৯:২৪

قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٰنُكُمْ وَأَزْوَٰجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٰلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَـٰرَةٌۭ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَـٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍۢ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَـٰسِقِينَ ٢٤

Ahsanul Bayaan

বল, ‘তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা কর আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত’। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।

"Ibn Kathir Full" এর তাফসীর (বাংলা)

২৩-২৪ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে মুমিনদেরকে নিষেধ করছেন, যদিও তারা তাদের মাতা, পিতা, ভাই, বোন প্রভৃতি হাক না কেন, যদি তারা ইসলামের উপর কুফরীকে পছন্দ করে নেয়। অন্য আয়াতে রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী!) যারা আল্লাহর উপর ও পরকালের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তাদেরকে তুমি পাবে না যে, তারা বন্ধুত্ব রাখবে এমন লোকদের সাথে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সাথে শত্রুতা রাখে, যদিও তারা তাদের পিতা হয় বা ছেলে হয় অথবা ভাই হয় কিংবা স্বগোত্রীয় হয়। এরা তারাই, যাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন এবং স্বীয় বিশেষ রুহ দ্বারা তাদেরকে সাহায্য করেছেন, তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবিষ্ট করবেন যেগুলোর নীচ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে।” (৫৮:২২)ইমাম বায়হাকী (রঃ) স্বীয় হাদীস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, বদরের যুদ্ধের দিন আবু উবাইদাহ্ ইবনে জাররাহ (রাঃ)-এর পিতা তার সামনে এসে মূর্তির প্রশংসা করতে শুরু করে দেয়। তিনি তাকে বারবার বিরত রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে বেড়েই চলে। তখন পিতা-পুত্রে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আবু উবাইদাহ (রাঃ) স্বীয় পিতাকে হত্যা করে দেন। তখন আল্লাহ তাআলা (আরবী)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে আদেশ করছেন যে, যারা তাদের পরিবারবর্গকে, আত্মীয়-স্বজনকে এবং স্বগোত্রীয়দেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর উপর প্রাধান্য দেয় তাদেরকে যেন তিনি ভীতি প্রদর্শন করে বলেনঃ “যদি তোমাদের পিতাগণ, তোমাদের পুত্রগণ, তোমাদের ভ্রাতাগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের স্বগোত্র, আর ঐ সব ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছে, আর ঐ ব্যবসা যাতে তোমরা মন্দা পড়বার আশংকা করছো, (যদি এই সব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর চেয়ে, তবে তোমরা প্রতীক্ষা করতে থাকো এই পর্যন্ত যে, আল্লাহ নিজের নির্দেশ পাঠিয়ে দেন, আর আল্লাহ আদেশ অমান্যকারীদেরকে তাদের উদ্দিষ্ট স্থল পর্যন্ত পৌঁছান না।”মা’বাদ (রাঃ) তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (তাঁর দাদা) বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ) -এর সাথে পথ চলছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সঃ) উমার (রাঃ)-এর হাত ধরেছিলেন। উমার (রাঃ) তাকে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আল্লাহর কসম! আপনি আমার নিকট আমার প্রাণ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে প্রিয়তম।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “তোমাদের কেউই (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না যে পর্যন্ত আমি তার কাছে তার প্রাণ অপেক্ষাও প্রিয় না হই।” উমার (রাঃ) তখন বললেনঃ “আপনি এখন আমার কাছে আমার জীবন থেকেও প্রিয়।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বললেনঃ “হে উমার! তুমি এখন (পূর্ণ মুমিন হলে)।” (ইমাম বুখারী (রঃ) একাই এ হাদীসটি তাখরীজ করেছেন)সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার শপথ! তোমাদের কেউই (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না যে পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সমস্ত লোক অপেক্ষা প্রিয়তম না হই।” মুসনাদে আহমাদে ও সুনানে আবি দাউদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা ‘আয়ন'-এর ক্রয়-বিক্রয় শুরু করবে, বলদ-গাভীর লেজ ধারণ কবে এবং জিহাদ ছেড়ে দেবে তখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে লাঞ্ছনায় পতিত করবেন, আর তা দূর হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা নিজেদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে।”

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18