জাহান্নামের বিবরণ

৩৭/১. অধ্যায়ঃ

জাহান্নামের বিবরণ

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৭৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ خَالِدٍ الْكَاهِلِيِّ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَالثَّوْرِيُّ لاَ يَرْفَعُهُ ‏.‏حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ خَالِدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে সেদিন এর সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রতিটি লাগামের জন্য নিয়োজিত থাকবে সত্তর হাজার ফেরেশতা। তারা এগুলো ধরে এটাকে টানতে থাকবে।

সহীহঃ মুসলিম (৮/১৪৯)‘আবদুল্লাহ বলেন, সুফ্‌ইয়ান সাওরী মারফূভাবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেননি। আব্‌দ ইবনু হুমাইদ-‘আবদুল মালিক ইবনু ‘আম্‌র ও আবূ আমির আল-আকাদী হতে, তিনি সুফ্‌ইয়ান হতে, তিনি আলী ইবনু খালিদ (রহঃ) হতে এই সনদ সূত্রে উপরিউক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফূভাবে নয়।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৭৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَخْرُجُ عُنُقٌ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ تُبْصِرَانِ وَأُذُنَانِ تَسْمَعَانِ وَلِسَانٌ يَنْطِقُ يَقُولُ إِنِّي وُكِّلْتُ بِثَلاَثَةٍ بِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ وَبِكُلِّ مَنْ دَعَا مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَبِالْمُصَوِّرِينَ ‏"‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا وَرَوَى أَشْعَثُ بْنُ سَوَّارٍ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামত দিবসে জাহান্নাম হতে একটি গর্দান (মাথা) বের হবে। এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে, দুটি কান থাকবে যা দিয়ে সে শুনবে এবং একটি জিহবা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। সে বলবে, তিন ধরনের লোকের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছেঃ (১) প্রতিটি অবাধ্য অহংকারী যালিমের জন্য, (২) আল্লাহর সাথে অন্য কোন কিছুকে যে ব্যক্তি ইলাহ বলে ডাকে তার জন্য এবং (৩) ছবি নির্মাতাদের জন্য।

সহীহঃ সহীহাহ্‌ (৫১২), তা’লীকুর রাগীব (৪/৫৬)আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কোন কোন বর্ণনাকারী আ’মাশ হতে, তিনি আতিয়্যাহ হতে, তিনি আবূ সা‘ঈদ হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আশআস্ ইবনু সাওয়ার আতিয়্যাহ হতে, তিনি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

৩৭/২. অধ্যায়ঃ

জাহান্নামের গহ্বরের বর্ণনা

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৭৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ قَالَ عُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ عَلَى مِنْبَرِنَا هَذَا مِنْبَرِ الْبَصْرَةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الصَّخْرَةَ الْعَظِيمَةَ لَتُلْقَى مِنْ شَفِيرِ جَهَنَّمَ فَتَهْوِي فِيهَا سَبْعِينَ عَامًا وَمَا تُفْضِي إِلَى قَرَارِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ عُمَرُ يَقُولُ أَكْثِرُوا ذِكْرَ النَّارِ فَإِنَّ حَرَّهَا شَدِيدٌ وَإِنَّ قَعْرَهَا بَعِيدٌ وَإِنَّ مَقَامِعَهَا حَدِيدٌ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى لاَ نَعْرِفُ لِلْحَسَنِ سَمَاعًا مِنْ عُتْبَةَ بْنِ غَزْوَانَ وَإِنَّمَا قَدِمَ عُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ الْبَصْرَةَ فِي زَمَنِ عُمَرَ وَوُلِدَ الْحَسَنُ لِسَنَتَيْنِ بَقِيَتَا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ ‏.‏

বর্ণনাকারী হাসান বাসরী (রহঃ)

উতবা ইবন গাজওয়ান (রাঃ) আমাদের এই বসরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামের এক প্রান্ত হতে বড় একটি পাথরকে গড়িয়ে ছেড়ে দেয়া হলে এটা সত্তর বছর পর্যন্ত গড়াতেই থাকবে তবু স্থির হবার জায়গায় আসতে পারবে না।

সহীহঃ সহীহাহ্‌ (১৬১২), মুসলিম।বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলতেন, তোমরা বেশি বেশি জাহান্নামের কথা স্মরণ কর। কেননা এটার গরম তীব্র, এর গহ্বর অনেক গভীর এবং এর ডাণ্ডাগুলো লোহা দ্বারা নির্মিত।আবূ ‘ঈসা বলেন, ‘উতবাহ্‌ ইবনু গাযওয়ান (রাঃ)-এর নিকট হতে হাসান বাসরী (রহঃ) সরাসরিভাবে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে ‘উতবাহ্‌ ইবনু গাযওয়ান (রাঃ) বসরায় আগমন করেন। আর হাসান বাসরী (রহঃ) উমার (রাঃ)-এর খিলাফাতের দুই বছর বাকি থাকতে জন্মগ্রহণ করেন।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৭৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ دَرَّاجٍ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الصَّعُودُ جَبَلٌ مِنْ نَارٍ يُتَصَعَّدُ فِيهِ الْكَافِرُ سَبْعِينَ خَرِيفًا وَيَهْوِي فِيهِ كَذَلِكَ مِنْهُ أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: জাহান্নামের মধ্যে ‘সাউদ’ নামে আগুনের একটি পাহাড় আছে। কাফিরগণ সত্তর বছরে এর উপর উঠবে এবং সত্তর বছরে গড়িয়ে পড়বে। এমনিভাবে তারা তাতে অনন্তকাল ধরে উঠবে ও নামবে।

যঈফ, মিশকাত (৫৬৭৭)আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইবনু লাহীআর হাদিস হিসাবে এটিকে মারফূ হিসাবে জেনেছি।

৩৭/৩. অধ্যায়ঃ

জাহান্নামীদের শরীর হবে বিরাট আকৃতির

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৭৭

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا شَيْبَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ غِلَظَ جِلْدِ الْكَافِرِ اثْنَانِ وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعًا وَإِنَّ ضِرْسَهُ مِثْلُ أُحُدٍ وَإِنَّ مَجْلِسَهُ مِنْ جَهَنَّمَ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ ‏"‏ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামে কাফির ব্যক্তির গায়ের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ হাত মোটা, তার মাড়ির দাঁত হবে উহুদের সমান বড় এবং মক্কা-মদীনার দূরত্বের সমান বিস্তৃত হবে তার বসার জায়গা (নিতম্ব)।

সহীহঃ মিশকাত (৫৬৭৫), সহীহাহ্‌ (১১০৫), আযযিলা-ল (৬১০)আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আ’মাশের বর্ণনা হিসেবে গারীব।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৭৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي جَدِّي، مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارٍ وَصَالِحٌ مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ضِرْسُ الْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِثْلُ أُحُدٍ وَفَخِذُهُ مِثْلُ الْبَيْضَاءِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ مَسِيرَةَ ثَلاَثٍ مِثْلُ الرَّبَذَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ ‏"‏ وَمِثْلُ الرَّبَذَةِ ‏"‏ كَمَا بَيْنَ الْمَدِينَةِ وَالرَّبَذَةِ ‏.‏ وَالْبَيْضَاءُ جَبَلٌ مِثْلُ أُحُدٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামত দিবসে কাফির ব্যক্তির মাড়ির দাঁত হবে উহুদ পাহাড়সম বড়, তার ঊরু হবে ‘বাইযা’ পাহাড়সম বিশাল এবং তার নিতম্বদেশ হবে 'রাবাযা'র মতো তিনদিন চলার পথের দূরত্বের সমান বিস্তৃত।

হাসানঃ সহীহাহ্ (৩/৯৫)আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ‘মাসালুর রাবাযা’ অর্থ মাদীনা ও রাবাযা নামক স্থানের মাঝাখানের দূরত্বের সমান। আর ‘বাইযা’ একটি পাহাড়ের নাম যা উহূদ পাহাড়ের সমতুল্য।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৭৯

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَفَعَهُ قَالَ ‏ "‏ ضِرْسُ الْكَافِرِ مِثْلُ أُحُدٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَأَبُو حَازِمٍ هُوَ الأَشْجَعِيُّ اسْمُهُ سَلْمَانُ مَوْلَى عَزَّةَ الأَشْجَعِيَّةِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জাহান্নামে কাফির ব্যক্তির মাড়ির দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান।

সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (৪/২৩৭), সহীহাহ্ (৩/৯৬)আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবূ হাযিম হলেন আল-আশজা গোত্রীয়, তার নাম সালমান, আয্‌যাহ্ আল-আশজাইয়্যার মুক্তদাস।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৮০

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الْمُخَارِقِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ الْكَافِرَ لَيُسْحَبُ لِسَانُهُ الْفَرْسَخَ وَالْفَرْسَخَيْنِ يَتَوَطَّؤُهُ النَّاسُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَالْفَضْلُ بْنُ يَزِيدَ هُوَ كُوفِيٌّ قَدْ رَوَى عَنْهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الأَئِمَّةِ وَأَبُو الْمُخَارِقِ لَيْسَ بِمَعْرُوفٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (কেয়ামতের দিন) কাফির ব্যক্তি তার জিহ্বা এক-দুই ফারসাখ পরিমাণ জায়গা জুড়ে বিছিয়ে রাখবে। লোকেরা তা পদদলিত করবে।

যঈফ, মিশকাত (৫৬৭৬), যঈফা (১৯৮৬)আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই হাদিসটি জেনেছি। আল-ফাযল ইবনু ইয়াযীদ হলেন কূফার অধিবাসী। হাদিসের একাধিক ইমাম তার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবুল মুখারিক তেমন প্রসিদ্ধ রাবী নন।

৩৭/৪. অধ্যায়ঃ

জাহান্নামীদের পানীয় বস্তুর বিবরণ

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৮১

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ دَرَّاجٍ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ‏:‏ ‏(‏كَالْمُهْلِ ‏)‏ قَالَ ‏ "‏ كَعَكَرِ الزَّيْتِ فَإِذَا قَرَّبَهُ إِلَى وَجْهِهِ سَقَطَتْ فَرْوَةُ وَجْهِهِ فِيهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ رِشْدِينَ بْنِ سَعْدٍ ‏.‏ وَرِشْدِينُ قَدْ تُكُلِّمَ فِيهِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহ তা'আলার বাণী “কাল-মুহলি” (যেন গলিত তামা)-এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ তা হল তেলের গাদ সদৃশ। জাহান্নামীদের মধ্যে কোনো জাহান্নামী যখনই এটা তার মুখের নিকটে নিবে সাথে সাথে তার মুখমণ্ডলের চামড়া খসে তাতে পড়ে যাবে।

যঈফ, মিশকাত (৫৬৭৮), তা’লীকুর রাগীব (৪/২৩৪)আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধুমাত্র রিশদীন ইবনু সাদের রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদিস জেনেছি। রিশদীন সমালোচিত রাবী।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ২৫৮২

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي السَّمْحِ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الْحَمِيمَ لَيُصَبُّ عَلَى رُءُوسِهِمْ فَيَنْفُذُ الْحَمِيمُ حَتَّى يَخْلُصَ إِلَى جَوْفِهِ فَيَسْلِتَ مَا فِي جَوْفِهِ حَتَّى يَمْرُقَ مِنْ قَدَمَيْهِ وَهُوَ الصَّهْرُ ثُمَّ يُعَادُ كَمَا كَانَ ‏"‏ ‏.‏ وَسَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ يُكْنَى أَبَا شُجَاعٍ وَهُوَ مِصْرِيٌّ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَابْنُ حُجَيْرَةَ هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُجَيْرَةَ الْمِصْرِيُّ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: জাহান্নামীদের মাথায় গরম পানীয় ঢালা হবে, এমনকি তা পেট পর্যন্ত পৌঁছবে এবং পেটের সব নাড়িভুঁড়ি গলিয়ে দিবে, তারপর তা পায়ের দিক দিয়ে বেরিয়ে পড়বে। এটাই হল ‘সাহর’ (গলে যাওয়া)। আবার তা পূর্বের ন্যায় হয়ে যাবে (এবং এমনিভাবে শাস্তির প্রক্রিয়া চলতে থাকবে)।

যঈফ, মিশকাত (৫৬৭৯) তা’লীক অনুরূপসাঈদ ইবনু ইয়াযীদ-এর উপনাম আবূ সুজা’ মিসরের অধিবাসী, লাইছ ইবনু সা’দ তার নিকট হতে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদিসটি হাসান, সহীহ গারীব। ইবনু হুজাইরার নাম আবদুর রহমান আল-মিসরী।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18