অনুমতি প্রার্থনা
৪০/১. অধ্যায়ঃ
সালামের প্রসার করা
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৮৮
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَمْرٍ إِذَا أَنْتُمْ فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ وَشُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ عَنْ أَبِيهِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَالْبَرَاءِ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তোমরা ঈমানদার হবে, আর ঈমানদার হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করবে। আমি কি এমন একটি কাজের কথা তোমাদেরকে বলে দিব না, যখন তোমরা তা করবে, পরস্পর ভালোবাসা স্থাপিত হবে? তোমরা একে অপরের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।
সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৬৯২), মুসলিম।‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম, শুরাইহ ইবনু হানী তার বাবার সূত্রে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, আল-বারাআ, আনাস ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
৪০/২. অধ্যায়ঃ
সালামের ফযীলত সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৮৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَرِيرِيُّ، بَلْخِيٌّ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيِّ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ . قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَشْرٌ " . ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عِشْرُونَ " . ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثُونَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي سَعِيدٍ وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ .
বর্ণনাকারী ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একজন লোক এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম।” নবী (ﷺ) বললেনঃ “দশ (নেকি)।” তারপর অন্য এক লোক এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।” নবী (ﷺ) বললেনঃ “বিশ।” অতঃপর আরেক লোক এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।” নবী (ﷺ) বললেনঃ “ত্রিশ।”
সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (৩/২৬৮)আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, তবে এ সূত্রে গারীব। ‘আলী, আবূ সা‘ঈদ ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
৪০/৩. অধ্যায়ঃ
তিনবার অনুমতি চাইতে হবে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯০
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ اسْتَأْذَنَ أَبُو مُوسَى عَلَى عُمَرَ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ قَالَ عُمَرُ وَاحِدَةٌ . ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ قَالَ عُمَرُ ثِنْتَانِ . ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَأَدْخُلُ فَقَالَ عُمَرُ ثَلاَثٌ . ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ عُمَرُ لِلْبَوَّابِ مَا صَنَعَ قَالَ رَجَعَ . قَالَ عَلَىَّ بِهِ . فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ مَا هَذَا الَّذِي صَنَعْتَ قَالَ السُّنَّةَ . قَالَ السُّنَّةَ وَاللَّهِ لَتَأْتِيَنِّي عَلَى هَذَا بِبُرْهَانٍ أَوْ بِبَيِّنَةٍ أَوْ لأَفْعَلَنَّ بِكَ . قَالَ فَأَتَانَا وَنَحْنُ رُفْقَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَسْتُمْ أَعْلَمَ النَّاسِ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ فَإِنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلاَّ فَارْجِعْ " . فَجَعَلَ الْقَوْمُ يُمَازِحُونَهُ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ ثُمَّ رَفَعْتُ رَأْسِي إِلَيْهِ فَقُلْتُ فَمَا أَصَابَكَ فِي هَذَا مِنَ الْعُقُوبَةِ فَأَنَا شَرِيكُكَ . قَالَ فَأَتَى عُمَرَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ فَقَالَ عُمَرُ مَا كُنْتُ عَلِمْتُ بِهَذَا . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأُمِّ طَارِقٍ مَوْلاَةِ سَعْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَالْجُرَيْرِيُّ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ إِيَاسٍ يُكْنَى أَبَا مَسْعُودٍ وَقَدْ رَوَى هَذَا غَيْرُهُ أَيْضًا عَنْ أَبِي نَضْرَةَ وَأَبُو نَضْرَةَ الْعَبْدِيُّ اسْمُهُ الْمُنْذِرُ بْنُ مَالِكِ بْنِ قُطَعَةَ .
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
আবূ মূসা (রাঃ) উমর (রাঃ)-এর নিকট অনুমতি চেয়ে বলেন, "আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি?" উমর (রাঃ) বলেন, "এক।" আবূ মূসা (রাঃ) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তিনি আবারও সালাম দিয়ে বলেন, "আমি কি ভিতরে আসতে পারি?" উমর (রাঃ) বলেন, "দুই।" তারপর আবূ মূসা (রাঃ) অল্প সময় নীরবতা অবলম্বন করলেন। তিনি আবার বললেন, "আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি?" উমর (রাঃ) বললেন, "তিন।" এবার তিনি চলে যেতে লাগলেন। উমর (রাঃ) প্রহরীকে জিজ্ঞেস করলেন, "তিনি কি করছেন?" প্রহরী বলল, "তিনি চলে গেছেন।" তিনি বললেন, "তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে নিয়ে এসো।"তারপর তিনি উমরের সামনে এলে তিনি প্রশ্ন করলেন, "আপনি এরকম করলেন কেন?" তিনি বললেন, "আমি সুন্নাত পালন করেছি।" উমর (রাঃ) বললেন, "সুন্নাত পালন করেছেন? আল্লাহর কসম! এর স্বপক্ষে আপনাকে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, তা না হলে আমি আপনার ব্যবস্থা করছি (অর্থাৎ শাস্তি দিব)।"বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি (আবূ মূসা) আমাদের নিকট আসলেন। আমরা কয়জন আনসারি বন্ধু একসাথে বসে ছিলাম। তিনি বললেন, "হে আনসার সম্প্রদায়! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদিস সম্পর্কে কি তোমরা সবার চাইতে বেশি জ্ঞাত নও? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, তিনবার অনুমতি চাইতে হবে? তারপর তোমাকে অনুমতি দিলে তো দিল, নতুবা ফিরে যাবে।" উপস্থিত লোকজন তার সাথে কৌতুক করতে লাগল। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, এবার আমি মাথা তুলে তার দিকে তাকালাম এবং বললাম, "আপনার উপর এ ব্যাপারে কোন শাস্তি হলে আমি আপনার শরীক হব।" রাবী বলেন, তারপর তিনি উমরের নিকট এসে এ ঘটনা বললেন। উমর (রাঃ) বললেন, "আমি এ সম্পর্কে জানতাম না।"
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।‘আলী (রাঃ) সা‘দ (রাঃ) এর মুক্তদাসী উম্মু তারিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলে, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আল-জুরাইরীর নাম সা‘ঈদ ইবনু ইয়াস, উপনাম আবূ মাস‘উদ। এ হাদীসটি আবূ নাযরা হতে অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। আবূ নাযরা আল-‘আবদীর নাম আল-মুনযির ইবনু মালিক ইবনু কুতা‘আহ।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯১
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ اسْتَأْذَنْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثًا فَأَذِنَ لِي . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَأَبُو زُمَيْلٍ اسْمُهُ سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ . وَإِنَّمَا أَنْكَرَ عُمَرُ عِنْدَنَا عَلَى أَبِي مُوسَى حَيْثُ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ فَإِنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلاَّ فَارْجِعْ " . وَقَدْ كَانَ عُمَرُ اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثًا فَأَذِنَ لَهُ وَلَمْ يَكُنْ عَلِمَ هَذَا الَّذِي رَوَاهُ أَبُو مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فَإِنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلاَّ فَارْجِعْ .
বর্ণনাকারী উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে তিনবার সম্মতি চাইলাম। তিনি আমাদের সম্মতি দিলেন।
সনদ দূর্বল, মতন মুনকারআবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান গারীব। আবূ যুমাইলের নাম সিমাক আল-হানাফী। উমার (রাঃ) নিজেই যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তিনবার সম্মতি চাওয়ায় তিনি তাকে (বাড়ির ভেতরে যাওয়ার) সম্মতি দেন, সেখানে তিনিই আবার আবূ মূসা (রাঃ)- এর হাদিস প্রত্যাখ্যান করেন। এর কারণ এই যে, তিনি আবূ মূসা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসের “তোমাকে সম্মতি দিলে তো দিল, নতুবা ফিরে যাবে।” অংশটুকু প্রসঙ্গে জানতেন না।
৪০/৪. অধ্যায়ঃ
সালামের জবাব দেয়ার নিয়ম
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯২
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَعَلَيْكَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَرَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ هَذَا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ فَقَالَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَقَالَ " وَعَلَيْكَ " . قَالَ وَحَدِيثُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَصَحُّ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে সময়ে মসজিদের এক পাশে বসা ছিলেন। লোকটি নামাজ আদায় করে এসে তাঁকে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ওয়াআলাইকা, তুমি ফিরে গিয়ে আবার নামাজ আদায় কর। তারপর তিনি দীর্ঘ হাদিস বর্ণনা করলেন।
সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১৬০), বুখারী ও মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমার হতে, তিনি সা‘ঈদ আল-মাক্ববুরী হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে এই সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় “ফা সাল্লামা আলাইহি, ওয়া ক্ব-লা ওয়া আলাইকা” এর উল্লেখ নেই। ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।
৪০/৫. অধ্যায়ঃ
সালাম পৌঁছানো
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا " إِنَّ جِبْرِيلَ يُقْرِئُكِ السَّلاَمَ " . قَالَتْ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي نُمَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ أَيْضًا عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি (আয়িশা) বললেন, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহ।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিমএ অনুচ্ছেদে বানী নুমাইরের জনৈক ব্যক্তি তার বাবা হতে, তিনি দাদা হতে এই সূত্রে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি যুহরীও আবূ সালামা হতে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৪০/৬. অধ্যায়ঃ
প্রথমে সালাম প্রদানকারী ব্যক্তির ফযীলত
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯৪
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا قُرَّانُ بْنُ تَمَّامٍ الأَسَدِيُّ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ الرَّهَاوِيِّ، يَزِيدَ بْنِ سِنَانٍ عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلاَنِ يَلْتَقِيَانِ أَيُّهُمَا يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ فَقَالَ " أَوْلاَهُمَا بِاللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . قَالَ مُحَمَّدٌ أَبُو فَرْوَةَ الرَّهَاوِيُّ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ إِلاَّ أَنَّ ابْنَهُ مُحَمَّدَ بْنَ يَزِيدَ يَرْوِي عَنْهُ مَنَاكِيرَ .
বর্ণনাকারী আবূ উমামাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! দুইজন লোকের মধ্যে সাক্ষাৎ হলে কে প্রথম সালাম দিবে? তিনি বললেনঃ তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার বেশি নিকটবর্তী।
সহীহঃ মিশকাত (৪৬৪৬), তাখরীজুল কালিমিত তাইয়্যিব (১৯৮)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, আবূ ফারওয়া আর-রাহাবী বর্ণনাকারী হিসেবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু তার ছেলে মুহাম্মাদ তার সূত্রে বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪০/৭. অধ্যায়ঃ
হাতে ইশারা করে সালাম দেয়া মাকরুহ
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلاَ بِالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيمَ الْيَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ . وَرَوَى ابْنُ الْمُبَارَكِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ فَلَمْ يَرْفَعْهُ .
বর্ণনাকারী ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বিজাতির অনুকরণকারী ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহুদি-নাসারাদের অনুকরণ করো না। কেননা ইয়াহুদিরা আঙ্গুলের ইশারায় এবং নাসারারা হাতের ইশারায় সালাম দেয়।
হাসানঃ সহীহাহ (২১৯৪)আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটির সনদ যঈফ। এই হাদীসটি ইবনু লাহীআর সূত্রে ইবনু মুবারক বর্ণনা করেছেন কিন্তু তা মারফূ হিসেবে নয়।
৪০/৮. অধ্যায়ঃ
শিশুদেরকে সালাম দেওয়া
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯৬
حَدَّثَنَا أَبُو الْخَطَّابِ، زِيَادُ بْنُ يَحْيَى الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَتَّابٍ، سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَيَّارٍ، قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ فَمَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ ثَابِتٌ كُنْتُ مَعَ أَنَسٍ فَمَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَقَالَ أَنَسٌ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ ثَابِتٍ وَرُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَنَسٍ .حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
বর্ণনাকারী সাইয়্যার (রহঃ)
আমি সাবিত আল-বুনানি’র সাথে হাঁটছিলাম। তিনি কয়েকজন শিশুর পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, কোন একদিন আমি আনাস (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিয়েছেন।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি সাবিত (রহঃ) হতে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। অন্য সূত্রেও আনাস (রাঃ) হতে এ হাদীস বর্ণিত আছে। কুতাইবা-জা‘ফার ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত আছে।
৪০/৯. অধ্যায়ঃ
স্ত্রীলোককে সালাম দেওয়া
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬৯৭
حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، أَنَّهُ سَمِعَ شَهْرَ بْنَ حَوْشَبٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَسْمَاءَ بِنْتَ يَزِيدَ، تُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ فِي الْمَسْجِدِ يَوْمًا وَعُصْبَةٌ مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ فَأَلْوَى بِيَدِهِ بِالتَّسْلِيمِ وَأَشَارَ عَبْدُ الْحَمِيدِ بِيَدِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لاَ بَأْسَ بِحَدِيثِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ بَهْرَامَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ . وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ شَهْرٌ حَسَنُ الْحَدِيثِ وَقَوَّى أَمْرَهُ وَقَالَ إِنَّمَا تَكَلَّمَ فِيهِ ابْنُ عَوْنٍ ثُمَّ رَوَى عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ . أَنْبَأَنَا أَبُو دَاوُدَ الْمَصَاحِفِيُّ بَلْخِيٌّ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ عَنِ ابْنِ عَوْنٍ قَالَ إِنَّ شَهْرًا نَزَكُوهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ النَّضْرُ تَرَكُوهُ أَىْ طَعَنُوا فِيهِ وَإِنَّمَا طَعَنُوا فِيهِ لأَنَّهُ وَلِيَ أَمْرَ السُّلْطَانِ .
বর্ণনাকারী আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ)
কোনো এক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে একদল মহিলা বসা ছিল। তিনি হাত উঠিয়ে তাদেরকে সালাম দিলেন। আবদুল হামিদ তার হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন। “হাতের ইশারা” ব্যতীত হাদিসটি সহীহঃ জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ (১৯৪-১৯৬)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল হামীদ ইবনু বাহরাম-শাহর ইবনু হাওশাব সূত্রে বর্ণিত হাদীসে কোন সমস্যা নেই। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী) বলেন, শাহর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে উত্তম পর্যায়ের এবং তিনি (এ কথা বলে) তার বিষয়টি মজবুত করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ইবনু ‘আওন তার সমালোচনা করেছেন, অতঃপর হিলাল ইবনু আবী যাইনাব-শাহর ইবনু হাওশাব সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ দাউদ বালখী-আন-নাযর ইবনু শুমাইল হতে, তিনি ইবনু ‘আওন হতে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু ‘আওন বলেন, মুহাদ্দিসগণ শাহরকে বাদ দিয়েছেন। আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আন-নাযর বলেছেন, “তারা তাকে বাদ দিয়েছেন” অর্থ তারা তাঁকে তিরস্কার বা অভিযুক্ত করেছেন এ কারণে যে, তিনি শাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।