সৎস্বভাব বিষয়ক অধ্যায়

৪৭/১. অধ্যায়ঃ

সৎস্বভাব প্রসঙ্গ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَالَ آخِرُ مَا أَوْصَانِي بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ وَضَعْتُ رِجْلِي فِي الْغَرْزِ أَنْ قَالَ أَحْسِنْ خُلُقَكَ لِلنَّاسِ يَا مُعَاذُ بْنَ جَبَلٍ

বর্ণনাকারী মু‘আয ইব্নু জাবাল (রা)

তিনি বলেন, সর্বশেষ ওসীয়্যত নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে করেছেন যখন আমি ঘোড়ার রেকাবে পা রাখছিলাম। তা এই যে, হে মু‘আয! মানুষের সাথে সৎ ব্যবহার করবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْمَا خُيِّرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَمْرَيْنِ قَطُّ إِلَّا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللهِ فَيَنْتَقِمُ لِلَّهِ بِهَا

বর্ণনাকারী উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা)

তিনি বলেছেন, যখনই রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুইটি কাজের মধ্যে একটি গ্রহণের অনুমতি দেয়া হত তিনি সহজটি গ্রহণ করতেন, যদি উহা গুনাহর কাজ না হত। যদি উহা গুনাহর কাজ হত, তবে তিনিই সর্বাধিক উহা বর্জন করে চলতেন। তিনি নিজের জন্য কারো উপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। কিন্তু যখন আল্লাহ্‌র হারামের মর্যাদা বিনষ্ট করা হত তখন তিনি প্রতিশোধ নিতেন। (বুখারী ৩৫৬০, মুসলিম ২৩২৭)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ

বর্ণনাকারী আলী ইব্নু হুসাইন

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে এটাও রয়েছে যে, মানুষ অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ ত্যাগ করবে। (সহীহ, তিরমিযী ২৩১৭, ২৩১৮, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৬, আবূ হুরায়রা (রা) থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [সহীহ আল-জামে] ৫৯১১, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ عَائِشَةُ وَأَنَا مَعَهُ فِيالْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِئْسَ ابْنُ الْعَشِيرَةِ ثُمَّ أَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ سَمِعْتُ ضَحِكَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَهُ فَلَمَّا خَرَجَ الرَّجُلُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ قُلْتَ فِيهِ مَا قُلْتَ ثُمَّ لَمْ تَنْشَبْ أَنْ ضَحِكْتَ مَعَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ شَرِّ النَّاسِ مَنْ اتَّقَاهُ النَّاسُ لِشَرِّهِ

বর্ণনাকারী উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রা)

কেউ রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাক্ষাৎ করতে অনুমতি চাইল। আমি তখন রসূলুল্লাহ্র ঘরে ছিলাম। তিনি বললেন, এই লোকটি মন্দ। অতঃপর তিনি তাকে আসতে অনুমতি দান করলেন। আয়িশা (রা) বলেন, বেশিক্ষণ না যেতেই আমি ঐ লোকটির সাথে রসূলুল্লাহ্কে হাসতে শুনতে পেলাম। তার প্রস্থানের পর আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! এইমাত্র আপনি তাকে মন্দ বললেন, আর এখনই আপনি তার সাথে হাসতেছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকলের চাইতে মন্দ ঐ ব্যক্তি, যার অনিষ্টকারিতার জন্য লোকে তাকে ভয় করে। [১] (বুখারী ৬০৩২, ইমাম মুসলিম মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন ২৫৯১, আর ইমাম মালিকের নিকট হাদীসটি পৌছেছে মর্মে বর্ণনা করেছেন)

[১] অর্থাৎ লোকেরা এই ভয়ে থাকে যে, সে যে কোন সময় কষ্ট দিতে পারে। লোকটি সম্পর্কে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মন্তব্য গীবত ছিল না, বরং এক ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য ছিল যাতে লোকেরা তার সম্পর্কে সতর্ক হয়ে যায়।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ أَنَّهُ قَالَ إِذَا أَحْبَبْتُمْ أَنْ تَعْلَمُوا مَا لِلْعَبْدِ عِنْدَ رَبِّهِ فَانْظُرُوا مَاذَا يَتْبَعُهُ مِنْ حُسْنِ الثَّنَاءِ

বর্ণনাকারী কা‘ব আহবার (র)

তিনি বলেছেন, কোন বান্দার মর্যাদা তার প্রভুর কাছে কিরূপ তা জানতে ইচ্ছা করলে দেখ, অন্যান্য লোক তার সম্বন্ধে কি ধারণা পোষণ করে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ الْمَرْءَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ الْقَائِمِ بِاللَّيْلِ الظَّامِي بِالْهَوَاجِرِ

বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ

তিনি বলেছেন, আমার কাছে এই রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, মানুষ তার সৎ চরিত্রের জন্য সারা রাত্রি ইবাদতকারী ও সর্বদা রোযা রাখে, এমন ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করে থাকে। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

[১] অর্থাৎ যদি লোকে তার প্রশংসা করে তবে বুঝবে যে, এই ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছেও ভাল, আর যদি লোকে তাকে মন্দ ধারণা করে থাকে, তবে বুঝবে আল্লাহ্‌র কাছেও এই ব্যক্তি মন্দ।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرٍ مِنْ كَثِيرٍ مِنْ الصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ قَالُوا بَلَى قَالَ إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ وَإِيَّاكُمْ وَالْبِغْضَةَ فَإِنَّهَا هِيَ الْحَالِقَةُ

বর্ণনাকারী সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র)

তিনি বয়েছেন, আমি কি তোমাদের এমন কাজের সন্ধান দিব, যা বহু নামায ও অনেক সাদকা হতেও উৎকৃষ্ট ? লোকেরা বলল, নিশ্চয়ই, বলুন। তিনি বললেন, পরস্পর আপস করিয়ে দেয়া। আর তোমরা শত্রুতা ও দুশমনী হতে দূরে থাক। কারণ এই স্বভাব নেকীকে বিনষ্ট করে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ قَدْ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ حُسْنَ الْأَخْلَاقِ

বর্ণনাকারী মালিক (র)

তাঁর কাছে এই খবর পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি নৈতিকতাকে পূর্ণতা দান করবার জন্য নবী হয়ে আগমন করেছি। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

[১] এই হাদীসটি আহমাদ, হাকিম ও তিবরানী আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণনা করেছেন।

৪৭/২. অধ্যায়ঃ

শরম ও লজ্জা সম্বন্ধীয় বর্ণনা

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سَلَمَةَ بْنِ صَفْوَانَ بْنِ سَلَمَةَ الزُّرَقِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ رُكَانَةَ يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِكُلِّ دِينٍ خُلُقٌ وَخُلُقُ الْإِسْلَامِ الْحَيَاءُ

বর্ণনাকারী যায়েদ ইব্নু তালহা ইব্নু রুকানা (র)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি ধর্মেরই একটা স্বভাব রয়েছে, আর ইসলামের স্বভাব হল লজ্জা। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ১৬১৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنْ الْإِيمَانِ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা)

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার ভাইকে বেশি লজ্জা না করার জন্য নসীহত করছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই বিষয়ে তাকে নসীহত করা হতে বিরত থাক। কেননা এই লজ্জা ঈমানের অঙ্গস্বরূপ। [১] (বুখারী ২৪, মুসলিম ৩৬)

[১] যাকে নসীহত করা হচ্ছিল, সে ব্যক্তি ছিল খুবই লাজুক। ঐ ব্যক্তি তাকে তার লজ্জার জন্য তিরস্কার করছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এইরূপ নসীহত বন্ধ কর। তুমি তাকে লজ্জা হতে বিরত থাকতে বলছ, অথচ উহা ঈমানের অঙ্গস্বরূপ।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18