ফিতনা ও বিপর্যয়

৩৭/১. অধ্যায়ঃ

ফিতনা ও তার নিদর্শনাবলীর বর্ণনা

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا فَمَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مَقَامِهِ ذَلِكَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلاَّ حَدَّثَهُ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابُهُ هَؤُلاَءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّىْءُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عَرَفَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী হুযাইফা (রাঃ)

একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সেসবের বর্ণনা দিলেন। কেউ তা স্মরণ রাখল এবং কেউ তা ভুলে গেল। আমার এসব সাথী তা অবহিত আছেন যে, ওই সবের কিছু ঘটলেই আমি তা এরূপ স্মরণ করতে পারি যেরূপ কেউ তার পরিচিত লোকের অনুপস্থিতিতে তার চেহারা স্মরণ রাখে। অতঃপর তাকে দেখা মাত্র চিনে ফেলে।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ فَرُّوخَ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَخْبَرَنِي ابْنٌ لِقَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَصْحَابِي أَمْ تَنَاسَوْا وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلاَثَمِائَةٍ فَصَاعِدًا إِلاَّ قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَاسْمِ قَبِيلَتِهِ .

বর্ণনাকারী হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)

আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সাথীরা ভুলে গেছেন নাকি জেনে-শুনে চুপ আছেন। আল্লাহর কসম! কিয়ামত পর্যন্ত ফিতনার সংখ্যা হবে তিন শতাধিক। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রত্যেকের নাম, পিতার নাম ও গোত্রের নাম আমাদের অবহিত করেছেন।

দুর্বলঃ মিশকাত হা/৫৩৯৩।[৪২৪১] সুয়ূতীর দুররে মানসূর। সানাদের আবদুল্লাহ সম্পর্কে জাহালাত রয়েছে।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪২

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ بَدْرِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " يَكُونُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ أَرْبَعُ فِتَنٍ فِي آخِرِهَا الْفَنَاءُ " .

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এই উম্মতের মাঝে চারটি ফিতনা সংঘটিত হবে, অতঃপর কিয়ামত হবে।

দুর্বলঃ যইফাহ হা/৪৮৩১।[৪২৪২] আহমাদ, হাকিম, আবূ-নু’আইম ‘হিলয়্যা’।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ، حَدَّثَنِي الْعَلاَءُ بْنُ عُتْبَةَ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ هَانِئٍ الْعَنْسِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدُ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الأَحْلاَسِ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِتْنَةُ الأَحْلاَسِ قَالَ " هِيَ هَرَبٌ وَحَرَبٌ ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي وَلَيْسَ مِنِّي وَإِنَّمَا أَوْلِيَائِيَ الْمُتَّقُونَ ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كَوَرِكٍ عَلَى ضِلَعٍ ثُمَّ فِتْنَةُ الدُّهَيْمَاءِ لاَ تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ إِلاَّ لَطَمَتْهُ لَطْمَةً فَإِذَا قِيلَ انْقَضَتْ تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لاَ نِفَاقَ فِيهِ وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لاَ إِيمَانَ فِيهِ فَإِذَا كَانَ ذَاكُمْ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ مِنْ يَوْمِهِ أَوْ مِنْ غَدِهِ "

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ)

একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি ফিতনা সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করলেন, এমনকি তিনি ‘আহলাস’ ফিতনা সম্পর্কে বললেন। তখন একজন বলল, ‘আহলাস’ ফিতনা কী? তিনি বললেন, ‘পলায়ন ও লুটতরাজ।’ অতঃপর আসবে একটি ফিতনা যা হবে আনন্দদায়ক, এর অন্ধকারাচ্ছন্ন ধোঁয়া বের হবে আমার পরিবারের জনৈক ব্যক্তির দু’পায়ের নিচ হতে। সে ধারণা করবে যে সে আমার অন্তর্ভুক্ত, অথচ সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমার বন্ধু হচ্ছে আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ। তারপর জনগণ এমন এক ব্যক্তির অধীনে একতাবদ্ধ হবে, সে যেন পাঁজরের ওপর কোমরের হাড় সদৃশ। অতঃপর তিনি ‘দুহায়মা’ বা ঘন অন্ধকারময় ফিতনা প্রসঙ্গে বলেন, সেই ফিতনা এই উম্মতের কোনো লোককেই একটি চপেটাঘাত না করে ছাড়বে না। অতঃপর যখন বলা হবে যে তা শেষ হয়ে গেছে, তখনই তা আরও প্রসারিত হবে। এ সময় যে লোকটি সকালে মু’মিন ছিল, সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে। অবশেষে সব মানুষ দু’টি শিবিরে বিভক্ত হবে—একটি হবে ঈমানের শিবির যেখানে মুনাফিকী থাকবে না, আর একটি মুনাফিকীর শিবির যেখানে ঈমান থাকবে না। যখন তোমাদের এ অবস্থা হবে, তখন দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের অপেক্ষা করবে ওইদিন বা তার পরের দিন থেকে।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ سُبَيْعِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ أَتَيْتُ الْكُوفَةَ فِي زَمَنِ فُتِحَتْ تُسْتَرُ أَجْلُبُ مِنْهَا بِغَالاً فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا صَدْعٌ مِنَ الرِّجَالِ وَإِذَا رَجُلٌ جَالِسٌ تَعْرِفُ إِذَا رَأَيْتَهُ أَنَّهُ مِنْ رِجَالِ أَهْلِ الْحِجَازِ قَالَ قُلْتُ مَنْ هَذَا فَتَجَهَّمَنِي الْقَوْمُ وَقَالُوا أَمَا تَعْرِفُ هَذَا هَذَا حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ حُذَيْفَةُ إِنَّ النَّاسَ كَانُوا يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ فَأَحْدَقَهُ الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقَالَ إِنِّي قَدْ أَرَى الَّذِي تُنْكِرُونَ إِنِّي قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ هَذَا الْخَيْرَ الَّذِي أَعْطَانَا اللَّهُ أَيَكُونُ بَعْدَهُ شَرٌّ كَمَا كَانَ قَبْلَهُ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَمَا الْعِصْمَةُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ ‏"‏ السَّيْفُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ مَاذَا يَكُونُ قَالَ ‏"‏ إِنْ كَانَ لِلَّهِ خَلِيفَةٌ فِي الأَرْضِ فَضَرَبَ ظَهْرَكَ وَأَخَذَ مَالَكَ فَأَطِعْهُ وَإِلاَّ فَمُتْ وَأَنْتَ عَاضٌّ بِجِذْلِ شَجَرَةٍ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ‏"‏ ثُمَّ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ مَعَهُ نَهْرٌ وَنَارٌ فَمَنْ وَقَعَ فِي نَارِهِ وَجَبَ أَجْرُهُ وَحُطَّ وِزْرُهُ وَمَنْ وَقَعَ فِي نَهْرِهِ وَجَبَ وِزْرُهُ وَحُطَّ أَجْرُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ‏"‏ ثُمَّ هِيَ قِيَامُ السَّاعَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সুবাই ইবনু খালিদ (রহঃ)

তুসতার বিজয় হওয়ার পর কিছু খচ্চর ক্রয় করার জন্য আমি কুফায় আসি। আমি একটি মসজিদে প্রবেশ করে কয়েকজন লোক দেখতে পেলাম এবং মাঝখানে জনৈক ব্যক্তি বসে আছেন। তুমি তাকে দেখেই চিনতে পারবে যে, তিনি হিজাজের অধিবাসী। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তিনি কে? উপস্থিত জনতা আমার প্রতি অসন্তোষের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, তুমি কি তাঁকে চেনো না? তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী হুযাইফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ)।অতঃপর হুযাইফা (রাঃ) বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতো। আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম। একথা শুনে জনতা তা অপছন্দ করতো। নিশ্চয়ই আমি প্রশ্ন করেছি, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি কি ধারণা করেন যে, মহান আল্লাহ যে কল্যাণ আমাদের দিয়েছেন, এর পরে কি কোন অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তাহলে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি? তিনি বললেন, তরবারি।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তারপর কি হবে? তিনি বললেনঃ পৃথিবীতে যদি কোন আল্লাহর খলীফা থাকে, আর সে যদি তোমার পিঠে আঘাত করে এবং তোমার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়, তবুও তার আনুগত্য করো, অন্যথায় তুমি বৃক্ষের কাণ্ড সুদৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরে মৃত্যুবরণ করো।আমি বললাম, তারপর কি হবে? তিনি বললেন, অতঃপর আগুন ও পানির নহর নিয়ে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। যে ব্যক্তি তার আগুনে পতিত হবে, সে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে এবং তার গুনাহ মাফ করা হবে। আর যে তার নহরে পতিত হবে, তার অপরাধের শাস্তি অবধারিত হবে এবং সওয়াব বরবাদ হবে।আমি বললাম, তারপর কি হবে? তিনি বললেনঃ অতঃপর কেয়ামত সংঘটিত হবে।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ خَالِدٍ الْيَشْكُرِيِّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ قُلْتُ بَعْدَ السَّيْفِ قَالَ ‏"‏ بَقِيَّةٌ عَلَى أَقْذَاءٍ وَهُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يَضَعُهُ عَلَى الرِّدَّةِ الَّتِي فِي زَمَنِ أَبِي بَكْرٍ ‏"‏ عَلَى أَقْذَاءٍ ‏"‏ ‏.‏ يَقُولُ قَذَى ‏.‏ ‏"‏ وَهُدْنَةٌ ‏"‏ ‏.‏ يَقُولُ صُلْحٌ ‏"‏ عَلَى دَخَنٍ ‏"‏ ‏.‏ عَلَى ضَغَائِنَ ‏.‏

বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু খালিদ আল-ইয়াশকুরী (রহঃ) সূত্রে উপরের বর্ণিত হাদিসে হুযাইফাহ (রাঃ)

আমি জিজ্ঞেস করলাম, তরবারির পর কি হবে? তিনি বলেন, মানুষ আবর্জনা বা ফিতনায় মগ্ন থাকবে এবং ষড়যন্ত্রমূলক সন্ধি করবে। অতঃপর অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কাতাদাহ একথার দ্বারা আবু বকর (রাঃ) এর যুগের মুরতাদদের ফিতনাকেই বুঝাতেন। আর তিনি أَقْذَاءٍ অর্থ বলতেন قَذى অর্থ কলঙ্ক হুদনা সাময়িক যুদ্ধবিরতি। دخن বিদ্বেষ, অপকারেচ্ছা।

[৪২৪৫] পূর্বের হাদীস দেখুন।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ أَتَيْنَا الْيَشْكُرِيَّ فِي رَهْطٍ مِنْ بَنِي لَيْثٍ فَقَالَ مَنِ الْقَوْمُ فَقُلْنَا بَنُو لَيْثٍ أَتَيْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ حَدِيثِ حُذَيْفَةَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ قَالَ ‏"‏ فِتْنَةٌ وَشَرٌّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ هَذَا الشَّرِّ خَيْرٌ قَالَ ‏"‏ يَا حُذَيْفَةُ تَعَلَّمْ كِتَابَ اللَّهِ وَاتَّبِعْ مَا فِيهِ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مِرَارٍ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ هَذَا الشَّرِّ خَيْرٌ قَالَ ‏"‏ هُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ وَجَمَاعَةٌ عَلَى أَقْذَاءٍ فِيهَا أَوْ فِيهِمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْهُدْنَةُ عَلَى الدَّخَنِ مَا هِيَ قَالَ ‏"‏ لاَ تَرْجِعُ قُلُوبُ أَقْوَامٍ عَلَى الَّذِي كَانَتْ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ قَالَ ‏"‏ فِتْنَةٌ عَمْيَاءُ صَمَّاءُ عَلَيْهَا دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ النَّارِ فَإِنْ تَمُتْ يَا حُذَيْفَةُ وَأَنْتَ عَاضٌّ عَلَى جِذْلٍ خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَتَّبِعَ أَحَدًا مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী নাস্‌র ইবনু ‘আসিম আল-লাইসী (রহঃ)

হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনু মাসলেমা আল-কানআবী (রহঃ), সুলায়মান (ইবনুল মুগীরা) হতে, তিনি হুমায়দ হতে, তিনি নসর ইবনু আসিম আল-লয়থি হতে। আমরা লয়থ গোত্রের একদল লোক আল-ইয়াশকুরীর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেন, আপনারা কোন গোত্রের লোক? আমরা বললাম, আমরা বনী লয়থের, আপনার নিকট হুযাইফা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদিস জানার জন্য এসেছি। অতএব তিনি সে হাদিস বর্ণনা করেন।হুযাইফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ কল্যাণময় পরিবেশের পর কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, ফিতনা ও অকল্যাণ আসবে।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এই মন্দ অবস্থার পর কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, “হে হুযাইফা! তুমি আল্লাহর কিতাব পড়ো এবং তাতে যা আছে তার অনুসরণ করো।” এ কথা তিনি তিনবার বলেন।হুযাইফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এই অকল্যাণের পর আবার কল্যাণ আসবে কি? তিনি বললেন, ধোঁকাবাজির মধ্যে সন্ধি হবে এবং একটি দল থাকবে, যাদের মধ্যে কপটতা থাকবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! ধোঁকার মধ্যে সন্ধি বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন, মানুষের অন্তর পূর্বের অবস্থায় আর ফিরে যাবে না।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কল্যাণকর অবস্থার পর কি অকল্যাণ ফিরে আসবে? তিনি বললেন, অন্ধকার ফিতনা সৃষ্টি হবে, এবং তখন দলে দলে লোক আগুনের দরজার দিকে ডাকবে। হে হুযাইফা! তখন যদি তুমি গাছের শাখা আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো, তবে তা তোমার জন্য তাদের কাউকে অনুসরণ করার চাইতে উত্তম হবে।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ صَخْرِ بْنِ بَدْرٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ سُبَيْعِ بْنِ خَالِدٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ حُذَيْفَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ يَوْمَئِذٍ خَلِيفَةً فَاهْرَبْ حَتَّى تَمُوتَ فَإِنْ تَمُتْ وَأَنْتَ عَاضٌّ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ فِي آخِرِهِ قَالَ قُلْتُ فَمَا يَكُونُ بَعْدَ ذَلِكَ قَالَ ‏"‏ لَوْ أَنَّ رَجُلاً نَتَجَ فَرَسًا لَمْ تُنْتَجْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী হুযাইফা (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেন, তুমি যদি তখন কোন খলীফা (শাসক) না পাও, তবে তুমি মরে যাওয়া পর্যন্ত পলায়ন করতে থাকো। অতঃপর তুমি যদি কোন বৃক্ষমূল শক্তভাবে আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো ...। তিনি হাদিসের শেষাংশে বলেন, আমি বললাম, এরপর কি হবে? তিনি (ﷺ) বললেন, কেউ যদি তখন ঘোড়ার বাচ্চা প্রসব করাতে যায় তবে তা প্রসব করার পূর্বেই কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا رَقَبَةَ الآخَرِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي ‏.‏ قُلْتُ هَذَا ابْنُ عَمِّكَ مُعَاوِيَةُ يَأْمُرُنَا أَنْ نَفْعَلَ وَنَفْعَلَ ‏.‏ قَالَ أَطِعْهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ وَاعْصِهِ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ ‏.

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি একজন ইমামের হাতে হাত রেখে অন্তর থেকে তার আনুগত্যের শপথ করে, তাতে যথাসাধ্য তার আনুগত্য করা কর্তব্য। যদি অপর কোন ব্যক্তি এসে ঐ ইমামের সাথে বিবাদ করে তবে তোমরা তার ঘাড়ে আঘাত করো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, একথা কি আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন? তিনি বললেন, আমার দুটি কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে। আমি বললাম, এই যে তিনি আপনার চাচাতো ভাই মুয়াবিয়া, তিনি আমাদেরকে এই এই কাজ করার আদেশ করেন। তিনি বললেন, আল্লাহর আনুগত্যে তোমরা তার আনুগত্য করো আর আল্লাহর নাফরমানিতে তার অবাধ্যচরণ করো।

সুনানে আবু দাউদ

হাদিস নং ৪২৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

নবি (ﷺ) বলেন, আরববাসীদের জন্য আফসোস! কেননা তাদের উপর অকল্যাণ ঘনিয়ে এসেছে। যে ব্যক্তি তা হতে হাত গুটিয়ে রাখবে, সে সফল হবে।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18