বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ফালাহ’ কি? তিনি বললেন, সেহরি খাওয়া।অতঃপর তিনি এ মাসের অবশিষ্ট রাতে আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতে দাঁড়াননি।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭৬

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَدَاوُدُ بْنُ أُمَيَّةَ، أَنَّ سُفْيَانَ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، - وَقَالَ دَاوُدُ عَنِ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ، - عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَبُو يَعْفُورٍ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

রমজানের শেষ দশক এলে নবী (ﷺ) সারা রাতই জাগ্রত থাকতেন, (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) শক্তভাবে কোমর বাঁধতেন এবং পরিবারের লোকদের জাগাতেন।

সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أُنَاسٌ فِي رَمَضَانَ يُصَلُّونَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ ‏"‏ مَا هَؤُلاَءِ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ هَؤُلاَءِ نَاسٌ لَيْسَ مَعَهُمْ قُرْآنٌ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّي وَهُمْ يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَصَابُوا وَنِعْمَ مَا صَنَعُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَيْسَ هَذَا الْحَدِيثُ بِالْقَوِيِّ مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ ضَعِيفٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

একদা রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেরিয়ে দেখলেন যে, মসজিদের একপাশে কতিপয় লোক সালাত আদায় করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা কারা? বলা হলো, এরা কুরআন মুখস্থ না জানার কারণে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) এর ইমামতিতে (তারাবীহ) সালাত আদায় করছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ এরা ঠিকই করছে এবং চমৎকার কাজই করছে! ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদিস শক্তিশালী নয়। মুসলিম ইবনু খালিদ (রহঃ) দুর্বল বর্ণনাকারী।

দুর্বল।[১৩৭৭] বায়হাক্বী ‘সুনান’ (২/১৯৫) মুসলিম ইবনু খালিদ হতে। সানাদের মুসলিম ইবনু খালিদকে ইমাম আবূ দাউদ দুর্বল বলেছেন। অনুরূপ বলেছেন হাফিয ‘আত-ত্বাকরীব’ গ্রন্থে।

৬/২. অধ্যায়ঃ

কদরের রাত সম্পর্কে

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قُلْتُ لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَخْبِرْنِي عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، يَا أَبَا الْمُنْذِرِ فَإِنَّ صَاحِبَنَا سُئِلَ عَنْهَا ‏.‏ فَقَالَ مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْهَا ‏.‏ فَقَالَ رَحِمَ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ - زَادَ مُسَدَّدٌ وَلَكِنْ كَرِهَ أَنْ يَتَّكِلُوا أَوْ أَحَبَّ أَنْ لاَ يَتَّكِلُوا ثُمَّ اتَّفَقَا - وَاللَّهِ إِنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ لاَ يَسْتَثْنِي ‏.‏ قُلْتُ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَنَّى عَلِمْتَ ذَلِكَ قَالَ بِالآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قُلْتُ لِزِرٍّ مَا الآيَةُ قَالَ تُصْبِحُ الشَّمْسُ صَبِيحَةَ تِلْكَ اللَّيْلَةِ مِثْلَ الطَّسْتِ لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ حَتَّى تَرْتَفِعَ ‏.‏

বর্ণনাকারী যির ইবনু হুবাইশ (রহঃ)

আমি উবাই ইবন কাব (রাঃ)-কে বললাম, হে আবু মুনযির! আমাকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলুন। কেননা আমাদের সাথী (ইবন মাসউদ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘কেউ সারা বছর কিয়ামুল লাইল করলে সে তা পেয়ে যাবে। এ কথা শুনে উবাই বললেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানের প্রতি দয়া করুন। আল্লাহর শপথ! তিনি তো জানেন, কদর রাত রমজান মাসেই রয়েছে।বর্ণনাকারী মুসাদ্দাদ আরো বলেন, তিনি (ইবন মাসউদ) এজন্যই তা প্রকাশে অপছন্দ করেছেন, যেন লোকেরা কোন নির্ধারিত একটি রাতের উপর নির্ভর না করে। অতঃপর উভয় বর্ণনাকারীর বর্ণনা একই রকম। আল্লাহর শপথ! তা হচ্ছে রমজানের সাতাশ তারিখ। আমি বললাম, হে আবু মুনযির! আপনি তা কিভাবে জানলেন?তিনি বললেন, আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বর্ণনাকৃত নিদর্শন দ্বারা। ‘আসিম (রাঃ) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কি নিদর্শন? তিনি বললেন, ঐ রাতের ভোরের সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত নিস্প্রভ থাকবে, যেন একটি থালার মত।

হাসান সহীহঃ মুসলিম।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৭৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ فِي مَجْلِسِ بَنِي سَلِمَةَ وَأَنَا أَصْغَرُهُمْ، فَقَالُوا مَنْ يَسْأَلُ لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَذَلِكَ صَبِيحَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ ‏.‏ فَخَرَجْتُ فَوَافَيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْمَغْرِبِ ثُمَّ قُمْتُ بِبَابِ بَيْتِهِ فَمَرَّ بِي فَقَالَ ‏"‏ ادْخُلْ ‏"‏ ‏.‏ فَدَخَلْتُ فَأُتِيَ بِعَشَائِهِ فَرَآنِي أَكُفُّ عَنْهُ مِنْ قِلَّتِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ ‏"‏ نَاوِلْنِي نَعْلِي ‏"‏ ‏.‏ فَقَامَ وَقُمْتُ مَعَهُ فَقَالَ ‏"‏ كَأَنَّ لَكَ حَاجَةً ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ أَجَلْ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ رَهْطٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ يَسْأَلُونَكَ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَقَالَ ‏"‏ كَمِ اللَّيْلَةُ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ اثْنَتَانِ وَعِشْرُونَ قَالَ ‏"‏ هِيَ اللَّيْلَةُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ ‏"‏ أَوِ الْقَابِلَةُ ‏"‏ ‏.‏ يُرِيدُ لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ ‏.‏

বর্ণনাকারী দামরাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র

একবার আমি বনু সালামার মজলিসে উপস্থিত হই এবং সেখানে আমিই ছিলাম বয়সে ছোট। তারা বললেন, আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কদর রাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার মত কেউ আছে কি?ঘটনাটি রমজানের একুশ তারিখ সকাল বেলার। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি এ উদ্দেশে বের হই এবং মাগরিবের সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাক্ষাত লাভ করি। আমি তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। তিনি আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে ভিতরে প্রবেশ করতে বললে আমি প্রবেশ করি।এ সময় তাঁর রাতের খাবার আনা হলো। খাবার কম থাকায় আমি সামান্য খেয়েছি। তিনি খাওয়া শেষ করে বললেন: আমার জুতা দাও। এরপর তিনি উঠলে আমিও তাঁর সাথে উঠি।তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কোনো প্রয়োজন আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ, বনু সালামার লোকেরা আপনার নিকট ‘লাইলাতুল কদর’ (কদরের রাত) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার জন্যে আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: আজ কত তারিখ? আমি বললাম, বাইশ। তিনি বললেন: তা আজ রাতেই। তিনি তেইশ তারিখের রাতের দিকে ইংগিত করেন।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ১৩৮০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي بَادِيَةً أَكُونُ فِيهَا وَأَنَا أُصَلِّي فِيهَا بِحَمْدِ اللَّهِ فَمُرْنِي بِلَيْلَةٍ أَنْزِلُهَا إِلَى هَذَا الْمَسْجِدِ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ انْزِلْ لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لاِبْنِهِ كَيْفَ كَانَ أَبُوكَ يَصْنَعُ قَالَ كَانَ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ فَلاَ يَخْرُجُ مِنْهُ لِحَاجَةٍ حَتَّى يُصَلِّيَ الصُّبْحَ فَإِذَا صَلَّى الصُّبْحَ وَجَدَ دَابَّتَهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فَجَلَسَ عَلَيْهَا فَلَحِقَ بِبَادِيَتِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস আল-জুহানী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার একটি খামার রয়েছে, আমি ওখানেই অবস্থান করি এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি ওখানেই সালাত আদায় করি। কাজেই আমাকে এমন একটি রাতের নির্দেশ দিন, যে রাতে আমি এ মসজিদে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) অবস্থান করব। তিনি বললেনঃ তেইশ তারিখের রাতে অবস্থান করো। বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম বলেন, আমি তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করি, তোমার পিতা কেমন করতেন? তিনি বলেন, তিনি আসরের সালাত আদায় করে মসজিদে প্রবেশ করে ফজরের সালাত পর্যন্ত অবস্থান করতেন, কোনো প্রয়োজনে তিনি সেখান থেকে বের হতেন না। অতঃপর ফজরের সালাত আদায়ের পর মসজিদের দ্বারে রক্ষিত তাঁর সাওয়ারীর উপর চড়ে নিজের খামারে যেতেন।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18