চুল বিষয়ক অধ্যায়

৫১/১. অধ্যায়ঃ

চুলের সুন্নত প্রসঙ্গে

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭০৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحَى

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোঁফ কামাতে এবং দাড়ি না কাঁটতে নির্দেশ দিয়েছেন। [১] (সহীহ, মুসলিম ২৫৯)

[১] গোঁফ কামান এবং ছাঁটের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতবিরোধ আছে। কারো মতে ছেঁটে ফেলা ভাল আর কারো মতে মুড়িয়ে ফেলা উত্তম। স্বয়ং সাহাবীগণের মধ্যেও এই মতবিরোধ ছিল। তাঁদের মধ্যেও কেউ মুড়াতেন আর কেউ ছাঁটতেন। তিরমিযীর রেওয়ায়ত মুতাবিক রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাঁটতেন।দাঁড়ি ছাঁটার সম্পর্কে যত হাদীস আছে সবই যঈফ, বিশুদ্ধ মত হচ্ছে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি ছাঁটেননি বরং তিনি সর্বদা দাড়ি ছেড়ে দিতেন এটা সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭০৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ عَامَ حَجَّ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَتَنَاوَلَ قُصَّةً مِنْ شَعَرٍ كَانَتْ فِي يَدِ حَرَسِيٍّ يَقُولُ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هَذِهِ وَيَقُولُ إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ اتَّخَذَ هَذِهِ نِسَاؤُهُمْ

বর্ণনাকারী হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ)

তিনি মু‘আবিয়া ইব্নু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর নিকট সেই বৎসর শুনেছেন, যেই বৎসর তিনি (মু‘আবিয়া) হজ্জব্রত পালন করতে গিয়েছিলেন। তিনি মিম্বরের উপর উপবিষ্ট হয়ে খাদেমের হাত হতে চুলের একটি গুচ্ছ নিয়ে বললেন, হে মদীনাবাসিগণ! তোমাদের উলামায়ে কিরাম কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ইহা হতে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ) এটাও বলেছেন যে, বানী ইসরাঈলের মহিলাগণ এই কাজ করেছিল বিধায় তারা ধ্বংস হয়েছে। (বুখারী ৩৪৬৮, মুসলিম ২১২৭)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭০৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ سَدَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاصِيَتَهُ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ فَرَقَ بَعْدَ ذَلِكَقَالَ مَالِك لَيْسَ عَلَى الرَّجُلِ يَنْظُرُ إِلَى شَعَرِ امْرَأَةِ ابْنِهِ أَوْ شَعَرِ أُمِّ امْرَأَتِهِ بَأْسٌ

বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে বেশ কিছু কাল পর্যন্ত স্বীয় চুল কপালের দিকে ঝুলিয়ে রাখতেন। পরে তাতে সিথি বানিয়ে দিতেন (অর্থাৎ চিরুণি দ্বারা চুলকে মাথার মধ্যভাগে দুই ভাগ করে দিতেন)। (বুখারী ৩৫৫৮, মুসলিম ২৩৩৬)মালিক (রহঃ) বলেন, কোন পুরুষের জন্য স্বীয় পুত্রবধুর অথবা শাশুড়ীর চুল দেখাতে কোন ক্ষতি নেই।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭০৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ الْإِخْصَاءَ وَيَقُولُ فِيهِ تَمَامُ الْخَلْقِ

বর্ণনাকারী বর্ণণাকারী

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) জীবজন্তু খাসি করানোকে খারাপ মনে করতেন এবং বলতেন যে, অণ্ডকোষ রাখার অর্থ বংশ জারি রাখা। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭০৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ إِذَا اتَّقَى وَأَشَارَ بِإِصْبُعَيْهِ الْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الْإِبْهَامَ

বর্ণনাকারী সাফওয়ান ইবনু সুলাইম (রহঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি ও ইয়াতীমের অভিভাবক -- এই অভিভাবক সংশ্লিষ্ট ইয়াতীমের আত্মীয় হোক কিংবা অনাত্মীয়, যদি তারা আল্লাহ্‌কে ভয় করে, তবে বেহেশতে আমরা একে অপরের এমন নিকট হব যেমন এই দুইটি আঙ্গুল। এই বলে তিনি (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ সা.) শাহাদতের অঙ্গুলি ও মধ্যমার দিকে ইঙ্গিত করলেন। [১] (বুখারী ৬০০৫, মুসলিম ২৯৮৩)

[১] অর্থাৎ ইয়াতীমের অভিভাবক যদি আল্লাহভীরু হয় এবং ইয়াতীমের মালের রক্ষণাবেক্ষণে ঈমানদারী ও আল্লাহ্ভীরুতার পরিচয় দেয়, তা হলে সে বেহেশতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পার্শ্বেই অবস্থান করবে।

৫১/২. অধ্যায়ঃ

চুলে চিরুনি করা প্রসঙ্গ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭০৯

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِي جُمَّةً أَفَأُرَجِّلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَكْرِمْهَا فَكَانَ أَبُو قَتَادَةَ رُبَّمَا دَهَنَهَا فِي الْيَوْمِ مَرَّتَيْنِ لِمَا قَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَكْرِمْهَا

বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ)

একদা আবূ কাতাদা আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বললেন, আমার চুল কাঁধ পর্যন্ত (অর্থাৎ বাবরী চুল) আছে। তবে কি আমি উহাতে চিরুনি করব? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, চিরুনি কর এবং চুলের সম্মান কর। অতঃপর আবূ কাতাদা কোন কোন সময় দিনে দুইবার চুলে তৈল লাগাতেন। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, চুলের সম্মান কর। (বাইহাকী, শাবগ্রন্থ ২/২৬৫/২, ইবনু আসাকির তারিখে দামেস্ক ৮/৫০৯/১, আলবানী বলেন এই হাদীসের সমর্থনে অনেক শাওয়াহেদ রয়েছে যে গুলো সহীহ হওয়ার উপর প্রমাণ করে।)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭১০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ فَدَخَلَ رَجُلٌ ثَائِرَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ أَنْ اخْرُجْ كَأَنَّهُ يَعْنِي إِصْلَاحَ شَعَرِ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ فَفَعَلَ الرَّجُلُ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَيْسَ هَذَا خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدُكُمْ ثَائِرَ الرَّأْسِ كَأَنَّهُ شَيْطَانٌ

বর্ণনাকারী আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে বসেছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এল যার চুল ও দাড়ি এলোমেলো ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে হাতে ইশারা করে বললেন, মসজিদের বাইরে গিয়ে চুল-দাড়ি ঠিক করে আস। লোকটি তাই করল এবং (চুল-দাড়ি ঠিক করে) পুনরায় এল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের কেউ স্বীয় চুল-দাড়ি এলোমেলো অবস্থায় শয়তানের মতো থাকার তুলনায় ইহা (চুল-দাড়ি) ঠিক করে রাখা উত্তম নয় কি? [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

[১] চুল ও দাঁড়িকে এলোমেলোভাবে রাখা এবং উহার যতœ না করা বা উহার সম্মান না করাকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়তানের মতো হওয়া বলে ফরমায়েছেন। আমাদের দেশে যেই সকল যুবক লম্বা চুল, গোঁফ ও নখ রাখে তাদের অত্র হাদীসের মর্ম উপলব্ধি করতে অনুরোধ করি।

৫১/৩. অধ্যায়ঃ

চুলে রং লাগানো প্রসঙ্গ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭১১

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ قَالَ وَكَانَ جَلِيسًا لَهُمْ وَكَانَ أَبْيَضَ اللِّحْيَةِ وَالرَّأْسِ قَالَ فَغَدَا عَلَيْهِمْ ذَاتَ يَوْمٍ وَقَدْ حَمَّرَهُمَا قَالَ فَقَالَ لَهُ الْقَوْمُ هَذَا أَحْسَنُ فَقَالَ إِنَّ أُمِّي عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسَلَتْ إِلَيَّ الْبَارِحَةَ جَارِيَتَهَا نُخَيْلَةَ فَأَقْسَمَتْ عَلَيَّ لَأَصْبُغَنَّ وَأَخْبَرَتْنِي أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ كَانَ يَصْبُغُقَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ فِي صَبْغِ الشَّعَرِ بِالسَّوَادِ لَمْ أَسْمَعْ فِي ذَلِكَ شَيْئًا مَعْلُومًا وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنْ الصِّبْغِ أَحَبُّ إِلَيَّ قَالَ وَتَرْكُ الصَّبْغِ كُلِّهِ وَاسِعٌ إِنْ شَاءَ اللهُ لَيْسَ عَلَى النَّاسِ فِيهِ ضِيقٌ قَالَ و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ بَيَانُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَصْبُغْ وَلَوْ صَبَغَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَرْسَلَتْ بِذَلِكَ عَائِشَةُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ

বর্ণনাকারী আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ)

আবদুর রহমান ইব্নু আসওয়াদ আমার সঙ্গী ছিলেন। তার চুল ও দাড়ি সাদা ছিল। একদা তিনি চুলে লাল রং (লাল খেজাব বা মেহেদী) লাগিয়ে সকালে আগমন করলেন। তখন সকলে বলল, ইহা বেশ ভাল। তিনি বললেন, আমার আম্মা নবী-পত্নী আয়িশা (রাঃ) স্বীয় বাঁদী নুখাইলাকে কসম করে বলে সকালে (আমার কাছে) পাঠিয়েছেন, খেজাব কর। আর ইহাও বলেছেন যে, আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-ও খেজাব লাগাতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (রহঃ) বলেন, কালো খেজাব সম্বন্ধে কোন হাদীস শুনিনি। কাল রঙের খেজাব ব্যতীত অন্য রঙ হলে ভাল। আল্লাহ্ চাহেন তো কোন রকম খেজাব না লাগানোই সবচেয়ে উত্তম। এতে জনগণের কোন অসুবিধা নাই। [১]মালিক (রহঃ) বলেন, এই হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খেজাব লাগাননি। আর যদি তিনি খেজাব লাগাতেন, তবে আয়িশা (রাঃ) আবদুর রহমান ইব্নু আসওয়াদের নিকট নিশ্চয়ই উহা বলে পাঠাতেন।

[১] মুসলিম শরীফে আবূ বাকর (রা)-এর পিতা আবূ কুহাফা (রা)-এর আলোচনায় আছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চুলের এই সাদা রং বদলে ফেলুন; তবে কালো রঙ লাগাবেন না। আবূ দাঊদ এবং নাসায়ী শরীফে আছে যে, শেষ যুগে এক জাতি কালো খেজাব লাগাবে। তারা বেহেশতের গন্ধও পাবে না। এই প্রসঙ্গে প্রকৃত কথা এই যে, কালো খেজাব লাগানো জায়েয নয়। তবে যেই কালো রং-এ লাল মিশ্রিত আছে, উহা অবশ্য জায়েয আছে।

৫১/৪. অধ্যায়ঃ

শোয়ার প্রাক্কালে শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা প্রসঙ্গে

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭১২

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ قَالَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أُرَوَّعُ فِي مَنَامِي فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ)

তিনি বলেন, আমার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, খালিদ ইবনু ওলীদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললেন, আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) ভয় পাই। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি (শোয়ার সময়) এই দু‘আ পাঠ করঃ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِআমি আল্লাহ্‌র ক্রোধ ও আযাব হতে, তার বান্দাগণের উপদ্রব হতে, শয়তানের প্ররোচনা হতে এবং আমার নিকট শয়তানের আগমন হতে আল্লাহ্‌র পূর্ণ কলেমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৭১৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ أُسْرِيَ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى عِفْرِيتًا مِنْ الْجِنِّ يَطْلُبُهُ بِشُعْلَةٍ مِنْ نَارٍ كُلَّمَا الْتَفَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَآهُ فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ أَفَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ تَقُولُهُنَّ إِذَا قُلْتَهُنَّ طَفِئَتْ شُعْلَتُهُ وَخَرَّ لِفِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَلَى فَقَالَ جِبْرِيلُ فَقُلْ أَعُوذُ بِوَجْهِ اللهِ الْكَرِيمِ وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ اللَّاتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنْ السَّمَاءِ وَشَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَشَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ وَشَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ طَوَارِقِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ

বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ)

তিনি বলেন, মি‘রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি জ্বীন দেখতে পেলেন। তার হাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার দিকে দেখলে মনে হত যেন সে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে ছুটে আসছে। অতঃপর জিবরাঈল (আ) প্রিয় নবীকে বললেন, আমি আপনাকে এমন কতকগুলো শব্দ শিক্ষা দিব কি যা পাঠ করলে এই জ্বীনের আগুন নিভে যাবে এবং সে উপুর হয়ে পড়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নিশ্চয়ই শিক্ষা দিবেন। অতঃপর জিবরাঈল (আ) বললেন, পড়ুনঃ أَعُوذُ بِوَجْهِ اللهِ الْكَرِيمِ وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ اللَّاتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنْ السَّمَاءِ وَشَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَشَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ وَشَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ طَوَارِقِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُআমি আসমান হতে আগত ও আসমানের দিকে ধাবিত বস্তুর অমঙ্গল হতে, মাটিতে সৃষ্ট ও মাটি হতে বহির্গত বস্তুর অমঙ্গল হতে, রাত্র-দিনের বালা-মুসিবত হতে ও রাত্র-দিনের ঘটনাপ্রবাহ হতে- তবে উত্তম ঘটনা হতে নয়- হে দয়াময়! (আমি) আল্লাহ্‌র সম্মানিত সত্তার ও তার সেই পূর্ণ কলেমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা পুণ্যবান ও পাপী কেহই অতিক্রম করতে পারে না। [১] (সহীহ, আহমাদ ১৫৪৯৮, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [সিলসিলা সহীহা ২৯৯৫] তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)

[১] নাসায়ী শরীফে আছে যে, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু‘আ পাঠ করলেন এবং সেই দৈত্য উপুড় হয়ে ভূলুণ্ঠিত হল এবং তার আগুন নিভে গেল।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18