দিয়াত বা রক্তপণ
১৪/১. অধ্যায়ঃ
যে সংখ্যক উট দিয়াত হিসেবে প্রদান করতে হবে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৮৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ الْكُوفِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ خِشْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي دِيَةِ الْخَطَإِ عِشْرِينَ بِنْتَ مَخَاضٍ وَعِشْرِينَ بَنِي مَخَاضٍ ذُكُورًا وَعِشْرِينَ بِنْتَ لَبُونٍ وَعِشْرِينَ جَذَعَةً وَعِشْرِينَ حِقَّةً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو .حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، وَأَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مَوْقُوفًا . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ أَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ عَلَى أَنَّ الدِّيَةَ تُؤْخَذُ فِي ثَلاَثِ سِنِينَ فِي كُلِّ سَنَةٍ ثُلُثُ الدِّيَةِ وَرَأَوْا أَنَّ دِيَةَ الْخَطَإِ عَلَى الْعَاقِلَةِ . وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنَّ الْعَاقِلَةَ قَرَابَةُ الرَّجُلِ مِنْ قِبَلِ أَبِيهِ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّمَا الدِّيَةُ عَلَى الرِّجَالِ دُونَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ مِنَ الْعَصَبَةِ يُحَمَّلُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ رُبُعَ دِينَارٍ . وَقَدْ قَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى نِصْفِ دِينَارٍ فَإِنْ تَمَّتِ الدِّيَةُ وَإِلاَّ نُظِرَ إِلَى أَقْرَبِ الْقَبَائِلِ مِنْهُمْ فَأُلْزِمُوا ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী খিশ্ফ ইবনু মালিক (রাহঃ)
আমি ইবনুর মাসউদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভুলবশত হত্যার দিয়াত নিম্নোক্ত বয়সের এক শত উট নির্ধারণ করেছেনঃ বিশটি দ্বিতীয় বছরে পদার্পণকারী উষ্ট্রী, বিশটি দ্বিতীয় বছরে পদার্পণকারী উট, বিশটি তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী উষ্ট্রী, বিশটি চতুর্থ বছরে পদার্পণকারী উষ্ট্রী এবং বিশটি পঞ্চম বছরে পদার্পণকারী উষ্ট্রী।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬৩১), এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হিশাম রিফাঈ-ইবনু আবূ যায়িদা ও আবূ খালিদ আল-আহমার হতে তারা উভয়ে আল-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদের হাদীসটি মারফূ হিসেবে পেয়েছি। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে মাওকূফ হিসেবেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকেরও এই মত। দিয়াতের অর্থ তিন বছরে তিন কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। প্রত্যেক বছর মোট অংশের এক-তৃতীয়াংশ করে পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আলিমদের মাঝে ঐকমত্য আছে। তারা আরো বলেছেন, ভুল বশতঃ হত্যার দায়ে আকিলার উপর দিয়াত পরিশোধের দায়িত্ব চেপে যায়। তাদের কেউ কেউ বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির পিতৃকুলের আত্মীয়কে আকিলা বলে। ইমাম মালিক ও শাফিঈর এই মত। অপর দল বলেছেন, দিয়াত শুধু পুরুষদের উপর ধার্য হয়, স্ত্রীলোক ও বালকদের উপর ধার্য হয় না। তাদের প্রত্যেকে এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ দায় বহন করবে। কেউ কেউ অর্ধ দীনারের কথা বলেছেন। এভাবে দিয়াতের সম্পূর্ণ অর্থ সংগ্রহ হয়ে গেলে তো ভাল, অন্যথায় দেখতে হবে তাদের নিকটাত্মীয় গোত্র আছে কি-না, থাকলে অবশিষ্ট দিয়াত তাদের উপর চাপানো হবে।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৮৭
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا حَبَّانُ، وَهُوَ ابْنُ هِلاَلٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا دُفِعَ إِلَى أَوْلِيَاءِ الْمَقْتُولِ فَإِنْ شَاءُوا قَتَلُوا وَإِنْ شَاءُوا أَخَذُوا الدِّيَةَ وَهِيَ ثَلاَثُونَ حِقَّةً وَثَلاَثُونَ جَذَعَةً وَأَرْبَعُونَ خَلِفَةً وَمَا صَالَحُوا عَلَيْهِ فَهُوَ لَهُمْ " . وَذَلِكَ لِتَشْدِيدِ الْعَقْلِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
বর্ণনাকারী আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে কোনো মুমিনকে খুন করবে তাকে নিহতের ওয়ারিসদের নিকট সোপর্দ করা হবে। তারা চাইলে তাকে হত্যাও করতে পারে অথবা রক্তপণ আদায় করতে পারে। রক্তপণের পরিমাণ তিন বছরের ত্রিশটি উটনী, চার বছরের ত্রিশটি উট এবং চল্লিশটি গর্ভবতী উট হতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। রক্তপণকে কঠোর করার জন্য এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৬২৬) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।
১৪/২. অধ্যায়ঃ
দিয়াত বাবদ প্রদেয় দিরহামের পরিমাণ
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৮৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الطَّائِفِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ جَعَلَ الدِّيَةَ اثْنَىْ عَشَرَ أَلْفًا .
বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) দিয়াতের পরিমাণ বার হাজার নির্ধারণ করেছেন।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬২৯)
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৮৯
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَفِي حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ كَلاَمٌ أَكْثَرُ مِنْ هَذَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا يَذْكُرُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ غَيْرَ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الدِّيَةَ عَشَرَةَ آلاَفٍ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ أَعْرِفُ الدِّيَةَ إِلاَّ مِنَ الإِبِلِ وَهِيَ مِائَةٌ مِنَ الإِبِلِ أَوْ قِيمَتُهَا .
বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান আল-মাখযূমী-সুফিয়ান ইবনু উআইনা
তিনি আমর সাঈদ বিন আবদুর রহমান আল-মাখযূমী (রহঃ) ... ইকরিমা (রহঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি।
যঈফ, প্রাগুক্ত, ইবনু উআইনার হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আরো অনেক তথ্য আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ব্যতীত কেউ এ হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।একদল আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের এই মত (দিয়াতের পরিমাণ বার হাজার দিরহাম)। অপর একদল আলিম বলেছেন, দিয়াতের পরিমাণ দশ হাজার দিরহাম। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীদের এই মত। ইমাম শাফিঈ বলেন, উটের মাধ্যমেই দিয়াত আদায় করতে হবে এবং এর পরিমাণ হবে এক শত উট অথবা তার মূল্য যা হয়।
১৪/৩. অধ্যায়ঃ
মুযিহা (আঘাতে হাড় বের হয়ে যাওয়া) প্রসঙ্গে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৯০
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الْمَوَاضِحِ خَمْسٌ خَمْسٌ " . قال أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ أَنَّ فِي الْمُوضِحَةِ خَمْسًا مِنَ الإِبِلِ .
বর্ণনাকারী আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্র
আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মূযিহার (হাড় দেখা যায় এরূপ জখমের) রক্তপণের পরিমাণ হবে পাঁচটি করে উট।
হাসান সহীহ্, ইবনু মা-জাহ- (২৬৫৫)এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক আলিমগণ আমল করেছেন। এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। তারা বলেন, মূযিহার (হাড় বের হয়ে যাওয়া জখমের) রক্তপণের পরিমাণ হবে পাঁচটি করে উট।
১৪/৪. অধ্যায়ঃ
আঙ্গুলসমূহের দিয়াত প্রসঙ্গে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৯১
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دِيَةُ الأَصَابِعِ الْيَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ سَوَاءٌ عَشْرٌ مِنَ الإِبِلِ لِكُلِّ أُصْبُعٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مُوسَى وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হাত ও পায়ের আঙুলসমূহের একই পরিমাণ রক্তপণ ধার্য হবে। একেকটি আঙুলের জন্য রক্তপণের পরিমাণ হবে দশটি করে উট।
সহীহ্, ইরওয়া- (২২৭১)আবূ মূসা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবেক একদল আলিম আমল করেছেন। একইরকম কথা বলেছেন (প্রতিটি আঙ্গুলের রক্তপণ দশটি উট) সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৯২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ " . يَعْنِي الْخِنْصَرَ وَالإِبْهَامَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটা ও এটা অর্থাৎ কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধা উভয় আঙুলের রক্তপণের পরিমাণ এক সমান।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ- (২৬৫২), বুখারীএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
১৪/৫. অধ্যায়ঃ
(দিয়াত) ক্ষমা প্রসঙ্গে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৯৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو السَّفَرِ، قَالَ دَقَّ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ سِنَّ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَاسْتَعْدَى عَلَيْهِ مُعَاوِيَةَ فَقَالَ لِمُعَاوِيَةَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ هَذَا دَقَّ سِنِّي . قَالَ مُعَاوِيَةُ إِنَّا سَنُرْضِيكَ وَأَلَحَّ الآخَرُ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَأَبْرَمَهُ فَلَمْ يُرْضِهِ فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ شَأْنَكَ بِصَاحِبِكَ . وَأَبُو الدَّرْدَاءِ جَالِسٌ عِنْدَهُ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ رَجُلٍ يُصَابُ بِشَيْءٍ فِي جَسَدِهِ فَيَتَصَدَّقُ بِهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهِ خَطِيئَةً " . قَالَ الأَنْصَارِيُّ أَأَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي . قَالَ فَإِنِّي أَذَرُهَا لَهُ . قَالَ مُعَاوِيَةُ لاَ جَرَمَ لاَ أُخَيِّبُكَ . فَأَمَرَ لَهُ بِمَالٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَلاَ أَعْرِفُ لأَبِي السَّفَرِ سَمَاعًا مِنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَأَبُو السَّفَرِ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ أَحْمَدَ وَيُقَالُ ابْنُ يُحْمِدَ الثَّوْرِيُّ .
বর্ণনাকারী আবুস সাফার (রাহঃ)
এক কুরাইশী এক আনসারীর দাঁত ভেঙ্গে ফেলে। সে মুআবিয়া (রাঃ)-এর আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সে মুআবিয়া (রাঃ)-কে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! এই ব্যক্তি আমার দাঁত ভেঙ্গেছে। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, আমরা তোমাকে সন্তুষ্ট করব।অপর (অভিযুক্ত) ব্যক্তি মুআবিয়া (রাঃ)-কে পীড়াপীড়ি করতে থাকলো এবং বাদীকে বিনিময় গ্রহণে বাধ্য করাতে চাইল কিন্তু তিনি তাকে রাজি করাতে পারলেন না। মুআবিয়া (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার সাথীকে তোমার নিকট ছেড়ে দিলাম (তুমি তাকে মাফ করতে পার আবার কিসাসও গ্রহণ করতে পার)।এ সময় আবু দারদা (রাঃ) তার নিকটে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যা আমি স্বয়ং কানে শুনেছি এবং আমার অন্তর মনে রেখেছেঃ “কোন ব্যক্তির শরীরের কোন অংশ (অন্যের দ্বারা) আহত হলে, তারপর সে (অভিযুক্তকে) মাফ করে দিলে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা তার মর্যাদা আরো একধাপ বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন”।আনসারী ব্যক্তিটি তাকে প্রশ্ন করল, আপনি কি তা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমার দুই কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা মনে রেখেছে। আনসারী বললেন, তাহলে আমি তাকে মাফ করলাম।মুআবিয়া (রাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে বঞ্চিত করব না। তারপর তিনি তাকে কিছু মাল দেওয়ার নির্দেশ দেন।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬৯৩), আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। উল্লেখিত সূত্রেই শুধু আমরা তা জেনেছি। আবূস সাফার আবূদ দারদার নিকটে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূস সাফারের নাম সাঈদ, পিতা আহমাদ, তাকে ইবনু মুহাম্মদ আস-সাওরীও বলা হয়।
১৪/৬. অধ্যায়ঃ
পাথর দ্বারা আঘাত করে কারো মাথা থেতলানো হলে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৯৪
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ خَرَجَتْ جَارِيَةٌ عَلَيْهَا أَوْضَاحٌ فَأَخَذَهَا يَهُودِيٌّ فَرَضَخَ رَأْسَهَا بِحَجَرٍ وَأَخَذَ مَا عَلَيْهَا مِنَ الْحُلِيِّ . قَالَ فَأُدْرِكَتْ وَبِهَا رَمَقٌ فَأُتِيَ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ قَتَلَكِ أَفُلاَنٌ " . قَالَتْ بِرَأْسِهَا لاَ . قَالَ " فَفُلاَنٌ " . حَتَّى سُمِّيَ الْيَهُودِيُّ فَقَالَتْ بِرَأْسِهَا أَىْ نَعَمْ . قَالَ فَأُخِذَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُضِخَ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ قَوَدَ إِلاَّ بِالسَّيْفِ .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
একটি বালিকা গহনা পরে বাড়ির বাইরে গেলে একজন ইয়াহুদী তাকে ধরে নিয়ে পাথর দ্বারা আঘাত করে তার মাথা থেঁতলিয়ে দেয় এবং তার গহনা ছিনিয়ে নেয়। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আনা হয়। সে মুহুর্তেও তার মধ্যে জীবনের স্পন্দন অবশিষ্ট ছিল। তিনি প্রশ্ন করেনঃ কে তোমাকে হত্যা করেছে, অমুক লোক কি? সে মাথার ইশারায় বলল, না। তিনি আবার প্রশ্ন করেন। তাহলে কি অমুক লোক। এভাবে তিনি নাম উচ্চারণ করতে করতে বললেনঃ অমুক ইয়াহুদী? সে মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে ধরে আনা হলে সে ঘটনার স্বীকারোক্তি করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশে তার মাথা দুই পাথরের মাঝে রেখে থেঁতলিয়ে দেওয়া হল।
সহীহ্ ইবনু মা-জাহ- (২৬৬৫, ২৬৬৬), নাসা-ঈএ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুসারে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কিছু আলিম বলেছেন, তরবারির আঘাতেই কিসাস কার্যকর করতে হবে।
১৪/৭. অধ্যায়ঃ
মু'মিন লোককে মেরে ফেলা প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ১৩৯৫
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَزَوَالُ الدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ قَتْلِ رَجُلٍ مُسْلِمٍ " .حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي عَدِيٍّ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَبُرَيْدَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو هَكَذَا رَوَاهُ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَى مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، فَلَمْ يَرْفَعْهُ وَهَكَذَا رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، مَوْقُوفًا وَهَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ .
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর নিকট পৃথিবী ধ্বংস হওয়াটা অধিকতর সহজ ব্যাপার একজন মুসলিম খুন হওয়ার পরিবর্তে।
সহীহ্, গায়াতুল মারাম- (৪৩৯)মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি ইয়ালা হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ হাদীসটি এই সূত্রে মারফুরূপে বর্ণিত হয়নি। ইবনু আবূ আদীর হাদীসের তুলনায় এটিকেই আবূ ঈসা অধিকতর সহীহ্ বলেছেন। সা'দ, ইবনু আব্বাস, আবূ সাইদ, আবূ হুরাইরা, উকবা ইবনু আমির ও বুরাইদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে আরো কয়েকটি সূত্রে মাওকূফভাবে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে (মূল গ্রন্থে দ্র.)। সূত্রগুলি ১. ইবনু আবী আদী শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। ২. মুহাম্মদ ইবনু জা'ফর আরও অনেকে শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে। ৩. সুফিয়ান সাওরী ইয়ালা ইবনু আতা হতে মাওকুফ হিসেবে। শেষ সূত্রটি মারফু হাদীসের তুলনায় অধিকতর সহীহ্ ।