সৃষ্টির প্রতি দয়া

১৬/১. অধ্যায়ঃ

সৃষ্টির প্রতি দয়া

ঊপদেশ

হাদিস নং ২২৩

عَن جَرِيرِ بْنِ عَبْدُ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لَا يَرْحَمُ اللهُ مَنْ لَا يَرْحَمُ النَّاسَ

বর্ণনাকারী জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা সে ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করেন না যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৪৭)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২২৪

عَن عائشةَ قَالَتْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ أَتُقَبِّلُوْنَ الصِّبْيَانَ؟ فَمَا نُقَبِّلُهُمْ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أوَ أَمْلِكُ لَكَ أَنْ نَزَعَ اللهُ مِنْ قَلْبِكَ الرَّحْمَةَ.

বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)

একদা এক বেদুঈন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে আসল (সে দেখল ছাহাবায়ে কেরাম নিজেদের শিশু সন্তানদের চুমু দিয়ে আদর করছেন।) তখন সে বলল, তোমরা কি শিশুদেরকে চুম্বন কর? আমরা তো শিশুদের চুম্বন করি না। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, যদি আল্লাহ তা‘আলা তোমার অন্তর হতে স্নেহ-মমতা বের করে ফেলেন তবে আমি কি তা বাধা দিতে সক্ষম হব?’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৪৮)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২২৫

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَتْ جَاءَتْنِيْ امْرَأَةٌ مَعَهَا ابْنَتَانِ تَسْأَلُنِيْ فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِيْ غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ فَأَعْطَيْتُهَا فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ فَدَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ مَنْ يَلِي مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ شَيْئًا فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنْ النَّارِ.

বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)

একদা এক মহিলা তার দু’টি কন্যা সাথে নিয়ে আমার কাছে আসল। মহিলাটি আমার কাছে কিছু ভিক্ষা চাইল। তখন আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছু ছিল না। আমি তা তাকে দিয়ে দিলাম। সে তা দুই ভাগ করে তার দুই কন্যাকে দিলো এবং নিজে তা থেকে কিছু খেল না। তারপর সে উঠে চলে গেলো। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাড়িতে প্রবেশ করলেন। আমি ঘটনাটি তাঁর কাছে পেশ করলাম। তখন তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি কন্যাদের ব্যাপারে সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, তাহলে এই কন্যাগণ তার জন্য জাহান্নামের অন্তরাল হবে’ (বুখারী হা/৫৯৯৫; মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৪৯)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২২৬

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ هَكَذَا وَضَمَّ أَصَابِعَهُ-

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দু’টি কন্যার লালন-পালন করবে তাদের পূর্ণ বয়স্কা হওয়া পর্যন্ত, ক্বিয়ামতের দিন সে আমার সাথে এভাবে আসবে। এ বলে তিনি নিজের আঙ্গুলসমূহ একত্রিত করে দেখালেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫০)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২২৭

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم السَّاعِيْ عَلَى الْأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِيْنِ كَالْمُجَاهِدِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَأَحْسِبُهُ قَالَ يَشُكُّ الْقَعْنَبِيُّ كَالْقَائِمِ لَا يَفْتُرُ وَكَالصَّائِمِ لَا يُفْطِرُ-

বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘বিধবা ও মিসকীনদের সহযোগী আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায় এবং তাহাজ্জুদগুযার ব্যক্তির ন্যায়, যে অলস হয় না এবং এমন ছিয়াম পালনকারীর ন্যায়, যে ইফতার করে না’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫১)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২২৮

عَنْ سَهْلٍ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَأَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيْمِ فِي الْجَنَّةِ هَكَذَا وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى وَفَرَّجَ بَيْنَهُمَا شَيْئًا.

বর্ণনাকারী সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি ও ইয়াতীম পালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। তিনি তরজনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের মধ্যে সামান্য ফাঁকা রেখে ইশারা করে দেখালেন’ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৯৫২ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২২৯

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم تَرَى الْمُؤْمِنِيْنَ فِيْ تَرَاحُمِهِمْ وَتَوَادِّهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ إِذا اشْتَكَى عُضْوًا تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى.

বর্ণনাকারী নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ)

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘তুমি ঈমানদারদেরকে তাদের পারস্পরিক সহানুভূতি, বন্ধুত্ব ও দয়া-অনুগ্রহের ক্ষেত্রে একটি দেহের মত দেখবে। যখন দেহের কোন অঙ্গ অসুস্থ হয় তখন সমস্ত শরীর তার জন্য বিনিদ্র ও জ্বরে আক্রান্ত হয়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫৩)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২৩০

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الْمُؤْمِنُوْنَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ.

বর্ণনাকারী নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ)

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘সকল মুমিন এক ব্যক্তির মত, যদি তার চক্ষু অসুস্থ হয় তখন তার সর্বাঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর যদি তার মাথায় ব্যথা হয় তখন তার সমস্ত শরীরই ব্যথিত হয়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫৪)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২৩১

عَنْ أَبِيْ مُوْسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا ثُمَّ شَبكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ.

বর্ণনাকারী আবু মূসা (রাঃ)

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘একজন মু‘মিন অপর মুমিনের জন্য এক গৃহের মত, যার একাংশ অপরাংশকে সুদৃঢ় রাখে। অতঃপর তিনি এক হাতের অঙ্গুলীগুলি অপর হাতের অঙ্গুলীর মধ্যে প্রবিষ্ট করলেন’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫৫)।

ঊপদেশ

হাদিস নং ২৩২

عَنْ أَبِيْ مُوْسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَتَاهُ السَّائِلُ أَوْ صَاحِبُ الْحَاجَةِ قَالَ: اشْفَعُوْا فَلْتُؤْجَرُوْا وَيَقْضِيْ اللهُ عَلَى لِسَانِ رَسُوْلِهِ مَا شَاءَ.

বর্ণনাকারী আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ)

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে যখন কোন ভিক্ষুক বা অভাবী আসত তখন তিনি ছাহাবীদেরকে বলতেন, ‘তোমরা সুপারিশ কর, এতে তোমাদেরকে নেকী দেওয়া হবে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের মুখ দিয়ে যে ফায়ছালা চান তা জারি করবেন’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৫৬)।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18