কথাবার্তা সম্পর্কিত অধ্যায়
৫৬/১. অধ্যায়ঃ
অপছন্দনীয় কথাবার্তা প্রসঙ্গে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৮৩
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ لِأَخِيهِ كَافِرٌ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যদি কেউ নিজের কোন ভাইকে কাফের বলে, তবে এতদুভয়ের মধ্যে একজন (নিশ্চয়ই) কাফের হল। [১] (বুখারী ৬১০৪, মুসলিম ৬০)
[১] অর্থাৎ কাউকেও কাফের বলে ফতোয়া দিলে ইহা আর ব্যর্থ বা অনর্থ হয় না। সুতরাং যাকে কাফের বলা হয়েছে সে যদি প্রকৃতপক্ষে কাফের হয়, তবে ফতোয়া ঠিক। অন্যথায় কাফের বলে যে ফতোয়া দিয়েছে ফতোয়া তার দিকে ফিরে আসবে। অতএব, কাফের হওয়ার ফতোয়া দিবার বেলায় অত্যধিক সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৮৪
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا سَمِعْتَ الرَّجُلَ يَقُولُ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যদি তুমি কাউকেও এই কথা বলতে শুনতে পাও যে, মানুষ ধ্বংস হয়েছে, তা হলে সে সবচাইতে অধিক ধ্বংস হয়েছে। [১] (সহীহ, মুসলিম ২৬২৩)
[১] অর্থাৎ নিজেকে ভাল মনে করে অপরকে খারাপ মনে করলে বুঝতে হবে যে, আসলে সে-ই সর্বাপেক্ষা খারাপ।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৮৫
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ فَإِنَّ اللهَ هُوَ الدَّهْرُ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন দাহরকে (যুগ বা জমানাকে) মন্দ না বলে। কেননা আল্লাহই দাহর (যুগ)। [১] (বুখারী ৪৮২৬, মুসলিম ২২৪৬)
[১] মুশরিকদের অভ্যাস ছিল যে, তারা কোন মুসিবতে পতিত হলে কাল বা যুগকে মন্দ বলত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহা নিষেধ করেছেন। কেননা যুগ কাউকেও কিছু করতে পারে না। যা কিছু ভাল বা মন্দ হয়, সব আল্লাহর পক্ষ হতেই হয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৮৬
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ لَقِيَ خِنْزِيرًا بِالطَّرِيقِ فَقَالَ لَهُ انْفُذْ بِسَلَامٍ فَقِيلَ لَهُ تَقُولُ هَذَا لِخِنْزِيرٍ فَقَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ إِنِّي أَخَافُ أَنْ أُعَوِّدَ لِسَانِي الْمَنْطِقَ بِالسُّوءِ
বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ)
‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ)-এর সম্মুখে পথে একটি শূকর এল। তিনি তখন বললেন, নিরাপদে তুমি চলে যাও। লোকেরা তাঁকে বলল, আপনি শূকরকে এ কথা বলছেন ? (অথচ এটা সর্বনিকৃষ্ট অশুচি জীব। এটাকে তো মেরে এবং গালমন্দ দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া দরকার!) অতঃপর তিনি বললেন, এতে আমার মুখ খারাপ কথায় অভ্যস্ত হবে বলে আমি ভয় করছি। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
৫৬/২. অধ্যায়ঃ
বুঝেশুনে কথা বলা প্রসঙ্গে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৮৭
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزَنِيِّأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللهِ مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللهِ مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللهُ لَهُ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ
বর্ণনাকারী বিলাল ইবনু হারিস মুযানী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (অনেক সময়) মানুষ কথা বলে, কিন্তু সেই কথা কোথায় তাকে পৌঁছাবে, সে তা জানে না। অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য স্বীয় সন্তুষ্টি কিয়ামত পর্যন্ত লিখে দেন। আবার কোন সময় আল্লাহর অসন্তুষ্টি মূলক এমন কথা কেউ বলে, সেই কথা তাকে কোথায় নিয়ে যাবে সে তা জানে না, অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত স্বীয় অসন্তুষ্টি লিখে দেন। [১] (বুখারী ৬৪৭৭, মুসলিম ২৯৮৮, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন)
[১] না বুঝে কথা বললে অনেক সময় উহার ফলাফল অত্যন্ত মারাত্মক হয়। তাই কথা বলার আগে চিন্তা করতে হয়, আমি যা বলিতেছি, উহার কি তাৎপর্য হতে পারে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৮৮
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يُلْقِي لَهَا بَالًا يَهْوِي بِهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يُلْقِي لَهَا بَالًا يَرْفَعُهُ اللهُ بِهَا فِي الْجَنَّةِ
বর্ণনাকারী আবূ সালেহ সাম্মান (রহঃ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, (অনেক সময়) মানুষ চিন্তা না করে কথা বলে, পরিণামে সে জাহান্নামে পতিত হয়; আবার চিন্তা না করে (এমন) কথা কেউ বলে, যার ফলে সে বেহেশতে গমন করে। (সহীহ মারফু, ইমাম বুখারী ৬৪৭৮, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেছেন)
৫৬/৩. অধ্যায়ঃ
অনর্থক কথা বলার দোষ প্রসঙ্গ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৮৯
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَقَدِمَ رَجُلَانِ مِنْ الْمَشْرِقِ فَخَطَبَا فَعَجِبَ النَّاسُ لِبَيَانِهِمَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْالْبَيَانِ لَسِحْرًا أَوْ قَالَ إِنَّ بَعْضَ الْبَيَانِ لَسِحْرٌ
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আসলাম আবদুল্লাহ ইব্নু উমার (রাঃ)
পূর্বদিক হতে দুইজন লোক আগমন করল। তারা বক্তৃতা দান করল এবং তাদের বক্তৃতায় জনসাধারণ আশ্চর্যান্বিত হল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিঃসন্দেহে কোন কোন বক্তৃতা যাদুর মতো ক্রিয়া করে। (সহীহ, বুখারী ৫৭৬৭)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৯০
বর্ণনাকারী মালিক (রহঃ)
ঈসা ইব্নু মরিয়ম (আ) বলতেন, আল্লাহ্র যিকির ব্যতীত অনর্থক বেশি কথা বলিও না। এতে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে যাবে। আর কঠিন হৃদয়ের ব্যক্তি আল্লাহ্ হতে দূরে থাকে, অথচ তোমরা তা জান না। আর তোমরা অপরের গুনাহের দিকে (এইভাবে) তাকাইও না যেন তোমরা তাদের প্রভু! তোমরা নিজেদের গুনাহের দিকে (এইভাবে) তাকাও, যেন তোমরা গোলাম। কেননা মানুষ অনেক রকমের হয়। কেউ রোগী আর কেউ সুস্থ। অতএব, রোগীদের প্রতি সদয় হও এবং নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহ্র শোকর আদায় কর। [১] (বাইহাকী [শা’ব ] [শুয়াইবুন গ্রন্থে ৭/৭২] আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন [সিলসিলা যয়ীফা ৯০৮])
[১] প্রভু হয়ে থেকো না, বরং বান্দা হয়ে থাক অর্থাৎ যেকোন কাজে নিজেকে বড় মনে করো না, বরং সর্বদা নিজেকে ছোট মনে কর, তা হলে আল্লাহর কাছে তোমার মর্যাদা বড় হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৯১
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ تُرْسِلُ إِلَى بَعْضِ أَهْلِهَا بَعْدَ الْعَتَمَةِ فَتَقُولُ أَلَا تُرِيحُونَ الْكُتَّابَ
বর্ণনাকারী বর্ণণাকারী
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) ইশার নামাযের পর আপনজনদের কাছে বলে পাঠাতেন যে, লেখক ফেরেশতাদেরকে এখনও আরাম (অবসর) দিবে না ? [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] অর্থাৎ ইশার পর অনর্থক গল্প করো না। সম্মানিত লেখক ফেরেশতাকে অবসর দান কর এবং শুইয়া পড়। অনর্থক বিলম্বে শুইলে সকালে জাগ্রত হতে পারবে না।
৫৬/৪. অধ্যায়ঃ
গীবত প্রসঙ্গে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৭৯২
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَيَّادٍ أَنَّ الْمُطَّلِبَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَنْطَبَ الْمَخْزُومِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الْغِيبَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَذْكُرَ مِنْ الْمَرْءِ مَا يَكْرَهُ أَنْ يَسْمَعَ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ وَإِنْ كَانَ حَقًّا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قُلْتَ بَاطِلًا فَذَلِكَ الْبُهْتَانُ
বর্ণনাকারী মুত্তালিব ইব্নু আবদুল্লাহ্ মাখযুমী (রহঃ)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ গীবত কি (বা গীবত কাকে বলে)? এতদুত্তরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কারো অবর্তমানে তার এমন কথা প্রকাশ করা যা সে শুনলে অসন্তুষ্ট হবে। অতঃপর লোকটি (আবার) বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কথা যদি সত্য হয় (অর্থাৎ যা বলা হচ্ছে তা যদি মিথ্যা না হয়, বরং সত্য হয় তা হলেও কি উহা গীবত হবে)? তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি মিথ্যা হয়, (তবে উহাকে গীবত বলা হয় না; বরং) উহা বুহতান (অপবাদ)। [১] (সহীহ, ইমাম মুসলিম আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন ২৫৮৯)
[১] কোন ব্যক্তির এমন দোষের কথা যা উক্ত ব্যক্তির মধ্যে আছে, তার অবর্তমানে প্রকাশ করার নামই গীবত। অবশ্য সৎ পথে আনার নিয়তে হলে উহা জায়েয আছে, অন্যথায় হারাম। আর যদি উহা মিথ্যা হয় তবে উহা অপবাদ বা বুহ্তান, ইহা গীবতের চাইতেও মারাত্মক।