সফরের আদব-কায়দা
৮/১৬৬. অধ্যায়ঃ
বৃহস্পতিবার সকালে সফরে বের হওয়া উত্তম
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ১/৯৬৩
عَنْ كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ يَوْمَ الخَمِيسِ، وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يَخْرُجَ يَوْمَ الْخَميسِ . متفقٌ عَلَيْهِ.وفي رواية في الصحيحين: لَقَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ إِلاَّ فِي يَوْمِ الخَمِيسِ.
বর্ণনাকারী কা‘ব ইবনে মালেক (রাঃ)
নবী (ﷺ) তাবুক অভিযানে বৃহস্পতিবার বের হলেন। আর তিনি বৃহস্পতিবার (সফরে) বের হওয়া পছন্দ করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]বুখারী-মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য দিনে কমই সফরে বের হতেন।(প্রকাশ থাকে যে বৃহস্পতিবার সফরে বের হওয়ার কথা মুসলিম শরীফে নেই।)
সহীহুল বুখারী ২৯৪৯, ২৭৫৮, ২৯৪৭, ২৯৪৮, ২৯৫০, ৩০৮৮, ৩৫৫৬, ৩৮৮৯, ৩৯৫১, ৪৪১৮, ৪৬৭৩, ৪৬৭৬, ৪৬৭৭, ৪৬৭৮, ৬২৫৫, ৬৬৯০, ৭২২৫, মুসলিম ২৭৬৯, তিরমিযী ৩১০২, নাসায়ী ৩৮২৪, ৩৮২৬, আবূ দাউদ ২২০২, ৩৩১৭, ৩৩১৯, ৩৩২১, ৪৬০০, আহমাদ ১৫৩৪৩, ১৫৩৪৫, ১৫৩৫৪
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ২/৯৬৪
وَعَنْ صَخرِ بنِ وَدَاعَةَ الغَامِدِيِّ الصَّحَابِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: اَللهم بَارِكْ ِلأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا. وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشَاً بَعَثَهُمْ مِنْ أوَّلِ النَّهَارِ . وَكَانَ صَخْرٌ تَاجِراً، وَكَانَ يَبْعَثُ تِجَارَتَهُ أوَّلَ النَّهَار، فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ. رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ:حديث حسن
বর্ণনাকারী খর ইবনে অদা‘আহ গামেদী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালে বরকত দাও।’’ আর তিনি যখন সেনার ছোট বাহিনী অথবা বড় বাহিনী পাঠাতেন, তখন তাদেরকে সকালে রওয়ানা করতেন। স্বাখর ব্যবসায়ী ছিলেন। সুতরাং তিনি তাঁর ব্যবসার পণ্য সকালেই প্রেরণ করতেন। ফলে তিনি (এর বরকতে) ধনী হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর মাল প্রচুর হয়েছিল। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান) [১]
ইবনু মাজাহ ২২৩৬, আবূ দাউদ ২৬০৬, আহমাদ ১৫০১২, ১৫০১৭, ১৫১২৯, ১৫১৩০, দারেমী ২৪৩৫
৮/১৬৭. অধ্যায়ঃ
সফরের জন্য সাথী খোঁজ করা এবং কোন একজনকে আমীর (দলপতি) নিযুক্ত করে তার আনুগত্য করা শ্রেয়
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ১/৯৬৫
عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: لَوْ أَنَّ النَّاسَ يَعْلَمُونَ مِنَ الوحدَةِ مَا أعْلَمُ، مَا سَارَ رَاكبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ ! . رواه البخاري
বর্ণনাকারী ইবনে উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যদি লোকেরা জানত যে, একাকী সফরে কী ক্ষতি রয়েছে; যা আমি জানি, তাহলে কোন সওয়ার একাকী সফর করত না।’’ (বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ২৯৯৮, তিরমিযী ১৬৭৩, ইবনু মাজাহ ৩৭৬৮, আহমাদ ৪৭৩৭, ৫২৩০, ৫৫৫৬, ৫৬১৮, দারেমী ২৬৭৯
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ২/৯৬৬
وَعَنْ عَمرِو بنِ شُعَيْبٍ، عَن أَبِيهِ، عَن جَدِّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ، وَالثَّلاَثَةُ رَكْبٌ ». رواه أَبُو داود والترمذي والنسائي بأسانيد صحيحةٍ، وَقَالَ الترمذي: «حديث حسن »
বর্ণনাকারী আম্র ইবনে শুআইব তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র)
’আমর ইবনে শু’আইব তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর) হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’একজন (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু’জন আরোহী দু’টি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ বিশুদ্ধসূত্রে) [১]
আবূ দাউদ ২৬০৭, তিরমিযী ১৬৭৪, আহমাদ ৬৭০৯, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৩১
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৩/৯৬৭
وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ وأَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنهُمَا، قَالاَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا خَرَجَ ثَلاَثَةٌ في سَفَرٍ فَليُؤَمِّرُوا أحَدَهُمْ . حديث حسن، رواه أَبُو داود بإسنادٍ حسن
বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা)
আবূ সা’ঈদ ও আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যখন তিন ব্যক্তি সফরে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।’’ (আবূ দাঊদ হাসান সূত্রে)[১]
আবূ দাউদ ২৬০৮
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৪/৯৬৮
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: خَيْرُ الصَّحَابَةِ أرْبَعَةٌ، وَخَيْرُ السَّرَايَا أرْبَعُمِئَةٍ، وَخَيْرُ الجُيُوشِ أرْبَعَةُ آلاَفٍ، وَلَنْ يُغْلَبَ اثْنَا عَشَرَ ألْفاً مِنْ قِلةٍ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن
বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’সর্বোত্তম সঙ্গী হল চারজন, সর্বোত্তম ছোট সেনাবাহিনী হল চারশ’ জন, সর্বোত্তম বড় সেনাবাহিনী হল চার হাজার জন। আর বারো হাজার সৈন্য স্বল্পতার কারণে কখনো পরাজিত হবে না।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাসান) [১]
আবূ দাউদ ২৬১১, তিরমিযী ১৫৫৫, দারেমী ২৪৩৮
৮/১৬৮. অধ্যায়ঃ
সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো এবং সফরে ঘুমানোর আদব-কায়দা। রাতে পথচলা মুস্তাহাব, সওয়ারী পশুদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা এবং তাদের বিশ্রামের খেয়াল রাখা। যে তাদের অধিকারের ব্যাপারে ত্রুটি করে তাকে তাদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেওয়া। সওয়ারী সমর্থ হলে আরোহীর নিজের পিছনে অন্য কাউকে বসানো বৈধ।
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ১/৯৬৯
عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا سَافَرْتُمْ فِي الخِصْبِ، فَأَعْطُوا الإبلَ حَظَّهَا مِنَ الأَرْضِ، وَإِذَا سَافَرْتُمْ فِي الجَدْبِ، فَأَسْرِعُوا عَلَيْهَا السَّيْرَ، وَبَادِرُوا بِهَا نِقْيَهَا، وَإِذَا عَرَّسْتُمْ، فَاجْتَنِبُوا الطَّرِيقَ ؛ فَإنَّهَا طُرُقُ الدَّوَابِّ، وَمَأوَى الهَوَامِّ بِاللَّيْلِ . رواه مسلم
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যখন তোমরা সবুজ-শ্যামল ঘাসে ভরা যমীনে সফর করবে, তখন উটকে তার যমীনের অংশ দাও (অর্থাৎ কিছুক্ষণ চরতে দাও)। আর যখন তোমরা ঘাস-পানিবিহীন যমীনে সফর করবে, তখন তার উপর চড়ে দ্রুত চলো এবং তার শক্তি শেষ হওয়ার পূর্বেই গন্তব্যস্থানে পৌঁছে যাও। আর যখন তোমরা রাতে বিশ্রামের জন্য কোন স্থানে অবতরণ করবে, তখন আম রাস্তা থেকে দূরে থাকো। কারণ, তা রাতে (হিংস্র) জন্তুদের রাস্তা এবং (বিষাক্ত) পোকামাকড়ের আশ্রয় স্থল।’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ১৯২৬, তিরমিযী ২৮৫৮, আবূ দাউদ ২৫৬৯, আহমাদ ৮২৩৭, ৮৭০০
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ২/৯৭০
وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ، فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينهِ، وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ، وَوَضَعَ رَأسَهُ عَلَى كَفِّهِ . رواه مسلم
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ)
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, ’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করতেন। আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের চেটোর উপর মাথা রেখে আরাম করতেন।’ (মুসলিম) [১]আলেমগণ বলেন, ’তিনি হাত খাড়া রেখে আরাম করতেন, যাতে গভীর নিদ্রা এসে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত অথবা প্রথম ওয়াক্ত ছুটে না যায়।’
মুসলিম ৬৮৩, আহমাদ ২২০৪০, ২২১২৫
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৩/৯৭১
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: عَلَيْكُمْ بِالدُّلْجَةِ، فَإنَّ الأرْضَ تُطْوَى بِاللَّيْلِ . رواه أَبُو داود بإسناد حسن
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা রাতে সফর কর। কেননা, রাতে যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয়।’’ (আবূ দাউদ, হাসান সূত্রে) [১] (অর্থাৎ রাস্তা কম মনে হয়।)
আবূ দাউদ ২৫৭১
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৪/৯৭২
وَعَنْ أَبي ثَعْلَبَةَ الخُشَنِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ النَّاسُ إِذَا نَزَلُوا مَنْزِلاً تَفَرَّقُوا فِي الشِّعَابِ وَالأوْدِيَةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشِّعَابِ وَالأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ! فَلَمْ يَنْزِلُوا بَعْدَ ذَلِكَ مَنْزِلاً إِلاَّ انْضَمَّ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ. رواه أَبُو داود بإسناد حسن
বর্ণনাকারী আবূ সা‘লাবা খুশানী (রাঃ)
আবূ সা’লাবা খুশানী (রাঃ) বলেন, লোকেরা যখন কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া শয়তানের কাজ।’’ এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন। (আবূ দাউদ) [১]
আবূ দাউদ ২৬২৮, আহমাদ ২৭২৮২