রাত্রে নফল নামায

৭/১. অধ্যায়ঃ

রাত্রে নফল নামায আদায় করা

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৪৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ رَجُلٍ عِنْدَهُ رِضًا أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ امْرِئٍ تَكُونُ لَهُ صَلَاةٌ بِلَيْلٍ يَغْلِبُهُ عَلَيْهَا نَوْمٌ إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهُ أَجْرَ صَلَاتِهِ وَكَانَ نَوْمُهُ عَلَيْهِ صَدَقَةً.

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে কোন নফল নামায আদায়ে অভ্যস্ত কিন্তু তার উপর ঘুমের প্রভাববশত সে নামায আদায় করতে পারেনি, তবে আল্লাহ তা’আলা তাকে তার নামাযের সওয়াব প্রদান করবেন, আর নিদ্রা হবে তার জন্য সদকা (অর্থাৎ নামাযের জন্য তাকে হিসাব দিতে হবে না, উপরন্তু নিয়ত করার সওয়াবও পাবে)। (সহীহ, আবূ দাঊদ ১৩১৪, নাসাঈ ১৭৮৪, হাদীসটি আল্লামা আলবানী সহীহ বলেছেন সহীহ আল জামে’ ৫৬৯১)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৪৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَايَ فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي فَقَبَضْتُ رِجْلَيَّ فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا قَالَتْ وَالْبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ.

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে ঘুমিয়ে থাকতাম, আমার দু’পা তাঁর কিবলার স্থলে থাকত। (অবস্থা এই ছিল) তিনি যখন সিজদায় যেতেন আমাকে চাপ দিতেন, তখন আমি আমার পা দুটিকে গুটিয়ে নিতাম; যখন তিনি দাঁড়াতেন আমার পা দুটিকে আবার লম্বা করে দিতাম। তিনি আয়েশা (রাঃ) বলেন, সেকালে ঘরগুলোতে বাতি ছিল না। (বুখারী ৩৮২, মুসলিম ৫১২)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৪৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَا يَدْرِي لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ.

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ নামাযে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন বসে পড়ে, যতক্ষণ তন্দ্রা ছুটে না যায়। কেননা তোমাদের কেউ তন্দ্রাবস্থায় নামায আদায় করলে, বলা যায় না, হয়তো সে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে গিয়ে নিজের নফসকে মন্দ বলে ফেলবে। (বুখারী ২১২, মুসলিম ৭৮৬)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৫০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ امْرَأَةً مِنْ اللَّيْلِ تُصَلِّي فَقَالَ مَنْ هَذِهِ فَقِيلَ لَهُ هَذِهِ الْحَوْلَاءُ بِنْتُ تُوَيْتٍ لَا تَنَامُ اللَّيْلَ فَكَرِهَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى عُرِفَتِ الْكَرَاهِيَةُ فِي وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَا يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا اكْلَفُوا مِنْ الْعَمَلِ مَا لَكُمْ بِهِ طَاقَةٌ.

বর্ণনাকারী ইসমাইল ইবনু আবী হাকিম (রাঃ)

তিনি বলেন, তাঁর নিকট খবর পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈকা স্ত্রীলোককে রাত্রিবেলা নামায আদায় করতে শুনলেন। তিনি বলেন, ইনি (স্ত্রীলোকটি) কে? (উত্তরে) তাঁকে বলা হল স্ত্রীলোকটি হাওলা বিনতে তুয়াইত। সে সারারাত্রি ঘুমায় না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে অসন্তুষ্ট হলেন, এমন কি তাঁর চেহারা (মুবারক)-এর উপর নারাজি ভাব প্রকাশ পেল। অতঃপর তিনি ফরমালেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা পরিশ্রান্ত হন না, যতক্ষণ তোমরা পরিশ্রান্ত না হও। ততটুকু আমলই কর যতটুকু করার সামর্থ্য রাখ। (বুখারী ৪৩, আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, মুসলিম ৭৮৫)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৫১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللهُ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ أَيْقَظَ أَهْلَهُ لِلصَّلَاةِ يَقُولُ لَهُمْ الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ ثُمَّ يَتْلُو هَذِهِ الْآيَةَ { وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى }.

বর্ণনাকারী যায়েদ বিন আসলাম (র)

উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাত্রে ‘যতক্ষণ আল্লাহ তাওফীক দিতেন’ নামায আদায় করতেন। অতঃপর যখন প্রত্যুষের সময় হত তিনি ঘরের লোকজনকে জাগিয়ে দিতেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলতেন, الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ (নামায, নামায)। অতঃপর কুরআন মজীদের এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাই না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। (সূরা: ত্বোয়াহা, ১৩২)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৫২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ كَانَ يَقُولُ يُكْرَهُ النَّوْمُ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثُ بَعْدَهَا.

বর্ণনাকারী মালিক (র)

সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) বলতেন, ইশা (নামায)-এর পূর্বে নিদ্রা এবং পরে আলাপ করা মাকরূহ। (ইমাম বুখারী মারফু সনদে আবূ বারযা থেকে বর্ণনা করেন ৫৬৮, মুসলিম ৬৪৫)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৫৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ صَلَاةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ قَالَ مَالِك وَهُوَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا.

বর্ণনাকারী মালিক (র)

উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, দিনের কি রাত্রের (নফল) নামায দুই-দুই রাক’আতই। প্রতি দুই রাক’আত পর সালাম ফিরাবে। (সহীহ, তিরমিযী ৪৩৭, আল্লামা আল বানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন সহীহ আল জামে, ৩৮২৯, তবে ইমাম মালিক (রঃ) কর্তৃক উল্লেখিত সনদটির মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে)ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র) বলেছেন, এই বিষয়ে আমার সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

৭/২. অধ্যায়ঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিতরের নামাযের বর্ণনা

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৫৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْهَا بِوَاحِدَةٍ فَإِذَا فَرَغَ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ.

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে এগার রাক’আত নামায আদায় করতেন, তন্মধ্যে এক রাক’আত বিতর আদায় করতেন, নামায শেষ করলে তিনি ডান কাতে শয়ন করে বিশ্রাম করতেন। (বুখারী ৬৩১০, মুসলিম ৭৩৬)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৫৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلَا يَنَامُ قَلْبِي.

বর্ণনাকারী আবূ সালমা ইব্নু আবদুর রহমান ইবনু আউফ (র)

নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করেন, রমাযানে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাত্রের নামায) এগার রাক’আতের উপর বর্ধিত করতেন না। তিনি চার রাক’আত আদায় করতেন, তুমি সেটার দৈর্ঘ ও সৌন্দর্য সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিন রাক’আত আদায় করতেন।আয়েশা (রাঃ) বললেন, অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রসূল, আপনি যে বিতরের পূর্বে ঘুমান? (উত্তরে) তিনি ফরমালেন হে আয়েশা, (মনে রেখো) আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায় বটে কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না। (বুখারী ১১৪৭, মুসলিম ৭৩৮)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ২৫৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ، كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ يُصَلِّي إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ.

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রেবেলা তের রাক’আত নামায আদায় করতেন। অতঃপর যখন ফজরের আযান শুনতেন, তখন হালকা দু’রাক’আত নামায আদায় করতেন। (বুখারী ১১৬৪, মুসলিম ৭৩৭)

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18