সাদাকাহ্ সম্পর্কিত অধ্যায়
৫৮/১. অধ্যায়ঃ
সাদাকাহ্ প্রদানের উৎসাহ প্রসঙ্গে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮১৩
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي الْحُبَابِ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلَا يَقْبَلُ اللهُ إِلَّا طَيِّبًا كَانَ إِنَّمَا يَضَعُهَا فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ يُرَبِّيهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ
বর্ণনাকারী সাঈদ ইব্নু ইয়াসার (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে অর্জিত মাল থেকে সাদাকাহ্ করে, আল্লাহ্ তা‘আলা শুধুমাত্র হালাল অর্থাৎ পবিত্রকেই কবূল করেন-- তা হলে উক্ত সাদাকাহ্ সে আল্লাহ্র হাতে দিল। আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে এভাবে লালন-পালন করেন, যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাচ্চা কিংবা উটের বাচ্চা লালন-পালন কর। শেষ পর্যন্ত সেই সাদাকাহ্ (বর্ধিত হয়ে) পর্বতসমান হয়ে যায়। (বুখারী ৭৪৩০, ইমাম মুসলিম ইবনু আব্বাস থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন ১০১৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮১৪
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُكَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِينَةِ مَالًا مِنْ نَخْلٍ وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ وَكَانَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ قَالَ أَنَسٌ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ{ لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ }قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ{ لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ }وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللهِ فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللهِ حَيْثُ شِئْتَ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَخْ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ فِيهِ وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِينَفَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِي عَمِّهِ
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
মদীনার আনসারগণের মধ্যে আবূ তালহা (রাঃ) ছিলেন সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি। তাঁর সবচাইতে অধিক খেজুর বৃক্ষ ছিল। সমুদয় বাগানের মধ্যে “বাইরুহা” নামক বাগানটি ছিল তাঁর (আবূ তালহার) অধিক পছন্দনীয়। বাগানটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই বাগানে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন। সেখানকার পানি খুবই উত্তম ছিল, তিনি তা পান করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ অর্থাৎ যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহ্র রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। তখন আবূ তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহ্র রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। আর আমার প্রিয় বস্তু হল এই ‘বাইরুহা’। আমি একে আল্লাহর রাস্তায় সাদাকাহ্ করলাম। এর বিনিময়ে আমি নেকীর আশা রাখি এবং ইহা আল্লাহ্র নিকট জমা রাখছি। সুতরাং ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি একে যেভাবে ইচ্ছা ব্যায় করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বাহ্বা! এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল, এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল। তুমি এই বাগান সম্বন্ধে যা কিছু বলেছ আমি উহা শ্রবণ করেছি। আমার মনে হয়, তুমি একে তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। আবূ তালহা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি উহা বিতরণ করে দিব। অতএব আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও চাচাত ভাইগণের মধ্যে উহা বণ্টন করে দিলেন। (বুখারী ১৪৬১, মুসলিম ৯৯৮)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮১৫
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَعْطُوا السَّائِلَ وَإِنْ جَاءَ عَلَى فَرَسٍ
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আসলাম (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ভিক্ষুককে দাও যদিও সে ঘোড়ায় আরোহণ করে আসে। (যয়ীফ, আবূ দাঊদ ১৬৬৫, তিনি হুসাইন বিন আলী থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন। আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন [সিলসিলা যয়ীফা ১৩৭৮], তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮১৬
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُعَاذٍالْأَشْهَلِيِّ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ جَدَّتِهِ أَنَّهَا قَالَتْقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ لَا تَحْقِرَنَّ إِحْدَاكُنَّ أَنْ تُهْدِيَ لِجَارَتِهَا وَلَوْ كُرَاعَ شَاةٍ مُحْرَقًا
বর্ণনাকারী আ‘মর ইব্নু মুয়াজ আশহালী তাঁর দাদী
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে মু‘মিন মহিলাগণ! তোমাদের কেউ যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে তুচ্ছ মনে না করে, যদিও সে ছাগলের একটি পোড়া খুর পাঠায় (তাও কবূল কর)। (বুখারী ২৫৬৬, মুসলিম ১০৩০)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮১৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ مِسْكِينًا سَأَلَهَا وَهِيَ صَائِمَةٌ وَلَيْسَ فِي بَيْتِهَا إِلَّا رَغِيفٌ فَقَالَتْ لِمَوْلَاةٍ لَهَا أَعْطِيهِ إِيَّاهُ فَقَالَتْ لَيْسَ لَكِ مَا تُفْطِرِينَ عَلَيْهِ فَقَالَتْ أَعْطِيهِ إِيَّاهُ قَالَتْ فَفَعَلْتُ قَالَتْ فَلَمَّا أَمْسَيْنَا أَهْدَى لَنَا أَهْلُ بَيْتٍ أَوْ إِنْسَانٌ مَا كَانَ يُهْدِي لَنَا شَاةً وَكَفَنَهَا فَدَعَتْنِي عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَتْ كُلِي مِنْ هَذَا هَذَا خَيْرٌ مِنْ قُرْصِكِ
বর্ণনাকারী নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)
তাঁর নিকট জনৈক ভিক্ষুক এসে কিছু ভিক্ষা চাইল। তিনি (আয়িশা) রোযা রেখেছিলেন। ঘরে একটি রুটি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। তিনি স্বীয় দাসীকে বললেন, উহা ফকীরকে দিয়ে দাও। দাসী বলল, আপনার ইফতারের জন্য আর কিছুই থাকবে না। তিনি বললেন, (যাহা হোক) দিয়ে দাও। অতঃপর দাসী সেই রুটি ফকীরকে দিয়ে দিল। দাসীটি বলে, সন্ধ্যার সময় কোন বাড়ি হতে বা কোন এক ব্যক্তি হাদিয়া পাঠিয়ে দিল ছাগলের ভুনা গোশত যে কখনো হাদীয়া পাঠাতো না। আয়িশা (রাঃ) আমাকে ডেকে বললেন, খাও। ইহা তোমার রুটি হতে উত্তম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮১৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ مِسْكِينًا اسْتَطْعَمَ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ وَبَيْنَ يَدَيْهَا عِنَبٌ فَقَالَتْ لِإِنْسَانٍ خُذْ حَبَّةً فَأَعْطِهِ إِيَّاهَا فَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَعْجَبُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَتَعْجَبُ كَمْ تَرَى فِي هَذِهِ الْحَبَّةِ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ
বর্ণনাকারী মালিক (রহঃ)
জনৈক মিসকীন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এসে কিছু ভিক্ষা চাইল। তাঁর সম্মুখে তখন আঙ্গুর ছিল। আয়িশা (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বললেন, একটি আঙ্গুর নিয়ে ঐ মিসকীনকে দিয়ে দাও। লোকটি আশ্চর্যবোধ করতে লাগল (মাত্র একটি আঙ্গুর দিচ্ছেন!)। আয়িশা (রাঃ) লোকটির মনোভাব বুঝতে পেরে বললেন, তুমি আশ্চর্যবোধ করছ? এই একটি আঙ্গুর কত অণু পরিমাণ হবে বলে তুমি মনে কর ? [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] অর্থাৎ এটাই বা কম কি? আল্লাহ্র জন্য দেয়া হলে আল্লাহ্ তা কবূল করেন পরিমাণ নয়- নিয়তই আসল বস্তু। তবে সামর্থ্যানুযায়ী দেয়াই সমীচীন।
৫৮/২. অধ্যায়ঃ
ভিক্ষা করা হতে বিরত থাকা প্রসঙ্গে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮১৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّأَنَّ نَاسًا مِنْ الْأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى نَفِدَ مَا عِنْدَهُ ثُمَّ قَالَ مَا يَكُونُ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللهُوَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً هُوَ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنْ الصَّبْرِ
বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)
আনসারের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে কিছু দান করলেন; তারা পুনরায় কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার কিছু দান করলেন। এইভাবে তিনবার দান করলেন ; এমন কি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যা কিছু ছিল, সব নিঃশেষ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আমার কাছে যে পরিমাণ মাল থাকবে, উহা তোমাদের না দিয়ে আমি কখনও জমা করে রাখব না। তবে যে ভিক্ষা চাওয়া হতে বিরত থাকবে, আল্লাহ্ তাকে রক্ষা করেন। যে সবর করে কারো মুখাপেক্ষী নয় বলে কার্যত প্রকাশ করবে, আল্লাহ্ তাকে ধনী করে দিবেন। যে সবর করবে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে সবরের তাওফীক দান করবেন। মানুষকে যা কিছু দান করা হয়েছে, তন্মধ্যে সবরের চাইতে বড় ও উত্তম আর কিছু নেই। (বুখারী ১৪৬৯, মুসলিম ১০৫৩)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮২০
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ عَنْ الْمَسْأَلَةِ الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنْ الْيَدِ السُّفْلَى وَالْيَدُ الْعُلْيَا هِيَ الْمُنْفِقَةُ وَالسُّفْلَى هِيَ السَّائِلَةُ
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের উপর আরোহণ করে বললেন, তিনি তখন সাদাকাহ্ ও ভিক্ষাবৃত্তি হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা সম্পর্কে কথা বলছিলেন, নিচের হাতের চাইতে উপরের হাত উত্তম। উপরের হাত হল দাতার হাত এবং নিচের হাত হল ভিক্ষুকের হাত। (বুখারী ১৪২৯, মুসলিম ১০৩৩)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮২১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسَلَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِعَطَاءٍ فَرَدَّهُ عُمَرُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَ رَدَدْتَهُفَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَلَيْسَ أَخْبَرْتَنَا أَنَّ خَيْرًا لِأَحَدِنَا أَنْ لَا يَأْخُذَ مِنْ أَحَدٍ شَيْئًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا ذَلِكَ عَنْ الْمَسْأَلَةِ فَأَمَّا مَا كَانَ مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ يَرْزُقُكَهُ اللهُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا وَلَا يَأْتِينِي شَيْءٌ مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ إِلَّا أَخَذْتُهُ
বর্ণনাকারী আ‘তা ইব্নু ইয়াসার (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট কিছু দান (বা তুহফা) প্রেরণ করলেন। উমার (রাঃ) উহা (গ্রহণ করলেন না বরং) ফেরত পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ফেরত পাঠালে কেন? উমার (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি কি আমাদেরকে বলেছিলেন যে, এ লোকটি উত্তম, যে কারো নিকট হতে কিছু গ্রহণ করে না? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এর অর্থ এই যে, ভিক্ষা চেয়ে কিছু গ্রহণ করবে না। আর চাওয়া ছাড়া যদি পাওয়া যায় উহা আল্লাহ্র দান। অতঃপর উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, সেই পাক যাতের কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, ভবিষ্যতে আমি কারো নিকট কিছু চাইব না এবং চাওয়া ছাড়া কিছু পাওয়া গেলে উহা গ্রহণ করব। (আবদুর রাযযাকে বর্ণনা করেন ১১/১০৩)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৮২২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ فَيَحْتَطِبَ عَلَى ظَهْرِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَأْتِيَ رَجُلًا أَعْطَاهُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ فَيَسْأَلَهُ أَعْطَاهُ أَوْ مَنَعَهُ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সেই পাক যাতের কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি কোন মুসলমান রশি দিয়ে জ্বালানি কাঠের বোঝা বেঁধে উহা স্বীয় পৃষ্ঠে তুলে নেয় (এবং উহাকে বিক্রি করে রোজগার করে), তা সেই ব্যক্তির জন্য ইহা হতে উত্তম যে, সে এমন কোন ব্যক্তির নিকট গিয়ে কিছু (ভিক্ষা) চায়, যাকে আল্লাহ্ তা‘আলা মাল দিয়েছেন, সে তাকে কিছু দিক বা না দিক। [১] (বুখারী ১৪৭০, মুসলিম ১০৪২)
[১] ভিক্ষা করার চাইতে নিজে পরিশ্রম করে রোজগার করা সর্বাপেক্ষা উত্তম। কেননা পরিশ্রমে লজ্জার কিছু নেই; কিন্তু ভিক্ষার লজ্জা আছে এবং ভিক্ষা মানহানিকরও বটে।