উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
১/১. অধ্যায়ঃ
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ১
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবায়ের ও আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)- এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনা করে দেন। (আস্-সহীহাহ-৩১৬৬)হাদীসটি সহীহ্।
আল-আদাবুল মুফরাদ হাদীস নং ৫৬৮ (ইফা. ঢাকা হা. ৫৭০) বাইহাক্বী তাঁর ‘আস-সুনান’ -এ ৬/২৬২ নং। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি সহীহ্ মুসলিম ও মুস্তাদরাক হাকিমের শর্তে সহীহ্।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ২
বর্ণনাকারী আবূ মাসউদ বদরী (রাঃ)
আবূ মাসউদ বদরী (রাঃ) হতে মারফূ সূত্রে বর্ণিত। পূর্ববর্তী নাবুওয়াতের বাণীসমূহ হতে মানুষেরা সর্বশেষ যা পেয়েছে তা হলো যখন তোমার লজ্জা-শরম নেই তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই কর। (আস-সহীহাহ-৬৮৪)হাদীসটি সহীহ্।
ইবনু আকাসীর তাঁর ‘তারীখে দামেশ্ক’-এ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। মুনাভী (রহঃ) ‘ফয়যুল ক্কাদীর’ এ বলেনঃ “এর সানাদটি যঈফ। কেননা এর (সানাদে) ফাতহুল মিসরী বর্ণনাকারী যঈফ। কিন্তু এর সাক্ষ্য রয়েছে ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ)-এর “শু’আবুল ঈমানে”। তিনি (রহঃ) ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে উক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ৩
বর্ণনাকারী কা’ব ইবনু উজহার (রাঃ)
নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কা’বকে দেখতে না পেয়ে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাহাবীগণ বললেন, তিনি অসুস্থ। অতঃপর মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেঁটে তার নিকট গেলেন। যখন তাঁর কাছে গিয়ে পৌঁছলেন, তখন বললেনঃ হে কা’ব! সুসংবাদ গ্রহণ কর। (তা শুনে) তার মা বললেন, হে কাব! তোমার জন্য জান্নাতের অভিনন্দন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর (ফায়সালার) ব্যাপারে এই তাড়াহুড়াকারিণী কে? সে (কা’ব) বলল,ইয়া রাসুলুল্লাহ! উনি আমার ‘মা’। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে কা’বের মা! তুমি কিভাবে জানবে? হয়ত কা’ব এমন উক্তি করেছে যা তার জন্য সমীচীন ছিল না। অথবা এমন ব্যাপারে নীরব ছিল যা তার জন্য ক্ষতির কারণ হত না। (আস্-সহীহাহ-৩১০৩)হাদীসটি হাসান।
আল্লামা হায়ছামী (রহঃ) বলেনঃ এর সানাদ হাসান (মাজমাউয যাওয়ায়েদ- ১০/৩১৪০০)।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ৪
বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)
নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ অতি ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তি। (আস্ সহীহাহ-৩৯৭০)হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি আয়িশা (রাঃ) মারফু’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম বুখারী তাঁর “সহীহ বুখারি” হা. ৪৫২৩, ফাতহুল বারী হা. ৭১৮৮; সহীহ মুসলিম- ৮/৫৭; তার -এর(১/৮১) তার কিতাবের ২৭৩; (১২৪৩) তিরমিযী হা. ২৯৭২; নাসাঈ- ২/৩১১ (হা. ৫৪২৩); ইবনু হিব্বান হা. ৫৬৬৭; বায়হাক্বী-১০/১০৮; বায়হাক্বীর ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ হা. ৫০১; আহমাদ ৬/৫৫, ৬৩ ২০৫; মিশকাত (এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ঢাকা) ৭/৩৫৮৯।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ৫
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমরা জান (চোগলখুরী) কী? তারা (সাহাবীগণ) বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলই (তা) সঠিকভাবে অবগত রয়েছেন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ (তা হলো) বিশৃংখলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একের কথা অন্যের নিকট লাগানো। (আস্-সহীহাহ-৮৪৫)হাদীসটি হাসান।
আল-আদাবুল মুফরাদ হা. ৪২৫ (ইফা. ঢাকা হা. ৪২৭; সহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা ৩২৭), ত্বহাবী তাঁর “শরহু মুশকিলিল আছার” -এ ৩/১৩৯; সুনানে বায়হাক্বী- ১০/২৪৬-৪৭।আলবানী (রহঃ) বলেনঃ “হাদীসটির সানাদ হাসান এবং এর সমস্ত বর্ণনাকারী ছিক্বাহ।” তাছাড়া হাদীসটির আরো সাক্ষ্য থাকার কথা তিনি (রহঃ) উল্লেখ করেছেন।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ৬
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু জিহাদাহ
মুহাম্মাদ ইবনু জিহাদাহ বনী আনবারের এর বন্ধুর নিকট থেকে বর্ণনা করেন। আর তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁর উপাধি ছিল, আবুল মুনতাফিক। তিনি বলেন, আমি মক্কায় গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে (সাহাবীগণ) বললেনঃ তিনি আরাফায় অবস্থান করছেন। আমি সেখানে গেলাম। অতঃপর তাঁর নিকট যেতে চাইলে সাহাবীগণ আমাকে বাধা প্রদান করলেন। (এটা দেখে) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও (আসতে দাও)। তখন আমি তাঁর নিকটে গেলাম। (আলোচনার পর) যখন তাঁর উট ও আমার উটের ঘাড় পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হতে লাগল। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে আল্লাহর আযাব থেকে দূরে রাখবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (উত্তরে) তিনি বললেনঃ (ক) আল্লাহর ইবাদাত করো (কোন কোন বর্ণনায় (আরবি)এর স্থানে (আরবি) ব্যবহার হয়েছে।) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। (খ) ফরজ সালাতসমূহ আদায কর। (গ) ফরজ যাকাত আদায কর। (ঘ) রামাযানের রোজা পালন কর। (ঙ) হাজ্জ ও উমরাহ পালন কর। (চ) মানুষের সাথে ঐরূপ আচরণ কর, যেমন আচরণ তাদের নিকট থেকে তুমি পেতে পছন্দ কর। একইভাবে তাদের সাথে এরূপ আচরণ পরিহার কর; যেরূপ আচরণ তাদের পক্ষ থেকে তুমি অপছন্দ করে থাক। (আস্-সহীহাহ- ৩৫০৮)হাদীসটি সহীহ্।
ইমাম তাবারানী তার -এর (৪/১৬) পৃষ্ঠা হা. ৩২২২। শাইখ আলবানী (রহঃ) এছাড়া আরো বর্ণনা করেছেন সহীহার হা (৩/১৩৭৭)। বিভিন্ন ভিত্তিতে হাদীসটিকে সহীহ্ গণ্য করা হয়েছে।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ৭
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্ন করা হলো, সর্বোত্তম মানব কে? তিনি বললেনঃ যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু (সেই সর্বোত্তম মানব)। সাহাবীগণ বললেন, আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। তিনি (রাসুলুল্লাহ) বললেন, সর্বোত্তম মানব ইউসুফ আলাইহিস সালাম যিনি আল্লাহর নাবী, আবার নাবীর পুত্র অনুরুপভাবে তাঁর পিতাও নাবীর পুত্র। তাঁর দাদা আবার খালিলুল্লাহ [ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম] -এর পুত্র। সাহাবীগণ আরজ করলেন, আমরা এ ব্যাপারেও প্রশ্ন করিনি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তবে আরবের সম্ভ্রান্তদের (মর্যাদার উৎস বা আকর) সম্পর্কে জানতে চাও? মানুষ সম্ভ্রান্ত (মর্যাদার আকর) জাহেলী যুগের সম্ভ্রান্তগণ ইসলামী যুগেও সম্ভ্রান্ত যদি তারা বিদ্যায় অগ্রগামী হয় (অর্থাৎ, ঈলম ও ‘আমালে প্রাবল্যতা লাভ করে)। (আস্-সহীহাহ/৩৯৯৬)হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি আবূ হুয়ায়রা (রাঃ) মারফূ’ সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটির শায়খাইনের শর্তে সহীহ্। হাদীসটি ইমাম দারেমী তার -এর হা. ২২৩, সহীহ্ বুখারী হা. ৩৩৫৩, ৩৪৯০ এবং সহীহ মুসলিম- ৭/১০৩;
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ৮
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণিত; তোমরা আল্লাহেক ভয় কর এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ। (আস্-সহীহাহ- ৭৬৯)হাদীসটি যঈফ।
তাবারানী তাঁর “আল-আওসাত” -এ (৬/১৮), আত্-তারগীব [মুহাম্মাদ তামির বলেন, “হাদীসটি যঈফুন জিদ্দান (আত্-তারগীব দারু ইবনে রজব, মিসর) ৩/৭ পৃষ্ঠা; হা ৩০১৯] আত-তারগীব (ইফা. ঢাকা) ৩/১১৮ পৃষ্ঠা। আলবানী (রহঃ) হাদীসটির সানাদকে যঈফ বলেছেন। [যঈফ আত্-তারগীব-২/১২৪৫ নং, আয-যঈফাহ- ৫/৫৩৬৯ নং]তিনি সহীহাতেও যঈফ বলার সাথে সাথে অপর একটি বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেনঃ ইবনু জারীর ও আবাদ বিন হুমায়িদ ক্বাতাদাহ থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, অতঃপর লিখেছেন- (এটি হাসান মানে উত্তীর্ণ)।শেষে লিখেছেনঃ হাদীসটি (সূরা আন-নিসা- ১) আয়াতের ব্যাখ্যা করে। (আস্-সহীহাহ্ হা. ৮৬৯) অবলম্বনে।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ৯
বর্ণনাকারী আবূ দারদা (রাঃ)
আবূ দারদা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, মিযানে (কিয়ামাত দিবসে পাপ-পুণ্য মাপার পাল্লায়) সর্বাপেক্ষা ভারী বস্তু হলো, উত্তম চরিত্র। (আস্-সহীহাহ-৮৭৬)হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি আবূ দারদা (রাঃ) মারফূ’ সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসটি ইমাম ইবনু হিব্বান তার সহিহা-এর হা. (২/৪৮১)।
সিলসিলা সহিহা
হাদিস নং ১০
বর্ণনাকারী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর এক সাহাবী
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললেন, আমাকে এমন কতিপয় বাক্য সম্পর্কে অবহিত করুন যে অনুযায়ী আমি জীবন-যাপন করতে পারি। অধিক কিছু বলবেন না, যার দরুণ আমি তা ভুলে যাই। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ কর। লোকটি পুনরায় প্রশ্ন করলে (আবার উক্ত বাক্যের প্রার্থনা করলে) তিনি বললেন, ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ কর। (আস্-সহীহাহ- ৮৮৪)হাদীসটি সহীহ্।
হাদীসটি (আরবি)-এর সূত্রে বর্ণিত। হাদীসটির ইসনাদ সহীহ্। সানাদের (আরবি) হলেন আর (আরবি) হলেন হাদীসটি ইমাম আহমাদ তার -এর হা. ২৩৪৬৮ ও ২৩১৭১ এ (আরবি) -এর সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন।