বিবাহ
২৮/১. অধ্যায়ঃ
বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيْهِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রা)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। (সহীহ, বুখারী ৫১৪৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيْهِ ১৯১১-قَالَ مَالِك وَتَفْسِيرُ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ لَا يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ أَنْ يَخْطُبَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ فَتَرْكَنَ إِلَيْهِ وَيَتَّفِقَانِ عَلَى صَدَاقٍ وَاحِدٍ مَعْلُومٍ وَقَدْ تَرَاضَيَا فَهِيَ تَشْتَرِطُ عَلَيْهِ لِنَفْسِهَا فَتِلْكَ الَّتِي نَهَى أَنْ يَخْطُبَهَا الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ وَلَمْ يَعْنِ بِذَلِكَ إِذَا خَطَبَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ فَلَمْ يُوَافِقْهَا أَمْرُهُ وَلَمْ تَرْكَنْ إِلَيْهِ أَنْ لَا يَخْطُبَهَا أَحَدٌ فَهَذَا بَابُ فَسَادٍ يَدْخُلُ عَلَى النَّاسِ.
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। (বুখারী ৫১৪৪, মুসলিম ১৪১৩)
মালিক (র) বলেন : আমাদের মতে (আল্লাহ সর্বজ্ঞ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী “কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। এর ব্যাখ্যা এই যদি কোন পুরুষ কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়।” মহিলাটি তার প্রস্তাবের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং উভয়ে একটি নির্দিষ্ট মোহরের উপর ঐকমত্যে পৌঁছে। উভয়ে এইভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপর রাজি হয়েছে এবং উক্ত মহিলা তাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাবকারীর উপর শর্ত করেছেন। এমতাবস্থায় কোন পুরুষের পক্ষে তার ভাইয়ের এই প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ। এক ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল। কিন্তু উক্ত মহিলা তার এই প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেনি এবং তার দিকে আকৃষ্টও হয়নি। এরূপ মহিলার বিবাহের জন্য কেউ প্রস্তাব দিবে না। এই হাদীসের অর্থ ইহা নয়। কারণ এতে লোকের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টির দরজা উন্মুক্ত হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي قَوْلِ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ عَلِمَ اللهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَكِنْ لَا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّا أَنْ تَقُولُوا قَوْلًا مَعْرُوفًا } أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ لِلْمَرْأَةِ وَهِيَ فِي عِدَّتِهَا مِنْ وَفَاةِ زَوْجِهَا إِنَّكِ عَلَيَّ لَكَرِيمَةٌ وَإِنِّي فِيكِ لَرَاغِبٌ وَإِنَّ اللهَ لَسَائِقٌ إِلَيْكِ خَيْرًا وَرِزْقًا وَنَحْوَ هَذَا مِنْ الْقَوْلِ.
বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ইবনু কাসেম (র)
তিনি বলতেন, “আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীর ব্যাখ্যা এই কোন পুরুষ কর্তৃক কোন মহিলাকে তার স্বামীর ওফাতের ইদ্দত পালনের সময়ে এইরূপ বলা “তুমি আমার নিকট সম্মানিত”, “আমি তোমাকে পছন্দ করি”, “আল্লাহ তা‘আলা নিশ্চয়ই তোমার জন্য মংগল ও জীবিকা প্রেরণ করবেন।” আরও এই জাতীয় উক্তি। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
২৮/২. অধ্যায়ঃ
কুমারী ও তালাকপ্রাপ্ত এবং বিধবা হতে বিবাহের সম্মতি নেয়ার বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮৫
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا.
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আইয়্যেম [১] তার ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার এবং কুমারীর বিবাহের ব্যাপারে তার অনুমতি নিতে হবে। চুপ থাকাই হচ্ছে তার অনুমতি। (সহীহ, মুসলিম ১৪২১)
[১] আভিধানিক অর্থে আইয়্যেম বলা হয় স্বামীবিহীন মহিলা এবং স্ত্রীবিহীন পুরুষকে। হাদীসে উল্লিখিত আইয়্যেমের ব্যাখ্যায় হিজাজের ফকীহ্ ও আলিমগণ বলেছেন- এর অর্থ তালাকপ্রাপ্তা অথবা বিধবা মহিলা।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮৬
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لَا تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ إِلَّا بِإِذْنِ وَلِيِّهَا أَوْ ذِي الرَّأْيِ مِنْ أَهْلِهَا أَوْ السُّلْطَانِ.
বর্ণনাকারী মালিক (র)
অভিভাবক বা উক্ত পরিবারের বুদ্ধিমান ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ব্যতীত কোন মহিলাকে যেন বিবাহ দেওয়া না হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللهِ كَانَا يُنْكِحَانِ بَنَاتِهِمَا الْأَبْكَارَ وَلَا يَسْتَأْمِرَانِهِنَّ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي نِكَاحِ الْأَبْكَارِ ১৯১৭-قَالَ مَالِك وَلَيْسَ لِلْبِكْرِ جَوَازٌ فِي مَالِهَا حَتَّى تَدْخُلَ بَيْتَهَا وَيُعْرَفَ مِنْ حَالِهَا.
বর্ণনাকারী মালিক (র)
কাসেম ইবনু মুহাম্মাদ (র) ও সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (র) তাঁরা উভয়ে নিজেদের কুমারী কন্যাদেরকে তাদের অনুমতি না নিয়ে বিবাহ দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : কুমারীদের বিবাহের ব্যাপারে আমাদের নিকটও ইহা পছন্দনীয়।মালিক (র) বলেন : স্বামীর গৃহে না আসা (স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করা) এবং তার যোগ্যতার যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কুমারী মেয়ে তার সম্পদের উপর ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী হয় না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللهِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ كَانُوا يَقُولُونَ فِي الْبِكْرِ يُزَوِّجُهَا أَبُوهَا بِغَيْرِ إِذْنِهَا إِنَّ ذَلِكَ لَازِمٌ لَهَا.
বর্ণনাকারী মালিক (র)
কাসেম ইবনু মুহাম্মাদ (র) সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (র)-ও সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (র) তাঁরা সকলেই কুমারীর ব্যাপারে বলতেন, তার পিতা তার অনুমতি না চেয়ে তাকে বিবাহ দিলে সে বিবাহ প্রযোজ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
২৮/৩. অধ্যায়ঃ
মহর ও উপঢৌকন
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৮৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي قَدْ وَهَبْتُ نَفْسِي لَكَ فَقَامَتْ قِيَامًا طَوِيلًا فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ زَوِّجْنِيهَا إِنْ لَمْ تَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ عِنْدَكَ مِنْ شَيْءٍ تُصْدِقُهَا إِيَّاهُ فَقَالَ مَا عِنْدِي إِلَّا إِزَارِي هَذَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ أَعْطَيْتَهَا إِيَّاهُ جَلَسْتَ لَا إِزَارَ لَكَ فَالْتَمِسْ شَيْئًا فَقَالَ مَا أَجِدُ شَيْئًا قَالَ الْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ فَالْتَمَسَ فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ شَيْءٌ فَقَالَ نَعَمْ مَعِي سُورَةُ كَذَا وَسُورَةُ كَذَا لِسُوَرٍ سَمَّاهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَنْكَحْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ.
বর্ণনাকারী সাহ্ল ইবনু সা’দ সায়িদী (রা)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন মহিলা এসে বললঃ ইয়া রসূলুল্লাহ ! আমি আমার সত্তাকে আপনার জন্য হিবা (দান) করলাম। ইহা বলার পর সে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল। অতঃপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল : ইয়া রসূলুল্লাহ ! আপনার প্রয়োজন না থাকলে এই মহিলাকে আমার নিকট বিবাহ দিন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এই মহিলাকে মোহরানা বাবদ দিবার মত তোমার কাছে কিছু আছে কি ? লোকটি বলল : আমার নিকট আমার এই তাহ্বন্দ্ (পরিচ্ছেদ-লুঙ্গী অথবা পায়জামা) ব্যতীত আর কিছু নেই। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার এই তাহ্বন্দ্ উহাকে প্রদান করলে তোমার নিকট কোন পরিচ্ছেদ থাকবে না। তাই তুমি অন্য কিছু তালাশ কর। সে ব্যক্তি বলল : আমি কিছু পাব না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি একটি লোহার আংটিও পাও কিনা দেখ। সে তালাশ করল। কিন্তু কিছুই পেল না। অতঃপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : কুরআনের কিছু অংশ তোমার জানা আছে কি? সে সূরার নাম উল্লেখ করে বলল : অমুক অমুক সূরা আমার কণ্ঠস্থ আছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কুরআন শরীফের যে কয়টি সূরা তোমার কণ্ঠস্থ আছে সেইগুলির বিনিময়ে এই মহিলাকে আমি তোমার নিকট বিবাহ দিলাম। অর্থাৎ এ সূরাগুলো তুমি তাকে শিখিয়ে দিবে। (বুখারী ৫১৩৪, মুসলিম ১৪২৫)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৯০
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَبِهَا جُنُونٌ أَوْ جُذَامٌ أَوْ بَرَصٌ فَمَسَّهَا فَلَهَا صَدَاقُهَا كَامِلًا وَذَلِكَ لِزَوْجِهَا غُرْمٌ عَلَى وَلِيِّهَا ১৯২২-قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا يَكُونُ ذَلِكَ غُرْمًا عَلَى وَلِيِّهَا لِزَوْجِهَا إِذَا كَانَ وَلِيُّهَا الَّذِي أَنْكَحَهَا هُوَ أَبُوهَا أَوْ أَخُوهَا أَوْ مَنْ يُرَى أَنَّهُ يَعْلَمُ ذَلِكَ مِنْهَا فَأَمَّا إِذَا كَانَ وَلِيُّهَا الَّذِي أَنْكَحَهَا ابْنَ عَمٍّ أَوْ مَوْلًى أَوْ مِنْ الْعَشِيرَةِ مِمَّنْ يُرَى أَنَّهُ لَا يَعْلَمُ ذَلِكَ مِنْهَا فَلَيْسَ عَلَيْهِ غُرْمٌ وَتَرُدُّ تِلْكَ الْمَرْأَةُ مَا أَخَذَتْهُ مِنْ صَدَاقِهَا وَيَتْرُكُ لَهَا قَدْرَ مَا تُسْتَحَلُّ بِهِ.
বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র)
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেছেন : যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করল যে মহিলার পাগলামী, কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগ রয়েছে, উক্ত ব্যক্তি সে মহিলার সাথে সহবাস করলে সে মহিলা পূর্ণ মোহরানার হকদার হবে এবং উক্ত মহিলার অভিভাবকের উপর সেই মোহরানার অর্থ দণ্ড বর্তাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক, যে তাকে বিবাহ দিয়েছে তার পিতা বা ভাই অথবা এমন কোন আত্মীয় হয়, যে মহিলার রোগের খবর জানে, তবে তার স্বামীকে মোহরানার অর্থ ফেরৎ দিতে হবে। পক্ষান্তরে যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক তার চাচাত ভাই অথবা তার আযাদকৃত গোলাম অথবা তার গোত্রের অন্য কোন লোক হয়, যার সম্পর্কে ধারণা করা যায় যে, সে তার রোগের খবর জানে না। তবে তার উপর অর্থদন্ড বর্তাবে না। উক্ত মহিলা মোহরানার নিম্নতম পরিমাণ অর্থ রেখে মোহরানার অবশিষ্ট অংশ স্বামীকে ফেরৎ দিবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০৯১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَةَ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ وَأُمُّهَا بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ كَانَتْ تَحْتَ ابْنٍ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَمَاتَ وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا وَلَمْ يُسَمِّ لَهَا صَدَاقًا فَابْتَغَتْ أُمُّهَا صَدَاقَهَا فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لَيْسَ لَهَا صَدَاقٌ وَلَوْ كَانَ لَهَا صَدَاقٌ لَمْ نُمْسِكْهُ وَلَمْ نَظْلِمْهَا فَأَبَتْ أُمُّهَا أَنْ تَقْبَلَ ذَلِكَ فَجَعَلُوا بَيْنَهُمْ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَقَضَى أَنْ لَا صَدَاقَ لَهَا وَلَهَا الْمِيرَاثُ.
বর্ণনাকারী নাফি’ (র)
উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-এর কন্যা আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-এর পুত্রের স্ত্রী ছিলেন এবং তার মাতা ছিলেন যাইদ ইবনু খাত্তাব (রা)-এর কন্যা। তাঁর সাথে তলব সহবাসের পূর্বে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হল। অথচ তাঁর মহর ধার্যকৃত ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর মাতা মোহরানা করলেন। আবদুল্লাহ ইব্নু উমার (রা) বললেন : তিনি মহর পাবেন না। যদি তাঁর পাওনা থাকত, তবে আমরা অবশ্যই দিতাম এবং তার হক আদায় করতে কোন প্রকার ক্রটি করতাম না। কন্যার মাতা এই কথা মানলেন না। যাইদ ইব্নু সাবিত (রা) তাদের উভয়ের মীমাংসাকারী নিযুক্ত হলেন। তিনি রায় দিলেন যে, কন্যা মোহরানা পাবেন না। তিনি স্বামীর সম্পদে উত্তরাধিকারিণী হবেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)