রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈহিক গঠন সম্পর্কে

৪৯/১. অধ্যায়ঃ

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈহিক গঠনের বিবরণ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৪৭

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ وَلَا بِالْقَصِيرِ وَلَيْسَ بِالْأَبْيَضِ الْأَمْهَقِ وَلَا بِالْآدَمِ وَلَا بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ وَلَا بِالسَّبِطِ بَعَثَهُ اللهُ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ وَتَوَفَّاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রা)

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক লম্বা বা অধিক বেঁটে ছিলেন না। আর না তিনি চুনের মতো সাদা ছিলেন, না একেবারে শ্যামল বর্ণ ছিলেন (বরং সাদা লাল মিশান রং ছিল)। তাঁর চুল (হাবশীদের মতো) খুব কোঁকড়ানও ছিল না আর একেবারে সোজাও ছিল না। যখন তিনি চল্লিশ বৎসর বয়সে উপনীত হলেন তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে নবী করলেন। নবী হওয়ার পর তিনি দশ বৎসর মক্কায় এবং দশ বৎসর মদীনায় অবস্থান করলেন। ষাট বৎসর বয়সে ইনতিকাল করেন। [১] ঐ সময় তাঁর চুল ও দাড়ির ২০টি চুলও সাদা হয়নি। (বুখারী ৩৫৪৮, মুসলিম ২৩৪৭)

[১] মুসলিম শরীফে আছে, তাঁর বয়স ৬৩ বৎসর হয়েছিল। বুখারী-মুসলিমেও আয়েশা (রা) কর্তৃক তাঁর এই বয়সই বর্ণিত হয়েছে। নবী হওয়ার পর তিনি মক্কায় ১৩ বৎসর এবং মদীনায় ১০ বৎসর ছিলেন।

৪৯/২. অধ্যায়ঃ

‘ঈসা (আ) ও দজ্জালের বিবরণ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৪৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَرَانِي اللَّيْلَةَ عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَرَأَيْتُ رَجُلًا آدَمَ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنْ أُدْمِ الرِّجَالِ لَهُ لِمَّةٌ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنْ اللِّمَمِ قَدْ رَجَّلَهَا فَهِيَ تَقْطُرُ مَاءً مُتَّكِئًا عَلَى رَجُلَيْنِ أَوْ عَلَى عَوَاتِقِ رَجُلَيْنِ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا قِيلَ هَذَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ثُمَّ إِذَا أَنَا بِرَجُلٍ جَعْدٍ قَطَطٍ أَعْوَرِ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّهَا عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقِيلَ لِي هَذَا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইব্নু উমার (রা)

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি কাবার কাছে রয়েছি এবং সেই অবস্থায় আমি মেটে রঙের একজন লোক দেখলাম যেরূপ মেটে রঙের সুশ্রী লোক হয়ে থাকে। তার কাঁধ পর্যন্ত চুল লম্বা ছিল। তার চুলে তিনি চিরুনী দিয়ে আঁচড়িয়েছেন এবং উহা হতে তখনও পানি ঝরছে। তিনি দুইজন লোকের উপর ভর করে অথবা তিনি বলেছেন দুইজন লোকের কাঁধে ভর করে কা‘বার তাওয়াফ করছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে ? আমাকে উত্তর দেয়া হল, ইনি মসীহ ইব্নু মরিয়াম। [১] অতঃপর আমি অন্য একজন লোককে দেখলাম (যার) চুল খুব কোঁকড়ান। ডান চোখ তার কানা যেন ঐ চক্ষু ফোলা আঙ্গুর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই ব্যক্তি কে ? কেউ উত্তর দিল, এ হল মসীহ্ দাজ্জাল। (বুখারী ৫৯০২, মুসলিম ১৬৯)

[১] ঈসা (আ)-এর স্পর্শ দ্বারা রুগ্ন ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যেত, এইজন্য তাঁকে মসীহ্ বলা হত। দজ্জালকে মসীহ বলার কারণ এই যে, সে ৪০ দিনের মধ্যে সমস্ত পৃথিবী ঘুরে আসবে। ঈসা (আ) ও দজ্জাল কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে আগমন করবেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের চিহ্ন বলে দিয়েছেন যেন মুসলমান তাকে চিনতে পারে এবং ধোঁকায় পতিত না হয়।

৪৯/৩. অধ্যায়ঃ

ফিতরাত বা স্বভাব প্রসঙ্গ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৪৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ خَمْسٌ مِنْ الْفِطْرَةِ تَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَنَتْفُ الْإِبْطِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَالْاخْتِتَانُ

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রা)

প্রকৃতিগত সুন্নত পাঁচটি (১) নখ কাটা, (২) গোঁফ ছাঁটা, (৩) বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা, (৪) নাভীর নিচের চুল কামান, (৫) খাতনা করা। (মারফু, বুখারী ৫৮৮৯, মুসলিম ২৫৭)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৫০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَّلَ النَّاسِ ضَيَّفَ الضَّيْفَ وَأَوَّلَ النَّاسِ اخْتَتَنَ وَأَوَّلَ النَّاسِ قَصَّ الشَّارِبَ وَأَوَّلَ النَّاسِ رَأَى الشَّيْبَ فَقَالَ يَا رَبِّ مَا هَذَا فَقَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَقَارٌ يَا إِبْرَاهِيمُ فَقَالَ يَا رَبِّ زِدْنِي وَقَارًاقَالَ يَحْيَى و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ يُؤْخَذُ مِنْ الشَّارِبِ حَتَّى يَبْدُوَ طَرَفُ الشَّفَةِ وَهُوَ الْإِطَارُ وَلَا يَجُزُّهُ فَيُمَثِّلُ بِنَفْسِهِ

বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু মুসায়্যার (র)

ইবরাহীম (আ) সর্বপ্রথম মেহমানদারী করেছেন, সর্বপ্রথম খাতনা করেছেন, সর্বপ্রথম গোঁফ কেটেছেন, আর সর্বপ্রথম সাদা চুল দেখে বলেছেন, ইয়া আল্লাহ্, ইহা কি ? আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন ইহা ইজ্জত ও সম্মান। ইবরাহীম (আ) বললেন হে প্রভু, আমার সম্মান বাড়িয়ে দাও। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, গোঁফ এমনভাবে কাটা উচিত যেন ঠোঁটের কিনারা দেখা যায়। একেবারে কামিয়ে ফেলবে না। [১]

[১] ইমাম মালিক (র)-এর মতে গোঁফ কামান সুন্নত। আর আবূ হানীফ (র)-এর মতে ছোট করে কেটে ফেলা উত্তম।

৪৯/৪. অধ্যায়ঃ

বাম হাতে খাওয়া নিষেধ প্রসঙ্গ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৫১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ السَّلَمِيِّأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَأْكُلَ الرَّجُلُ بِشِمَالِهِ أَوْ يَمْشِيَ فِي نَعْلٍ وَاحِدَةٍ وَأَنْ يَشْتَمِلَ الصَّمَّاءَ وَأَنْ يَحْتَبِيَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ كَاشِفًا عَنْ فَرْجِهِ

বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু আবদুল্লাহ (র)

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতে খেতে নিষেধ করেছেন। তিনি এক জুতা পরিধান করে চলতে, এক কাপড়ে নিজেকে ঢেকে নিতে নিষেধ করেছেন যাতে লজ্জাস্থানে কোন কাপড় না থাকে । (সহীহ, মুসলিম ২০৯৯)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৫২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَكَلَأَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ وَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা)

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেহ খেতে বসে তখন ডান হাতে তার খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা উচিত। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় এবং পান করে। (সহীহ, মুসলিম ২০২০)

৪৯/৫. অধ্যায়ঃ

মিসকীন সম্পর্কে বিবরণ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৫৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِهَذَا الطَّوَّافِ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ فَتَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ قَالُوا فَمَا الْمِسْكِينُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الَّذِي لَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ وَلَا يَفْطُنُ النَّاسُ لَهُ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ وَلَا يَقُومُ فَيَسْأَلَ النَّاسَ

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রা)

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে সে মিসকীন নয়, যাকে এক লোকমা, দুই লোকমা একটি খেজুর বা দুটি খেজুর দান করা হয়। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্! তা হলে মিসকীন কারা ? তিনি বললেন, যার নিকট এই পরিমাণ মাল নাই, যা দিয়ে সে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারে আর তার অবস্থা কারো জানা নাই যে, তাকে সাদকা দেয়া যেতে পারে, আর না সে লোকের নিকট চেয়ে বেড়ায়। (বুখারী ১৪৭৯, মুসলিম ১০৩৯)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৫৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ ابْنِ بُجَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّثُمَّ الْحَارِثِيِّ عَنْ جَدَّتِهِأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رُدُّوا الْمِسْكِينَ وَلَوْ بِظِلْفٍ مُحْرَقٍ

বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আসলাম (র)

তিনি ইব্নু বুজাইদ আনসারী আল হারেসী (রা) হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, মিসকীনদেরকে (যা কিছু সম্ভব হয়) দাও, যদিও পোড়া খুর হোক না কেন। [১] (সহীহ, নাসাঈ ২৫৬৩, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [সহীহ আল জামে] ৩৫০২)

[১] পোড়া খুর বা আগুনে জ্বলে গিয়েছে এমন খুর বলতে মামুলী বস্তুকে বুঝায় অর্থাৎ মিসকীনকে উল্লেখযোগ্য কিছু দান করতে সমর্থ না হলে অন্তত যৎকিঞ্চিৎ বস্তুও যদি দিতে পারা যায়, তবে তাই দাও।

৪৯/৬. অধ্যায়ঃ

কাফিরের অন্ত্র প্রসঙ্গ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৫৫

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الْمُسْلِمُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রা)

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলমান এক অন্ত্রে খায় এবং কাফির সাত অন্ত্রে খায়। [১] (বুখারী ৫৩৯৬, মুসলিম ২০৬২)

[১] প্রকৃত মুসলমান সবর করে। আর কাফির পেট পুরে খায়। অধিক খাওয়া অবৈধ নয়। তবে পেট পূর্ণ করে খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কাজেই পরিমাণ মতো খাওয়াই উত্তম। লোভের বশবর্তী হয়ে অধিক খাওয়া মন্দ কর্মের শামিল।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬৫৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَافَهُ ضَيْفٌ كَافِرٌ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلَابَهَا ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ حَتَّى شَرِبَ حِلَابَ سَبْعِ شِيَاهٍثُمَّ إِنَّهُ أَصْبَحَ فَأَسْلَمَ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلَابَهَا ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِأُخْرَى فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنُ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَشْرَبُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রা)

জনৈক কাফির (জাহজা ইব্নু সা‘ঈদ গেফারী) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমান হল। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছাগলের দুধ দোহন করতে নির্দেশ দান করলেন। (কাফির) মেহমান সমস্ত দুধ পান করল। আবার দ্বিতীয় ছাগলের দুধ দোহন করা হলে পর লোকটি উহাও সব পান করল। অতঃপর তৃতীয় ছাগলের দুধও সব পান করল। এইভাবে একে একে সাতটি ছাগলের দুধ সে (একাই) পান করল। পরদিন সকালে লোকটি ইসলাম গ্রহণ করল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি ছাগলের দুধ পান করতে দিলেন। তিনি তা পান করলেন, পরে আরো একটি ছাগলের দুধপান করতে দিলেন। কিন্তু তিনি তা পান করতে সক্ষম হলেন না। তখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমালেন, মুসলমান এক পেটে পান করে, কিন্তু কাফির সাত পেটে পান করে। (বুখারী ৫৩৯৬, মুসলিম ২০৬৩)

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18