(কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন
১১/২৩৩. অধ্যায়ঃ
হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ১/১২৭৯
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ البَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ». متفقٌ
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “ইসলামের ভিত পাঁচটি জিনিসের উপর স্থাপিত আছে। (১) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বূদ (উপাস্য) নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) বায়তুল্লাহর হজ্জ করা এবং (৫) মাহে রমযানের সিয়াম (রোযা) পালন করা।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৮, মুসলিম ১৬, তিরমিযী ২৬০৯, ইবনু মাজাহ ৫০০১, আহমাদ ৪৭৮৩, ৫৬৩৯, ৫৬৫৯, ৫৬৭৯, ৬২৬৫
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ২/১২৮০
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُم الحَجَّ فَحُجُّوا». فَقَالَ رَجُلٌ: أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ فَسَكَتَ، حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثاً . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ» ثُمَّ قَالَ: «ذَرُوْنِي مَا تَرَكْتُكُمْ ؛ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ، وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيءٍ فَأتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَن شَيْءٍ فَدَعُوهُ». رواه مسلم
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে ভাষণ দানকালে বললেন, “হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের উপর (বায়তুল্লাহর) হজ্জ ফরয করেছেন, অতএব তোমরা হজ্জ পালন কর।” একটি লোক বলে উঠল, ’হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর তা করতে হবে কি?’ তিনি নিরুত্তর থাকলেন এবং লোকটি শেষ পর্যন্ত তিনবার জিজ্ঞাসা করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যদি আমি বলতাম, হ্যাঁ। তাহলে (প্রতি বছরে) হজ্জ ফরয হয়ে যেত। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হতে।” অতঃপর তিনি বললেন, “তোমরা আমাকে (আমার অবস্থায়) ছেড়ে দাও, যতক্ষণ আমি তোমাদেরকে (তোমাদের সব সব অবস্থায়) ছেড়ে রাখব। কেননা, তোমাদের পূর্বেকার জাতিরা অতি মাত্রায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের পয়গম্বরদের বিরোধিতা করার দরুন ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোন কিছু করার আদেশ দেব, তখন তোমরা তা সাধ্যমত পালন করবে। আর যা করতে নিষেধ করব, তা থেকে বিরত থাকবে।” (মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৭২৮৮, মুসলিম ১৩৩৭, তিরমিযী ২৬৭৯, নাসায়ী ২৬১৯, ইবনু মাজাহ ১, ২, আহমাদ ৭৩২০, ৭৪৪৯, ৮৪৫০, ৯২৩৯, ৯৪৮৮, ৯৫৫৭৭, ৯৮৯০, ১০২২৯, ১০৩২৭
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৩/১২৮১
وَعَنْهُ، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ العَمَلِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللهِ وَرسولِهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ: «حَجٌّ مَبرُورٌ». متفقٌ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ’সর্বোত্তম কাজ কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান রাখা।” পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ’অতঃপর কি?’ তিনি বললেন, “মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২৬, ১৫১৯, মুসলিম ৮৩, তিরমিযী ১৬৫৮, নাসায়ী ২৬২৫, ৩১৩০, আহমাদ ৭৪৫৯, ৭৫৩৬, ৭৫৮৫, ৭৮০৩, ৮০১৪, ৮৩৭৪, ৯৪০৭, দারেমী ২৩৯৩
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৪/১২৮২
وَعَنْه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنْ حَجَّ، فَلَمْ يَرْفُثْ، وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ». متفقٌ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (রাঃ)
উক্ত রাবী (আবূ হুরাইরা) (রাঃ) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি হজ পালন করল এবং (তাতে) কোন অশ্লীল কাজ করল না ও পাপাচার করল না, সে ব্যক্তি ঠিক ঐ দিনকার মত (নিষ্পাপ হয়ে) বাড়ি ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।” বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ১৫২১, ১৮১৯, ১৮২০, মুসলিম ১৩৫০, তিরমিযী ৮১১, নাসায়ী ২৬২৭, ইবনু মাজাহ ২৮৮৯, আহমাদ ৭০৯৬, ৭৩৩৪, ৯০৫৬, ৯৯০৪, ১০০৩৭, দারেমী ১৭৯৬
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৫/১২৮৩
وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَينَهُمَا، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الجَنَّةَ». متفقٌ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (রাঃ)
উক্ত রাবী (আবূ হুরাইরা) (রাঃ) থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “একটি উমরাহ পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত ঐ দুয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপ-রাশির জন্য কাফফারা (মোচন-কারী) হয়। আর ’মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ১৭৭৩, মুসলিম ১৩৪৯, তিরমিযী ৯৩৩, নাসায়ী ২৬২২, ২৬২৩, ২৬২৯, ইবনু মাজাহ ২৮৮৭, ২৮৮৮, আহমাদ ৭৩০৭, ৯৬২৫, ৯৬৩২, মুওয়াত্তা মালিক ৭৭৬, দারেমী ১৭৯৫
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৬/১২৮৪
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، نَرَى الجِهَادَ أَفْضَلَ العَمَلِ، أَفَلاَ نُجَاهِدُ ؟ فَقَالَ: «لَكُنَّ أَفْضَلُ الجِهَادِ: حَجٌّ مَبْرُورٌ». رواه البخاري
বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে সর্বোত্তম কাজ মনে করি, তাহলে কি আমরা জিহাদ করব না?’ তিনি বললেন, “তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে ’মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ১৫২০, ১৮৬১, ২৭৮৪, ২৮৭৫, ২৮৭৬, নাসায়ী ২৬২৮, ইবনু মাজাহ ২৯০১১২৮৫.
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৭/১২৮৫
وَعَنْها: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَن يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْداً مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ». رواه مسلم
বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (রাঃ)
উক্ত রাবী (আয়েশা) রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “আরাফার দিন অপেক্ষা এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ সর্বাধিক বেশী সংখ্যায় বান্দাকে জাহান্নাম-মুক্ত করেন।” (মুসলিম)[১]
মুসলিম ১৩৪৮, না৩০০৩, ইবনু মাজাহ ৩০১৫
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৮/১২৮৬
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «عُمْرَةٌ في رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً - أَوْ حَجَّةً مَعِي». متفقٌ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, “মাহে রমযানের উমরাহ একটি হজ্জের সমতুল্য অথবা আমার সঙ্গে হজ্জ করার সমতুল্য।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ১৭৮৬, ১৮৬৩, মুসলিম ১২৫৬, নাসায়ী ২১১০, আবূ দাউদ ১৯৯০, ইবনু মাজাহ ২৯৯৪, আহমাদ ২০২৬, ২৮০৪, দারেমী ১৮৫৯
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ৯/১২৮৭
وَعَنْهُ: أَنَّ امرَأَةً قَالَت: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ فَرِيضَةَ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الحَجِّ، أَدْرَكَتْ أَبي شَيْخاً كَبِيراً، لاَ يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَفَأحُجُّ عَنْهُ ؟ قَالَ: «نَعَمْ». متفقٌ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী উক্ত রাবী (রাঃ)
একজন মহিলা বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর স্বীয় বান্দাদের উপর হজ্জের ফরয আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমতাবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে, তিনি বাহনের উপর চড়ে বসে থাকতে অক্ষম। আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ পালন করব?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ১৫১৩, ১৮৫৪, ১৮৫৫, ৫৩৯৯, ৬২২৮, মুসলিম ১৩৩৪, ১৩৩৫, তিরমিযী ৯২৮, নাসায়ী ২৬৩৫, ২৬৪১, ২৬৫৩, ৫৩৮৯, ৫৩৯৫, আদ ১৮০৯, সাচা ২৯০৭, আহমাদ ১৮১৫, ১৮২৫, ১৮৯৩, ২২৬৩, ৩০৩৩, ৩২২৮, ৩৩৬৫, মুওয়াত্তা মালিক ৮০৬
রিয়াদুস সলেহিন
হাদিস নং ১০/১২৮৮
وَعَنْ لَقِيطِ بنِ عَامِرٍ رضي الله عنه: أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ، لاَ يَسْتَطِيعُ الحَجَّ، وَلاَ العُمْرَةَ، وَلاَ الظَّعَنَ ؟ قَالَ: «حُجَّ عَنْ أَبِيكَ وَاعْتَمِرْ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
বর্ণনাকারী লাক্বীত ইবনে আমের (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ’আমার পিতা এত বেশী বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি না হজ্জ করতে সক্ষম, না উমরা করতে সক্ষম, আর না সফর করতে পারবেন।’ তিনি বললেন, “তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ ও উমরা সম্পাদন কর।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী-হাসান সহীহ) [১]
আবূ দাউদ ১৮১০, তিরমিযী ৯৩০, নাসায়ী ২৬৩৭, ইবনু মাজাহ ২৯০৭, আহমাদ ১৮৭৫১, ১৮৭৫৭, ১৫৭৬৬