শিকার

১৬/১. অধ্যায়ঃ

কুকুরের কোন ধরণের শিকার খাওয়ার যোগ্য এবং কোন ধরণের শিকার খাওয়ার অযোগ্য

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৬৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ، وَالْحَجَّاجُ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ عَائِذِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَهْلُ صَيْدٍ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ فَأَمْسَكَ عَلَيْكَ فَكُلْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ وَإِنْ قَتَلَ قَالَ ‏"‏ وَإِنْ قَتَلَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ إِنَّا أَهْلُ رَمْىٍ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا رَدَّتْ عَلَيْكَ قَوْسُكَ فَكُلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ إِنَّا أَهْلُ سَفَرٍ نَمُرُّ بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسِ فَلاَ نَجِدُ غَيْرَ آنِيَتِهِمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا غَيْرَهَا فَاغْسِلُوهَا بِالْمَاءِ ثُمَّ كُلُوا فِيهَا وَاشْرَبُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَعَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ وَاسْمُ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ جُرْثُومٌ وَيُقَالُ جُرْثُمُ بْنُ نَاشِرٍ وَيُقَالُ ابْنُ قَيْسٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী আইযুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ)

তিনি আবু ছাআলাবা আল-খুশানি (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা শিকারকারী সম্প্রদায়। তিনি বললেনঃ তুমি যদি আল্লাহ তা‘আলার নামে তোমার কুকুর ছেড়ে থাক এবং তোমার জন্য সে শিকার ধরে তাহলে তুমি তা খেতে পার। আমি বললাম, সে যদি তা মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ মেরে ফেললেও।আমি বললাম, আমরা তীর নিক্ষেপকারী সম্প্রদায়। তিনি বললেনঃ তোমার তীর তোমাকে যা ফেরত দেয় তা খাও।বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমরা ভ্রমণে বের হয়ে থাকি; ইহুদি, নাসারা ও মাগীদের এলাকা দিয়ে চলাচল করে থাকি। আমরা তাদের পাত্র ব্যতীত অন্য কোন পাত্র আমাদের ব্যবহারের জন্য জোগাড় করতে পারি না। তিনি বললেনঃ এদের পাত্র ব্যতীত তোমরা অন্য পাত্র জোগাড় করতে না পারলে এগুলোকে পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নাও, তারপর এতে পানাহার কর।

সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (৩২০৭), নাসা-ঈআদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাসীদ বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আইযুল্লাহর ডাকনাম আবূ ইদরীস আল-খাওলানী। আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) -এর নাম জুরছূম, তাকে জুরছূম ইবনু নাশিদ মতান্তরে ইবনু কাইসও বলা হয়।

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৬৫

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُرْسِلُ كِلاَبًا لَنَا مُعَلَّمَةً ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كُلْ مَا أَمْسَكْنَ عَلَيْكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ قَتَلْنَ قَالَ ‏"‏ وَإِنْ قَتَلْنَ مَا لَمْ يَشْرَكْهَا كَلْبٌ غَيْرُهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْمِي بِالْمِعْرَاضِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا خَزَقَ فَكُلْ وَمَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَلاَ تَأْكُلْ ‏"‏ ‏.‏حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ وَسُئِلَ عَنِ الْمِعْرَاضِ، ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেই। তিনি বললেন: তোমার জন্য এরা যা ধরে রাখে তা খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এরা যদি শিকার হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেন: এরা হত্যা করলেও খেতে পার যদি এর সাথে অন্য কুকুর অংশ গ্রহণ না করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা বর্শা (বা লাঠি) ছুড়ে থাকি। তার তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ শিকারকে জখম করলে তা খাও, কিন্তু তার পার্শ্বদেশের আঘাতে শিকার হলে তা খেও না।

সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (৩২০৮, ৩২১২, ৩২১৪, ৩২১৫), নাসা-ঈউপরোক্ত হাদীসের মত মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া-মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি মানসূর (রহঃ) হতে এই সূত্রেবর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আছেঃ “তাঁকে বর্শা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হল”। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।

১৬/২. অধ্যায়ঃ

মাজূসীদের (অগ্নি উপাসকদের) কুকুর দ্বারা শিকার

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৬৬

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نُهِينَا عَنْ صَيْدِ، كَلْبِ الْمَجُوسِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يُرَخِّصُونَ فِي صَيْدِ كَلْبِ الْمَجُوسِ ‏.‏ وَالْقَاسِمُ بْنُ أَبِي بَزَّةَ هُوَ الْقَاسِمُ بْنُ نَافِعٍ الْمَكِّيُّ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)

আমাদেরকে মজুসীদের (অগ্নি উপাসকদের) কুকুর দ্বারা শিকার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩২০৯)আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু উপরোক্ত সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা মাজূসীদের কুকুরের কৃত শিকার খাওয়ার অনুমতি দেননি। কাসিম ইবনু আবী বায্যা হলেন কাসিম ইবনু নাফি, মক্কার অধিবাসী।

১৬/৩. অধ্যায়ঃ

বাজ পাখি(বা শিকারী পাখির) শিকার খাওয়া

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৬৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَهَنَّادٌ، وَأَبُو عَمَّارٍ قَالُوا حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَيْدِ الْبَازِي فَقَالَ ‏"‏ مَا أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَكُلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُجَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ بِصَيْدِ الْبُزَاةِ وَالصُّقُورِ بَأْسًا ‏.‏ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْبُزَاةُ هُوَ الطَّيْرُ الَّذِي يُصَادُ بِهِ مِنَ الْجَوَارِحِ الَّتِي قَالَ اللَّهُ تَعَالَى‏:‏ ‏(‏وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ ‏)‏ فَسَّرَ الْكِلاَبَ وَالطَّيْرَ الَّذِي يُصَادُ بِهِ ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي صَيْدِ الْبَازِي وَإِنْ أَكَلَ مِنْهُ وَقَالُوا إِنَّمَا تَعْلِيمُهُ إِجَابَتُهُ ‏.‏ وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ وَالْفُقَهَاءُ أَكْثَرُهُمْ قَالُوا يَأْكُلُ وَإِنْ أَكَلَ مِنْهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে বাজ পাখির শিকার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন: সে যা তোমার জন্য ধরে রাখে তা খাও।

আবূ ঈসা বলেন, শুধুমাত্র শাবী হতে মুজালিদের সনদসূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাদের মতে বাজ, ঈগল ও শিকরার শিকার খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। মুজাহিদ (রাহঃ) বলেছেন, বাজ হল একটি শিকারী পাখি। এটা নখরযুক্ত প্রানীর অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেনঃ “এবং যেসব শিকারী প্রানীকে তোমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছ” (সূরাঃ মাইদা-৪)। তার মতে, শিকারী জন্তু বলতে যেসব কুকুর ও পাখি দিয়ে শিকার করা হয় তা বুঝায়। কিছু আলিম বাজ পাখির শিকার প্রসঙ্গে বলেছেন, পাখি তা হতে কিছু অংশ খেয়ে নিলেও তা খাওয়া জায়িয। তারা বলেছেন, একে প্রশিক্ষণ দেয়ার অর্থ হচ্ছে, একে ডাকা হলে ফিরে আসবে। কিছু আলিম এটা খাওয়া মাকরূহ বলেছেন। কিন্তু বেশীরভাগ ফিক্‌হ্‌বিদ আলিম বলেছেন, এই শিকার খাওয়া জায়িয যদিও পাখি তা থেকে কিছুটা খেয়েও নেয়।

১৬/৪. অধ্যায়ঃ

শিকারের প্রতি কোন লোক তীর ছোড়ার পর তা অদৃশ্য হয়ে গেলে

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৬৮

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْمِي الصَّيْدَ فَأَجِدُ فِيهِ مِنَ الْغَدِ سَهْمِي قَالَ ‏ "‏ إِذَا عَلِمْتَ أَنَّ سَهْمَكَ قَتَلَهُ وَلَمْ تَرَ فِيهِ أَثَرَ سَبُعٍ فَكُلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏ وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ وَعَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَكِلاَ الْحَدِيثَيْنِ صَحِيحٌ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ ‏.‏

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি শিকারের দিকে তীর ছুড়ে থাকি। পরবর্তী দিন সেটাতে আমার তীর বিদ্ধ অবস্থায় দেখি। তিনি বললেন: তুমি যদি জানতে পার যে, তোমার তীরই এটাকে মেরেছে এবং এতে কোন হিংস্র পশুর চিহ্ন না দেখ, তবে তা খাও।

সহীহ্‌, সহীহ্ আবূ দাঊদ (২৫৩৯), নাসা-ঈ অনুরূপএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। শুবা-আবূ বিশর ও আবদুল মালিক ইবনু মাইসারা হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) –এর সূত্রেও আদী ইবনু হাতিমের এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রটিও সহীহ্। আবূ সা’লাবা আল-খুশানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

১৬/৫. অধ্যায়ঃ

কোন লোক শিকারকে লক্ষ্য করে তীর ছোড়ার পর তা পানির মধ্যে মৃত পেলে

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنِي عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّيْدِ فَقَالَ ‏ "‏ إِذَا رَمَيْتَ بِسَهْمِكَ فَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ فَإِنْ وَجَدْتَهُ قَدْ قَتَلَ فَكُلْ إِلاَّ أَنْ تَجِدَهُ قَدْ وَقَعَ فِي مَاءٍ فَلاَ تَأْكُلْ فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي الْمَاءُ قَتَلَهُ أَوْ سَهْمُكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে শিকারের বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার তীর ছোঁড়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ কর। তুমি যদি শিকারকে মৃত পাও তবুও তা খেতে পার। কিন্তু তুমি তা পানিতে পড়ে থাকা অবস্থায় পেলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাক। কেননা তোমার জানা নেই, এটাকে পানি হত্যা করেছে না তোমার তীর হত্যা করেছে।

সহীহ্, সহীহ্ আবূ দাঊদ (২৫৪০), নাসা-ঈএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন।

১৬/৬. অধ্যায়ঃ

কুকুর তার শিকার হতে কিছু খেলে

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৭০

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَيْدِ الْكَلْبِ الْمُعَلَّمِ قَالَ ‏"‏ إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ الْمُعَلَّمَ وَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَكُلْ مَا أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَإِنْ أَكَلَ فَلاَ تَأْكُلْ فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلَى نَفْسِهِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ خَالَطَتْ كِلاَبَنَا كِلاَبٌ أُخَرُ قَالَ ‏"‏ إِنَّمَا ذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تَذْكُرْ عَلَى غَيْرِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ أَكْرَهُ لَهُ أَكْلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الصَّيْدِ وَالذَّبِيحَةِ إِذَا وَقَعَا فِي الْمَاءِ أَنْ لاَ يَأْكُلَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ فِي الذَّبِيحَةِ إِذَا قُطِعَ الْحُلْقُومُ فَوَقَعَ فِي الْمَاءِ فَمَاتَ فِيهِ فَإِنَّهُ يُؤْكَلُ وَهُوَ قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْكَلْبِ إِذَا أَكَلَ مِنَ الصَّيْدِ فَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَكَلَ الْكَلْبُ مِنْهُ فَلاَ تَأْكُلْ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الأَكْلِ مِنْهُ وَإِنْ أَكَلَ الْكَلْبُ مِنْهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতীম (রাঃ)

আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের শিকারের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, “তুমি তোমার শিকারী কুকুরকে শিকারের উদ্দেশ্যে ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে থাকলে সে তোমার জন্য যা ধরে রাখে তা খাও। যদি সে শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে তবে তা খেও না। কেননা সে তা নিজের জন্য শিকার করেছে।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কুকুরের সাথে অন্য কুকুর এসে মিলিত হয়ে যায়?” তিনি বললেনঃ “তুমি তো আল্লাহর নাম নিয়েছ তোমার কুকুরের ক্ষেত্রে, অন্য কারো কুকুরের বেলায় তো নাওনি।”

সহীহ্, সহীহ্‌ আবূ দাঊদ (২৫৩৮, ২৫৪৩), ইরওয়া (২৫৪৬), নাসা-ঈএটা খাওয়াকে সুফিয়ান সাওরী মাকরূহ বলেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগন আমল করেছেন। তাদের মতে শিকারকৃত এবং যবেহ কৃত পশু পানিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে তা খাওয়া বৈধ নয়। তাদের অপর একদল বলেছেন, কণ্ঠনালী কাটার পর পানিতে পড়ে গিয়ে মারা গেলে তা খাওয়া যাবে। এই অভিমত ইবনুল মুবারাকেরও।কুকুর শিকারের কিছু অংশ খাওয়ার পর তা খাওয়া বৈধ হবে কি-না এ বিষয়েও অভিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে মতভেদ আছে। বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, কুকুর শিকার হতে কিছু অংশ খেয়ে নিলে সেই শিকার খাওয়া বৈধ নয়। এই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অন্যদিকে এটা খাওয়ার পক্ষে একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ সম্মতি দিয়েছেন।

১৬/৭. অধ্যায়ঃ

বর্শা দিয়ে শিকার করা

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৭১

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَيْدِ الْمِعْرَاضِ فَقَالَ ‏ "‏ مَا أَصَبْتَ بِحَدِّهِ فَكُلْ وَمَا أَصَبْتَ بِعَرْضِهِ فَهُوَ وَقِيذٌ ‏"‏ ‏.‏حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

বর্শা দিয়ে শিকার করা প্রসঙ্গে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন: এর তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ দিয়ে যেটা শিকার করেছ তা খাও। আর যেটা এর পার্শ্বদেশ দ্বারা শিকার করেছ তা মৃত পশুর সমতুল্য (নিষিদ্ধ)।

সহীহ, সহীহ আবূ দাঊদ (২৫৪৩), নাসা-ঈএ হাদীসটি ইবনু আবূ উমার-সুফিয়ান হতে, তিনি যাকারিয়া হতে, তিনি শাবী (রহঃ) -এর সূত্রেও আদী (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন।

১৬/৮. অধ্যায়ঃ

চকমকি (সাদা) পাথর দিয়ে যবেহ করা

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْقُطَعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ قَوْمِهِ صَادَ أَرْنَبًا أَوِ اثْنَيْنِ فَذَبَحَهُمَا بِمَرْوَةٍ فَتَعَلَّقَهُمَا حَتَّى لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَأَمَرَهُ بِأَكْلِهِمَا ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَفْوَانَ وَرَافِعٍ وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يُذَكِّيَ بِمَرْوَةٍ وَلَمْ يَرَوْا بِأَكْلِ الأَرْنَبِ بَأْسًا وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُهُمْ أَكْلَ الأَرْنَبِ ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفَ أَصْحَابُ الشَّعْبِيِّ فِي رِوَايَةِ هَذَا الْحَدِيثِ فَرَوَى دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَفْوَانَ ‏.‏ وَرَوَى عَاصِمٌ الأَحْوَلُ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ أَوْ مُحَمَّدِ بْنِ صَفْوَانَ ‏.‏ وَمُحَمَّدُ بْنُ صَفْوَانَ أَصَحُّ ‏.‏ وَرَوَى جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ نَحْوَ حَدِيثِ قَتَادَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ وَيُحْتَمَلُ أَنَّ رِوَايَةَ الشَّعْبِيِّ عَنْهُمَا ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ حَدِيثُ الشَّعْبِيِّ عَنْ جَابِرٍ غَيْرُ مَحْفُوظٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)

তার বংশের একজন লোক একটি অথবা দুইটি খরগোশ শিকার করার পর একটি সাদা পাথর দ্বারা তা যবেহ করে। সে শিকার দুটি ঝুলানো অবস্থায় রেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে দেখা করে। সে এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করে। তিনি তাকে এটা খাওয়ার নির্দেশ দেন।

সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (৩১৭৫)আবূ ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ান, রাফি ও আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সাদা পাথর দ্বারা যবেহ করার পক্ষে একদল আলিম অনুমতি প্রদান করেছেন। তারা খরগোশ খাওয়াতে কোন আপত্তি আছে বলে মনে করেন না। বেশিরভাগ আলিমের এই অভিমত। খরগোশের গোশত খাওয়াকে কিছু আলিম মাকরূহ্‌ বলেছেন। এ হাদীস বর্ণনায় (সনদসূত্রে) শাবী (রহঃ) -এর শাগরিদগণ মতপার্থক্য করেছেন। দাঊদ ইবনু আবূ হিন্দ-আশ-শাবী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছন। আসিম আল-আহ্ওয়াল-শাবী হতে, তিনি সাফওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ অথবা মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ান অনেক বেশি সহীহ্‌। কাতাদা-শাবী-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মত জাবির আল-জুফী-শাবী হতে, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) -এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছন। হয়ত একই হাদীস দু’জনেই শাবীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, জাবিরের সূত্রে শাবী হতে বর্ণিত হাদীসটি অরক্ষিত।

১৬/৯. অধ্যায়ঃ

কোন পশুকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীর ছুড়ে মারা হলে তা খাওয়া নিষেধ

জামে তিরমিযী

হাদিস নং ১৪৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَفْرِيقِيِّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْمُجَثَّمَةِ وَهِيَ الَّتِي تُصْبَرُ بِالنَّبْلِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي الدَّرْدَاءِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবুদ দারদা (রাঃ)

‘মুজাস্সামা’ খাওয়াকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। যে পশুকে চাঁদমারির নিশানা বানিয়ে তীর ছুড়ে হত্যা করা হয় তাকে ‘মুজাস্সামা’ বলে।

সহীহ, সহীহা (২৩৯১)ইরবায ইবনু সারিয়া, আনাস, ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস জাবির ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18