ওসীয়্যত সম্পর্কিত
৩৭/১. অধ্যায়ঃ
ওসীয়্যতের নির্দেশ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫০
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُوصَى فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ عِنْدَهُ مَكْتُوبَةٌ.قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّ الْمُوصِيَ إِذَا أَوْصَى فِي صِحَّتِهِ أَوْ مَرَضِهِ بِوَصِيَّةٍ فِيهَا عَتَاقَةُ رَقِيْقٍ مِنْ رَقِيقِهِ أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ فَإِنَّهُ يُغَيِّرُ مِنْ ذَلِكَ مَا بَدَا لَهُ وَيَصْنَعُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ حَتَّى يَمُوْتَ.وَإِنْ أَحَبَّ أَنْ يَطْرَحَ تِلْكَ الْوَصِيَّةَ وَيُبْدِلَهَا فَعَلَ إِلَّا أَنْ يُدَبِّرَ مَمْلُوكًا فَإِنْ دَبَّرَ فَلَا سَبِيلَ إِلَى تَغْيِيرِ مَا دَبَّرَ وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُوصَى فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ عِنْدَهُ مَكْتُوبَةٌ قَالَ مَالِك فَلَوْ كَانَ الْمُوصِي لَا يَقْدِرُ عَلَى تَغْيِيرِ وَصِيَّتِهِ وَلَا مَا ذُكِرَ فِيهَا مِنْ الْعَتَاقَةِ كَانَ كُلُّ مُوصٍ قَدْ حَبَسَ مَالَهُ الَّذِي أَوْصَى فِيهِ مِنْ الْعَتَاقَةِ وَغَيْرِهَا وَقَدْ يُوصِي الرَّجُلُ فِي صِحَّتِهِ وَعِنْدَ سَفَرِهِ قَالَ مَالِك فَالْأَمْرُ عِنْدَنَا الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ أَنَّهُ يُغَيِّرُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ غَيْرَ التَّدْبِيْرِ.
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রা)
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলমানের নিকট কিছু সম্পদ থাকলে যার সম্বন্ধে ওসীয়্যত করা তার কর্তব্য, তবে সেই ক্ষেত্রে ওসীয়্যতের বিষয় না লিখে তার জন্য দুই রাত্রিও অতিবাহিত করা উচিত নায় (কেননা মৃত্যু আসার আশংকা রয়েছে)। (বুখারী ২৭৩৮, মুসলিম ১৬২৭)মালিক (র) বলেন ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি কোন মুসলমান সুস্থ অথবা অসুস্থ অবস্থায় কোন ওসীয়্যত করে যায় যেমন গোলাম আযাদ করা কিংবা অন্যান্য বিষয়, তবে সে মারা যাওয়ার পূর্বে তার মধ্যে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে এবং ওসীয়্যতকে স্থগিতও করতে পারবে। অন্য কোন ওসীয়্যতও করতে পারবে। কিন্তু কোন গোলামকে যদি মুদাব্বার করে থাকে তবে তাতে আর কোন পরিবর্তন করতে পারবে না, কেননা রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলমানের এমন কিছু থাকলে যা ওসীয়্যত করা কর্তব্য, তবে ওসীয়্যত করা ব্যতীত দুই রাত অতিবাহিত করা তার উচিত নয়।মালিক (র) বলেন যদি ওসীয়্যতকারীর নিজ ওসীয়্যতে পরিবর্তন করার ক্ষমতা না থাকত তবে তার ইখতিয়ার হতে বের হয়ে আটক থাকত। যেমন গোলাম আযাদের কথা অথচ মানুষ কোন সময় ভ্রমণে যাওয়ার সময় ওসীয়্যত করে আবার সুস্থ থাকাকালীন ওসীয়্যত করে।মালিক (র) বলেন আমাদের নিকট প্রত্যেক ওসীয়্যতই বদলানো যায় কিন্তু গোলামকে মুদাব্বার করা হলে তা পরিবর্তনের ইখতিয়ার নাই।
৩৭/২. অধ্যায়ঃ
দুর্বল, বালক, পাগল ও নির্বোধের ওসীয়্যত বৈধ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫১
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَمْرَو بْنَ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ قِيلَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِنَّ هَاهُنَا غُلَامًا يَفَاعًا لَمْ يَحْتَلِمْ مِنْ غَسَّانَ وَوَارِثُهُ بِالشَّامِ وَهُوَ ذُو مَالٍ وَلَيْسَ لَهُ هَاهُنَا إِلَّا ابْنَةُ عَمٍّ لَهُ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَلْيُوصِ لَهَا قَالَ فَأَوْصَى لَهَا بِمَالٍ يُقَالُ لَهُ بِئْرُ جُشَمٍ قَالَ عَمْرُو بْنُ سُلَيْمٍ فَبِيعَ ذَلِكَ الْمَالُ بِثَلَاثِينَ أَلْفَ دِرْهَمٍ وَابْنَةُ عَمِّهِ الَّتِي أَوْصَى لَهَا هِيَ أُمُّ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ.
বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইব্নু হাযম (র)
আমর ইব্নু সুলায়ম যুরাকী বলেছেন, উমার (রা)-কে বলা হল, এখানে গাস্সান গোত্রের একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে আছে, তার ওয়ারিস সিরিয়াতে এবং তার সম্পত্তিও আছে মদীনাতে, এখানে তার এক চাচাতো বোন ব্যতীত আর কোন ওয়ারিস নেই। উমার (রা) বললেন, তার জন্যই ওসীয়্যত করা চাই। অবশেষে ঐ ছেলে নিজ মালের ওসীয়্যত চাচাতো বোনের জন্য করেছিল। তার সম্পত্তির নাম ছিল বীরে জুশাম। আমর (রা) বলেন যে, ঐ সম্পত্তি ত্রিশ হাজার দিরহামে বিক্রয় হয়েছিল। আর তার চাচাতো বোনের নাম ছিল উম্মে আমর ইব্নু সুলাইম যুরাকী ছিল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫২
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ غُلَامًا مِنْ غَسَّانَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ بِالْمَدِينَةِ وَوَارِثُهُ بِالشَّامِ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ فُلَانًا يَمُوتُ أَفَيُوصِي قَالَ فَلْيُوصِ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ الْغُلَامُ ابْنَ عَشْرِ سِنِينَ أَوْ اثْنَتَيْ عَشَرَةَ سَنَةً قَالَ فَأَوْصَى بِبِئْرِ جُشَمٍ فَبَاعَهَا أَهْلُهَا بِثَلَاثِينَ أَلْفَ دِرْهَمٍ.قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّ الضَّعِيفَ فِي عَقْلِهِ وَالسَّفِيهَ وَالْمُصَابَ الَّذِي يُفِيقُ أَحْيَانًا تَجُوزُ وَصَايَاهُمْ إِذَا كَانَ مَعَهُمْ مِنْ عُقُولِهِمْ مَا يَعْرِفُونَ مَا يُوصُونَ بِهِ فَأَمَّا مَنْ لَيْسَ مَعَهُ مِنْ عَقْلِهِ مَا يَعْرِفُ بِذَلِكَ مَا يُوصِي بِهِ وَكَانَ مَغْلُوبًا عَلَى عَقْلِهِ فَلَا وَصِيَّةَ لَهُ.
বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইব্নু হাযম (র)
মাদীনাতে গাসসান বংশের একটি ছেলের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল, আর তার ওয়ারিস ছিল সিরিয়াতে । তার কথা উমার (রা)-এর কাছে বলা হল এবং জিজ্ঞেস করা হল যে, সে ওসীয়্যত করবে কি? তিনি বললেন হ্যাঁ, সে যেন ওসীয়্যত করে। আবূ বাকর বলেন, ঐ ছেলের বয়স দশ অথবা বার বৎসর ছিল। অতঃপর সে তার বীরে জুশাম নামক সম্পত্তি ওসীয়্যত করে গেল, যার বিক্রয়মূল্য বাবদ প্রাপ্ত হয়েছিল ত্রিশ হাজার দিরহাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন এটা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, দুর্বল বুদ্ধির লোক, নির্বোধ, পাগল যার মাঝে মাঝে হুশ ফিরে আসে এমন লোকদের ওসীয়্যত শুদ্ধ হবে যখন তার এতদূর আকল থাকে যে, সে যা কিছু ওসীয়্যত করছে তা সে বুঝে। আর যদি এতদুর আকলও না থাকে যে, সে কি ওসীয়্যত করল তা বুঝতে পারে না। তবে তার ওসীয়্যত শুদ্ধ হবে না।
৩৭/৩. অধ্যায়ঃ
এক-তৃতীয়াংশের অধিক ওসীয়াতের ফয়সালা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫৩
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ جَاءَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ وَجَعٍ اشْتَدَّ بِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ بَلَغَ بِي مِنْ الْوَجَعِ مَا تَرَى وَأَنَا ذُو مَالٍ وَلَا يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَةٌ لِي أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَيْ مَالِي قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا فَقُلْتُ فَالشَّطْرُ قَالَ لَا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللهِ إِلَّا أُجِرْتَ حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي فِي امْرَأَتِكَ قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَأُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلًا صَالِحًا إِلَّا ازْدَدْتَ بِهِ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ اللهُمَّ أَمْضِ لِأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ وَلَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنْ الْبَائِسُ سَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ. قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يُوصِي بِثُلُثِ مَالِهِ لِرَجُلٍ وَيَقُولُ غُلَامِي يَخْدُمُ فُلَانًا مَا عَاشَ ثُمَّ هُوَ حُرٌّ فَيُنْظَرُ فِي ذَلِكَ فَيُوجَدُ الْعَبْدُ ثُلُثَ مَالِ الْمَيِّتِ قَالَ فَإِنَّ خِدْمَةَ الْعَبْدِ تُقَوَّمُ ثُمَّ يَتَحَاصَّانِ يُحَاصُّ الَّذِي أُوصِيَ لَهُ بِالثُّلُثِ بِثُلُثِهِ وَيُحَاصُّ الَّذِي أُوصِيَ لَهُ بِخِدْمَةِ الْعَبْدِ بِمَا قُوِّمَ لَهُ مِنْ خِدْمَةِ الْعَبْدِ فَيَأْخُذُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِنْ خِدْمَةِ الْعَبْدِ أَوْ مِنْ إِجَارَتِهِ إِنْ كَانَتْ لَهُ إِجَارَةٌ بِقَدْرِ حِصَّتِهِ فَإِذَا مَاتَ الَّذِي جُعِلَتْ لَهُ خِدْمَةُ الْعَبْدِ مَا عَاشَ عَتَقَ الْعَبْدُ.قَالَ و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ فِي الَّذِي يُوصِي فِي ثُلُثِهِ فَيَقُولُ لِفُلَانٍ كَذَا وَكَذَا وَلِفُلَانٍ كَذَا وَكَذَا يُسَمِّي مَالًا مِنْ مَالِهِ فَيَقُولُ وَرَثَتُهُ قَدْ زَادَ عَلَى ثُلُثِهِ فَإِنَّ الْوَرَثَةَ يُخَيَّرُونَ بَيْنَ أَنْ يُعْطُوا أَهْلَ الْوَصَايَا وَصَايَاهُمْ وَيَأْخُذُوا جَمِيعَ مَالِ الْمَيِّتِ وَبَيْنَ أَنْ يَقْسِمُوا لِأَهْلِ الْوَصَايَا ثُلُثَ مَالِ الْمَيِّتِ فَيُسَلِّمُوا إِلَيْهِمْ ثُلُثَهُ فَتَكُونُ حُقُوقُهُمْ فِيهِ إِنْ أَرَادُوا بَالِغًا مَا بَلَغَ.
বর্ণনাকারী সা‘আদ ইব্নু আবি ওয়াক্কাস (রা)
বিদায় হজ্জের বৎসর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অসুখের সময় আমাকে দেখতে আসেন, আমার অসুখ খুব কঠিন ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি দেখতেছেন যে, আমার অবস্থা কি এবং আমি খুব সম্পদশালী, আমার কোন ওয়ারিস নেই এক মেয়ে ব্যতীত। এখন আমি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ সাদাকাহ্ করে দিতে পারব কি? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না’। আমি বললাম, তা হলে অর্ধেক দান করে দেই? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না। অতঃপর তিনি নিজেই বললেন এক-তৃতীয়াংশ দান কর। যদিও এটাও অনেক। মনে রেখ, তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাওয়া উত্তম তাদেরকে দরিদ্র এবং লোকের কাছে ভিক্ষা করুক এমন অবস্থায় রেখে যাওয়ার চাইতে। তুমি যা কিছু আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য খরচ করবে তার বিনিময় পাবে, চাই নিজ স্ত্রীর মুখে লোকমা উঠিয়ে দাও না কেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি কি আমার সঙ্গীদের পিছনে থেকে যাব? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তুমি তাদের পেছনে থেকে যাও এবং সাওয়াবের কাজ করতে থাক তবে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। এমনও হতে পারে যে, তুমি জীবিত থাকবে এবং তোমার দ্বারা আল্লাহ্ তা‘আলা বহু লোককে উপকৃত করবেন, আর এক দল তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। (বুখারী ১২৯৬, মুসলিম ১৬২৮)হে আল্লাহ্! আমার সাহাবীগণের হিজরত পূর্ণ কর এবং তাদেরকে পশ্চাদপসরণ করো না। কিন্তু বেচারা সা‘আদ ইব্নু খাওলা যার জন্য রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর ব্যথিত হয়েছিল, কেননা তিনি মক্কায় ইন্তিকাল করেছিলেন।মালিক (র) বলেন যদি কেউ কারো জন্য এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তির ওসীয়্যত করে যায় এবং এটাও বলে যে, আমার অমুক গোলাম আজীবন অমুকের খেদমত করবে, অতঃপর সে আযাদ। তার পর যদি গোলামের মূল্য সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ হয় তবে গোলামের খেদমত গ্রহণ করা হবে এবং গোলামের ভাগ বন্টন করা হবে; যার জন্য সম্পদের ওসীয়্যত করা হয়েছে তার হিস্যা হবে এবং যার জন্য খেদমত করার ওসীয়্যত করা হয়েছে তারও হিস্যা খেদমতের মূল্য অনুযায়ী হবে এবং এই দুইজন লোকই ঐ গোলামের কামাই ও খেদমত হতে নিজ হিস্যা প্রাপ্ত হবে। যখন ঐ ব্যক্তি মারা যাবে যার খেদমতের কথা বলা হয়েছে, তখন গোলাম আযাদ হয়ে যাবে।মালিক (র) বলেন যদি কেউ কয়েক ব্যক্তির নাম নিয়ে বলে যে, অমুককে এত ‘অমুককে এত দিনার ওসীয়্যত করলাম; অতঃপর তার ওয়ারিসগণ বলে যে, ওসীয়্যত এক-তৃতীয়াংশের চাইতে অধিক হয়েছে তবে ওয়ারিসগণের ইখতিয়ার থাকবে, হয় তারা যাদের জন্য ওসীয়্যত করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককেই ঐ পরিমাণ বিনিময় দেবে এবং পূর্ণ সম্পদ নিজেরা নিয়ে নিবে অথবা তাদেরকে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ দিয়ে দেবে যেন তারা বন্টন করে নিতে পারে।
৩৭/৬. অধ্যায়ঃ
যে পুরুষ নপুংসক তার এবং বাচ্চার মালিক কে হবে?
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫৪
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ مُخَنَّثًا كَانَ عِنْدَ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمَعُ يَا عَبْدَ اللهِ إِنْ فَتَحَ اللهُ عَلَيْكُمْ الطَّائِفَ غَدًا فَأَنَا أَدُلُّكَ عَلَى ابْنَةِ غَيْلَانَ فَإِنَّهَا تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدْخُلَنَّ هَؤُلَاءِ عَلَيْكُمْ.
বর্ণনাকারী হিশাম ইব্নু উরওয়া (র) তাঁর পিতা
এক নপুংসক (হিজরা) ব্যক্তি উম্মুল মু‘মিনীন উম্মু সালমার নিকট বসা ছিল। সে আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ উমাইয়াকে বলিতেছিল, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর কথা শুনিতে ছিলেন যদি আল্লাহ্ তা‘আলা তায়েফে তোমাদেরকে আগামীকাল বিজয়ী করেন, তবে তুমি গাইলানের মেয়েকে নিশ্চয় গ্রহণ করবে। কারণ যখন সে সম্মুখ দিয়ে আসে তখন তার পেটে চারটি (ভাঁজ) থাকে আর যখন প্রস্থান করে তখন আটটি ভাঁজ নিয়ে প্রস্থান করে। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শুনে) বললেন এই সকল লোক যেন তোমাদের নিকট আর না আসে। (বুখারী ৪৩২৪, ইমাম মুসলিম মুত্তাসিল সনদে ২১৮০, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত সনদটি মুরসাল)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫৫
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ يَقُوْلُ: كَانَتْ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ امْرَأَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فَوَلَدَتْ لَهُ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ ثُمَّ إِنَّهُ فَارَقَهَا فَجَاءَ عُمَرُ قُبَاءً فَوَجَدَ ابْنَهُ عَاصِمًا يَلْعَبُ بِفِنَاءِ الْمَسْجِدِ فَأَخَذَ بِعَضُدِهِ فَوَضَعَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ عَلَى الدَّابَّةِ فَأَدْرَكَتْهُ جَدَّةُ الْغُلَامِ فَنَازَعَتْهُ إِيَّاهُ حَتَّى أَتَيَا أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ فَقَالَ عُمَرُ ابْنِي وَقَالَتْ الْمَرْأَةُ ابْنِي فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ خَلِّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ قَالَ فَمَا رَاجَعَهُ عُمَرُ الْكَلَامَ قَالَ و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ وَهَذَا الْأَمْرُ الَّذِي آخُذُ بِهِ فِي ذَلِكَ.
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সা‘ঈদ (র)
একজন আনসারী মেয়েলোক উমার ইব্নু খাত্তাব (রা)-এর স্ত্রী ছিলেন। তাঁর গর্ভে একটি ছেলে সন্তান জন্মাল। তার নাম আসিম রাখা হয়েছিল। ইত্যবসরে উমার (রা) ঐ স্ত্রীকে তালাক দিলেন। একদা উমার (রা) মসজিদে কুবার বারান্দায় এ সন্তানকে অন্যান্য ছেলের সাথে খেলাধুলা করতে দেখতে পেলেন তিনি তার বাহুতে ধরে তাকে স্বীয় সাওয়ারীতে বসিয়ে নিলেন। আসিমের মাতামহী (নানী) তা দেখে উমারকে বাধা দিলেন এবং তার সাথে ঝগড়া করতে লাগলেন। অতঃপর উভয়ে আবূ বাকর সিদ্দীক (রা)-এর নিকট এসে সন্তানের দাবি জানালেন। আবূ বাকর সিদ্দীক (রা) বললেন সন্তানটিকে উভয়ের মধ্যে ছেড়ে দাও (সে যাকে গ্রহণ করে তারই হবে)। উমার (রা) এতে চুপ হয়ে গেলেন। মালিক (র) বলেন, এ ক্ষেত্রে আমিও এই অভিমত পোষণ করি। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
৩৭/৮. অধ্যায়ঃ
প্রশাসন ও বিচার সম্পর্কীয় বিবিধ আহকাম এবং বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণকে অপছন্দ করা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫৬
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ كَتَبَ إِلَى سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ أَنْ هَلُمَّ إِلَى الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ فَكَتَبَ إِلَيْهِ سَلْمَانُ إِنَّ الْأَرْضَ لَا تُقَدِّسُ أَحَدًا وَإِنَّمَا يُقَدِّسُ الْإِنْسَانَ عَمَلُهُ وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّكَ جُعِلْتَ طَبِيبًا تُدَاوِي فَإِنْ كُنْتَ تُبْرِئُ فَنَعِمَّا لَكَ وَإِنْ كُنْتَ مُتَطَبِّبًا فَاحْذَرْ أَنْ تَقْتُلَ إِنْسَانًا فَتَدْخُلَ النَّارَ فَكَانَ أَبُو الدَّرْدَاءِ إِذَا قَضَى بَيْنَ اثْنَيْنِ ثُمَّ أَدْبَرَا عَنْهُ نَظَرَ إِلَيْهِمَا وَقَالَ ارْجِعَا إِلَيَّ أَعِيدَا عَلَيَّ قِصَّتَكُمَا مُتَطَبِّبٌ وَاللهِ.قَالَ و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ مَنْ اسْتَعَانَ عَبْدًا بِغَيْرِ إِذْنِ سَيِّدِهِ فِي شَيْءٍ لَهُ بَالٌ وَلِمِثْلِهِ إِجَارَةٌ فَهُوَ ضَامِنٌ لِمَا أَصَابَ الْعَبْدَ إِنْ أُصِيبَ الْعَبْدُ بِشَيْءٍ وَإِنْ سَلِمَ الْعَبْدُ فَطَلَبَ سَيِّدُهُ إِجَارَتَهُ لِمَا عَمِلَ فَذَلِكَ لِسَيِّدِهِ وَهُوَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا ২৮৪৪-قَالَ و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ فِي الْعَبْدِ يَكُونُ بَعْضُهُ حُرًّا وَبَعْضُهُ مُسْتَرَقًّا إِنَّهُ يُوقَفُ مَالُهُ بِيَدِهِ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يُحْدِثَ فِيهِ شَيْئًا وَلَكِنَّهُ يَأْكُلُ فِيهِ وَيَكْتَسِي بِالْمَعْرُوفِ فَإِذَا هَلَكَ فَمَالُهُ لِلَّذِي بَقِيَ لَهُ فِيهِ الرِّقُّ.قَالَ و سَمِعْت مَا لِكًا يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ الْوَالِدَ يُحَاسِبُ وَلَدَهُ بِمَا أَنْفَقَ عَلَيْهِ مِنْ يَوْمِ يَكُونُ لِلْوَلَدِ مَالٌ نَاضًّا كَانَ أَوْ عَرْضًا إِنْ أَرَادَ الْوَالِدُ ذَلِكَ.
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সা‘ঈদ (র)
আবূ দারদা (রা) সালমান ফারসী (রা)-এর নিকট লিখেছেন যে, পবিত্র ভূমিতে চলে আস। উত্তরে সালমান লিখলেন, ভূমি কাউকেও পবিত্র করতে সক্ষম নয়, বরং মানুষকে তার আমলই পবিত্র করে। শুনতে পেলাম, তোমাকে ডাক্তার (বিচারপতি) নিযুক্ত করা হয়েছে এবং মানুষকে ঔষধপত্র দিয়ে চিকিৎসা করে থাক, যদি তুমি চিকিৎসাশাস্ত্র শিখে তা করে থাক এবং এতে রোগ নিরাময় হয় তবে তা উত্তম, আর যদি চিকিৎসা শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ না করে তুমি চিকিৎসক সেজে থাক তবে সাবধান ও সতর্ক হও- এমন না হয় যে, তোমার ভুল সিদ্ধান্তের দ্বারা মানুষকে মেরে ফেলবে, ফলে তুমি দোযখে প্রবেশ করবে। অতঃপর তিনি যখন কোন দুই ব্যক্তির মধ্যে ফয়সালা করতেন এবং উভয়ে চলে যেতে শুরু করলে তখন উভয়কে বলতেন তোমরা পুনরায় তোমাদের ঘটনা বর্ণনা কর, আমি আবার বিবেচনা করি। কারণ আমি তোমাদের মূল উদ্দেশ্য জানি না, কেবল শুনে চিকিৎসা করি। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন যদি কেউ অন্যের গোলামকে মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোন শুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করে এবং সেই কাজ পারিশ্রমিকযোগ্য, তদ্দারা গোলামের কোন ক্ষতি হলে, কর্মে নিয়োগকারীকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর ক্রীতদাস অক্ষত অবস্থায় কর্ম সম্পাদন করলে এবং তার কর্তা পারিশ্রমিক দাবি করলে তবে পারিশ্রমিক কর্তার প্রাপ্য হবে, এটাই আমাদের ফয়সালা।মালিক (র) বলেন গোলামের কিছু অংশ যদি স্বাধীন এবং কিছু অংশ পরাধীন থাকে তবে গোলামের মাল তার হাতেই থাকবে, তা সে কোন নতুন কাজে ব্যয় করতে পারবে না। কেবল নিজের ভরণপোষণে নিয়ম মুতাবিক ব্যয় করবে। তার মৃত্যুর পর যা অবশিষ্ট থাকে তা যে মালিক তার অংশ আযাদ করেনি সে পাবে।মালিক (র) বলেন আমাদের ফায়সালা হল, যে দিন সন্তান ধনবান হয়ে যায়, পিতা ইচ্ছা করেন যে, যা তার প্রতি খরচ করা হয়েছে তা ফেরত নিবে, তবে যেদিন হতে তার জন্য খরচ করা হয়েছে সেদিন হতে হিসাব করে খরচ আদায় করে নিবে, মাল নগদ অর্থই হোক বা অন্য কোন বস্তু হোক।
[১] এখানে ডাক্তার অর্থ বিচারক। আবূ দারদা দামিশকের কাযী এবং বিচারক ছিলেন। শরীয়াতের আহকাম সম্বন্ধে পূর্ণ অবগত আছে কিনা সেই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সালমান তার নিকট পত্র লিখেছিলেন। আবূ দারদা নিজেকে অনুপযুক্ত মনে করে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫৭
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ دَلَافٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ جُهَيْنَةَ كَانَ يَسْبِقُ الْحَاجَّ فَيَشْتَرِي الرَّوَاحِلَ فَيُغْلِي بِهَا ثُمَّ يُسْرِعُ السَّيْرَ فَيَسْبِقُ الْحَاجَّ فَأَفْلَسَ فَرُفِعَ أَمْرُهُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّ الْأُسَيْفِعَ أُسَيْفِعَ جُهَيْنَةَ رَضِيَ مِنْ دِينِهِ وَأَمَانَتِهِ بِأَنْ يُقَالَ سَبَقَ الْحَاجَّ أَلَا وَإِنَّهُ قَدْ دَانَ مُعْرِضًا فَأَصْبَحَ قَدْ رِينَ بِهِ فَمَنْ كَانَ لَهُ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَلْيَأْتِنَا بِالْغَدَاةِ نَقْسِمُ مَالَهُ بَيْنَهُمْ وَإِيَّاكُمْ وَالدَّيْنَ فَإِنَّ أَوَّلَهُ هَمٌّ وَآخِرَهُ حَرْبٌ.
বর্ণনাকারী উমার ইব্নু আবদির রহমান ইব্নু দালাফ মুযানী (র)
জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি (উসাইফা) সকল হাজীর পূর্বে যেয়ে ভাল ভাল উট উচ্চমূল্যে খরিদ করে নিতে এবং তাড়াতাড়ি মক্কা শরীফ যেয়ে পৌঁছাত। এক সময় সে গরীব হয়ে পড়ল। পাওনাদারগণ স্বীয় টাকা আদায়ের জন্য উমার (রা) ইব্নু খাত্তাবের নিকট বিচার প্রার্থী হল। উমার (রা) হামদ ও সালাত পাঠ করার পর সকলকে সম্বোধন করে বললেন! উসাইফা “জুহাইনা গোত্রের উসাইফা” টাকা কর্জ করেছিল এবং আমানত হস্তক্ষেপ করেছিল। কারণ লোকেরা বলে থাকে যে, উসাইফা সকলের পূর্বে মক্কা শরীফ পৌঁছে যায়। তোমরা জেনে রাখ, সে কর্জ করে তা আদায় করার মনোবৃত্তি রাখেনি। বর্তমানে সে দরিদ্র হয়ে পড়েছে, অথচ কর্জ তার সমুদয় মাল গ্রাস করে ফেলেছে। পাওনাদারগণ আগামীকাল সকালে আমার কাছে উপস্থিত হবে। আমি তার সকল মাল পাওনাদারকে বন্টন করে দিব। তোমরা কর্জ নিতে হুঁশিয়ার থেক। কেননা, কর্জের প্রারম্ভ হচ্ছে দুশ্চিন্তা, পরিশেষ হচ্ছে কলহ-বিবাদ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
৩৭/১০. অধ্যায়ঃ
যা সন্তানকে হেবা (দান) করা জায়েয হবে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১৪৫৮
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَالَ مَنْ نَحَلَ وَلَدًا لَهُ صَغِيرًا لَمْ يَبْلُغْ أَنْ يَحُوزَ نُحْلَهُ فَأَعْلَنَ ذَلِكَ لَهُ وَأَشْهَدَ عَلَيْهَا فَهِيَ جَائِزَةٌ وَإِنْ وَلِيَهَا أَبُوْهُ قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ مَنْ نَحَلَ ابْنًا لَهُ صَغِيرًا ذَهَبًا أَوْ وَرِقًا ثُمَّ هَلَكَ وَهُوَ يَلِيهِ إِنَّهُ لَا شَيْءَ لِلْابْنِ مِنْ ذَلِكَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْأَبُ عَزَلَهَا بِعَيْنِهَا أَوْ دَفَعَهَا إِلَى رَجُلٍ وَضَعَهَا لِابْنِهِ عِنْدَ ذَلِكَ الرَّجُلِ فَإِنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَهُوَ جَائِزٌ لِلْابْنِ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু মুসায়্যাব (র)
উসমান ইব্নু আফফান (রা) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে কোন বস্তু দান করে, যে সন্তান এখনও উহা গ্রহণ করার উপযুক্ত হয়নি এবং এই দানের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে দেয় এবং তাতে সাক্ষী নিযুক্ত করে তবে এটা জায়েয হবে যদিও তার অভিভাবক পিতা থাকেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন আমাদের নিয়ম মতে যদি কোন ব্যক্তি অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে স্বর্ণ কিংবা রৌপ্য দান করে, অতঃপর তার সন্তান মারা যায় এবং পিতাই অভিভাবক থাকে তবে ঐ মাল সন্তানের হবে না বরং পিতারই থাকবে। হ্যাঁ, যদি পিতা সেই মাল পৃথক করে দিয়ে থাকে কিংবা কারো কাছে আমানত রেখে থাকে তবে তা সন্তানের বলে সাব্যস্ত হবে।