তাহাজ্জুদ ও দিনের নফল নামাজ

২০/১. অধ্যায়ঃ

ঘরে না সলাত আদায় করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং তার ফাযীলাত বর্ণনা

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৫৯৮

أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي هِشَامٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ وَلَا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا»

বর্ণনাকারী নাফি (রাঃ)

আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা নফল সালাত আপন আপন ঘরেই আদায় করবে। (ঘরে নফল সালাত আদায় না করে) ঘরকে কবরের মতো বানিয়ে নিও না।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৫৯৯

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ: سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ عُقْبَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا النَّضْرِ يُحَدِّثُ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي الْمَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ إِلَيْهِ النَّاسُ، ثُمَّ فَقَدُوا صَوْتَهُ لَيْلَةً، فَظَنُّوا أَنَّهُ نَائِمٌ، فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَتَنَحْنَحُ لِيَخْرُجَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: «مَا زَالَ بِكُمُ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ صُنْعِكُمْ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمْ، وَلَوْ كُتِبَ عَلَيْكُمْ مَا قُمْتُمْ بِهِ، فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإِنَّ أَفْضَلَ صَلَاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ»

বর্ণনাকারী যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ)

নবী (ﷺ) চাটাই দিয়ে মসজিদে একটি হুজরার মতো বানিয়ে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাতে কয়েক রাত সালাত আদায় করলেন, কিছু লোকও তাঁর সাথে জমা হয়ে গেল। পরে এক রাতে তারা তাঁর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে অনুমান করল যে, তিনি হয়তো ঘুমিয়ে আছেন। তাই কেউ কেউ গলা খাঁকারি দিতে লাগল, যাতে তিনি তাঁদের সম্মুখে বেরিয়ে আসেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের কর্মকাণ্ড বরাবর দেখে আসছি। তাতে আমার ভয় হলো যে, তা তোমাদের ওপর ফরজই না করে দেয়া হয়। যদি তা তোমাদের ওপর ফরজ করে দেয়া হতো তবে তোমরা তা যথাযথরূপে আদায় করতে পারতে না। অতএব, হে লোক সকল! তোমরা আপন আপন ঘরেই নফল সালাত আদায় করবে, কেননা ফরজ সালাত ছাড়া মানুষের অধিক উত্তম সালাত হলো তার ঘরেই আদায়কৃত সালাত।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০০

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْفِطْرِيُّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْمَغْرِبِ فِي مَسْجِدِ بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ، فَلَمَّا صَلَّى قَامَ نَاسٌ يَتَنَفَّلُونَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الصَّلَاةِ فِي الْبُيُوتِ»

বর্ণনাকারী কা‘ব ইব্‌ন উজরা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আবদুল আশহাল গোত্রের মসজিদে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত আদায় করলেন, কিছু লোক নফল সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের এ নফল সালাত ঘরেই পড়া উচিত।

২০/২. অধ্যায়ঃ

বিতর এবং তাহাজ্জুদের সলাত

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০১

خْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّهُ لَقِيَ ابْنَ عَبَّاسٍ، فَسَأَلَهُ عَنِ الْوَتْرِ، فَقَالَ: أَلَا أُنَبِّئُكَ بِأَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ بِوَتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: عَائِشَةُ، ائْتِهَا فَسَلْهَا، ثُمَّ ارْجِعْ إِلَيَّ فَأَخْبِرْنِي بِرَدِّهَا عَلَيْكَ، فَأَتَيْتُ عَلَى حَكِيمِ بْنِ أَفْلَحَ، فَاسْتَلْحَقْتُهُ إِلَيْهَا، فَقَالَ: مَا أَنَا بِقَارِبِهَا إِنِّي نَهَيْتُهَا أَنْ تَقُولَ فِي هَاتَيْنِ الشِّيعَتَيْنِ شَيْئًا، فَأَبَتْ فِيهَا إِلَّا مُضِيًّا، فَأَقْسَمْتُ عَلَيْهِ فَجَاءَ مَعِي فَدَخَلَ عَلَيْهَا، فَقَالَتْ لِحَكِيمٍ: مَنْ هَذَا مَعَكَ؟ قُلْتُ: سَعْدُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَتْ: مَنْ هِشَامٌ؟ قُلْتُ: ابْنُ عَامِرٍ، فَتَرَحَّمَتْ عَلَيْهِ، وَقَالَتْ: نِعْمَ الْمَرْءُ كَانَ عَامِرًا، قَالَ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: أَلَيْسَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ؟ قَالَ: قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: «فَإِنَّ خُلُقَ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقُرْآنُ» فَهَمَمْتُ أَنْ أَقُومَ فَبَدَا لِي قِيَامُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ قِيَامِ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: «أَلَيْسَ تَقْرَأُ هَذِهِ السُّورَةَ؟ يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ» قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: «فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ افْتَرَضَ قِيَامَ اللَّيْلِ فِي أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ، فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ حَوْلًا حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ، وَأَمْسَكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ خَاتِمَتَهَا اثْنَيْ عَشَرَ شَهْرًا، ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ التَّخْفِيفَ فِي آخِرِ هَذِهِ السُّورَةِ فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ أَنْ كَانَ فَرِيضَةً» فَهَمَمْتُ أَنْ أَقُومَ فَبَدَا لِي وَتْرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ وَتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: «كُنَّا نُعِدُّ لَهُ سِوَاكَهُ، وَطَهُورَهُ، فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيَتَسَوَّكُ، وَيَتَوَضَّأُ، وَيُصَلِّي ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ لَا يَجْلِسُ فِيهِنَّ إِلَّا عِنْدَ الثَّامِنَةِ، يَجْلِسُ فَيَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، وَيَدْعُو ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُنَا، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَةً» فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَيَّ، فَلَمَّا «أَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ، وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ مَا سَلَّمَ» فَتِلْكَ تِسْعُ رَكَعَاتٍ يَا بُنَيَّ، «وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى صَلَاةً أَحَبَّ أَنْ يَدُومَ عَلَيْهَا» وَكَانَ إِذَا شَغَلَهُ عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ نَوْمٌ أَوْ مَرَضٌ أَوْ وَجَعٌ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً «وَلَا أَعْلَمُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي لَيْلَةٍ، وَلَا قَامَ لَيْلَةً كَامِلَةً حَتَّى الصَّبَاحَ، وَلَا صَامَ شَهْرًا كَامِلًا غَيْرَ رَمَضَانَ» فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَحَدَّثْتُهُ بِحَدِيثِهَا، فَقَالَ: صَدَقَتْ، أَمَا إِنِّي لَوْ كُنْتُ أَدْخُلُ عَلَيْهَا لَأَتَيْتُهَا حَتَّى تُشَافِهَنِي مُشَافَهَةً قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «كَذَا وَقَعَ فِي كِتَابِي، وَلَا أَدْرِي مِمَّنِ الْخَطَأُ فِي مَوْضِعِ وَتْرِهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ»

বর্ণনাকারী সা’দ ইব্‌ন হিশাম (রাঃ)

তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে তাঁকে বিতর সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বিশ্ববাসীর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিতর সালাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ব্যক্তির সংবাদ বলব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি হলেন আইশা (রাঃ)। তুমি তাঁর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁকেই প্রশ্ন করে দেখ এবং পরে আমার কাছে এসে তোমাকে দেয়া তাঁর জবাব সম্বন্ধে আমাকে জানাবে।আমি হাকিম ইবনু আফলাহ-এর নিকট এসে আইশা (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার জন্য তাঁকে সাথী বানাতে চাইলে তিনি বললেন, আমি তার নিকটবর্তী হব না, কেননা আমি তাঁকে উষ্ট্র যুদ্ধ ও সিফফীন ইত্যাকার যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণকারী উভয় পক্ষ সম্পর্কে কিছু বলতে নিষেধ করলেও তিনি তা মানেন নি; বরং তাতে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। আমি হাকিম ইবনু আফলাহকে আইশা (রাঃ)-এর কাছে যাওয়ার জন্য কসম দিলে তিনি আমার সাথে আইশা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। আইশা (রাঃ) হাকিমকে প্রশ্ন করলেন, তোমার সাথে এ কে? আমি বললাম, সাদ ইবনু হিশাম (রাঃ)। তিনি প্রশ্ন করলেন, হিশাম কে? আমি বললাম, আমির-এর পুত্র। তিনি তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে বললেন, আমর বড় ভালো মানুষ ছিলেন।সাদ ইবনু হিশাম (রহঃ) বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন! আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কুরআন তিলাওয়াত করো না? সাদ (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ! নিশ্চয় পাঠ করি। আইশা (রাঃ) বললেন, নবী (ﷺ)-এর স্বভাব-চরিত্র ছিল কুরআন। আমি যখন দাঁড়াতে মনস্থ করলাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দাঁড়ানোর (রাতে নফল সালাত আদায় করার) কথা আমার মনে এসে গেল।তিনি বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন! আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রাতে নফল সালাত আদায় করা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তুমি "ইয়া-আইয়্যুহাল মুযাম্মিল" এ সূরাটি পাঠ করো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, নিশ্চয় পাঠ করি। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাহাজ্জুদকে এ সূরার প্রথমাংশে ফরজ করেছিলেন, তখন নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ এক বছর পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলেন, যাতে তাঁদের পা ফুলে গেল। এক বছর পরে আল্লাহ তা'আলা উক্ত সূরার শেষাংশে সহজীকৃত বিধান অবতীর্ণ করলেন। অতএব তাহাজ্জুদের সালাত ফরজ হিসেবে অবতীর্ণ হওয়ার পর নফল হিসেবে অবশিষ্ট রয়ে গেল।আমি আইশা (রাঃ)-কে বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিতর সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, আমরা তাঁর জন্যে মিসওয়াক ও ওজুর পানি তৈরি করে রাখতাম। রাতে যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁকে জাগানোর ইচ্ছা করতেন তাঁকে জাগ্রত করে দিতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক এবং ওজু করতেন এবং আট রাকাত সালাত আদায় করতেন। তাতে সালাম ফিরানোর জন্যে শুধু অষ্টম রাকাতেই বসতেন। বসে আল্লাহ তা'আলার যিকর এবং দোয়া করতেন। অতঃপর আমাদের শুনিয়ে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসা অবস্থায় দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। এরপর আবার এক রাকাত সালাত আদায় করতেন। তাহলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট এগারো রাকাত। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বয়স বেড়ে গেল এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়ে গেল তিনি সাত রাকাত বিতরের সালাত আদায় করতেন। আর সালামের পর বসে থেকে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। তা হলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট নয় রাকাত সালাত আদায় করা হত। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন সালাত আদায় করতেন, তা নিয়মিত আদায় করতে ভালোবাসতেন। আর যদি তাঁকে নিদ্রা অথবা কোন অসুখ বা ব্যথা-বেদনা তাহাজ্জুদ হতে বিরত রাখত তাহলে তিনি দিনে বারো রাকাত সালাত আদায় করে নিতেন।আমি এটা জানি না যে, নবী (ﷺ) এক রাতে সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদ পাঠ করেছেন। আর তিনি সকাল পর্যন্ত পুরো রাত তাহাজ্জুদের সালাতও আদায় করতেন না এবং রমজান ছাড়া পুরা মাস সিয়ামও পালন করতেন না। আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এসে আইশা (রাঃ) এর হাদিস তাঁকে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আইশা (রাঃ) সত্যই বলেছেন। আমি যদি তাঁর নিকট কখনও যেতাম তাহলে এ হাদিসটা তাঁর মুখ হতে সরাসরি শুনতে পেতাম।আবু আবদুর রহমান (নাসায়ী) বলেন, আমার কিতাবে এ রকমই রয়েছে কিন্তু আমি জানি না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিতরের ব্যাপারে ভুল বর্ণনা কার থেকে হয়েছে।

২০/৩. অধ্যায়ঃ

'ইবাদাত জ্ঞানে সাওয়াব লাভের নিয়্যাতে ক্বিয়ামুল লায়ল আদায়কারীর নেকী

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০২

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ‘ঈমান’ (দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহের উপর বিশ্বাস) ও সওয়াব লাভের আশায় রমজান মাসে কিয়ামুল লাইলে (রাতের সালাত) আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০৩

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ أَبُو بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ الزُّهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ইবাদত জ্ঞানে নেকী লাভের নিয়তে কিয়ামুল লাইল আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

২০/৪. অধ্যায়ঃ

রমাযান মাসে ক্বিয়ামুল লায়ল আদায় করা

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ ذَاتَ لَيْلَةٍ، وَصَلَّى بِصَلَاتِهِ نَاسٌ، ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ، وَكَثُرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ: «قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلَّا أَنِّي خَشِيتُ أَنْ يُفْرَضَ عَلَيْكُمْ» وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ

বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করলেন, তাঁর সাথে শরীক হয়ে কিছু সংখ্যক লোক সালাত আদায় করল। এরপর তিনি পরবর্তী রাতে সালাত আদায় করলে লোকের সংখ্যা বেড়ে গেল। অতঃপর তারা তৃতীয় রাতেও অথবা চতুর্থ রাতের সালাত আদায় করার জন্য জড়ো হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আর তাদের সামনে বের হলেন না। সকাল হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা যা করেছিলে আমি তা দেখেছি। তোমাদের ওপর এ সালাত ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছাড়া অন্য কোনো কিছুই তোমাদের সামনে বের হওয়া থেকে আমাকে বিরত রাখেনি। এ ঘটনা রমজান মাসে ঘটেছিল।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০৫

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ، فَلَمْ يَقُمْ بِنَا حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ مِنَ الشَّهْرِ، فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ، ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا فِي السَّادِسَةِ، فَقَامَ بِنَا فِي الْخَامِسَةِ حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ نَفَّلْتَنَا بَقِيَّةَ لَيْلَتِنَا هَذِهِ، قَالَ: «إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ، كَتَبَ اللَّهُ لَهُ قِيَامَ لَيْلَةٍ»، ثُمَّ لَمْ يُصَلِّ بِنَا وَلَمْ يَقُمْ حَتَّى بَقِيَ ثَلَاثٌ مِنَ الشَّهْرِ، فَقَامَ بِنَا فِي الثَّالِثَةِ، وَجَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ حَتَّى تَخَوَّفْنَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ، قُلْتُ: وَمَا الْفَلَاحُ؟ قَالَ: السُّحُورُ

বর্ণনাকারী আবূ যর (রাঃ)

আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সিয়াম পালন করেছিলাম। রমজান মাসে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন না। যখন মাসের মাত্র সাত রাত বাকী রয়ে গেল, তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমনকি রাতের এক-তৃতীয়াংশ চলে গেল। ষষ্ঠ রাতে আর সালাত আদায় করলেন না। যখন পাঁচ রাত বাকী ছিল তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন অর্ধেক রাত অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যদি আপনি আমাদের নিয়ে অত্র রাতের অবশিষ্ট অংশেও নফল সালাত আদায় করতেন! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত আদায় করে ঘরে ফিরে যায় আল্লাহ তা'আলা তার জন্যে পূর্ণ রাত সালাত আদায় করার সওয়াব লিখে রাখেন।অতঃপর তিনি আর আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন না এবং নিজেও আদায় করলেন না। যখন মাসের তিন রাত বাকি রয়ে গেল, তিনি আমাদের নিয়ে ঐ রাতে সালাত আদায় করলেন (এবং ঐ সালাতে) তাঁর সন্তান-সন্ততি এবং পরিবারবর্গও জড়ো করলেন। আমরা আশঙ্কা করতে লাগলাম যে, "ফালাহ" না হারিয়ে ফেলি। আমি বললাম, “ফালাহ” এর অর্থ কী? তিনি বললেন, সাহরি খাওয়ার সময়।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০৬

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي نُعَيْمُ بْنُ زِيَادٍ أَبُو طَلْحَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، عَلَى مِنْبَرِ حِمْصَ يَقُولُ: «قُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ لَيْلَةَ ثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ قُمْنَا مَعَهُ لَيْلَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ، ثُمَّ قُمْنَا مَعَهُ لَيْلَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ لَا نُدْرِكَ الْفَلَاحَ»، وَكَانُوا يُسَمُّونَهُ السُّحُورَ

বর্ণনাকারী নুআয়ম ইব্‌ন যিয়াদ আবূ তাল্‌হা

আমি নুমান ইবনু বশীর (রাঃ)-কে 'হিমস' নামক স্থানের মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রমজান মাসের তেইশতম রাতে প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত (তারাবির) সালাত আদায় করলাম। অতঃপর পঁচিশতম রাতে তাঁর সঙ্গে অর্ধেক রাত পর্যন্ত (তারাবির) সালাত আদায় করলাম। আবার তাঁর সাথে সাতাশতম রাতে (তারাবির) সালাত আদায় করতে লাগলাম। এমনকি আমরা আশঙ্কা করলাম যে, "ফালাহ" পাব না। সাহাবীরা সাহরিকে ফালাহ বলতেন।

২০/৫. অধ্যায়ঃ

তাহাজ্জুদের প্রতি উৎসাহ দান করা

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ১৬০৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ عَقَدَ الشَّيْطَانُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ عُقَدٍ، يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ لَيْلًا طَوِيلًا أَيِ ارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ أُخْرَى، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتِ الْعُقَدُ كُلُّهَا، فَيُصْبِحُ طَيِّبَ النَّفْسِ نَشِيطًا، وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ»

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ ঘুমায় শয়তান তার মাথায় তিনটা গিঁট লাগিয়ে দেয়। প্রত্যেক গিঁট লাগানোর সময় সে বলে, এখনও অনেক রাত বাকী আছে অর্থাৎ তুমি শুয়ে থাক। যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর জিকির করে তাহলে একটি গিঁট খুলে যায়। অতঃপর যদি ওজু করে তাহলে আরও একটি গিঁট খুলে যায়। যদি সালাত আদায় করে, তা হলে সমুদয় গিঁট খুলে যায় এবং তার সকাল হয় আনন্দ ও উদ্দীপনায়। অন্যথায় তার সকাল হয় অবসাদ ও কষ্টদায়ক।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18