সদ্ব্যবহার ও পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা
২৫/১. অধ্যায়ঃ
বাবা-মায়ের সাথে উত্তম আচরণ
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৮৯৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبَرُّ قَالَ " أُمَّكَ " . قَالَ قُلْتُ ثُمَّ مَنْ قَالَ " أُمَّكَ " . قَالَ قُلْتُ ثُمَّ مَنْ قَالَ " أُمَّكَ " . قَالَ قُلْتُ ثُمَّ مَنْ قَالَ " ثُمَّ أَبَاكَ ثُمَّ الأَقْرَبَ فَالأَقْرَبَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَبَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ هُوَ ابْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ حَيْدَةَ الْقُشَيْرِيُّ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ تَكَلَّمَ شُعْبَةُ فِي بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ وَهُوَ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَرَوَى عَنْهُ مَعْمَرٌ وَالثَّوْرِيُّ وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الأَئِمَّةِ .
বর্ণনাকারী বাহ্য ইবনু হাকীমের দাদা [মু‘আবিয়া ইবনু হাইদা (রাঃ)]
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কোন ব্যক্তির সাথে আমি উত্তম আচরণ করব? তিনি বললেনঃ তোমার মায়ের সাথে। আমি প্রশ্ন করলাম, এরপর কার সাথে? তিনি বললেনঃ তোমার মায়ের সাথে। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, এরপর কার সাথে? তিনি বললেনঃ তোমার মায়ের সাথে। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, এরপর কার সাথে? তিনি বললেনঃ তারপর তোমার বাবার সাথে, তারপর নিকটাত্মীয়তার ক্রমানুসারে উত্তম আচরণ করবে।
হাসান, মিশকাত (৪৯২৯)।আবূ হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আইশা ও আবুদ দারদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, বাহয ইবনু হাকীমের অপর নাম আবূ মুআবিয়া ইবনু হাইদা। এ হাদীসটি হাসান। শুবা (রহঃ) বাহ্য ইবনু হাকীমের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু হাদীস পারদর্শীদের মতে তিনি একজন সিকাহ বর্ণনাকারী। তার নিকট হতে মা’মার, সুফিয়ান সাওরী, হাম্মাদ ইবনু সালামা প্রমুখ হাদীসের ইমামগণ হাদীস বর্ননা করেছেন।
২৫/২. অধ্যায়ঃ
( সবচাইতে উত্তম কাজ )
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৮৯৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ الْعَيْزَارِ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ " الصَّلاَةُ لِمِيقَاتِهَا " . قُلْتُ ثُمَّ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " بِرُّ الْوَالِدَيْنِ " . قُلْتُ ثُمَّ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . ثُمَّ سَكَتَ عَنِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . رَوَاهُ الشَّيْبَانِيُّ وَشُعْبَةُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ الْعَيْزَارِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ . وَأَبُو عَمْرٍو الشَّيْبَانِيُّ اسْمُهُ سَعْدُ بْنُ إِيَاسٍ .
বর্ণনাকারী ইবনু মাসঊদ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কোন কাজ সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেন: নামাজ তার নির্ধারিত সময়ে আদায় করা। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এরপর কোনটি? তিনি বললেন: বাবা-মায়ের সাথে উত্তম আচরণ করা। আমি আবারও প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তারপর কোনটি? তিনি বললেন: আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ করা। এরপর আমাকে কিছু বলা হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব থাকেন। আমি তাঁকে আরও প্রশ্ন করলে নিশ্চয়ই আমাকে তিনি আরও জানাতেন।
সহীহ, সহীহা (১৪৮৯) , বুখারী, মুসলিম।আবূ আমরের নাম সা’দ ইবনু ইয়াস। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আল-ওয়ালীদ ইবনুল আইযার হতে আশ-শাইবানী ও শুবা-সহ একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আবূ আমর আশ-শাইবানী-ইবনু মাউঊদ (রাঃ) হতে একাধিকসূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
২৫/৩. অধ্যায়ঃ
বাবা-মায়ের সন্তুষ্টির ফজিলত
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৮৯৯
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِ وَسَخَطُ الرَّبِّ فِي سَخَطِ الْوَالِدِ " .حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَهَذَا أَصَحُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى أَصْحَابُ شُعْبَةَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مَوْقُوفًا وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ غَيْرَ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ شُعْبَةَ . وَخَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ ثِقَةٌ مَأْمُونٌ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُثَنَّى يَقُولُ مَا رَأَيْتُ بِالْبَصْرَةِ مِثْلَ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ وَلاَ بِالْكُوفَةِ مِثْلَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ .
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি রয়েছে।
সহীহ, সহীহা (৫১৫)।উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস মুহাম্মদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে, তিনি তার পিতা-আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে এই সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এটাকে তিনি মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেননি এবং এটাই অনেক বেশি সহীহ।আবু ঈসা বলেন, এটিকে শুবার সঙ্গীগণ একইভাবে মাওকূফ হিসেবে শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে, তিনি তার পিতা-আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটা শুবার সূত্রে মারফূ (রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী) হিসাবে শুধু খালিদ ইবনুল হারিস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। খালিদ ইবনুল হারিস একজন সিকাহ ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না বলেন, আমি বসরায় খালিদের সমতুল্য এবং কূফায় আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীসের মতো যোগ্য কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৯০০
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَاهُ فَقَالَ إِنَّ لِي امْرَأَةً وَإِنَّ أُمِّي تَأْمُرُنِي بِطَلاَقِهَا . قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَإِنْ شِئْتَ فَأَضِعْ ذَلِكَ الْبَابَ أَوِ احْفَظْهُ " . قَالَ وَقَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ إِنَّ أُمِّي وَرُبَّمَا قَالَ أَبِي . وَهَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَبِيبٍ .
বর্ণনাকারী আবুদ দারদা (রাঃ)
তার কাছে একজন লোক এসে বলল, আমার এক স্ত্রী আছে। আমার মা আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন তাকে তালাক দেয়ার জন্য। আবু দারদা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ জান্নাতের সর্বোত্তম দরজা হচ্ছে বাবা। তুমি ইচ্ছা করলে এটা ভেঙ্গে ফেলতে পার অথবা এর রক্ষণাবেক্ষণও করতে পার।
সহীহ্, সহীহা (৯১০) , মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪৯২৮)।ইবনু আবী উমার বলেনঃ সুফিয়ান কখনো মায়ের কথা বলেছেন আবার কখনো বাবার কথা বলেছেন। এ হাদীসটি সহীহ। আবূ আবদুর রাহমান আস-সুলামীর নাম আবদুল্লাহ ইবনু হাবীব।
২৫/৪. অধ্যায়ঃ
বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া কাবীরা গুনাহ
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৯০১
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ " . قَالَ وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ " وَشَهَادَةُ الزُّورِ أَوْ قَوْلُ الزُّورِ " . فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُهَا حَتَّى قُلْنَا لَيْتَهُ سَكَتَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو بَكْرَةَ اسْمُهُ نُفَيْعُ بْنُ الْحَارِثِ .
বর্ণনাকারী আবদুর রাহমান ইবনু আবী বাকরা (রাঃ) হতে তার বাবা
তিনি (আবু বক্রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বাধিক কবীরা গুনাহের ব্যাপারে জানিয়ে দিবো না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! অবশ্যই জানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করা এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসেন এবং বলেনঃ এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও মিথ্যা বলা। একথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবিরতভাবে বলতে থাকেন। আমরা (মনে মনে) বলতে লাগলাম, আহা! তিনি যদি থামতেন, চুপ করতেন!
সহীহ্, গাইয়াতুল মারাম (২৭৭) , বুখারী, মুসলিম।আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ বাকরার নাম নুফাই, পিতা আল-হারিস।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৯০২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِنَ الْكَبَائِرِ أَنْ يَشْتُمَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهَلْ يَشْتُمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ قَالَ " نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَشْتُمُ أَبَاهُ وَيَشْتُمُ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার বাবা-মাকে গালিগালাজ করা কবীরা গুনাহ। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কেউ কি তার মা-বাবাকে গালিগালাজ করতে পারে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। কোন লোক অন্য কারো বাবাকে গালি দেয়। এর উত্তরে সেও তার বাবাকে গালি দেয়। সে অন্য কারো মাকে গালি দেয়। এর উত্তরে ঐ ব্যক্তিও তার মাকে গালি দেয়।
সহীহ্, তা’লীকুর রাগীব (৩/২২১)।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
২৫/৫. অধ্যায়ঃ
বাবার বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি সম্মান দেখানো
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৯০৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، أَخْبَرَنِي الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ أَنْ يَصِلَ الرَّجُلُ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي أَسِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا إِسْنَادٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ .
বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি: সর্বাধিক সওয়াবের কাজ হচ্ছে বাবার বন্ধু-বান্ধবদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা।
সহীহ্, যঈফা (২০৮৯) , মুসলিম।আবূ উসাইদ (রাঃ) হতেও অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ্। এ হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ) হতে অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
২৫/৬. অধ্যায়ঃ
খালার সাথে উত্তম আচরণ করা
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৯০৪
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ إِسْرَائِيلَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، وَهُوَ ابْنُ مَدُّويَهْ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، وَاللَّفْظُ، لِحَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأُمِّ " . وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ طَوِيلَةٌ . وَهَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ . وَأَبُو بَكْرِ بْنُ حَفْصٍ هُوَ ابْنُ عُمَرَ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ .حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَفْصٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ ذَنْبًا عَظِيمًا فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ قَالَ " هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ " . قَالَ لاَ . قَالَ " هَلْ لَكَ مِنْ خَالَةٍ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَبِرَّهَا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَالْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ .
বর্ণনাকারী বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খালা হলো মাতৃস্থানীয়।
সহীহ্, ইরওয়া (২১৯০) , বুখারী, মুসলিম।এ হাদীসের সাথে একটি দীর্ঘ ঘটনা রয়েছে। এ হাদীসটি সহীহ্।ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একজন লোক এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমি একটি কাবীরা গুনাহ্ করে ফেলেছি। আমার তাওবাহ করার সুযোগ আছে কি? তিনি প্রশ্ন করেনঃ তোমার মা কি বেঁচে আছেন? সে বলল, না। তিনি আবার প্রশ্ন করেনঃ তোমার খালা কি বেঁচে আছেন? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তার সাথে উত্তম আচরণ কর। সহীহ্, তা’লীকুর রাগীব (৩/২১৮)।আলী এবং বারাআ ইবনু আ’-যিব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস ইবনু আবী উমার-সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সূকা হতে, তিনি আবূ বাক্র ইবনু হাফস হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে। এ সূত্রে ইবনু উমার (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ নেই। এই সূত্রটি পূর্বোল্লেখিত মু‘আবিয়ার সুত্রের চাইতে অনেক বেশি সহীহ্। আবূ বাকর ইবনু হাফস হলেন ইবনু উমার ইবনু সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস।
২৫/৭. অধ্যায়ঃ
(সন্তানের প্রতি) বাবা-মায়ের দোয়া
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৯০৫
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لاَ شَكَّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى الْحَجَّاجُ الصَّوَّافُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ نَحْوَ حَدِيثِ هِشَامٍ . وَأَبُو جَعْفَرٍ الَّذِي رَوَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يُقَالُ لَهُ أَبُو جَعْفَرٍ الْمُؤَذِّنُ وَلاَ نَعْرِفُ اسْمَهُ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ غَيْرَ حَدِيثٍ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন প্রকারের দোয়া অবশ্যই মঞ্জুর করা হয়, তাতে কোনো রকম সন্দেহ নেই। নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া।
হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩৮৬২)।আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবী কাসীরের সূত্রে হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ হিশামের রিওয়ায়াতের মতোই বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে যে আবূ জাফার হাদীসটি বর্ণনা করেন তিনি হলেন আবূ জাফার আল-মআযযিন। তার নাম সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ। ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীরও তার সূত্রে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
২৫/৮. অধ্যায়ঃ
বাবা-মায়ের অধিকার
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৯০৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَجْزِي وَلَدٌ وَالِدًا إِلاَّ أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ . وَقَدْ رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ هَذَا الْحَدِيثَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সন্তান কোন অবস্থাতেই তার বাবার সম্পূর্ণ অধিকার আদায়ে সক্ষম নয়। কিন্তু সে তার বাবাকে দাস অবস্থায় পেলে এবং তাকে কিনে মুক্ত করে দিলে তবে সামান্য অধিকার আদায় হয়।
সহীহ্, ইবনু মাজাহ (৩৬৫৯) , মুসলিম।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। আমরা এ হাদীস বিষয়ে শুধুমাত্র সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ-এর সূত্রেই জানতে পেরেছি। এ হাদীসটি সুহাইল ইবনু সালিহ-এর সূত্রে সুফিয়ান সাওরী ও একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।